ফতওয়া
পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে- চার মাযহাবের যে কোন একটি মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয (৪৮)
, ২রা রমাদ্বান শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ২২ তাসি, ১৩৯৩ শামসী সন , ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রি:, ০৭ ফাল্গুন, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) ফতওয়া বিভাগ
(৩২৫)
{صِرَاطَ الَّذِينَ أَنعَمْتَ عَلَيْهِمْ} همُ الأنبياءُ وأهلُ طاعةِ الله تعالى. (تفسير القرآن العظيم المنسوب للإمام الطبراني سورة الفاتحة رقم الاية المجيد ۶ المؤلف: العلامة المفسر المحدث أبو القاسم سليمان بن أحمد بن أيوب بن مطير اللخمي الشامي الطبراني رحمة الله عليه)
অর্থ: (এমন পথ যে পথের পথিক উনাদেরকে আপনি নিয়ামত দিয়েছেন) উনারা হলেন হযরত আম্বিয়া আলাইহিমুস সালাম এবং মহান আল্লাহ তায়ালা উনার অনুগত ব্যক্তিত্ব অর্থাৎ ইমাম, মুজতাহিদ, ওলীআল্লাহ ও নেককার-পরহেযগার রহমতুল্লাহি আলাইহিম। (তাফসীরুল কুরআনিল আযীম আল মানছূব লিল ইমাম ত্ববারানী, সূরা ফাতিহা শরীফ: আয়াত শরীফ: ৬, লেখক আল্লামা মুফাসসির, মুহাদ্দিছ আবুল কাসিম সুলাইমান বিন আহমদ বিন আইয়ূব বিন মুতীর লাখনী শামী তবারানী রহমতুল্লাহি আলাইহি)
উল্লেখিত ইবারতগুলো থেকে বুঝা যাচ্ছে যে, ইমাম-মুজতাহিদ ও ওলীআল্লাহ উনাদের অনুসরণ করতে মহান আল্লাহ তায়ালা তিনি স্বয়ং নির্দেশ মুবারক করেছেন। আর ইহাই ‘আত-তাকলীদুশ শারয়ী তথা শরীয়ত সমর্থিত অনুসরণ’। যাকে তাকলীদুল ইসলাম, তাকলীদুদ্ দ্বীন, তাকলীদুল মাযাহিবিল আরবায়াহ ও তাকলীদুদ্ দালায়িলিল আরবায়াহ অর্থাৎ দ্বীন ইসলাম উনার চারখানা দলীল উনাদের অনুসরণও বলা হয়ে থাকে। সুবহানাল্লাহ!
পবিত্র আয়াত শরীফ নম্বর-২
وَإِذَا قِيلَ لَهُمْ آمِنُوا كَمَا آمَنَ النَّاسُ قَالُوا أَنُؤْمِنُ كَمَا آمَنَ السُّفَهَاءُ أَلَا إِنَّهُمْ هُمُ السُّفَهَاءُ وَلَكِنْ لَا يَعْلَمُونَ.
অর্থ: যখন তাদেরকে বলা হয়- তোমরা পবিত্র ঈমান আনো, যে রকম অন্যান্য ব্যক্তিত্ব (হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম) উনারা ঈমান এনেছেন। তখন তারা বলে- আমরা কি নির্বোধদের মতো ঈমান আনবো? মনে রাখুন! প্রকৃতপক্ষে তারাই নির্বোধ, কিন্তু তারা তা বুঝে না। (পবিত্র সূরা বাকারা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ১৩)
অত্র পবিত্র আয়াত শরীফ উনার বিশুদ্ধ তাফসীর বা ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ:
(৩২৬)
"وَإِذَا قِيلَ لَهُمْ آمِنُوا كَمَا آمَنَ النَّاس" أَصْحَاب النَّبِيّ صَلَّى اللَّه عَلَيْهِ وَسَلَّمَ "قَالُوا أَنُؤْمِنُ كَمَا آمَنَ السُّفَهَاء" الْجُهَّال أَيْ لَا نَفْعَل كَفِعْلِهِمْ قَالَ تَعَالَى رَدًّا عَلَيْهِمْ: "أَلَا إنَّهُمْ هُمْ السُّفَهَاء وَلَكِنْ لَا يَعْلَمُونَ" ذَلِك.
অর্থ: (যখন তাদেরকে বলা হয়- তোমরা পবিত্র ঈমান আনো, যেরকম অন্যান্য ব্যক্তিত্ব ঈমান এনেছেন) উনারা হলেন হযরত ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা। (তখন তারা বলে- আমরা কি নির্বোধদের মতো ঈমান আনবো?) জাহিল অর্থাৎ কাফির ও মুনাফিকরা বলতো, আমরা উনাদের মতো করবো না। মহান আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ মুবারক করেন (মনে রাখুন! প্রকৃতপক্ষে তারাই নির্বোধ, কিন্তু তারা তা বুঝে না।) পবিত্র ঈমান উনার হাকীকত সম্পর্কে তারা উপলব্ধি করে না। (তাফসীরুল জালালাঈন, পবিত্র সূরা বাকারা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ: ১৩, লেখক: আল্লামা জালালুদ্দীন মুহম্মদ বিন আহমদ মাহাল্লী শাফিয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি ওফাত: ৮৬৪ হিজরী ও ইমাম হযরত জালালুদ্দীন আব্দুর রহমান বিন আবূ বকর সুয়ূতী শাফিয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি ওফাত: ৯১১ হিজরী)
(৩২৭)
وَإِذا قِيلَ لَهُمْ آمِنُوا كَما آمَنَ النَّاسُ يعنى المهاجرين والأنصار رضى الله عنهم أو من أمن من اليهود كعبد الله بن سلام رضى الله عنه هذا من تمام النصح فان الاعراض عن الفساد والإتيان بشرائع الايمان كمال الإنسان.
অর্থ: (যখন তাদেরকে বলা হয়- তোমরা ঈমান আনো, যেরকম অন্যান্য ব্যক্তিত্ব পবিত্র ঈমান এনেছেন) অর্থাৎ হিজরতকারী ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম ও আনছার ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা ঈমান এনেছেন, অথবা হযরত আব্দুল্লাহ বিন সালাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ও উনার সঙ্গে পবিত্র ঈমান আনয়নকারী ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের মত ঈমান আনো। এটা উপদেশের পূর্ণতা। কেননা, ফাসাদ থেকে ফিরে থেকে পবিত্র ঈমান উনার পথে আসা সত্যিকার মনুষত্বের পরিচয়। (আত্ তাফসীরুল মাযহারী, সূরা বাকারা: আয়াত শরীফ: ১৩, লেখক: হযরত মুহম্মদ ছানাউল্লাহ উছমানী মাযহারী হানাফী মাতুরীদী রহমতুল্লাহি আলাইহি ওয়াফ মুবারক: ১২১৬ হিজরী)
(মাসিক আল বাইয়্যিনাত থেকে সংকলিত।) (চলবে)
-০-
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে- চার মাযহাবের যে কোন একটি মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয (৫১)
১২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
ইসলামী শরীয়তের আলোকে কুকুর নিধন (৮)
০৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে- চার মাযহাবের যে কোন একটি মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয (৫০)
০২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ইসলামী শরীয়তের আলোকে কুকুর নিধন (৬)
০১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে- চার মাযহাবের যে কোন একটি মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয (৪৯)
২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে- চার মাযহাবের যে কোন একটি মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয (৪৯)
২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে- চার মাযহাবের যে কোন একটি মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয (৪৭)
১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ইসলামী শরীয়তের আলোকে কুকুর নিধন (৬)
১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে- চার মাযহাবের যে কোন একটি মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয (৪৬)
১২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে- চার মাযহাবের যে কোন একটি মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয (৪৫)
০৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে- চার মাযহাবের যে কোন একটি মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয (৪৪)
০২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে- চার মাযহাবের যে কোন একটি মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয (৪৩)
২৯ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার)












