ফতওয়া
পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে- চার মাযহাবের যে কোন একটি মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয (৪৯)
, ০৭ রমাদ্বান শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ২৭ তাসি, ১৩৯৩ শামসী সন , ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রি:, ১২ ফাল্গুন, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) ফতওয়া বিভাগ
(৩২৮)
(وَاذَا قِيلَ لَهُمْ) لليهود (آمِنُوا) بمحمد صلى الله عليه وسلم والقرآن (كَمَآ آمَنَ الناس) عبد الله بن سلام رضى الله عنه واصحابه رضى الله عنهم (قالوا أَنُؤْمِنُ) بمحمد صلى الله عليه وسلم والقرآن (كَمَآ آمَنَ السفهآء) الجهال الخرقى (الا انَّهُمْ) بلى إنهم (هُمُ السفهآء) الجهال الخرقى (ولكن لاَّ يَعْلَمُونَ) ذلك.
অর্থ: (যখন তাদেরকে বলা হয়) ইহুদীদেরকে (তোমরা পবিত্র ঈমান আনো,) নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি ও পবিত্র কুরআন শরীফ উনার প্রতি (যেরকম অন্যান্য ব্যক্তিত্ব উনারা ঈমান এনেছেন।) হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে সালাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ও উনার সাথে ঈমান আনয়নকারী ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম (তখন তারা বলে- আমরা কি ঈমান আনবো) নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি ও পবিত্র কুরআন শরীফ উনার প্রতি (নির্বোধদের ঈমান আনার মতো?) জাহিলদের মতো (মনে রাখুন! প্রকৃতপক্ষে) বরং (তারাই নির্বোধ,) জাহিল বা মূর্খ (কিন্তু তারা তা বুঝে না।) পবিত্র ঈমান উনার হাকীকত তারা উপলব্ধি করে না। (তানবীরুল মাক্বাস মিন তাফসীরি ইবনি আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমা ওফাত মুবারক: ৬৮ হিজরী, পবিত্র সূরা বাকারা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ: ১৩, জমাকারী: আল্লামা মুহম্মদ বিন ইয়া’কূব ফিরোজাবাদী হানাফী মাতুরীদী রহমতুল্লাহি আলাইহি ৮১৭ হিজরী)
(৩২৯)
(كما آمن الناس) يعني بِ "الناس": المؤمنين الذين آمنوا بمحمد صلى الله عليه وسلم ونبوته وما جاء به من عند الله.
অর্থ: (যেরকম অন্যান্য ব্যক্তিত্ব উনারা পবিত্র ঈমান এনেছেন) অর্থাৎ এখানে ‘আন্ নাস’ দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছেন, এমন মু’মিনীন-মুসলিমীন যাঁরা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি, উনার পবিত্র রিসালাত মুবারক উনার প্রতি এবং তিনি মহান আল্লাহ তায়ালা উনার নিকট থেকে যা কিছু নিয়ে এসেছেন উনাদের প্রতি পবিত্র ঈমান আনয়ন করেছেন। আর উনারাই হলেন হযরত ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম। (জামিউল বায়ান ফী তা’বীলিল কুরআন অর্থাৎ তাফসীরুত্ তাবারী, পবিত্র সূরা ফাতিহা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৫, লেখক: আল্লামা মুহম্মদ বিন মুহম্মদ বিন জারীর বিন ইয়াযীদ বিন কাছীর বিন গালিব আমালী আবূ জা’ফর তাবারী রহমতুল্লাহি আলাইহি ৩১০ হিজরী)
(৩৩০)
(وَإِذَا قِيلَ لَهُمْ) للمنافقين: (آمِنُوا كَمَا آمَنَ النَّاسُ) أي كإيمان الناس بالله وملائكته وكتبه ورسله والبعث بعد الموت والجنَّة والنَّار وغير ذلك، مما أخبر المؤمنين به وعنه وأطيعوا الله ورسوله في امتثال الأوامر وترك الزواجر (قَالُوا أَنُؤْمِنُ كَمَا آمَنَ السُّفَهَاءُ) يعنون لعنهم الله اصحابَ رسول الله صلى الله عليه وسلم.
অর্থ: (যখন তাদেরকে বলা হয়) মুনাফিকদেরকে (তোমরা ঈমান আনো, যেরকম অন্যান্য ব্যক্তিত্ব পবিত্র ঈমান এনেছেন) ঐ সমস্ত ঈমানদার ব্যক্তিত্ব উনাদের মতো যাঁরা পবিত্র ঈমান এনেছেন এভাবে যে, আমরা পবিত্র ঈমান আনলাম মহান আল্লাহ পাক উনার প্রতি, হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদের প্রতি, সমস্ত আসমানী কিতাব উনাদের প্রতি, সকল হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের প্রতি, মউতের পর পুনরুত্থানের প্রতি, জান্নাত-জাহান্নাম সত্য তার প্রতি এবং অন্যান্য আকায়েদী মাসয়ালার প্রতি। যেমনিভাবে মু’মিন-মুসলমানদেরকে জানানো হয়েছে। তোমরা মহান আল্লাহ পাক উনার ও নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আনুগত্য করো, উনাদের আদিষ্ট বিষয়সমূহ পালনের ব্যাপারে এবং নিষেধকৃত বিষয়গুলো পরিত্যাগ করার মাধ্যমে। (তখন তারা বলে- আমরা কি নির্বোধদের মতো ঈমান আনবো?) এর অর্থ হচ্ছে- তারা মুনাফিকরা এভাবে করে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদেরকে অভিশাপ দিতে চায়। নাঊযুবিল্লাহ! (তাফসীরুল কুরআনিল আযীম অর্থাৎ তাফসীরে ইবনে কাছীর সূরা বাকারা: আয়াত শরীফ: ১৩, লেখক: আল্লামা আবুল ফিদা ইসমাঈল বিন উমর বিন কাছীর কুরাশী দামিশ্কী শাফিয়ী আশয়ারী রহমতুল্লাহি আলাইহি: জন্ম মুবারক: ৭০০ হিজরী, ওফাত মুবারক: ৭৭৪ হিজরী)
(মাসিক আল বাইয়্যিনাত থেকে সংকলিত।) (চলবে)
-০-
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে- চার মাযহাবের যে কোন একটি মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয (৪৯)
২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে- চার মাযহাবের যে কোন একটি মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয (৪৮)
১৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে- চার মাযহাবের যে কোন একটি মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয (৪৭)
১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ইসলামী শরীয়তের আলোকে কুকুর নিধন (৬)
১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে- চার মাযহাবের যে কোন একটি মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয (৪৬)
১২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে- চার মাযহাবের যে কোন একটি মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয (৪৫)
০৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে- চার মাযহাবের যে কোন একটি মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয (৪৪)
০২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে- চার মাযহাবের যে কোন একটি মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয (৪৩)
২৯ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
ইসলামী শরীয়তের আলোকে কুকুর নিধন (৩)
২৫ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে- চার মাযহাবের যে কোন একটি মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয (৪২)
২২ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে- চার মাযহাবের যে কোন একটি মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয (৪১)
১৯ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ইসলামী শরীয়তের আলোকে কুকুর নিধন (২)
১৮ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার)












