ফতওয়া
পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে- চার মাযহাবের যে কোন একটি মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয (৫০)
, ১২ রমাদ্বান শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ০২ আশির, ১৩৯৩ শামসী সন , ০২ মার্চ, ২০২৬ খ্রি:, ১৭ ফাল্গুন, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) ফতওয়া বিভাগ
(৩৩১)
"وَإِذا قِيلَ لَهُمْ" يعنى الـمنافقين فى قول مقاتل وغيره."امِنُوا كَما آمَنَ النَّاسُ" اى صدقوا بمحمد صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وشرعه كما صدق الـمهاجرون والمحققون من اهل يثرب.
অর্থ: (যখন তাদেরকে বলা হয়) হযরত মুক্বাতিল রহমতুল্লাহি আলাইহি ও অপরাপর অনেকের মতে, যখন মুনাফিকদেরকে বলা হয় (তোমরা পবিত্র ঈমান আনো, যেরকম অন্যান্য ব্যক্তিত্ব পবিত্র ঈমান এনেছেন) অর্থাৎ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি ও উনার আনিত সম্মানিত শরীয়ত উনার প্রতি তারা যেন বিশ্বাস স্থাপন করে যেরকম পবিত্র ঈমান পবিত্র মক্কা শরীফ-পবিত্র মদীনা শরীফবাসী হযরত মুহাজিরীন-আনছার রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা এনেছিলেন। (আল জামিউ লি আহকামিল কুরআন অর্থাৎ তাফসীরুল কুরতুবী সূরা বাকারা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ১৩, লেখক: আল্লামা আবূ আব্দিল্লাহ মুহম্মদ বিন আহমদ বিন আবূ বকর বিন ফারাহ আনছারী খযরাজী শামসুদ্দীন কুরতুবী রহমতুল্লাহি আলাইহি, ওফাত মুবারক: ৬৭১ হিজরী)
(৩৩২)
وقال مقاتل رحمة الله عليه: نزلت هذه الآية في شأن المنافقين، وهكذا قال مجاهد رحمة الله عليه ومعناه: (وَإِذَا قِيلَ لَهُمْ امِنُواْ) يعني صدِّقوا بقلوبكم كما صدَّق أصحاب محمد صلى الله عليه وسلم (قَالُواْ أَنُؤْمِنُ) يعني المنافقين أنصدِّق كما صدق الجهال. قال الله تعالى (أَلا إِنَّهُمْ هُمُ السفهاء) يعني الجهّال بتركهم التصديق في السر، ولكن لا يعلمون أنهم جهال.
অর্থ: হযরত মুক্বাতিল রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, অত্র পবিত্র আয়াত শরীফখানা মুনাফিকদের হাকীকত প্রকাশ করতে নাযিল হয়েছে। হযরত মুজাহিদ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনিও অনুরূপ বলেছেন। (যখন তাদেরকে বলা হয় তোমরা পবিত্র ঈমান আনো) অর্থাৎ আছহার্বু রসূল রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা যেভাবে ঈমান এনেছেন, সেভাবে অন্তর দ্বারা ঈমান আনো। (তখন তারা বলে- আমরা কি ঈমান আনবো?) অর্থাৎ মুনাফিকরা বলে আমরা কি মূর্খদের মতো ঈমান আনবো? নাঊযুবিল্লাহ! তাদের এ উক্তির জাওয়াবে মহান আল্লাহ তায়ালা তিনি বলেন, (মনে রাখুন! প্রকৃতপক্ষে তারাই নির্বোধ) আন্তরিক বিশ্বাস তরক করার কারণে তারাই জাহিল বা মূর্খ। কিন্তু তারা যে নিজেরাই জাহিল তাও তারা বুঝে না। (বাহরুল উলূম অর্থাৎ তাফসীরুস্ সামারকান্দী সূরা বাকারা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ১৩, লেখক: আল্লামা আবূ আব্দিল্লাহ মুহম্মদ বিন আহমদ বিন আবূ বকর বিন ফারাহ আনছারী খযরাজী শামসুদ্দীন কুরতুবী রহমতুল্লাহি আলাইহি ওফাত মুবারক: ৩৭৩ হিজরী)
(৩৩৩-৩৩৪)
(وَإِذَا قِيلَ لَهُمْ) أى للمنافقين وقيل لليهود (امِنُوا كَمَا امَنَ النَّاسُ) عبد الله بن سلام رضى الله عنه وغيره من مؤمني اهل الكتاب وقيل كما امن المهاجرون والأنصار رضى الله عنهم.
অর্থ: (যখন তাদেরকে বলা হয়) অর্থাৎ মুনাফিকদেরকে বলা হয়, কেউ বলেন এখানে ইহুদীদেরকে উদ্দেশ্য করে বলা হয়েছে (তোমরা ঈমান আনো, যেরকম অন্যান্য ব্যক্তিত্ব পবিত্র ঈমান এনেছেন) যেমন- আহলুল কিতাবদের মধ্য থেকে হযরত আব্দুল্লাহ বিন সালাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ও উনার সঙ্গে পবিত্র ঈমান গ্রহণকারী ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা। কারো কারো মতে, হযরত মুহাজিরুন ও আনছার ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের মতো পবিত্র ঈমান গ্রহণ করো। (মায়ালিমুত্ তানযীল অর্থাৎ তাফসীরুল বাগবী, পবিত্র সূরা বাকারা শরীফ, পবিত্র আয়াত শরীফ ১৩, লেখক: মুহইউস সুন্নাহ, আবূ মুহম্মদ হুসাঈন বিন মাসঊদ বগবী শাফিয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি ওফাত মুবারক: ৫১০ হিজরী, অনুরূপ তাফসীরুল খাযিনে আছে)
(৩৩৫-৩৩৬)
والمراد من الناس الرسول صلى الله عليه وسلم ومن معه من المؤمنين مطلقاً كما اخرجه ابن جرير رحمة الله عليه عن ابن عباس رضي الله تعالى عنهما.
অর্থ: পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে ‘আন্ নাস’ দ্বারা মুতলাকান উদ্দেশ্য হচ্ছেন- নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং উনার হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা। অর্থাৎ উনাদের প্রদর্শিত হুকুম অনুযায়ী পবিত্র ঈমান এনে তা পরিশুদ্ধ রাখতে হবে। যেমনটি হযরত ইবনু জারীর রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমা উনার থেকে বর্ণনা করেছেন। (রূহুল মায়ানী ফী তাফসীরিল কুরআনিল আযীম ওয়াস্ সাবয়িল মাছানী অর্থাৎ তাফসীরুল আলূসী, পবিত্র সূরা বাকারা শরীফ: আয়াত শরীফ: ১৩, লেখক: আল্লামা সাইয়্যিদ শিহাবুদ্দীন মাহমূদ বিন আব্দুল্লাহ হুসাইনী আলূসী রহমতুল্লাহি আলাইহি ওফাত মুবারক: ১২৭০ হিজরী, অনুরূপ তাফসীরে রূহুল বয়ান কিতাবে উল্লেখ আছে)
(মাসিক আল বাইয়্যিনাত থেকে সংকলিত।) (চলবে)
-০-
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
ইসলামী শরীয়তের আলোকে কুকুর নিধন (৬)
০১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে- চার মাযহাবের যে কোন একটি মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয (৪৯)
২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে- চার মাযহাবের যে কোন একটি মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয (৪৯)
২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে- চার মাযহাবের যে কোন একটি মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয (৪৮)
১৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে- চার মাযহাবের যে কোন একটি মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয (৪৭)
১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ইসলামী শরীয়তের আলোকে কুকুর নিধন (৬)
১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে- চার মাযহাবের যে কোন একটি মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয (৪৬)
১২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে- চার মাযহাবের যে কোন একটি মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয (৪৫)
০৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে- চার মাযহাবের যে কোন একটি মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয (৪৪)
০২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে- চার মাযহাবের যে কোন একটি মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয (৪৩)
২৯ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
ইসলামী শরীয়তের আলোকে কুকুর নিধন (৩)
২৫ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে- চার মাযহাবের যে কোন একটি মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয (৪২)
২২ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার)












