ফতওয়া
পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে- চার মাযহাবের যে কোন একটি মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয (৫২)
, ০৬ শাওওয়াল শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ২৬ আশির, ১৩৯৩ শামসী সন , ২৬ মার্চ, ২০২৬ খ্রি:, ১২ চৈত্র, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) ফতওয়া বিভাগ
(৩৩৯-৩৪১)
و الجملۃ چوں عبادت مقتضاء ذات حضرت خالق است و فیز مقتضای ذات بندہ و نیز مقتضای انعام و احسان اوبر بندگان در حکمت الہی از عبادت چارہ نباشد چوں عبادت موقوف بر امتثال اوامر است و اوامر الہی بر چہار طریق در یافت کتاب اللہ و سنت پیغمبران یا اجماع امت با قیاس جلی و اصل ہمہ این امور کتاب اللہ است پس از انزال کتاب ہم نا کریزاست۰
অর্থাৎ আসল কথা হলো- বান্দা ইবাদত করে, ইহা মহান আল্লাহ তায়ালা উনার বাঞ্চনীয় এবং মহান আল্লাহ তায়ালা উনার দান, অবদান ও অনুগ্রহের কৃতজ্ঞতাস্বরূপ বান্দার ইবাদত ও উনার অভিপ্রিত। সব অবস্থায়ই মহান আল্লাহ তায়ালা উনার ইহসান স্বীকার করতে হবে। ইলাহী তায়ালা উনার আদেশ পালন করাই বান্দার কর্তব্য। মহান আল্লাহ পাক উনার আদেশ নিষেধ পালন করার চারটি পন্থা আছে। যথা: পবিত্র কুরআন মাজীদ, পবিত্র সুন্নাহ শরীফ, ইজমাউল উম্মাহ ও ছহীহ কিয়াস। মহান আল্লাহ পাক উনার আদেশ জ্ঞাত হবার জন্য পবিত্র হাদীছ শরীফ, ইজমাউল উম্মাহ ও ছহীহ কিয়াস মানতে হবে। কারণ, উক্ত বিবিধ প্রণালী বা পন্থা পবিত্র কুরআন মাজীদ হতেই প্রমাণিত। (তাফসীরে ফাতহুল আযীয, সূরা বাকারা: আয়াত শরীফ: ২২, লেখক: হযরত শাহ আব্দুল আযীয মুহাদ্দিছ দেহলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি, বোরহানুল মোকাল্লিদীন লেখক: আল্লামা মাওলানা মুহম্মদ রুহুল আমীন বশীরহাটী রহমতুল্লাহি আলাইহি ১৫৯ পৃষ্ঠা, ফতওয়ায়ে ছিদ্দীকিয়া লেখক: হযরত মাওলানা মুহম্মদ নিছারুদ্দীন আহমদ রহমতুল্লাহি আলাইহি ২০২ পৃষ্ঠা)
বিশ্ববিখ্যাত তাফসীর উনার ইবারত থেকে বুঝা যাচ্ছে যে, ইলমুশ শরীয়ত উনার মতো ইলমুত তরীকত শিক্ষা করা ফরয। আর এজন্য ইজমাউল উম্মাহ ও ছহীহ কিয়াসকে মেনে নেয়া এবং মাসয়ালা অনুযায়ী আমল করা দায়িত্ব-কর্তব্য। কারণ পবিত্র কুরআন মাজীদ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ তথা পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের মতো ইজমাউল উম্মাহ ও ছহীহ কিয়াস উনাদেরকে মান্য করাও ফরয। কেননা, তা অকাট্য দলীল-আদিল্লাহর ভিত্তিতে প্রমাণিত আছে। ইজমাউল উম্মাহ ও ছহীহ কিয়াস উনাদেরকে মান্য করার অর্থই হচ্ছে মাযহাব মান্য করা অর্থাৎ চার মাযহাবের যে কোন একজন মহান ইমাম উনার তাকলীদ বা অনুসরণ করা। যা সকলের জন্য ফরয। ইহাই ‘আত-তাকলীদুশ শারয়ী তথা শরীয়ত সমর্থিত অনুসরণ’। যাকে তাকলীদুল ইসলাম, তাকলীদুদ্ দ্বীন, তাকলীদুল মাযাহিবিল আরবায়াহ ও তাকলীদুদ্ দালায়িলিল আরবায়াহ অর্থাৎ দ্বীন ইসলাম উনার চারখানা দলীল উনাদের অনুসরণও বলা হয়ে থাকে। সুবহানাল্লাহ!
পবিত্র আয়াত শরীফ নম্বর-৪
وَقَالُوْا لَنْ يَّدْخُلَ الْجَنَّةَ اِلَّا مَنْ كَانَ هُوْدًا اَوْ نَصَارى تِلْكَ اَمَانِيُّهُمْ قُلْ هَاتُوْا بُرْهَانَكُمْ اِنْ كُنْتُمْ صَادِقِيْنَ.
অর্থ: ওরা বলে, ইহুদী অথবা খৃষ্টান ব্যতীত কেউ জান্নাতে যাবে না। এটা ওদের মনের বাসনা। (আয় মহাসম্মানিত হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!) আপনি বলে দিন, তোমরা সত্যবাদী হলে দলীল পেশ করো। (পবিত্র সূরা বাকারা শরীফ: ১১১)
এ পবিত্র আয়াত শরীফ উনার আম হুকুম অনুসারে হযরত ইমাম-মুজতাহিদ, ফকীহ, মুফতী ও আলিম-উলামা উনারা পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র সুন্নাহ শরীফ, পবিত্র ইজমাউল উম্মাহ শরীফ ও পবিত্র ছহীহ কিয়াস শরীফ উনাদের থেকে নির্ভরযোগ্য দলীল পেশ করবেন, আর গাইরে আলিম তথা যারা মুজতাহিদ নন তারা উনাদের সেই দলীলসম্মত ফায়সালা মেনে নিবেন। ইহাকেই তাক্বলীদ বা মাযহাব অনুসরণ বলা হয়ে থাকে।
পবিত্র আয়াত শরীফ নম্বর-৫
وَكَذلِكَ جَعَلْنَاكُمْ اُمَّةً وَّسَطًا لِّتَكُونُوا شُهَدَاءَ عَلَى النَّاسِ وَيَكُونَ الرَّسُولُ عَلَيْكُمْ شَهِيدًا وَمَا جَعَلْنَا الْقِبْلَةَ الَّتِي كُنْتَ عَلَيْهَا اِلَّا لِنَعْلَمَ مَنْ يَتَّبِعُ الرَّسُولَ مِمَّنْ يَنْقَلِبُ عَلى عَقِبَيْهِ وَإِنْ كَانَتْ لَكَبِيرَةً اِلَّا عَلَى الَّذِينَ هَدَى اللهُ وَمَا كَانَ اللهُ لِيُضِيعَ اِيمَانَكُمْ إِنَّ اللهَ بِالنَّاسِ لَرَءُوفٌ رَحِيمٌ
অর্থ: অনুরূপ আমি তোমাদেরকে সত্যপরায়ণ উম্মত হিসেবে স্থির করেছি, যাতে তোমরা সকল মানুষদের জন্য সাক্ষ্যদাতা হও এবং যাতে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি (দয়া করে) সাক্ষ্যদাতা হন তোমাদের জন্য। আপনি যে পবিত্র কিবলা উনার উপর ছিলেন, তাকে আমি এজন্যই পবিত্র কিবলা করেছিলাম, যাতে একথা স্থির হয় যে, কে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আনুগত্য করে আর কে পিছিয়ে যায়। নিশ্চয়ই এটা কঠোরতর বিষয়, কিন্তু তাদের জন্য নয় যাদেরকে মহান আল্লাহ পাক তিনি পথপ্রদর্শন করেছেন। মহান আল্লাহ তায়ালা এমন নন যে, তোমাদের ঈমান নষ্ট করে দেবেন। নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ তায়ালা তিনি মানুষদের প্রতি খুবই দয়াশীল ও করুণাময়। (পবিত্র সূরা বাকারা শরীফ: ১৪৩)
(মাসিক আল বাইয়্যিনাত থেকে সংকলিত।) (চলবে)
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে- চার মাযহাবের যে কোন একটি মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয (৫১)
১২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
ইসলামী শরীয়তের আলোকে কুকুর নিধন (৮)
০৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে- চার মাযহাবের যে কোন একটি মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয (৫০)
০২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ইসলামী শরীয়তের আলোকে কুকুর নিধন (৬)
০১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে- চার মাযহাবের যে কোন একটি মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয (৪৯)
২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে- চার মাযহাবের যে কোন একটি মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয (৪৯)
২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে- চার মাযহাবের যে কোন একটি মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয (৪৮)
১৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে- চার মাযহাবের যে কোন একটি মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয (৪৭)
১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ইসলামী শরীয়তের আলোকে কুকুর নিধন (৬)
১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে- চার মাযহাবের যে কোন একটি মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয (৪৬)
১২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে- চার মাযহাবের যে কোন একটি মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয (৪৫)
০৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে- চার মাযহাবের যে কোন একটি মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয (৪৪)
০২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)












