লিবাস পরিধানের মহাসম্মানিত সুন্নতী তরীক্বাহ (২)
, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০:০০ এএম ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) সুন্নত মুবারক তা’লীম
প্রত্যেক পুরুষের জন্য যে ৬ ধরনের পোশাক পরিধান করা হারামঃ
পোশাক মানুষের সভ্যতার প্রথম নিদর্শন। মানুষের লজ্জা নিবারণের ভূষণ। কালের পরিবর্তনে পোশাকের রকম-ধরনেও নানা পরিবর্তন এসেছে। পবিত্র ওহী মুবারক উনার মাধ্যমে হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা মানুষকে তার পোশাক ও তা পরিধানের নিয়ম-কানুন বলে দিয়েছেন।
পুরুষের সতর হলো, নাভি থেকে নিয়ে হাঁটুর নীচ পর্যন্ত। তবে মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক হলো, এমন পোশাক পরিধান করা, যাতে তার প্রায় সমস্ত দেহ আবৃত হয়ে যায়।
তবে পুরুষের জন্যে ৬ ধরনের পোশাক পরিধান করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।-
১. পুরুষের পোশাক রেশমের তৈরি হতে পারবে না। রেশমি পোশাক পরা পুরুষের জন্যে হারাম।
২. সতর খুলে যায়, অর্থাৎ নাভি থেকে হাঁটুর নীচ পর্যন্ত কোনো অংশ উন্মুক্ত হয়ে যায়, এমন পোশাক পরা নিষিদ্ধ।
৩. পুরুষের পোশাক যেনো মহিলাদের মতো না হয়। অথবা এভাবেও বলা যায় যে, মহিলাদের পোশাক পুরুষের জন্যে পরা নিষেধ।
৪. পোশাক যেনো এমন না হয়, যা পরিধান করলে তার মধ্যে অহংকার প্রকাশ পায়। এই হুকুম পুরুষ-মহিলা উভয়ের জন্যে প্রযোজ্য।
৫. পুরুষের পোশাক পায়ের গোড়ালির নীচে যেনো ঝুলে না যায়। পুরুষের জন্য টাখনুর নীচে নেমে যায় এত লম্বা পোশাক পরা হারাম।
৬. কাফির-মুশরিকদের সাদৃশ্য হয় এমন পোশাক পরিধান করা হারাম। (হাশিয়ায়ে শামায়েলে তিরমিযী শরীফ)
মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার ইত্তেবা মুবারক করলে, সমস্ত গুণাহ্খাতা ক্ষমা করা হয় এবং মহাসম্মানিত মুহব্বত মুবারক হাছিল করা যায়ঃ
মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার ইত্তেবাকারী ব্যক্তির সমস্ত গুণাহ্খাতা ক্ষমা করে দেওয়া হয় এবং স্বয়ং মহান আল্লাহ পাক তিনি ওই ব্যক্তিকে মুহব্বত মুবারক করেন। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
قُلْ اِنْ كُنْـتُمْ تُـحِبُّـوْنَ اللهَ فَاتَّبِعُوْنِـيْ يُـحْبِبْكُمُ اللهُ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُـوْبَكُمْ ۗ وَاللهُ غَفُوْرٌ رَّحِيْمٌ.
অর্থ: “আয় মহাসম্মানিত হাবীব ও মাহবূব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি বলুন, যদি তোমরা মহান আল্লাহ পাক উনার মুহব্বত মুবারক হাছিল করতে চাও তাহলে আমাকে অনুসরণ করো। তাহলেই মহান আল্লাহ পাক তিনি তোমাদেরকে মুহব্বত মুবারক করবেন, তোমাদের গুণাহ্খাতা মাফ করবেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি অতিশয় ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু অর্থাৎ তিনি তোমাদের প্রতি ক্ষমাশীল ও দয়ালু হবেন।” (পবিত্র সূরা আল ইমরান শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৩১)
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত মুহব্বত মুবারক লাভ করার পূর্ব শর্ত হচ্ছে, মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার ইত্তেবা মুবারক করা। এ প্রসঙ্গে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছেন-
مَنْ أَحَبَّنِيْ فَليَسْتَنَّ بِسُنَّتِيْ
অর্থ: যে ব্যক্তি আমাকে মুহব্বত মুবারক করে, সে যেন আমার মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক পালন করে। সুবহানাল্লাহ! (তাখরীজু আহাদীছিল আহ্য়া’ ৪/১১৫, নিহায়াতুল আরব ফী ফুনূনিল আদব ২/২৫৭, ইহ্য়াউ ‘উলূমিদ্দীন ৪/২৩৩ ইত্যাদি)
উল্লেখ্য, বান্দা-বান্দি ও উম্মতের জন্য সবচেয়ে বড় সফলতা বা কামিয়াবীর বিষয় হলো, মহান আল্লাহ পাক এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের মহাসম্মানিত রেয়ামন্দি-সন্তুষ্টি মুবারক হাছিল করা। যা, মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার ইত্তেবা মুবারক করার মাধ্যমেই লাভ করা যায়। সুবহানাল্লাহ!
-আহমদ হুসাইন
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নতী খাবার কালোজিরা (১)
২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ওযূর একটি মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক অনিচ্ছাকৃত তরক করায় নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সতর্কতা মুবারক
১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
লিবাস পরিধানের মহাসম্মানিত সুন্নতী তরীক্বাহ (১)
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহাসম্মানিত সুন্নত তরীক্বায় দোয়ার খাযীনাহ (১৯)
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সর্বপ্রকার কামিয়াবী হাছিল করতে হলে সকলের জন্য কর্তব্য হচ্ছে- নফসের অনুসরণ বাদ দিয়ে মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার অনুসরণ করা
১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
প্রত্যেক মুসলমান পুরুষ-মহিলার জন্য আবশ্যক হচ্ছে, সর্বক্ষেত্রে মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক অনুযায়ী আমল করা
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
বিসমিল্লাহ বলে বাসনের ডান দিক থেকে খাবার খাওয়া মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক এবং আহার করার কতিপয় মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক (২)
১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
বিসমিল্লাহ বলে বাসনের ডান দিক থেকে খাবার খাওয়া মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক এবং আহার করার কতিপয় মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক (১)
১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
খাবার পড়ে গেলে তা উঠিয়ে পরিস্কার করে খাওয়া খাছ সুন্নত মুবারক (২)
১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
খাবার পড়ে গেলে তা উঠিয়ে পরিস্কার করে খাওয়া খাছ সুন্নত মুবারক (১)
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহাসম্মানিত সুন্নত তরীক্বায় দোয়ার খাযীনাহ (১৮)
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
১৪০৬ হিজরী সনের পবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিশ শুহুরিল আ’যম শরীফ মাসে ইতিহাসে সর্বপ্রথম পবিত্র মদীনা শরীফ উনার আদলে পবিত্র রাজারবাগ শরীফে তৈরী করা হয় “পবিত্র সুন্নতী জামে মসজিদ”
০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)












