পবিত্র সুন্নতী লিবাস ও পবিত্র লিবাসুত তাক্বওয়া দু’টি আলাদা পোশাক একটি হলো- জাহেরী সুন্নাহ লিবাস মুবারক; অন্যটি হলো- অন্তরের তাক্বওয়া হাছিলের লিবাস মুবারক (১)
, ১০ রবীউছ ছানী শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ২৪ রবি, ১৩৯৪ শামসী সন , ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রি:, ০৭ আশ্বিন, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) সুন্নত মুবারক তা’লীম
যিনি খালিক যিনি মালিক যিনি রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
وَلَوْ أَنَّهُمْ آمَنُوا وَاتَّقَوْا لَمَثُوبَةٌ مِنْ عِنْدِ اللَّهِ خَيْرٌ لَوْ كَانُوا يَعْلَمُونَ
অর্থ: যদি তারা পবিত্র ঈমান আনয়ন করতো এবং তাক্বওয়া হাসিল করতো, তাহলে যিনি খালিক যিনি মালিক যিনি রব মহান আল্লাহ পাক তিনি তাদেরকে উনার পক্ষ থেকে সর্বোত্তম পোশাক পরিধান করাতেন। যদি তারা এ সম্পর্কে জানত। (পবিত্র সূরা বাক্বারা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ১০৩)
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
يا بَني آدَمَ قَد أَنزَلنا عَلَيكُم لِباسًا يُواري سَوآتِكُم وَريشًا. وَلِباسُ التَّقوى ذلِكَ خَيرٌ
অর্থ: হে বনী-আদম আমি তোমাদের জন্যে (পবিত্র সুন্নতী) পোশাক অবর্তীণ করেছি, যার দ্বারা তোমরা তোমাদের সতরকে আবৃত করবে এবং সৌন্দর্যম-িত হবে। আর সম্মানিত তাক্বওয়া বা পরহেযগারী উনার পোশাকই সর্বোত্তম পোশাক মুবারক। (পবিত্র সূরা আ’রাফ শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ২৬)
অত্র মহাসম্মানিত মহাপবিত্র আয়াত শরীফে উল্লেখিত سَوْءَاتِكُمْ শব্দ মুবারক উনার পরে হরফে আত্বফ ওয়াও উল্লেখ রয়েছে ও رِيشًا শব্দ মুবারক উনার পরে এবংلِبَاسُ التَّقْوَىَ শব্দ মুবারক উনার পূর্বে وَ (ওয়াও) হরফে আ’ত্বফ উল্লেখ রয়েছে।
আ’ত্বফ তখন করা হয়, যখন ভিন্ন ভিন্ন বিষয় হয়। অর্থাৎ عَطْفُ الشَّيْئِ تَغَايُر الشّيْئِকোন কিছুর উপর আ’ত্বফ তখন করা হয়, যখন বিষয়গুলি ভিন্ন ভিন্ন হয়। অর্থাৎ একই জাতীয় বস্তু বা বিষয়ের ক্ষেত্রে আ’ত্বফ হয় না। সুতরাং উপরোল্লেখিত পবিত্র সূরা আ’রাফ শরীফ উনার ২৬ নং আয়াত শরীফে মহান আল্লাহ পাক তিনি তিন প্রকার পোশাক মুবারক উনার কথা উল্লেখ করেছেন, তা হলো:
১। يُواري سَوآتِكُم বাক্য মুবারক উনার দ্বারা সতরকে আবৃত করার পোশাক মুবারক অর্থাৎ ফরয পরিমাণ পোশাক।
২। ريشًا : শব্দ মুবারক দ্বারা مَا يَتَجَمَّلُ بِه مِنَ الثَّيَابِ বা সৌন্দর্যম-িত পোশাক অর্থাৎ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র সুন্নতী পোশাক মুবারক।
৩। :لِباسُ التَّقوى বাক্য মুবারক উনার দ্বারা তাক্বওয়া বা খোদাভীতি উনার পোশাক মুবারক। যা মূলত: জাহিরী সুন্নাহ লিবাস মুবারক নয়। বরং তাযকিয়ায়ে ক্বলব বা অন্তরের পবিত্রতার খোদাভীতিমূলক চাদর বা পোশাক মুবারক।
মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে-
عَنْ حَضْرَت الْحسن رَحْمَةُ اللّهِ عَلَيْهِ قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم مَا من عبد عمل خيرا أَو شرا إِلَّا كسى رِدَاء عمله حَتَّى يعرفوه وتصديق ذَلِك فِي كتاب الله ولباس التَّقْوَى ذَلِك خير
অর্থ: হযরত হাসান বছরী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে বর্ণিত: তিনি বলেন, মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, প্রত্যেক বান্দাই সে নেক কাজ করুক বা বদ কাজ করুক তাকে তার আমল অনুযায়ী একটি চাদর পরিধান করানো হয়। এমনকি সে লোকজনের কাছে ঐ নামেই পরিচিত হয়। তার প্রমাণ হলো যিনি খালিক যিনি মালিক যিনি রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন সম্মানিত তাক্বওয়া বা পরহেযগারী উনার পোশাকই সর্বোত্তম পোশাক মুবারক। (আদ দুররুল মানছূর ফী তাফসীরিল মা’ছূর ৩/৪৩৫)
উল্লেখিত মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ থেকেও প্রমাণিত খোদা ভীতি অর্জনের মাধ্যমে যে মর্যাদা অর্জন করে ঐ মর্যাদাকেই লিবাসুত তাক্বওয়া বা খোদা ভীতির চাদর বলা হয়েছে। যা তাক্বওয়া অর্জনের স্তর অনুযায়ী, তাক্বওয়া অর্জনকারীকে পরিধান করিয়ে দেয়া হয়।
মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে-
عَنْ حَضْرَت الْحسن رَحْمَةُ اللّهِ عَلَيْهِ قَالَ رَأَيْت حَضْرَت عُثْمَان عَلَيْه السَّلَام على الْمِنْبَر قَالَ يَا أَيهَا النَّاس اتَّقوا الله فِي هَذِه السرائر فَإِنِّي سَمِعت رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم يَقُول وَالَّذِي نفس مُحَمَّد بِيَدِهِ مَا عمل أحد عملا قطّ سرا إِلَّا ألبسهُ الله رِدَاءَهُ عَلَانيَة إِن خيرا فَخير وَإِن شرا فشر ثمَّ تَلا هَذِه الْآيَة {وريشا} وَلم يقل وريشاً {ولباس التَّقْوَى ذَلِك خير}
অর্থ: হযরত হাসান বছরী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি হযরত যূন নুরাইন আলাইহিস সালাম উনাকে উনার মিম্বর শরীফে বসা অবস্থায় দেখতে পেয়েছি। তিনি বলেন, হে মানব সকল! গোপন আমলগুলির ব্যাপারে যিনি খালিক যিনি মালিক যিনি রব মহান আল্লাহ পাক উনাকে ভয় করুন। কেননা, নিশ্চয়ই আমি মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে ইরশাদ মুবারক করতে শুনেছি যে, সেই মহান সত্ত্বা মুবারক উনার কসম, যার কুদরতী হাত মুবারকে আমার নূরুল আমর (প্রাণ) মুবারক। যখনই কোন বান্দা সে গোপনে কোন আমল করে, তখন যিনি খালিক যিনি মালিক যিনি রব মহান আল্লাহ পাক তিনি তাকে গোপনীয় একটি চাদর পরিধান করিয়ে দেন। যদি উক্ত আমলটি নেক আমল হয়, তাহলে তো সর্বোত্তম আমল হবে। আর যদি বদ আমল হয়, তখন উক্ত আমলটি নিকৃষ্ট আমল হবে। অতঃপর তিনি অত্র আয়াত শরীফ তিলাওয়াত করেন-
يا بَني آدَمَ قَد أَنزَلنا عَلَيكُم لِباسًا يُواري سَوآتِكُم وَريشًا وَلِباسُ التَّقوى ذلِكَ خَيرٌ ذلِكَ مِن آياتِ اللَّهِ لَعَلَّهُم يَذَّكَّرونَ
কিন্তু তিনি পবিত্র আয়াত শরীফে উল্লেখিত وَريشًا শব্দ মুবারক উল্লেখ করেন নাই। (কানযুল উম্মাল ৩/৬৭৪, জামউল জাওয়ামি’ ১৭/৩২, আদ দুররুল মানছূর ফী তাফসীরিল মা’ছূর ৩/৪৩৫) (চলবে)
-মুহম্মদ মুফীদ্বুর রহমান।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পবিত্র কুরআন শরীফ তিলাওয়াত করার গুরুত্ব-ফযীলত ও খাছ সুন্নতী তারতীব
২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পুষ্টিগুণে ভরপুর মহাসম্মানিত সুন্নতী খাবার “মগজ”
২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নতী খাবার কালোজিরা (২)
২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ক্বমীছ বা জামা নিছফে সাক্ব পর্যন্ত প্রলম্বিত হওয়া সম্মানিত সুন্নত মুবারক
২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নতী খাবার কালোজিরা (১)
২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ওযূর একটি মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক অনিচ্ছাকৃত তরক করায় নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সতর্কতা মুবারক
১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
লিবাস পরিধানের মহাসম্মানিত সুন্নতী তরীক্বাহ (২)
১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
লিবাস পরিধানের মহাসম্মানিত সুন্নতী তরীক্বাহ (১)
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহাসম্মানিত সুন্নত তরীক্বায় দোয়ার খাযীনাহ (১৯)
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সর্বপ্রকার কামিয়াবী হাছিল করতে হলে সকলের জন্য কর্তব্য হচ্ছে- নফসের অনুসরণ বাদ দিয়ে মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার অনুসরণ করা
১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
প্রত্যেক মুসলমান পুরুষ-মহিলার জন্য আবশ্যক হচ্ছে, সর্বক্ষেত্রে মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক অনুযায়ী আমল করা
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
বিসমিল্লাহ বলে বাসনের ডান দিক থেকে খাবার খাওয়া মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক এবং আহার করার কতিপয় মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক (২)
১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার)












