ওযূর একটি মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক অনিচ্ছাকৃত তরক করায় নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সতর্কতা মুবারক
, ০৮ রবীউছ ছানী শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ২২ রবি, ১৩৯৪ শামসী সন , ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রি:, ০৫ আশ্বিন, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) সুন্নত মুবারক তা’লীম
হযরত ফুজায়েল বিন আয়াজ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সম্পর্কে বলা হয়, তিনি একটা সময় ডাকাত সর্দার ছিলেন। তিনি তওবা করলেন, মহান আল্লাহ পাক উনার ওলী হলেন, তিনি মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার পাবন্দ হয়ে গেলেন। একদিন হযরত ফুজায়েল বিন আয়াজ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি পবিত্র ইশার নামাযের ওযূ করলেন। ওযূ করার সময় প্রত্যেক অঙ্গ তিনবার ধোয়া মহাসম্মানিত সুন্নত মুবরক উনার অন্তর্ভূক্ত। কিন্তু তিনি তিনবার ধোয়ার জায়গায় ভুলে হাত ধোয়ার সময় দু’বার ধুয়ে ওযূ করে পবিত্র ইশার নামায পড়ে শুয়ে রইলেন।
শোয়ার সাথে সাথে তিনি স্বপ্নে দেখতে লাগলেন- মহান আল্লাহ পাক উনার মহসম্মানিত হাবীব ও মাহবূব, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহাসম্মানিত তাশরীফ (আগমন) মুবারক এনেছেন। অতঃপর তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন, “হে ফুজায়েল! ” আপনি আমার খালিছ উম্মতের ও আমার মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারকের ইত্তেবার দাবীদার, ওযূতে তিনবার হাত ধোয়া সুন্নত মুবারক। আমি তো আশ্চর্য হয়ে গেলাম; আপনি দু’বার হাত ধুয়ে ওযূ করে নামায পড়ে শুয়ে আছেন?”
মহান আল্লাহ পাক উনার মহাসম্মানিত হাবীব ও মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যখন একথা মুবারক বললেন, তখন হযরত ফুজায়েল বিন আয়াজ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ঘুম থেকে লাফ দিয়ে উঠে গেলেন। তিনি খালিছ তওবা-ইস্তেগফার করলেন। মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট ক্ষমা চাইলেন।
শুধু খালিছ তওবা-ইস্তেগফার করেই ক্ষান্ত থাকলেন না, বরং এই ভুলের জন্য কাফফারা বাবদ এক বৎসর নফল রোযা রাখলেন এবং প্রতিদিন ৫০০ রাকায়াত করে নামায কাফফারা বাবদ আদায় করেছেন। সুবহানাল্লাহ!
ফিকিরের বিষয়, হযরত ফুজায়েল বিন আয়াজ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ভুলে একখানা মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক ছেড়ে দেওয়ায় স্বয়ং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সতর্ক করে দিলেন।
আর বর্তমান সমাজে মানুষ অসংখ্য মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক ছেড়ে দিয়ে কাফের-মুশরিকদের অনুসরণে ব্যস্ত। নাউযুবিল্লাহ!
মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন-
قُلْ اِنْ كُنْتُمْ تُحِبُّوْنَ اللهَ فَاتَّبِعُوْنِيْ يُحْبِبْكُمُ اللهُ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوْبَكُمْ وَاللهُ غَفُوْرٌ رَّحِيْمٌ.
অর্থ: আয় আমার মহাসম্মানিত হাবীব ও মাহবূব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি বলে দিন, যদি তোমরা যিনি খ¦লিক, মালিক, রব, মহান আল্লাহ পাক উনাকে মুহব্বত মুবারক করে থাকো, তাহলে তোমরা আমার অনুসরণ মুবারক করো। তাহলে মহান আল্লাহ পাক তিনি তোমাদেরকে মুহব্বত মুবারক করবেন এবং তোমাদের গুনাহখতা ক্ষমা করে দিবেন। মহান আল্লাহ পাক তিনি ক্ষমাশীল ও অসীম দয়ালু। সুবহানাল্লাহ! (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সূরা আলে ইমরান শরীফ: মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আয়াত নং ২১)
সুতরাং যারা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অনুসরণ করবে তারা মহান আল্লাহ পাক উনার মুহব্বত মুবারক লাভ করবে এবং ক্ষমাপ্রাপ্ত হবে। এছাড়াও আরো অসংখ্য নিয়ামত মুবারক লাভে ধন্য হবে। যেমন মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
وَاِنْ تُطِيْعُوْهُ تَهْتَدُوْا
অর্থ: আর যদি তোমরা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অনুসরণ মুবারক করো, তাহলেই তোমরা সম্মানিত হিদায়েত মুবারক লাভ করবে। সুবহানাল্লাহ! (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সূরা নূর শরীফ: মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আয়াত নং:-৪৫)
তাহলে আমরা বুঝতে পারলাম যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অনুসরণ বা ইত্তেবা মুবারক করলেই হাক্বীক্বী হিদায়েত মুবারক লাভ করা যাবে। সুবহানাল্লাহ!
মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের সকলকে সর্বক্ষেত্রে মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার ইত্তেবা করার তাওফীক্ব দান করুন। আমীন!
-আহমদ হুসাইন
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নতী খাবার কালোজিরা (১)
২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
লিবাস পরিধানের মহাসম্মানিত সুন্নতী তরীক্বাহ (২)
১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
লিবাস পরিধানের মহাসম্মানিত সুন্নতী তরীক্বাহ (১)
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহাসম্মানিত সুন্নত তরীক্বায় দোয়ার খাযীনাহ (১৯)
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সর্বপ্রকার কামিয়াবী হাছিল করতে হলে সকলের জন্য কর্তব্য হচ্ছে- নফসের অনুসরণ বাদ দিয়ে মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার অনুসরণ করা
১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
প্রত্যেক মুসলমান পুরুষ-মহিলার জন্য আবশ্যক হচ্ছে, সর্বক্ষেত্রে মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক অনুযায়ী আমল করা
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
বিসমিল্লাহ বলে বাসনের ডান দিক থেকে খাবার খাওয়া মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক এবং আহার করার কতিপয় মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক (২)
১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
বিসমিল্লাহ বলে বাসনের ডান দিক থেকে খাবার খাওয়া মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক এবং আহার করার কতিপয় মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক (১)
১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
খাবার পড়ে গেলে তা উঠিয়ে পরিস্কার করে খাওয়া খাছ সুন্নত মুবারক (২)
১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
খাবার পড়ে গেলে তা উঠিয়ে পরিস্কার করে খাওয়া খাছ সুন্নত মুবারক (১)
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহাসম্মানিত সুন্নত তরীক্বায় দোয়ার খাযীনাহ (১৮)
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
১৪০৬ হিজরী সনের পবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিশ শুহুরিল আ’যম শরীফ মাসে ইতিহাসে সর্বপ্রথম পবিত্র মদীনা শরীফ উনার আদলে পবিত্র রাজারবাগ শরীফে তৈরী করা হয় “পবিত্র সুন্নতী জামে মসজিদ”
০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)












