মন্তব্য কলাম
গত দেড় দশকে জিডিপির আকার ও প্রবৃদ্ধি অতিরঞ্জিত করে ও মিথ্যা তথ্য দিয়ে দেশী-বিদেশী উৎস থেকে অনেক বেশি ঋণ সুবিধা নিয়েছে আওয়ামীলীগ জালেমশাহী সরকার।
“ভূয়া তথ্য দেয়া ও অতিরিক্ত বিদেশী ঋণ নেয়া এবং মেগা প্রকল্পের মাধ্যমে দুর্নীতি করে বিদেশে অর্থ পাচার করা”- এসব মহাজালিয়াতি ও মহা শোষণ থেকে নতুন সরকারকে অবশ্যই স্বচ্ছ থাকতে হবে ইনশাআল্লাহ।
, ২৩ শাওওয়াল শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১২ হাদী আশার, ১৩৯৩ শামসী সন , ১২ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রি:, ২৯ চৈত্র, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) মন্তব্য কলাম
দেশে বড় প্রকল্প বাস্তবায়নসহ উন্নয়নমূলক কর্মকা- পরিচালনার অন্যতম উৎস বিদেশী ঋণ। বৈদেশিক এ ঋণের স্থিতি ও মাথাপিছু ঋণের পরিমাণ যেভাবে দ্রুত বেড়ে চলেছে, তা দেশের অর্থনীতির জন্য গভীর উদ্বেগজনক। বিদেশী ঋণের স্থিতি বাড়তে থাকায় পরিশোধের চাপ বাড়ছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছর শেষে দেশের মোট বৈদেশিক ঋণ ১১৩ দশমিক ২০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, তা ২০১০-এর তুলনায় প্রায় ছয়গুণ বেশি। বিদেশী ঋণের পরিমাণ বাড়তে থাকায় দেশের মানুষের মাথাপিছু বৈদেশিক ঋণের পরিমাণও বাড়ছে। বর্তমানে মাথাপিছু বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ ৬৫৫ ডলার।
এ ঋণ বৃদ্ধির পেছনে উৎপাদনশীল ও অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক প্রকল্পের চেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে বাছবিচারহীন বড় প্রকল্প, অনিয়ম ও দুর্নীতি। বিভিন্ন বড় প্রকল্পের আওতায় এ ঋণের সিংহভাগ নেয়া হয় গত আওয়ামী শাসনামলে। বিপুল পরিমাণ বিদেশী ঋণ নেয়া হলেও তার উল্লেখযোগ্য অংশ অর্থনীতিতে প্রত্যাশিত সুফল দিতে পারেনি। বরং প্রকল্প ব্যয় অতিরঞ্জিত করে দেখানো, দুর্নীতির মাধ্যমে অর্থ পাচার এবং সঠিক পরিকল্পনার অভাবে ঋণের বোঝা ক্রমেই বাড়ছে।
আফ্রিকার উদীয়মান অর্থনীতির দেশ নাইজেরিয়া। জনসংখ্যা, অর্থনীতির ধরণ ও বৈদেশিক বাণিজ্যের আকারের দিক থেকে দেশটির সঙ্গে অনেক সামঞ্জস্য রয়েছে বাংলাদেশের।
তবে মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপির আকারে দুই দেশের চিত্রটা ভিন্ন। প্রায় ২৪ কোটি মানুষের নাইজেরিয়ার জিডিপি বর্তমানে ২৮৫ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশের যেখানে জিডিপি ৪৫৬ বিলিয়ন ডলার বলে দাবি করা হচ্ছে।
একইভাবে জনসংখ্যা ও অর্থনীতির কাঠামোর দিক থেকে বাংলাদেশের সঙ্গে তুলনীয় আরেক দেশ পাকিস্তান। প্রায় সাড়ে ৩৫ কোটি মানুষের এ দেশটির জিডিপি ৩৪০ বিলিয়ন ডলারের ঘরে। অথচ দুই দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের (আমদানি ও রফতানি) আকার কাছাকাছি। মাথাপিছু বিদ্যুৎ ব্যবহারেও বাংলাদেশকে ছাড়িয়ে গেছে পাকিস্তান।
বিভিন্ন গবেষণা সংস্থা ও অর্থনীতিবিদদের মতে, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের টানা প্রায় দেড় দশকের শাসনামলে বাংলাদেশের জিডিপিসহ বিভিন্ন অর্থনৈতিক সূচকে ভুয়া বা অতিরঞ্জিত পরিসংখ্যান উপস্থাপন করা হয়েছে। এলডিসি (স্বল্পোন্নত দেশ) থেকে উত্তরণ ও উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরতে গিয়েই মূলত ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে দেখানো হয়েছে জিডিপির আকার। বিপরীতে প্রকৃত অবস্থা থেকে কম দেখানো হয়েছে মূল্যস্ফীতির হার।
জিডিপির অতিরঞ্জিত এ আকার কেবল সরকারের জন্য বাড়তি ঋণ সুবিধাই সৃষ্টি করেছে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) চূড়ান্ত হিসাবে ২০২৪-২৫ অর্থবছর শেষে দেশের জিডিপির আকার ছিল ৪৫৬ বিলিয়ন ডলার। একই সময়ে দেশী-বিদেশী উৎস থেকে সরকার ঋণ নেয় ২১ লাখ ৪৪ হাজার কোটি টাকারও বেশি। প্রতি ডলারের দর ১২২ টাকা হিসাবে সরকারের নেয়া এ ঋণের পরিমাণ প্রায় ১৭৬ বিলিয়ন ডলার।
সে হিসাবে বাংলাদেশের ডেট টু জিডিপি রেশিও বা ঋণ-জিডিপির অনুপাত ৩৮ দশমিক ৬১ শতাংশ। তবে সরকারের এ ঋণের হিসাবে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর নেয়া ঋণের তথ্য যোগ করা হয়নি। সেটি যোগ করলে এর স্থিতি সাড়ে ২৩ লাখ কোটি টাকায় গিয়ে ঠেকে।
দেশী-বিদেশী বিভিন্ন নথিতে পাওয়া তথ্য এবং অর্থনীতিবিদ ও বিশেষজ্ঞদের ভাষ্যমতে, বাংলাদেশের জিডিপির প্রকৃত আকার পাকিস্তান ও নাইজেরিয়ার সমপর্যায়ের। সেক্ষেত্রে দেশের জিডিপির আকার হতে পারে ৩০০ থেকে ৩৫০ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে। কিন্তু গত দেড় দশকে এটিকে টেনে প্রকৃত পরিমাণের চেয়ে অন্তত ১০০ বিলিয়ন ডলার বাড়িয়ে দেখানো হয়েছে।
‘কান্ট্রি ইকোনমিক মেমোরেন্ডাম: চেঞ্জ অব ফ্যাব্রিক’ শিরোনামে ২০২২ সালে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে বিশ্বব্যাংক। এতে ১৩০টি দেশের তিন দশকের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করা হয়। প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০০৯ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত দেশের গড় প্রবৃদ্ধির হার ৭ শতাংশ বলা হলেও প্রকৃত হার ছিল ৪ দশমিক ২ শতাংশ। অর্থাৎ সরকারি হিসাবে ওই দশকে গড় প্রবৃদ্ধির হার বাড়িয়ে দেখানো হয়েছে ২ দশমিক ৮ শতাংশীয় পয়েন্ট।
গত দেড় দশকে দেশী-বিদেশী উৎস থেকে ঋণ নেয়ার ক্ষেত্রে জিডিপির আকার ও প্রবৃদ্ধির অতিরঞ্জিত তথ্যের সুফল নিয়েছে সাবেক জালেমশাহী সরকার।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৯-১০ অর্থবছরে দেশী-বিদেশী উৎস থেকে সরকারের মোট ঋণ ছিল ২ লাখ ৭৬ হাজার ৮৩০ কোটি টাকা। এর মধ্যে বিদেশী উৎস থেকে নেয়া হয়েছিল ১ লাখ ৬১ হাজার ২০ কোটি টাকার ঋণ। বাকি ১ লাখ ১৫ হাজার ৮১০ কোটি টাকা নেয়া হয় অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে। ব্যাংক খাতের পাশাপাশি সঞ্চয়পত্রসহ অন্যান্য খাত থেকে এ ঋণ নেয়া হয়েছিল। কিন্তু মাত্র পৌনে ৩ লাখ কোটি টাকার সে ঋণই এখন প্রায় সাড়ে ২৩ লাখ কোটি টাকায় ঠেকেছে।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ মালয়েশিয়ার জিডিপি ২০২৫ সালে ছিল ৪৭০ বিলিয়ন ডলার। জিডিপির আকারে বাংলাদেশের সঙ্গে মালয়েশিয়ার ব্যবধান খুব বেশি না হলেও দুই দেশের বাস্তব চিত্র অনেক ভিন্ন। জনসংখ্যা কম হওয়ার কারণে মাথাপিছু আয়ের দিক দিয়ে মালয়েশিয়া সুবিধাজনক অবস্থানে থাকলেও দেশটির অর্থনীতি অনেক বেশি বৈচিত্র্যময়। ইলেকট্রনিকস ও ইলেকট্রিক্যাল পণ্য, পাম অয়েল এবং পেট্রোলিয়াম তাদের প্রধান রফতানি খাত। দেশটি বর্তমানে সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের একটি বৈশ্বিক হাব হিসেবে পরিচিত। তাছাড়া মালয়েশিয়ার মূল্যস্ফীতি তুলনামূলক স্থিতিশীল এবং দেশটির বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও বেশ শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। ৪৭০ বিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি হিসেবে মালয়েশিয়ার অবকাঠামো ও আর্থসামাজিক যে চিত্র দেখা যায় তার সঙ্গে ৪৫৬ বিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির দেশ বাংলাদেশের চিত্র ঘোর সন্দেহজনক।
নতুন সরকারের জন্য তাই চ্যালেঞ্জ শুধু ঋণ পরিশোধ নয়, শুধু প্রকল্প বাছাই, ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যবহারযোগ্যতা নিশ্চিত করাও নয়।
বরং নতুন সরকারের জন্য স্বচ্ছতার বিষয় হলো অতীত সরকারের মত বৈশ্বিক ঋণ নিয়ে দেশকে ফোকলা করার পায়তারা না করা। ভূয়া জিডিপি আর ভূয়া মাথাপিছু আয় দেখিয়ে নতুন মেগা প্রকল্প না গ্রহণ করা। এই মুহুর্তে দ্বিতীয় পদ্মা বা যমুনা সেতুর মত মেগা প্রকল্প না গ্রহণ করা। যদি সরকারের মন্ত্রী তা বলেছে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ এক্ষুনি জরুরী।
-আল্লামা মুহম্মদ ওয়ালীউর রহমান আরিফ।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছির আলাইহিস সালাম উনার নির্দেশনা মুবারক পালনেই সফলতা। ঢাকামুখী জনস্রোত বন্ধ এবং ঢাকা শহরের প্রাতিষ্ঠানিক বিকেন্দ্রীকরণ ব্যতীত অন্য কোন পদ্ধতিতে কখনোই যানজট নিরসনের স্থায়ী সমাধান হবে না। যানজট নিরসনের মূল কারণ চিহ্নিত ও পদক্ষেপ নিতে না পারাই ঢাকায় যানজটের প্রধান কারণ। (৩য় পর্ব)
১৩ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
দ্বীনি উসকানি ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের অপচেষ্টা; কুশল লা’নতুল্লাহি আলাইহির বিতর্কিত অপতৎপরতা
১২ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
৯৮ ভাগ জনগোষ্ঠী মুসলমানের সংস্কৃতি যে অমুসলিমের উপলব্ধির কাছে নিরাপদ নয় তারই প্রমাণ দিলো বর্তমান সংস্কৃতি মন্ত্রী। অমঙ্গল যাত্রাসহ বিভিন্ন কাট্টা হারাম সংস্কৃতি চালুর উৎসাহে যে বিভোর। ইসলামী পর্যবেক্ষকমহল ও সংবাদ মাধ্যম তাকে আওয়ামীলীগের সাংস্কৃতিক এজেন্ডার ধারাবাহিকতা পালনকারী হিসেবে মন্তব্য করেছেন।
১২ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
এবার ঘরের দিকে তাকানোর সময় হয়েছে বাংলাদেশের: দেশীয় সব কাজ ভার্তৃপ্রতীম মুসলিমদেশদেরকেই শুধুমাত্র সুযোগ দেয়া উচিত
১১ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে বাল্যবিয়ে বন্ধ করা কাফিরদের ষড়যন্ত্র
১০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
কৃষিতে ডিজেল সংকট হুমকিতে ইরি-বোরো ও পাট উৎপাদন ডিজেল সংকটে সৌরবিদ্যুতের নলকূপই এখন কৃষকের জন্য খোদায়ী রহমত।
১০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার নির্দেশনা মুবারক পালনেই সফলতা। ঢাকামুখী জনস্রোত বন্ধ এবং ঢাকা শহরের প্রাতিষ্ঠানিক বিকেন্দ্রীকরণ ব্যতীত অন্য কোন পদ্ধতিতে কখনোই যানজট নিরসনের স্থায়ী সমাধান হবে না।
০৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
বিদ্যুৎবাঁচাতে সন্ধ্যা ৬টার সময় দোকানপাট বন্ধ করলে অর্থনীতি আরো দুর্বল হবে
০৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
হুজুগে মাতা বাঙ্গালী তেলের অবৈধ মজুতেই দেশের বিপদ ডেকে আনছে বাংলাদেশেই উৎপাদন হয় পর্যাপ্ত পেট্রোল-অকটেন। তারপরেও আতঙ্ক কেন?
০৮ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
প্রসঙ্গ: গত পরশু বিজেপি নেতার খুলনা যশোর অঞ্চল দখলের হুমকী এবং বারবার উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের বাংলাদেশ দখলের আস্ফালন
০৭ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
৭০০ কিলোমিটারের মরণব্যাধি ও আমাদের আকাশ প্রতিরক্ষা : বেগম পাড়ার বিলাসিতা কি সার্বভৌমত্বের কফিনে শেষ পেরেক?
০৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
আমেরিকা থেকে উচ্চমূল্যে বিষাক্ত গম আমদানি বন্ধ করতে হবে
০৫ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার)












