খলীফাতুল মুসলিমীন, আমীরুল মু’মিনীন সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার খলীফা মনোনীত হওয়ার সঠিক ইতিহাস
, ২৪ রবীউল আউওয়াল শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ০৯ রবি, ১৩৯৪ শামসী সন , ০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রি:, ২৩ ভাদ্র, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) ইতিহাস
আমীরুল মু’মিনীন, খলীফাতুল মুসলিমীন সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র শাহাদাতী শান মুবারক প্রকাশ করার পূর্বে অর্থাৎ আহত অবস্থায় হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুমগণ উনারা আরজ করলেন উনার পরবর্তী খলীফা মনোনীত করার জন্য। তখন তিনি বললেন, আমি ছয় জনের সম্মানিত নাম মুবারক ঘোষণা করে যাচ্ছি। উনাদের মধ্য হতে যে কোনো একজনকে তিন দিনের মধ্যে খলীফা হিসেবে ঘোষণা করতে হবে।
উল্লেখিত ছয়জন হচ্ছেন- আমীরুল মু’মিনীন, সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম, আমীরুল মু’মিনীন, সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি, হযরত ত্বলহা রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি, হযরত যুবায়ের রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি, হযরত সা’দ ইবনে আবী ওয়াক্কাছ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি এবং হযরত আব্দুর রহমান ইবনে আওফ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি। সুবাহানাল্লাহ!
স্মরণীয় যে, উপরোক্ত ছয়জনই ছিলেন, “আশারায়ে মুবাশশারা উনাদের” অন্তর্ভুক্ত। সুবহানাল্লাহ! উল্লেখিত ছয় জনের সম্মানিত নাম মুবারক ঘোষণা করে আমীরুল মু’মিনীন সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি হযরত আব্দুর রহমান ইবনে আওফ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনাকে দায়িত্ব দিলেন তিন দিনের মধ্যে যেকোনো একজনকে খলীফা হিসেবে ঘোষণা করার জন্য।
যেহেতু মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে রয়েছেন আমীরুল মু’মিনীন সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার পর খলীফা হবেন সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম তিনি, অতঃপর আমীরুল মু’মিনীন, সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি। সুবহানাল্লাহ! যেমন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
اِنَّ حَضْرَتْ اَبَا بَكْرٍ عَلَيْهِ السَّلَامُ يَـــلِـىْ مِنۢ بَعْدِىْ ثُـمَّ حَضْرَتْ عُمَرُ عَلَيْهِ السَّلَامُ مِنۢ بَعْدِهٖ ثُـمَّ حَضْرَتْ عُثْمَانُ عَلَيْهِ السَّلَامُ مِنۢ بَعْدِهٖ ثُـمَّ حَضْرَتْ عَلِـــىٌّ كرم الله وجهه عَلَيْهِ السَّلَامُ مِنۢ بَعْدِهٖ
অর্থ: “আমার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশ উনার পর প্রথমে খলীফা হবেন সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি, অতঃপর সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি, তারপর সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম তিনি, অতঃপর সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি।” সুবহানাল্লাহ! (গুনিয়াতুত ত্বলিবীন ১/১৫৯, মাকতুবাত শরীফ)
তাই উনারা উল্লেখিত পাঁচ জনের মধ্য হতে সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনাকে খলীফা হিসেবে ঘোষণা করেন। সুবহানাল্লাহ!
আর দ্বিতীয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে মনোনীত হন সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি। যার ফলশ্রুতিতে আমীরুল মু’মিনীন, সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র শাহাদাতী শান মুবারক প্রকাশ করার পর আমীরুল মু’মিনীন, সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি খলীফা হিসেবে সম্মানিত খিলাফত মুবারক গ্রহণ করেন। সুবহানাল্লাহ!
দশম হিজরী শতকের মুজাদ্দিদ হযরত ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূত্বী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার বিশ্বখ্যাত কিতাব ‘তারীখুল খুলাফাতে’ এবং দ্বাদশ হিজরী শতকের মুজাদ্দিদ হযরত শাহ ওলীউল্লাহ মুহাদ্দিছ দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার বিশ্বখ্যাত কিতাব ‘ইযালাতুল খফাতে’ উল্লেখ করেন, “আমীরুল মু’মিনীন সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার দাফন মুবারক সম্পন্ন করে উল্লেখিত ছয়জন পরামর্শে বসে গেলেন। হযরত আব্দুর রহমান ইবনে আওফ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি বললেন, আপনারা মিলে এ ব্যাপারটি তিন জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ করে নিন। হযরত যুবায়ের ইবনে আওয়াম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি বললেন, আমি আমার দায়িত্ব আমীরুল মু’মিনীন, সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার অনুকূলে পরিত্যাগ করলাম। হযরত ত্বলহা রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি বললেন, আমি আমার দায়িত্ব সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার অনুকূলে ছেড়ে দিলাম। হযরত সা’দ বিন আবী ওয়াক্কাছ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি বললেন, আমি আমার দায়িত্ব হযরত আব্দুর রহমান ইবনে আওফ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার উপর অর্পণ করলাম। তখন হযরত আব্দুর রহমান ইবনে আওফ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি অপর দু’জনকে অর্থাৎ আমীরুল মু’মিনীন, সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনাকে এবং আমীরুল মু’মিনীন, সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনাকে অর্থাৎ উনাদেরকে বললেন, আপনাদের দু’জনের কে সম্মানিত খিলাফত মুবারক উনার দাবি ছেড়ে দিতে পারেন, যাঁর হাত মুবারক-এ আমি খলীফা মনোনীত করার দায়িত্ব দিতে পারি? তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার প্রতি এবং সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার প্রতি দৃষ্টি রেখে উত্তম ব্যক্তিকে খলীফা মনোনীত করবেন। আমীরুল মু’মিনীন, সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম তিনি এবং আমীরুল মু’মিনীন, সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি অর্থাৎ উনারা উভয়ই চুপ থাকলেন। (কারণ উনারা চেয়েছিলেন, যেহেতু হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের পরে দ্বিতীয় ব্যক্তিত্ব আমীরুল মু’মিনীন সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি স্বয়ং হযরত আব্দুর রহমান ইবনে আওফ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনাকে খলীফা যিনি হবেন উনার সম্মানিত নাম মুবারক প্রকাশ করার বা ঘোষণা করার দায়িত্ব দিয়েছিলেন, তাই হযরত আব্দুর রহমান ইবনে আওফ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনিই যেন খলীফা যিনি হবেন উনার সম্মানিত নাম মুবারক প্রকাশ করেন বা ঘোষণা করেন। আর হযরত আব্দুর রহমান ইবনে আওফ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার এই বিষয়টিও জানা রয়েছে যে, স্বয়ং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন, সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার পর খলীফা হবেন আমীরুল মু’মিনীন, সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম তিনি। অতঃপর হবেন সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি। সুবহানাল্লাহ!) তখন হযরত আব্দুর রহমান ইবনে আওফ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি বললেন, আমি সম্মানিত খিলাফত মুবারক উনার দাবি ত্যাগ করলাম। আপনারা আমার উপর বিষয়টি ছেড়ে দিন, আমি মহান আল্লাহ পাক উনাকে সাক্ষী রেখে আপনাদের মধ্যে অপেক্ষাকৃত হক্বদার ব্যক্তিকে খলীফা হিসেবে ঘোষণা করবো। তখন উনারা দু’জন হযরত আব্দুর রহমান ইবনে আওফ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার প্রস্তাব মেনে নিলেন। সাথে সাথে হযরত আব্দুর রহমান ইবনে আওফ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি আমীরুল মু’মিনীন, সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার হাত মুবারক ধরে বললেন, আপনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকটাত্মীয় এবং আপনি প্রথম সম্মানিত ও পবিত্র দ্বীন ইসলাম গ্রহণ করেছেন। মহান আল্লাহ পাক উনাকে সাক্ষী রেখে আমি আপনার কাছ থেকে এ প্রতিশ্রুতি মুবারক নিচ্ছি যে, আমি যদি আপনাকে খলীফা হিসেবে ঘোষণা করি, তাহলে আপনি সম্মানিত ইনসাফ মুবারক উনার সাথে সম্মানিত খিলাফত মুবারক পরিচালনা করবেন। আর যদি সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনাকে খলীফা হিসেবে ঘোষণা করি, তাহলে আপনি অবশ্যই অবশ্যই উনার কথা মতো চলবেন এবং উনাকে ইতায়াত অর্থাৎ অনুসরণ-অনুকরণ করবেন। জবাবে আমীরুল মু’মিনীন, সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, হ্যাঁ, অবশ্যই আমি তা করবো। অতঃপর তিনি আমীরুল মু’মিনীন, সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নুরাইন আলাইহিস সালাম উনার হাত মুবারক ধরে একই প্রতিশ্রুতি মুবারক নিলেন। যখন উভয়ের প্রতিশ্রুতি মুবারক নেয়া শেষ হলো, তখন তিনি বললেন, হে আমীরুল মু’মিনীন, সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম! আপনি আপনার হাত মুবারক প্রসারিত করুন। আমীরুল মু’মিনীন, সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম তিনি হাত মুবারক বাড়ালেন। (যেহেতু মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে রয়েছেন- আমীরুল মু’মিনীন সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার পর খলীফা হবেন আমীরুল মু’মিনীন, সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আাইহিস সালাম তিনি)। সুবহানাল্লাহ! তাই প্রথমে হযরত আব্দুর রহমান ইবনে আওফ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি আমীরুল মু’মিনীন, সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আাইহিস সালাম উনার সম্মানিত হাত মুবারক-এ বাইয়াত হলেন। সুবহানাল্লাহ! অতঃপর আমীরুল মু’মিনীন, সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি বাইয়াত হলেন। অবশেষে সমস্ত মুসলমানগণ উনারা দলে দলে এসে বাইয়াত গ্রহণ করলেন।” সুবহানাল্লাহ! (বুখারী শরীফ- বাব: কিছ্ছাতুল বাই‘য়াতি ওয়াল ইত্তিফাক্বি ‘আলা উছমান ইবনে আফফান ওয়া ফীহি মাক্বতালু উমর ইবনিল খত্ত্বাব রদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা, ছহীহ ইবনে হিব্বান ১৫/৩৫৪, আস সুনানুল কুবরা লিল বাইহাক্বী ৮/২৫৯, ইযালাতুল খফা ৪/৭০, তারীখুল খুলাফা ১০৭ নং পৃ: ইত্যাদি)
ষষ্ঠ হিজরী শতকের মুজাদ্দিদ, হযরত বড়পীর আব্দুল কাদির জিলানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার বিশ্বখ্যাত কিতাব ‘গুনিয়াতুত ত্বলিবীন’-এ উল্লেখ করেন, হযরত আব্দুর রহমান ইবনে আওফ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি আমীরুল মু’মিনীন, সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনাকে এবং সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনাকে অর্থাৎ উনাদেরকে প্রস্তাব মুবারক করলেন। তিনি বললেন, আমি মহান আল্লাহ পাক উনার এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অর্থাৎ উনাদের এবং সমস্ত মুসলমান উনাদের দিকে চেয়ে আপনাদের কোনো একজনকে খলীফা হিসেবে ঘোষণা করবো। অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অর্থাৎ উনাদের সম্মানিত নির্দেশ মুবারক মুতাবিক, উনাদের ইচ্ছা মুবারক অনুযায়ী আপনাদের দু’জনের একজনকে খলীফা হিসেবে ঘোষণা করবো। (কেননা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে রয়েছেন, আমীরুল মু’মিনীন, সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার পরে খলীফা হবেন সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম তিনি, অতঃপর হবেন সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি। সুবহানাল্লাহ!) একথা বলেই তিনি প্রথমেই আমীরুল মু’মিনীন, সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত হাত মুবারক ধরে বললেন, হে আমীরুল মু’মিনীন, সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম! আপনার উপর মহান আল্লাহ পাক উনার প্রদত্ত জিম্মাদারী এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জিম্মাদারীর রক্ষণাবেক্ষণ করা অবশ্য কর্তব্য। আমরা আপনার হাত মুবারকে বাইয়াত হওয়ার পর আপনাকে মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অর্থাৎ উনাদের সম্মানিত রেযামন্দি-সন্তুষ্টি মুবারক এবং মুসলমানদের ভালাই ও কল্যাণ কামনায় আত্মনিয়োগ করতে হবে। আর আপনাকে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার, আমীরুল মু’মিনীন হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনার এবং আমীরুল মু’মিনীন, সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার অর্থাৎ উনাদের সম্মানিত সুন্নত মুবারক পালন করতে হবে। {(যেহেতু নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আমীরুল মু’মিনীন, সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার কাছ থেকে এই প্রতিশ্রুতি মুবারক নিয়েছিলেন যে, উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করার পর প্রথমে খলীফা হবেন আমীরুল মু’মিনীন হযরত ছিদ্দীক্ব আকবর আলাইহিস সালাম তিনি, তারপর আমীরুল মু’মিনীন, সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি, অতঃপর আমীরুল মু’মিনীন, সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম তিনি, তারপর আমীরুল মু’মিনীন, সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি। সুবহানাল্লাহ!) (গুনিয়াতু ত্বলিবীন)}
দশম হিজরী শতকের মুজাদ্দিদ হযরত ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূত্বী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার বিশ্বখ্যাত কিতাব “তারীখুল খুলাফাতে” উল্লেখ করেন, “হযরত আবূ ওয়াইল রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি হযরত আব্দুর রহমান ইবনে আওফ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনাকে বললাম, আপনারা আমীরুল মু’মিনীন, সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনাকে বাদ দিয়ে আমীরুল মু’মিনীন, সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত হাত মুবারক-এ খিলাফত মুবারক উনার বাইয়াত গ্রহণ করলেন? তিনি বললেন, এখানে আমার ত্রুটি কোথায়? এখানে আমার কোনো ত্রুটি নেই। আমি আমীরুল মু’মিনীন, সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার দ্বারাই শুরু করেছিলাম। আমি উনাকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলাম, আমি কি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কিতাবুল্লাহ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নতে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং সীরাতে আমীরুল মু’মিনীন হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম ও আমীরুল মু’মিনীন, সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম অনুযায়ী আপনার সম্মানিত হাত মুবারক-এ সম্মানিত খিলাফত মুবারক উনার বাইয়াত মুবারক গ্রহণ করবো? জবাবে আমীরুল মু’মিনীন, সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, যখন আমার পক্ষে তা সম্ভব হবে। (অর্থাৎ এখন নয়, এখন আপনারা আমীরুল মু’মিনীন, সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত হাত মুবারক-এ খিলাফত মুবারক উনার বাইয়াত গ্রহণ করুন।) অতঃপর আমি আমীরুল মু’মিনীন, সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার নিকট অনুরূপ আরজ করলাম। তিনি জবাবে বললেন, হ্যাঁ। অর্থাৎ আপনি সম্মানিত খিলাফত মুবারক উনার বাইয়াত মুবারক গ্রহণ করুন। সুবহানাল্লাহ! (তারীখুল খুলাফা, মুসনাদে আহমদ ১/৭৫)
অতঃপর সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র শাহাদাতী শান মুবারক প্রকাশ করার এক সপ্তাহ পর মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ২৫শে যিলহজ্জ শরীফ ইমামুল আউওয়াল মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র খিলাফতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ!
-মুহাদ্দিছ মুহম্মদ আল আমীন।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
হাজিব আল মানসুর: যে সেনাপতি পরাজিত হননি কোনো যুদ্ধে
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পবিত্র আযানের জন্য ২২ জন মুসলমানের শহীদ হওয়ার ঈমানদীপ্ত ঘটনা
১৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
বাহাদুর শাহ জাফর: ব্রিটিশবিরোধী শেষ মোঘল শাসক
১৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পিরি রইস: বিশ্বের অন্যতম সমৃদ্ধ মানচিত্র অঙ্কনকারী উসমানীয় এডমিরাল
০৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
বঙ্গ, বাংলা, বাঙ্গালী শব্দের উৎপত্তি মুসলমানদের মাধ্যম দিয়েই (৬)
০১ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
তাতার বিরোধী যুদ্ধে হযরত আমীর খসরু দেহলভী চিশতী রহমতুল্লাহি আলাইহি
২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
মুসা বিন আবী গাসসান: হার না মানা এক অকুতোভয় মুসলিম সিপাহী
২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
ফিঙ্গারপ্রিন্ট বা আঙ্গুলের ছাপ শরীয়তসম্মত, নিখুঁত, ব্যবহারে সহজ এবং রহমত, বরকত, সাকীনা লাভের কারণ (৭)
২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
আফগানিস্তানেও উগ্রতাবাদী ওহাবী-সালাফীদের অনুপ্রবেশের অপচেষ্টা
১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
বঙ্গ, বাংলা, বাঙ্গালী শব্দের উৎপত্তি মুসলমানদের মাধ্যম দিয়েই (৪)
১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদেরকে মুহব্বত করা পবিত্র ঈমানের অন্তর্ভুক্ত
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মুসলমানদের বিচার ব্যবস্থা চুরি করেই গড়ে উঠেছে ব্রিটিশ, গ্রীক ও রোমানদের আইন ব্যবস্থা
০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












