দ্বীন ইসলাম উনার কথা বলা দ্বীনি এবং সাংবিধানিক অধিকার।
অসাম্প্রদায়িকতার দোহাই দিয়ে যারা সে অধিকার কেড়ে নিতে চায় তারা ইসলামবিরোধী ও সংবিধানবিরোধী
, ০৭ ছফর শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ২৩ ছানী, ১৩৯৪ শামসী সন , ২২ জুলাই, ২০২৬ খ্রি:, ০৭ শ্রাবণ, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) বিশেষ প্রতিবেদন
মুসলমানদের দিবস ভালো না লাগলেও অসাম্প্রদায়িকতার দোহাই দিয়ে অমঙ্গল যাত্রাসহ সকল পূজা, খৃস্টীয় দিবস, বৌদ্ধদের পক্ষে নাস্তিক, ইসলামবিদ্বেষি, চুশিল, প্রগতিশীল মিডিয়া একাট্টা। বিজাতীয় কালচার পালন করতে খুবই উদগ্রীব তারা। পবিত্র কুরবানিতে এদের কষ্ট হলেও দুর্গা পূজার বিকৃত ও হিংস্র চেহারা দেখলে এদের কষ্ট হয়না। তাদের কাছে অসাম্প্রদায়িকতা মানেই বিজাতীয় কালচার পালন করা। মুসলমানদের কালচার তাদের কাছে সাম্প্রদায়িকতা! নাউযুবিল্লাহ। মুসলমানগণ শরীয়ত উনার কথা বলতে গেলেই তারা বিভিন্ন চেতনার দোহাই দেয়।
অথচ ইসলামী শরীয়ত উনার কথা বলা প্রতিটি মুসলমানের দ্বীনি এবং সাংবিধানিক অধিকার।
১) দ্বীনি অধিকার: মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ঈমানদার-মুসলমানদের দ্বীনি অধিকার সম্পর্কে আদেশ মুবারক করেছেন। যেমন-
ইরশাদ মুবারক হয়েছে- “তোমরাই সর্বোত্তম জাতি, তোমাদের সৃষ্টি করা হয়েছে মানুষের কল্যাণের জন্য। তোমরা মানুষকে সৎ কাজের আদেশ দিবে এবং অসৎ কাজ হতে নিষেধ করবে। আর মহান আল্লাহ পাক উনার উপর ঈমান আনয়ন করবে।” (পবিত্র সূরা আলে ইমরান : আয়াত শরীফ ১১০)
“তোমরা নেক এবং পরহেযগারীতে পরস্পরকে সহযোগিতা কর এবং পাপ ও বদীতে একে অপরকে সহযোগিতা করো না।” (পবিত্র সূরা আল মায়িদাহ : আয়াত শরীফ ২)
“তোমাদের মধ্য হতে এমন একটি জাতি হওয়া উচিত যারা সকল ভাল তথা উত্তম বিষয়ের দিকে আহবান করবে, সৎ কাজের আদেশ করবে এবং অসৎ কাজ হতে নিষেধ করবে, আসলে তারাই হচ্ছে সফলকাম সম্প্রদায়।’’ (পবিত্র সূরা আল ইমরান : আয়াত শরীফ ১০৪)
হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে- “তোমাদের মধ্যে যে কেউ একটি অন্যায় কাজ হতে দেখবে, সে যেন তাকে তার হাত দ্বারা প্রতিহত করে। তবে যদি সে ঐরূপ করতে অক্ষম হয়, তাহলে কথা দ্বারা যেন তাকে প্রতিহত করে, যদি এটাও করতে অক্ষম হয়, তাহলে যেন অন্তর দিয়ে তাকে ঘৃণা করে। আর সেটা হবে সবচাইতে দুর্বল ঈমান।”
২) সাংবিধানিক অধিকার: বাংলাদেশ নামক এই দেশটির সংবিধানেও যার যার অধিকার পালন ও প্রচারের স্বাধীনতা দেয়া আছে।
সংবিধানে বলা আছে -
১) ৪১ (১) আইন, জনশৃঙ্খলা ও নৈতিকতা-সাপেক্ষে বলা আছে -
(ক) প্রত্যেক নাগরিকের যে কোন ধর্ম অবলম্বন, পালন বা প্রচারের অধিকার রহিয়াছে;
(খ) প্রত্যেক ধর্মীয় সম্প্রদায় ও উপ-সম্প্রদায়ের নিজস্ব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের স্থাপন, রক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার অধিকার রহিয়াছে।
(২) কোন শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানে যোগদানকারী কোন ব্যক্তির নিজস্ব ধর্ম-সংক্রান্ত না হইলে তাঁহাকে কোন ধর্মীয় শিক্ষাগ্রহণ কিংবা কোন ধর্মীয় অনুষ্ঠান বা উপাসনায় অংশগ্রহণ বা যোগদান করিতে হইবে না।
২) ৩৯ (১) চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতার নিশ্চয়তাদান করা হইল।
(ক) প্রত্যেক নাগরিকের বাক্ ও ভাব প্রকাশের স্বাধীনতার অধিকারের নিশ্চয়তা দান করা হইল।
তাহলে দেখা যাচ্ছে সম্মানিত দ্বীন ইসলাম মতে প্রত্যেকে মুসলমানকে অন্যায় অর্থাৎ শরীয়ত উনার খেলাফ সকল কাজের প্রতিবাদ করতে হবে। আবার সংবিধান মতে প্রত্যকেই নিজ নিজ ধর্মের কথা বলা কিংবা প্রচার করার অধিকার রাখে। কেউ কারো উপর তার ধর্মের বিধান চাপিয়ে দিতে পারে না। অথচ মুসলিম এই দেশে মুসলমানদের উপর জাতীয় সংগীতের নামে হিন্দুয়ানী গান, পহেলা বৈশাখে পূজা, অমঙ্গল পূজা, স্বরস্বতী পূজাসহ মজুসী, মুশরিক, ইহুদী, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ, নাস্তিকদের বেদ্বীনি-বদদ্বীনি চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে। শুধু চাপিয়ে দেয়া নয়, এর বিরুদ্ধে যারা প্রতিবাদ করে তাদেরকে হেস্তনেস্ত করা হচ্ছে।
অবস্থা এমন হয়েছে যে সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার কথা বলতে গেলেই সন্ত্রাসী, স্বাধীনতাবিরোধী, সাম্প্রদায়িক ইত্যাদি বলে অপপ্রচার করা হচ্ছে।
এ অবস্থা ৯৮ ভাগ মুসলমানদের এই দেশে কি করে চলতে পারে? এভাবে চলতে দেয়া যাবে না। মুসলমানদেরকে দ্বীনদারি-পরহেজগারিতে আরো মশগুল হতে হবে। বিজাতীয় রীতি-নীতি পরিহার করে সুন্নতী সাজে সজ্জিত হতে হবে। বেপর্দা-বেহায়া পরিত্যাগ করে পর্দানশীন হতে হবে। ‘পাছে লোকে কি বলে’ -এটা পাত্তা দেয়া যাবে না।
-মুহম্মদ আসাদুল্লাহ।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
বেতন বৃদ্ধি নয়, বরং জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো জরুরি (১)
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
উপজাতিগুলোকে যেভাবে উস্কানি দিচ্ছে এনজিওগুলো
০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
আপনি কি শুকরের চর্বিযুক্ত সাবান দিয়ে গোসল করে ইবাদত বন্দেগী করছেন?
০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ইসলামী মূল্যবোধহীন সরকার ব্যবস্থায় ‘ভেজাল খাদ্য’
০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব ও স্বার্থের চরম বিসর্জন-ভারতের উচ্চভোল্টেজ করিডর কার স্বার্থে?
০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
অমান্য করলেই কাটা পড়বে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানি
০১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ইতিহাসের দীর্ঘশ্বাস ও এক বিস্মৃত অধ্যায়ের ট্র্যাজেডি
০১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
৫০ লক্ষাধিক বাহিনীর আন্তঃযোগাযোগে ত্রিদেশীয় স্ট্রাটেজিক রূপরেখা (পর্ব-১৯)
৩০ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
জিএমও শস্য গোল্ডেন রাইস ও সয়াবিন বন্ধ করা এখন সময়ের দাবি
২৯ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
জিএমও শস্য গোল্ডেন রাইস ও সয়াবিন বন্ধ করা এখন সময়ের দাবি
২৯ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
আধুনিক রণকৌশলে ড্রোন রেজিমেন্ট ও ত্রিপক্ষীয় প্রযুক্তিগত অংশীদারিত্বের রূপরেখা (পর্ব-১৭)
২০ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
কাফিরদের চুক্তির ফাঁদ ও একটি অগোচর সাম্রাজ্যবাদের কথা
১৯ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)












