মন্তব্য কলাম
ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম এর তথ্যানুযায়ী বেনিয়া বৃটিশগুলো মুসলিম ভারত থেকে লুট করেছে ১২ হাজার লক্ষ কোটি টাকা প্রকৃতপক্ষে তারা লুট করেছে লক্ষ লক্ষ কোটি টাকা মুসলিম ভারতের টাকায় হয়েছে ইংল্যান্ডের শিল্পায়ন- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বিজয়, আরো উপনিবেশ স্থাপন সহ আরো সব সমৃদ্ধি বিপরীত দিকে মুসলিম ভারতকে করেছি ধনী থেকে দরিদ্র
, ১৭ রবীউল আউওয়াল শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১৩ রবি’, ১৩৯৩ শামসী সন , ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ খ্রি:, ২৬ ভাদ্র, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) মন্তব্য কলাম
আজকে পাকিস্তান থেকে যদি বাংলাদেশ ক্ষতিপূরণ দাবী করতে পারে
একইভাবে বৃটিশ থেকেও বাংলাদেশ লক্ষ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবী করতে পারে
কারণ মুসলিম ভারতের মূল অংশই পাচার হয়েছে বাংলাদেশ থেকে
(১ম পর্ব)
লুটের টাকায় চার বার মুড়ে ফেলা যেত লন্ডন শহরকে! ভারত থেকে প্রায় ৬৫ লক্ষ কোটি ডলার লুট করে ব্রিটেন।
পরাধীন ভারত থেকে কত টাকা লুট করেন ব্রিটিশ শাসকেরা? চলতি বছরের (পড়ুন ২০২৫) সাধারণতন্ত্র দিবসের (২৬ জানুয়ারি) মুখে সেই তথ্য প্রকাশ্যে আনল ‘অক্সফ্যাম ইন্টারন্যাশনাল’। তাদের দাবি, এ দেশ থেকে নিয়ে যাওয়া সম্পদের একটা বড় অংশ গিয়েছিল মাত্র ১০ শতাংশ ধনীর পকেটে। শুধু তা-ই নয়, লুট করা টাকায় লন্ডন শহরকে ঢেকে দেওয়া যেত বলেও রিপোর্টে স্পষ্ট করেছে তারা।
প্রতি বছর ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম’-এর বার্ষিক সভার প্রথম দিনে আন্তর্জাতিক বৈষম্য সংক্রান্ত একটি রিপোর্ট প্রকাশ করে ‘অক্সফ্যাম’। এ বারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। সেই প্রতিবেদনে ঔপনিবেশিক যুগে ভারত থেকে ‘সম্পদের বহির্গমন’ (ড্রেন অফ ওয়েলথ্) সংক্রান্ত চাঞ্চল্যকর তথ্য তুলে ধরেছে ওই সংস্থা।
‘অক্সফ্যাম’-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, ১৭৬৫ থেকে ১৯০০ সালের মধ্যে এক শতাব্দীর বেশি সময় ধরে ব্রিটিশ শাসকেরা ভারত থেকে যে পরিমাণ সম্পদ নিজেদের দেশে নিয়ে যায়, তার পরিমাণ ছিল ৬৪.৮২ লক্ষ কোটি ডলার। লুট করা এই অর্থের মধ্যে ৩৩.৮০ লক্ষ কোটি ডলারে নিজেদের সিন্দুক ভরান সে দেশের ১০ শতাংশ ধনী।
এই ধনীদের হাতে থাকা মুসলিম ভারতীয় সম্পদকে ব্রিটিশ পাউন্ডে বদলে নিলে, তা দিয়ে লন্ডন শহরকে অন্তত বার মুড়ে দেওয়া যাবে। রিপোর্টে এমনটাই দাবি করেছে ‘অক্সফ্যাম’। তাদের ‘গ্রহণকারী, নির্মাতা নয়’ শীর্ষক প্রতিবেদনটি প্রকাশ্যে আসতেই দুনিয়া জুড়ে হইচই পড়ে গিয়েছে। সেখানে বেশ কিছু গবেষণাপত্রের উদ্ধৃতি দেওয়া রয়েছে। ‘অক্সফ্যাম’-এ দাবি, আধুনিক বহুজাতিক কর্পোরেশন ঔপনিবেশিকতা থেকেই এসেছে।
এ বারের রিপোর্টে ‘প্যাথলিস অফ প্লান্ডার’ এবং ‘গ্লোবাল সাউথ’ শব্দবন্ধ ব্যবহার করেছে এই আন্তর্জাতিক সংগঠন। তাদের কথায়, “ঐতিহাসিক উপনিবেশবাদের সময় থেকে যে বৈষম্য এবং লুণ্ঠন শুরু হয়েছে, উত্তরাধিকার সূত্রে সেই ধারা বহন করে চলেছে আধুনিক বিশ্ব। ফলে আর্থিক দিক থেকে দুনিয়ায় গভীরভাবে অসমাঞ্জস্য তৈরি হয়েছে। ’’
বর্ণবাদের উপর ভিত্তি করে বিশ্ব যে বিভক্ত, তা-ও রিপোর্টে উল্লেখ করেছে ‘অক্সফ্যাম’। সেখানে বলা হয়েছে, ‘‘গ্লোবাল সাউথ থেকে ক্রমাগত সম্পদ আহরণ করে চলেছে এক শ্রেণির রাষ্ট্র। এতে পৃথিবীর উত্তর অংশে বসবাসকারী ধনীদেরই সুবিধা হয়েছে। ’’
‘অক্সফ্যাম’-এর গবেষকদের দাবি, বর্তমান ব্রিটেনের ধনী ব্যক্তিরা তাদের পারিবারিক সম্পদের উৎস খুঁজলে দাসত্ব এবং উপনিবেশবাদের মাধ্যমে অর্জিত সম্পদকেই পাবে। পরবর্তী কালে অবশ্য দাস প্রথা বিলুপ্ত হয়ে যায়। ওই সময় দাসদের বিপুল অঙ্কের ক্ষতিপূরণ দিতে হয়েছিল। সেই টাকায় বড়লোক হওয়া ব্রিটিশবাসীর সংখ্যাও কম নয়।
পাশাপাশি, আধুনিক বহুজাতিক কর্পোরেশনের প্রাণপুরুষ হিসাবে ‘ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি’র কথা উল্লেখ করেছে এই আন্তর্জাতিক সংগঠন। ভারতে ব্যবসা করতে এসে ধীরে ধীরে শাসকের স্থান নিয়ে ফেলেছিল ওই কোম্পানি। এ দেশের আইন ব্যবস্থাও ছিল তাদেরই হাতে। ঔপনিবেশিক অপরাধগুলির জন্যও পুরোপুরি দায়ী ছিল ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি।
ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ১৬০৮ সালে তাদের ব্যবসা মুসলিম ভারতবর্ষে শুরু করেছিল। সেই সময় ভারতে মোগলদের রাজত্ব ছিল। ব্রিটিশরা শক্তিশালী মোগলদের সাথে কোনোরকম দ্বন্দ্বে জড়াতে চাইনি। তারা ধীরে ধীরে ভারতের বড় বড় শহরে নিজেদের কলকারখানা খোলে।
শুরুর দিকে তারা যখন ভারতে ব্যবসা করত, তারা তখন ভারতে জিনিসপত্র সোনা বা রূপোর বদলে কিনত। তারা ভারত থেকে বিভিন্ন জিনিসপত্র কিনে ইংল্যান্ড বা ইউরোপের বিভিন্ন দেশে সেই জিনিসপত্রগুলিকে চড়া দামে বিক্রি করত। যতদিন পর্যন্ত ভারতে শক্তিশালী মুসলিম রাজারা ছিল, ততদিন তারা সোনা বা রূপো দিয়েই ভারতে জিনিসপত্র কিনত। ফলে ভারতের অর্থব্যবস্থার উপরে এর কোনো খারাপ প্রভাব পড়ত না।
কিন্তু ১৭৬৪ সালে যখন ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বক্সারের যুদ্ধে জিতে যায়, তখন তারা বাংলার ট্যাক্স কালেকশনে দায়িত্ব পায়। আর এখান থেকে ব্রিটিশরা তাদের লুটপাট শুরু করে।
তারা বাংলা জনগণের কাছ থেকে যে ট্যাক্স পেত সেই টাকা দিয়েই তারা ব্যবসার জিনিসপত্র কিনত আর সেগুলো ইংল্যান্ডে বা ইউরোপে নিয়ে গিয়ে বিক্রি করত। এতে তারা যে আগে সোনা বা রূপোর বদলে জিনিসপত্র কিনত, সেটা বন্ধ হয়ে যায়। এতে ভারতের সম্পত্তি দিয়েই তারা নিজেদের ব্যবসা চালাতে থাকে।
এছাড়া ইংল্যান্ড থেকেও তাদের আর সোনা বা রুপো নিয়ে আসতে হত না। মানে এক টাকাও ইনভেস্ট না করে তারা ১০০% মুনাফা কামাতো। ফলে ইংল্যান্ডের অর্থনীতি ধীরে ধীরে শক্তিশালী হতে থাকে।
১৮৪৭ সালে ব্রিটেনের রাজা ভারতবর্ষের দায়িত্ব নেয়ার পর তারা কর ও বাণিজ্যের নতুন একটি পদ্ধতি চালু করে।
তাতে বলা হয়, ভারত থেকে কেউ কিছু কিনতে চাইলে তাকে শেষ পর্যন্ত লন্ডনেই লেনদেন শেষ করতে হবে। কারণ আমদানিকারক দেশ বা প্রতিষ্ঠানকে দায় শোধ করতে হতো কাউন্সিল বিলের মাধ্যমে, যা কেবল ব্রিটিশ রাজাই ইস্যু করতো এবং লন্ডন থেকে স্বর্ণ বা রূপার বিনিময়ে তা কিনতে হতো। আমদানিকারকেরা ভারতে সেই কাউন্সিল বিল দিয়েই পণ্য কিনত।
ভারতীয়রা যখন সেই বিল ক্যাশ করতে চাইতো তখন তাদের তা ক্যাশ করে দেয়া হতো করের রুপি দিয়েই, যা তাদের কাছ থেকেই কর আকারে নেয়া হয়েছিল। ফলে আসলে তাদের কোনো অর্থ দেয়া হতো না। তাদের সাথে কেবল প্রতারণাই করা হতো। ফলে সে স্বর্ণ বা রৌপ্য আসলে ভারতীয়দের কাছে পৌঁছানোর কথা ছিল, তা শেষ পর্যন্ত লন্ডনে গিয়েই জমা হতো।
মুসলিম ভারতীয়দের টাকা দিয়েই ব্রিটেন ধীরে ধীরে নিজ দেশের শিল্পায়নের ব্যাপক উন্নতি সাধন করেছে। তারা এই উপমহাদেশ থেকে যে দামে পণ্য ক্রয় করত তার চেয়ে অনেক বেশি দামে সেগুলো বিদেশে বিক্রি করত। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, ভারত থেকে ১ টাকায় কেনা জিনিস ব্রিটিশরা বিদেশে ১০০ টাকায়ও বিক্রি করেছে! পরবর্তীতে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির একচেটিয়া কর্তৃত্ব ভেঙে যাওয়ার ফলে ভারতীয়রা সরাসরি অন্য দেশে তাদের পণ্য রপ্তানি করে। কিন্তু কলকাঠি ছিলো ব্রিটিশদের হাতেই। কারণ, কেউ যদি ভারত থেকে পণ্য কিনতে চাইত তাহলে তাকে একটি বিশেষ কাগজের মুদ্রা ব্যবহার করতে হতো, যা দেয়া হত ব্রিটিশ রাজত্ব থেকেই। আর এই বিশেষ মুদ্রা কিনে নেয়ার একমাত্র রাস্তা ছিলো সেগুলো লন্ডন থেকে সোনা বা রূপা দিয়ে কিনে নেয়া।
এ কারণে ভারতের সব স্বর্ণ ও রুপা শেষ পর্যন্ত লন্ডনে জমা হয়েছে। অথচ এই অর্থ পণ্য রপ্তানির কারণে সরাসরি ভারতীয়দের কাছে আসার কথা ছিল। এভাবেই ভারতের রপ্তানির প্রকৃত আয় সম্পূর্ণভাবে ব্রিটেন নিজেদের অধিকারে নিয়েছিল। ফলে সে সময়ে ব্রিটিশ রাজত্বের জন্য ভারত ছিল সোনার ডিমপাড়া হাঁস।
এদিকে আমদানির জন্য ব্রিটেন থেকে ঋণ নেয়া ছাড়া ভারতের কোনো বিকল্প ছিল না। সুতরাং ভারতীয় জনগণ অপ্রয়োজনীয় ঋণের বোঝা মাথায় নিতে বাধ্য হত। মানে ভারতের রপ্তানি আয়ের টাকা ভারতকেই ঋণ নিতে হত আমদানির জন্য!
অন্য দিকে ভারতের বিপুল রপ্তানি আয়ে ফুলে-ফেঁপে ওঠে বৃটেনের রিজার্ভ। আর সেই টাকা শুধুমাত্র ব্রিটেনের শিল্পায়নেই নয়, বরং পশ্চিমা বিশ্বের বেশির ভাগ দেশের শিল্পায়নের অর্থই জোগান দিত ভারতীয় উপমহাদেশ।
এক কথায় বলতে গেলে, ব্রিটিশরা মাছের তেলে মাছ ভাজতে শুরু করেছিল। আর ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি সেই সময় যে পরিমাণ মুনাফা করত, তা সবটাই ইংল্যান্ডে বড় বড় কলকারখানা নির্মাণ।
এছাড়া কারখানার কাচামাল যেমন লোহা, জ্বালানি এইসব জিনিসের খরচা হত। তো আপনি এটাও বলতে পারেন, ইংল্যান্ডে যে ইন্ডাস্ট্রিয়াল রেভোলিউশন হয়েছিল তাতে সব থেকে বড় অবদান ভারতেরই ছিল। এই বিষয়টা কিছুদিনের মধ্যেই ভারতীয় ব্যবসায়ীরা বুঝে যায় আর তারা এর বিরোধিতা শুরু করে। কিন্তু তাতে কোনো ফল হয় না।
১৮৫৮ সালে রানী ভিক্টোরিয়া ক্ষমতা নিজের হাতে নিয়ে নেয়। তখন রানী ভিক্টোরিয়া ভারতীয় ব্যবসায়ীদেরও ইংল্যান্ডে ব্যবসা করার অনুমতি দেয়। কিন্তু এখানেও তারা একটি গভীর ষড়যন্ত্র করেছিল।
ভারত থেকে যখন কোনো দ্রব্য ইংল্যান্ডে নিয়ে যাওয়া হত, তখন তার বদলে ইংরেজরা কোনোরকম পেমেন্ট করত না। উল্টে তারা একটি বিল দিত। যাকে বলা হয় স্পেশাল কাউন্সিল বিল।
সেই ভারতীয় ব্যবসায়ীদের বলা হত এই বিল নিয়ে ভারতের কোনো ব্রিটিশ অফিসে যেতে আর সেখান থেকে বিলের পেমেন্ট নিতে। ফলে রানি ভিক্টোরিয়াও ঠিক একই চাল চালিয়েছিলো ভারতের সম্পত্তি লুট করার জন্য।
তবে ধরনটা একটু ঘুরিয়ে। খাস বাংলায় যাকে বলে হাত ঘুরিয়ে কান ধরা। এবার আপনার মনে একটি প্রশ্ন আসবে। ব্রিটিশ আমলে ভারত থেকে কত পরিমাণ দ্রব্য ইংল্যান্ডে যেত যে ভারত এতো গরিব হয়ে গেল?
১৯০০ সাল থেকে ১৯২৮ সালের মধ্যে ভারত ছিল পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম এক্সপোর্টার কান্ট্রি। সেসময় এক নম্বরে ছিল আমেরিকা। আর ইংল্যান্ডের এই আজব পেমেন্ট সিস্টেমের জন্য ভারত সেসময় এত পরিমাণ দ্রব্য রপ্তানি করেও দিন দিন গরিব হয়ে যাচ্ছিল। কারণ ইংল্যান্ড থেকে সেই দ্রব্যগুলোর বদলে কোন ধনরতœ আসত না। ভারতীয় ব্যবসাকে ধ্বংস করে দেয়া।
ব্রিটিশরা মুসলিম ভারতে যে পরিমাণ ক্ষতি করেছিল তার মধ্যে একটি ছিল ভারতীয় ব্যবসা যা কয়েকশ বছর ধরে চলেছিল। সেগুলোকে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করে দেয়া। ১৭০০ সাল পর্যন্ত ভারতীয় কাপড় সারা বিশ্বজুড়ে বিখ্যাত ছিল। এমনকি ইংল্যান্ডেও ভারতের মুসলিম কাপড়ের অনেক ডিমান্ড ছিল। ফলে ভারতের তাঁতীরা এই তাঁত শিল্প থেকে প্রচুর পরিমাণে মুনাফা করত।
কিন্তু ব্রিটিশরা ভারত থেকে যে মুনাফা করত তা থেকে তারা ইংল্যান্ডে বড় বড় কলকারখানা নির্মাণ করত। এই কারখানাগুলো নির্মাণ করার পর তারা কারখানায় সস্তায় কাপড় তৈরি করত এবং সেই কাপড়ের কাচামাল যেমন তুলো সেগুলোও সস্তায় ভারত থেকে নিয়ে যেত। আর সেই কাপড় তারা ইংল্যান্ড থেকে বানিয়ে এনে ভারতে বেশি দামে বিক্রি করত।
আর যাতে ভারতীয় কাপড় ইংল্যান্ডের মার্কেটে বিক্রি না হয়, এই জন্য ভারতীয় কাপড়ের উপর ট্যাক্স বাড়িয়ে দেয়। ফলে ধীরে ধীরে ভারতের তাঁত শিল্প দুর্বল হয়ে যায়। আর ভারতের প্রতি বছর যে বিদেশি মুদ্রা আসত সেটাও বন্ধ হয়ে যায়। ব্রিটেনের যুদ্ধে ভারতীয়দের টাকা। মোঘল আমলে বাংলা ছিল সব থেকে সমৃদ্ধশালী অঞ্চল আর সেই বাংলার ট্যাক্স আদায়ের দায়িত্ব পেয়েছিল ব্রিটিশরা।
তারা সেই ট্যাক্সের টাকা দিয়ে বাংলার উন্নতি করার বদলে সেই টাকা তারা বিভিন্ন দেশে চলা যুদ্ধের পেছনে খরচা করত। ১৮৪০ সালে যখন চীনের সাথে ব্রিটেনের যুদ্ধ হয়, সেই যুদ্ধের সমস্ত টাকা এই ট্যাক্স থেকে যায়। এছাড়া ১৮৫৭ সালে যখন ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে সিপাহী বিদ্রোহ হয় তখন সেই বিদ্রোহ দমন করার সম্পূর্ণ খরচো তারা বাংলা, বিহার থেকে পাওয়া ট্যাক্সের টাকায় করে।
এরপর প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধেও ভারত থেকে প্রচুর পরিমাণে অর্থ নিয়ে যাওয়া হয় ব্রিটেনে। আর শুধুমাত্র অর্থ না; প্রচুর ভারতীয় সৈনিকও এই সময় বিশ্বযুদ্ধে অংশ নিয়েছিল।
অনেক ঐতিহাসিকরা এমনটাও দাবি করেন যে, যদি সেই সময় ভারত ব্রিটেনের দখলে না থাকত, তাহলে ব্রিটেন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে হেরে যেত। কারণ, ব্রিটেনের যুদ্ধের টোটাল ফান্ডিংটা হয়েছিল ভারতীয়দের টাকায়।
এই কতগুলো পয়েন্ট ছাড়াও ব্রিটেনরা ভারত থেকে মুসলিম ভারতীয় নবাব-বাদশাহদের কাছ থেকে ছলছাতুরী করে প্রচুর পরিমাণে ধন সম্পত্তি লুট করেছিলো। যার হিসাব করা সময় সাপেক্ষ। তবে একথা নিশ্চিত ব্রিটেনরা যেখানে আছে, তা মুসলিম ভারতীয়দের জন্যই পেরেছে।
এক্ষেত্রে যদি মুসলিম ভারতবর্ষ তাদের নিজেদের কর ও বৈদেশিক বাণিজ্যের অর্থগুলো নিজেদের উন্নয়নে ব্যয় করতে পারত, যেমনটি করেছে জাপান, তাহলে এ অঞ্চলের ইতিহাস অন্যরকম হতে পারত। দারিদ্র্য, কষ্ট দূর করে হয়তো পরিণত হতে পারত অর্থনৈতিক পরাশক্তিতে।
কিন্তু ব্রিটিশরা ওই বিষয়গুলো এখনো স্বীকার করতে চায় না। বরং সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন বলেছিলো, ব্রিটিশদের এ শাসন ছিল ভারতবাসীদের জন্য একটি নিঃখরচার সাহায্য।
তবে সত্য হচ্ছে, ব্রিটিশদের ২০০ বছরের ভারত শাসনে মাথাপিছু আয় বাড়েনি, গড় আয়ু বাড়েনি। বরং দুর্ভিক্ষে লাখ লাখ লোক মারা গিয়েছিল।
মূলত: ব্রিটেন ভারতের উন্নয়ন ঘটায়নি, বরং ভারতবর্ষই ব্রিটেনকে উন্নত করেছে। তাহলে এখন ব্রিটেনের কী করা উচিত? ক্ষমা চাওয়া। অবশ্যই। আর ক্ষতিপূরণ দান? পুরো ব্রিটেনেরও সেই অর্থ পরিশোধ করার সামর্থ্য নেই। (ইনশাআল্লাহ চলবে)
-আল্লামা মুহম্মদ ওয়ালীউর রহমান আরিফ।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
বাংলাদেশের মহাকাশ প্রতিরক্ষা কৌশল: ৫০ লক্ষাধিক বহরের সমন্বিত বাহিনীর জন্য কৃত্রিম উপগ্রহ প্রযুক্তির রূপরেখা (পর্ব-৪)
১৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছির আলাইহিস সালাম উনার নির্দেশনা মুবারক পালনেই সফলতা। ঢাকামুখী জনস্রোত বন্ধ এবং ঢাকা শহরের প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বিকেন্দ্রীকরণ ব্যতীত অন্য কোন পদ্ধতিতে কখনোই যানজট নিরসনের স্থায়ী সমাধান হবে না (১১)
১৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
বর্তমান জ্বালানী সংকটে অনেক দেশই এখন কয়লার দিকে ঝুকছে। কয়লার উপর নির্ভরতা বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। দেশে বিপুল পরিমাণ কয়লার মজুদ থাকার পরও রহস্যজনকভাবে তা উত্তোলনে আগ্রহ নেই সরকারের। ৭ হাজার ৮০০ মিলিয়ন টন কয়লা মজুদের দেশে কয়লার ঘাটতিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র বন্ধ কেন?
১৪ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছির আলাইহিস সালাম উনার নির্দেশনা মুবারক পালনেই সফলতা: ঢাকামুখী জনস্রোত বন্ধ এবং ঢাকা শহরের প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বিকেন্দ্রীকরণ ব্যতীত অন্য কোন পদ্ধতিতে কখনোই যানজট নিরসনের স্থায়ী সমাধান হবে না (১০)
১৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছির আলাইহিস সালাম উনার নির্দেশনা মুবারক পালনেই সফলতা। ঢাকামুখী জনস্রোত বন্ধ এবং ঢাকা শহরের প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বিকেন্দ্রীকরণ ব্যতীত অন্য কোন পদ্ধতিতে কখনোই যানজট নিরসনের স্থায়ী সমাধান হবে না (৯)
১২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
বিশ্বের সবচেয়ে দামি আম মিয়াজাকি, পুষ্টিগুণেও ভরপুর
১২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
“বাংলাদেশের ওষুধ রফতানি হচ্ছে ১৪০টির বেশি দেশে”- গত পরশু (৮ই জুন) এই বিবৃতি দেয়া স্বাস্থ্যমন্ত্রী কী ভেবে দেখবেন মার্কিনীদের সাথে করা গোলামী চুক্তিতে তার এই উচ্ছাস পুরোটাই গভীর এবং চরম-পরম উৎকণ্ঠায় পর্যবসিত হয়েছে মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি বাংলাদেশের ওষুধশিল্পের জন্যও মহা ধ্বংস প্রক্রিয়া বাংলাদেশের ৫১ কোটি নাগরিকের নিরাপত্তা নির্মূলীকরণ প্রক্রিয়া। মহা আত্মঘাতী, সর্বনাশী, দেশের সার্বভৌমত্ব বিক্রিকারী এ চুক্তি অবিলম্বে বাতিল করতে হবে (১ম পর্ব)
১১ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
শুধু একটি মৃত্যুর খবর, নাকি একটি সমাজের ভবিষ্যৎ?
১০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সস্তা জনপ্রিয়তার বিপরীতে সস্তা জনরোষের পথেই কী হাটতে চায় সরকার? মাত্র ১০/১৫ হাজার কোটি টাকার জন্য ওয়াদা খেলাফ করে বিদ্যুতের দাম আবার বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতির আগুনে আরো ঘি ঢালছে সরকার। জনভোগান্তির জুলুম থেকে সরে আসতে হবে সরকারকে।
০৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ঢাকামুখী জনস্রোত বন্ধ এবং ঢাকা শহরের প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বিকেন্দ্রীকরণ ব্যতীত অন্য কোন পদ্ধতিতে কখনোই যানজট নিরসনের স্থায়ী সমাধান হবে না (৮)
০৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
১৯৯০ সালে কাঁচা চামড়া রফতানীর নিষিদ্ধ করণের প্রেক্ষাপট বর্তমানে নেই। এ মুহুর্তে কাঁচা চামড়া রফতানীর অনুমোদন বর্তমান সংকটকে অনেকটাই কমাতে পারে।
০৪ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
কুরবানী আসে-যায় মৌসুমী কসাইরা অরক্ষা আর অবহেলাতেই থেকে যায়। তাদের অনেকে আহত হয়, পঙ্গু হয়, আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে যায়- মৌসুমী কসাইদের প্রশিক্ষণ ও পৃষ্টপোষকতার পাশাপাশি ঈদুল আদ্বহায় বিশেষ স্বাস্থসেবা চালু করা দরকার।
০৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)












