মতামত:
একাত্তর-পরবর্তী লুণ্ঠন: বন্ধুত্বের আড়ালে ইতিহাসের এক ট্র্যাজিক অধ্যায়
, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০:০০ এএম ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) আপনাদের মতামত
১৯৭১ সালের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর বাংলাদেশ যখন একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করল, তখন ধ্বংসস্তূপে দাঁড়িয়ে থাকা এই জাতির পুনর্গঠনের জন্য প্রতিটি সম্পদ ছিল অমূল্য। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, আমাদের সেই চরম দুঃসময়ে হিন্দুস্তানী সেনাবাহিনী যে লুণ্ঠনযজ্ঞ চালিয়েছিল, তা ইতিহাসের এক কালো অধ্যায় হয়ে আছে।
ঐতিহাসিক তথ্য, সমসাময়িক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ বিশ্লেষণ করলে এক ভয়াবহ চিত্র ফুটে ওঠে। পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর আত্মসমর্পণের পর নিয়ম অনুযায়ী সেই ‘যুদ্ধলব্ধ মালামাল’ বাংলাদেশের প্রাপ্য ছিল। কিন্তু হিন্দুস্তান সেনাবাহিনী সেই বিশাল অস্ত্রভা-ার- যার মধ্যে ছিল কয়েকশ সামরিক যান, অন্তত ৮৭টি ট্যাঙ্ক এবং বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ -নিজেদের দেশে পাচার করে দেয়। তৎকালীন হিসেবে এই সামরিক সরঞ্জামের মূল্য ছিল প্রায় ২.২ বিলিয়ন ডলার বা ২৭ হাজার কোটি টাকা। একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের জন্য এই বিশাল সম্পদ হতে পারত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মজবুত ভিত্তি।
লুণ্ঠন কেবল সামরিক সরঞ্জামেই সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং তা বিস্তৃত হয়েছিল বাংলাদেশের শিল্প ও বেসামরিক কাঠামোর ওপর। খুলনা, ঢাকা ও চট্টগ্রামের শিল্পাঞ্চলগুলো থেকে ভারী কলকারখানার যন্ত্রপাতি খুলে জাহাজে করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। গুদামে থাকা চাল, গম, সুতা ও সোনালী আঁশ পাট লুট করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে ট্রাকে ট্রাকে। এমনকি ব্যক্তিগত বসতবাড়ি থেকে টেলিভিশন, ফ্রিজ, কার্পেট এবং শৌচাগারের ফিটিংস পর্যন্ত খুলে নিয়ে যাওয়ার যে বিবরণ বিদেশি গণমাধ্যম ‘দ্য গার্ডিয়ান’ -এ প্রকাশিত হয়েছিল, তা চরম লজ্জাজনক।
এই লুণ্ঠন কোনো কাল্পনিক অভিযোগ নয়, বরং এটি ঐতিহাসিক সত্য। হিন্দুস্তানের সাবেক পররাষ্ট্র সচিব দীক্ষিত তার খরনবৎধঃরড়হ ধহফ ইবুড়হফ -গ্রন্থে স্বীকার করেছে যে, বাংলাদেশে লুণ্ঠনের দায়ে তাদের বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তার কোর্ট মার্শাল বা বিচার করা হয়েছিল। প্রশ্ন জাগে, যে বিচার হয়েছিল তা কি কেবল প্রতীকী ছিল? কারণ লুট হওয়া সেই বিশাল সম্পদ- যার বাজারমূল্য তৎকালীন সময়ে ৩০ হাজার থেকে ৯০ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত দাবি করা হয়- তা কি কখনো বাংলাদেশকে ফেরত দেয়া হয়েছে?
স্বাধীনতার পাঁচ দশক পেরিয়ে গেলেও এই লুণ্ঠিত সম্পদের হিসাব ও ক্ষতিপূরণ নিয়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জোরালো কোনো আলোচনা হয়নি। বাংলাদেশের অর্থনীতি ও সামরিক সক্ষমতাকে পঙ্গু করে দিয়ে যে সম্পদ সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল, তার পূর্ণাঙ্গ শে^তপত্র প্রকাশ করা আজ সময়ের দাবি। ইতিহাসের সত্যকে ধামাচাপা দিয়ে নয়, বরং তাকে উন্মোচন করেই প্রকৃত ইনসাফ কায়েম করা সম্ভব। আমাদের পূর্বসূরিদের রক্তে কেনা স্বাধীনতা যেন কোনো বহিঃশক্তির লুণ্ঠনের জঘণ্য লিপিতে মøান না হয়- আজকে মুসলিম-জনতাকে সেই শপথই নিতে হবে।
ইতিহাসের ইনসাফ হোক, লুণ্ঠিত সম্পদ ও সার্বভৌমত্বের মর্যাদা ফিরে আসুক।
-মুহম্মদ শামসিত তাবরিজ।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
সার্বভৌমত্বের বিনিময়ে কী পাচ্ছি আমরা? - আকসা ও জিসোমিয়া চুক্তি প্রত্যাখ্যান করুন
১৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশীদের ইজারা দিলে বাংলাদেশ যে সমস্ত গুরুতর হুমকিতে পড়বে
১১ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
উত্তরাঞ্চলে এক ভয়ংকর চক্রান্ত ও আলেম সমাজের নীরবতা
১০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পুরোনো স্মার্টফোন বিক্রির আগে যে কাজ না করলে বিপদ
১০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পেগাসাসের জাল বিস্তার বাংলাদেশেও। সবাই সাবধান।
০৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
৫০ লক্ষের বাহিনী ও ভবিষ্যতের সাইবার যুদ্ধক্ষেত্রের মহাপ্রস্তুতি (পর্ব-৩)
০৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
বিজিবির দায়িত্ব সচেতনতা ও আন্তর্জাতিক আইনের বিজয়
০৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাতক্ষীরায় মসজিদ ভাঙার ধৃষ্টতা এবং আইনের শাসনের জরুরি প্রয়োজনীয়তা
০৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
বঙ্গোপসাগরে সাম্রাজ্যবাদী নব্য-ক্রুসেডারদের সামরিক আগ্রাসনের এক পৈশাচিক ফাঁদ
০৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছির আলাইহিস সালাম উনার নির্দেশনা মুবারক পালনেই সফলতা। ঢাকামুখী জনস্রোত বন্ধ এবং ঢাকা শহরের প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বিকেন্দ্রীকরণ ব্যতীত অন্য কোন পদ্ধতিতে কখনোই যানজট নিরসনের স্থায়ী সমাধান হবে না (৭)
০৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
বাংলাদেশের কৌশলগত নিরপেক্ষতার সামনে নতুন ভূরাজনৈতিক ফিৎনা
০৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বেওয়ারিশ কুকুর নিধন করতে হবে
০৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার)












