ইতিহাস
আব্বাসীয় সালতানাতের মুসলিম নৌশক্তি
, ০৮ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০:০০ এএম ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) ইতিহাস
আমিরুল মু’মিনীন, সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম তিনি ২৭ হিজরী শরীফে কাতিবে ওহী হযরত মুয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার তত্ত্বাবধানে এবং বিশিষ্ট সেনাপতি হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে কাইস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার মাধ্যমে সুবিশাল নৌবাহিনী গঠন করার পর মুসলমানরা যখন নৌশক্তিতে বিশ্বব্যাপী সমৃদ্ধ এবং স্বয়ংসম্পূর্ণ হলেন, তখন সাগরবক্ষে প্রবল প্রতাপ ও প্রতিপত্তির সাথে একের পর এক বিজয়াভিযান পরিচালনা করতে লাগলেন। তামাম দুনিয়ার সাগর মহাসাগরে মুসলিম রণতরী দৃশ্যমান হতে থাকলো। পরবর্তীতে উমাইয়া এবং আব্বাসীয়দের ও পরবর্তী মুসলিম সালতানাতগুলোতেও শোভা পেতে থাকলো শক্তিশালী নৌবহর।
...........................................
বিশিষ্ট উমাইয়া নৌ সেনাপতি হাবীব ইবনে আবী উবায়দা রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার নেতৃত্বে সারদানিয়ার নৌ-অভিযান শুরু ও কামিয়াব হন। মুসলিম নৌবাহিনী গোটা দ্বীপাঞ্চল বিজয় করে সেখানে একটি নৌ ছাউনি স্থাপন করেন।
রোমকরা সাকালিয়ায় স্বীয় অধিকার করে রেখেছিলো। কিন্তু উমাইয়া শাসক হিশাম ইবনে আব্দুল মালিকের শাসনামলে হাবীব ইবনে উবায়দা রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি সাকালিয়া বিজয় করেন। সাকালিয়ার বিখ্যাত শহর ও নৌবন্দর সারকাওসা বিজিত হয়। দ্বীপের অভ্যন্তরে স্থলযুদ্ধে হাবীবে খ্যাতিমান পুত্র আব্দুল রহমান তিনি রোমান বাহিনীকে বিপুলভাবে পর্যদুস্থ করেন। হাবীব ইবনে উবায়দা রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার ইচ্ছা ছিলো পুরো দ্বীপাঞ্চলটি অধিকার করা। কিন্তু এই সময় উত্তর আফ্রিকায় বারবারদের বিদ্রোহ শুরু হয়। সেখানে ফেীজি শক্তি অপ্রতুল ছিলো। তাই আরেক নৌ কমান্ডার ইবনে হিজাব তিনি হাবীব ইবনে উবায়দাকে ডেকে পাঠান।
মোটের উপর, শাসক হিশামের শাসনকাল নৌশক্তির স্বর্ণযুগ ছিলো। বিশেষত ফৌজি নিজাম সুবিন্যস্ত ছিলো। সিপাহসালার ও আমিরুল বহর সুদক্ষ ছিলেন। তাই নৌ অভিযানসমূহও অব্যর্থ ছিলো।
প্রশাসনিক অগ্রগতির সাথে সাথে সামরিক উন্নতিও বৃদ্ধি পায়। সীমান্ত এলাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে মজবুত কিল্লা তৈরি হয়।
রোমানদের সীমান্তে অবস্থিত ইনতাকিয়ায় কাতারগাশ, বোরা ও বুফা নামক তিনটি সুবৃহৎ মজবুত দূর্গ নির্মিত হয়। এছাড়া, সমগ্র সীমান্ত অঞ্চল সুদৃঢ় করে সেখানে সব রকম সমরোপকরণ সন্নিবেশ করা হয়।
গোটা নৌ ব্যবস্থাপনা পুনরায় ঢেলে সাজানো হয়। নৌবহরের মানোন্নয়নকল্পে নতুন নতুন প্রস্তাব ও পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হয়। উত্তর আফ্রিকায় নৌবন্দরগুলো মেরামত করা হয়। উপযুক্ত স্থানসমূহে নৌ কারখানা স্থাপন করা হয়। ভূমধ্যসাগরে সফল নৌ অভিযান চালিয়ে রোমান নৌবাহিনীকে ছিন্নভিন্ন করে দেয়া হয়।
আব্বাসীয় শাসক ওয়াসিক বিল্লাহর আমলে ভূমধ্যসাগরের দ্বীপসমূহে মুসলিম সৈন্য সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়। রণপোত কারখানা স্থাপন করা হয়। সাকালিয়ার প্রসিদ্ধ নৌবন্দর মের্সিনীরও উন্নত হয়। এখান থেকে ভূমধ্যসাগরের নৌপথসমূহ পর্যবেক্ষণ করা যেতো।
তার আমলেই তিনজন রোমান সেনাপ্রধান একযোগে মিশর আক্রমন করে। তারা মিশরের দামিয়াত বন্দরে নোঙ্গর ফেলে। ঘটনাক্রমে মুসলিম নৌবহরের সমুদয় নাবিক তখন ঈদুল ফিতর উনার নামাজ আদায়ের জন্য জামায়াতবদ্ধ হয়েছিলেন। ফলে দামিয়াত বন্দর একেবারেই ফাকা পড়ে ছিলো। রোমক খ্রিষ্টান সন্ত্রাসীরা এই সুযোগে নিজেদের কাপুরুষতা জাহির করে। তারা নির্বিচারে নগরবাসীদের শহীদ করতে থাকে এবং মুসলমানদের ধন-সম্পদ লুণ্ঠন করতে থাকে।
এ সময় এক মুসলিম সেনানায়ক তিনি ঘটনাক্রমে গোয়েন্দা মারফত এই খবর পেয়ে যান। তিনি সাথে সাথেই অল্প কিছু মুসলিম সৈন্য নিয়ে রোমকদের উপর এমনভাবে হামলা করেন যে রোমকরা মনে করতে থাকে, কয়েক লক্ষ মুসলমান সৈন্য তাদের উপর হামলা করেছে। হাজার হাজার রোমক সৈন্য নিহত হয় এবং তিন রোমক কাপুরুষ সেনাপ্রধান জাহাজযোগে পালিয়ে যায়। এরপর থেকে দামিয়াত বন্দরে নৌ ছাউনি আরো মজবুত করা হয়। উপকূলে দূর্গ নির্মাণ করা হয়। নৌবহরের সংখ্যা আরো বৃদ্ধি করা হয়।
পূর্বের পর্বগুলোতেই বলা হয়েছে, সাকালিয়ার দ্বীপসমূহ ও তার বিখ্যাত নৌ বন্দর সারকাওসা দীর্ঘদিন ধরে মুসলমান এবং রোমানদের মধ্যে প্রবল যুদ্ধের কারণ হয়ে দাড়িয়েছিলো। এর সমাধান করতে মুসলিম নৌ সেনাপতি জাফর ইবনে মুহম্মদ তিনি সাগর ও ভূমি উভয় দিক দিয়ে সারকাওসা আক্রমন করেন। রোমকরা তাদের পুরো সেনাবাহিনী নিয়েও মুসলমানদের প্রতিরোধ করতে ব্যর্থ হয়। এর ফলে সাকালিয়া বন্দর পরিপূর্ণভাবে মুসলিমদের নিয়ন্ত্রনে চলে আসে। বিতাড়িত হয় রোমকরা। কয়েকশত রোমক জাহাজ ধ্বংস হয় এই যুদ্ধে।
-মুহম্মদ শাহজালাল।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
দেশে দেশে জাতিসংঘ ওরফে ইহুদীসংঘের কথিত মানবাধিকার অফিসমূহের পবিত্র দ্বীন ইসলাম ও মুসলমান বিরোধী কার্যক্রমের ইতিহাস (১৩তম পর্ব)
১৯ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
আফ্রিকান মুসলমান ইউরোপকে যেভাবে সমৃদ্ধ করেছেন
১৭ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সন্ত্রাসী সংগঠন ‘আইএস’ এর মাধ্যমে মুসলিম বিশ্ব ভাঙ্গার মানচিত্র বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়ে এখন গাজা যুদ্ধের মাধ্যমে সেই চেষ্টা করছে ক্রুসেডার জোট
১৫ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসী ইহুদী-খ্রিস্টানদের নজরদারী, তথ্যচুরি, ফিৎনা সৃষ্টিকারী, সন্ত্রাস সৃষ্টিকারী এবং বিমান হামলার কাজে ব্যবহৃত সন্ত্রাসী আমেরিকা ভিত্তিক মুসলিম বিদ্বেষী এক তথ্যজালিকা (২)
১৩ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
হিজরী চর্তুদশ শতকের মহান মুজাদ্দিদ, ফুরফুরা শরীফের মুজাদ্দিদে যামান হযরত আবূ বকর ছিদ্দীক্বী ফুরফুরাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সংক্ষিপ্ত সাওয়ানেহ উমরী মুবারক
১১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
আমেরিকা আবিষ্কারের যে সঠিক তথ্যটি আড়াল করা হয়েছে
০৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মুসা বিন আবী গাসসান: হার না মানা এক অকুতোভয় মুসলিম সিপাহী
০৭ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
বৃটিশরা কুচক্রীদের সহযোগিতায় মাদরাসা শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করে চালু করে সেক্যুলার নামক নাস্তিক্যবাদী সিলেবাস। (২য় পর্ব)
০৭ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
দেশে দেশে জাতিসংঘ ওরফে ইহুদীসংঘের কথিত মানবাধিকার অফিসমূহের পবিত্র দ্বীন ইসলাম ও মুসলমান বিরোধী কার্যক্রমের ইতিহাস (১১ম পর্ব)
০৫ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম মালিক রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সংক্ষিপ্ত জীবনী মুবারক (৫)
০৫ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
বৃটিশরা কুচক্রীদের সহযোগিতায় মাদরাসা শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করে চালু করে সেক্যুলার নামক নাস্তিক্যবাদী সিলেবাস। (১ম পর্ব)
০৪ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম মালিক রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সংক্ষিপ্ত জীবনী মুবারক (৪)
০৪ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার)












