ইতিহাস
আধুনিক কাগজ শিল্পের প্রতিষ্ঠাতা মুসলমানগণই
, ১৩ রমাদ্বান শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ০৪ আশির, ১৩৯৩ শামসী সন , ০৪ মার্চ, ২০২৬ খ্রি:, ১৯ ফাল্গুন, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) ইতিহাস
মানুষের দৈনন্দিন জীবনে কাগজ অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। আধুনিক সভ্যতার বিকাশে যার ভূমিকা অপরিসীম। আর মুসলমানদের হাতেই সূচনা হয় আধুনিক কাগজশিল্পের।
ইতিহাসমতে, বাগদাদে কাগজ উৎপাদন শুরু হলে তা সর্বসাধারণের নাগালে আসে এবং কাগজের বহুল ব্যবহার শুরু হয়। মুসলমানরাই আফ্রিকা ও ইউরোপ মহাদেশের মানুষকে কাগজের ব্যবহার শিখিয়েছে।
আব্বাসীয় শাসক আল-মানসুর সর্বপ্রথম সালতানাতের সব কাজে কাগজ ব্যবহারের নির্দেশ দেন। বাদশাহ হারুনুর রশিদের সময় ৭৯৪ সালে বাগদাদে মতান্তরে সমরকান্দে মুসলমান বিশ্বের প্রথম কাগজের কল প্রতিষ্ঠিত হয়। হারুনুর রশিদ তার প্রধানমন্ত্রী ফজল ইবনে ইয়াহইয়াকে এই দায়িত্ব অর্পণ করেন। এরপর ধীরে ধীরে দামেস্ক, ত্রিপোলি, কায়রো, কর্ডোভা, হামা, মানবিজসহ অন্যান্য শহরেও কাগজের কল প্রতিষ্ঠিত হয়।
মিশরের মুসলমান শাসকরা ৮৫০ সালে কায়রোতে আফ্রিকার প্রথম কাগজ কল প্রতিষ্ঠা করেন এবং ৯৫০ সালে মুসলমান স্পেনে প্রতিষ্ঠিত কাগজ কলটিও ছিলো ইউরোপের মাটিতে প্রথম কাগজ কল। প্রকৃতপক্ষে দ্বাদশ শতাব্দীর আগে ইউরোপে কাগজে লেখা কোনো বইয়ের অস্তিত্ব পাওয়া যায় না।
দশম খ্রিস্টাব্দে রচিত ‘হুদুদুল আলম’ নামক গ্রন্থে কাগজ উৎপাদনে সমরকান্দের শ্রেষ্ঠত্ব দাবি করা হয়েছে। লেখকের মতে, সমকালীন মুসলমান বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত কাগজ সমরকান্দে উৎপাদিত হতো এবং সেখান থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হতো। কাগজ উৎপাদনে সমরকান্দের পর ছিলো দামেস্কের স্থান। ইউরোপের কাগজের প্রধান উৎস ছিলো দামেস্ক।
বাগদাদে কাগজ উৎপাদন শুরু হওয়ার আগে মুসলমান বিশ্বে জ্ঞানচর্চায় ‘পার্চমেন্ট’ (চামড়া থেকে তৈরি কাগজবিশেষ) ছিলো জ্ঞানচর্চা ও গ্রন্থ রচনার প্রধান অবলম্বন। বাগদাদে কাগজ কল স্থাপিত হওয়ার পর জ্ঞানচর্চায় কাগজের ব্যাপক ব্যবহার শুরু হয়। আল্লামা ইবনে খালদুন বলেন, অষ্টম খ্রিস্টাব্দ জ্ঞানচর্চায় পার্চমেন্টের ব্যবহার বিরল হয়ে যায়। মুসলমানরাই প্রথম কাগজের তৈরি, মলাট বিশিষ্ট ও এক পাশে বাঁধাই করা বই উৎপাদন শুরু করে। ৫০০ পৃষ্ঠার কাগজের সমষ্টিকে যে ‘রিম’ বলা হয় তা-ও আরবী ‘রিজমা’ শব্দ থেকে এসেছে। সাধারণ বই-পুস্তকের মতো পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ কিতাবও কাগজে লেখা হতো। এখন পর্যন্ত আবিষ্কৃত পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার কাগজের অনুলিপিটি ৯৭১ সালে আলী ইবনে সাদান আল-রাজি প্রস্তুত করেন।
সম্পাদনায়- মুহম্মদ শাহজালাল।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
মাদরাসা প্রতিষ্ঠা নিয়ে ইতিহাসের আলোকে কিছু সংক্ষিপ্ত তথ্য
২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
তাতারস্তানে সম্মানিত দ্বীন ইসলাম এবং মুসলমানদের স্বর্ণালী ইতিহাস
১৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
বিধর্মীরা যতটুকু সভ্যতা পেয়েছে তা মুসলিম শাসনামলেই আর বর্বরোচিত প্রথাসমূহ বন্ধ করেছিলেন মুসলিম শাসকরাই
১১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার স্বর্ণালী যুগের নিরাপত্তা বিভাগের ইতিহাস (৪)
১১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
বিখ্যাত মুসলিম পর্যটক ইবনে বতুতার বর্ণনায় বাংলাদেশ
০৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
উপমহাদেশে ব্রিটিশবিরোধী সুফি, ফকীর-দরবেশ বিদ্রোহের ইতিকথা
০১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
বন্দর দখলদার, নব্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী, বিশ্ব সন্ত্রাসী ইহুদী দস্যুদের দোসর ডিপি ওয়ার্ল্ড এর পরিচিতি এবং উদ্দেশ্য (২)
৩১ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
বর্তমানে দেশকে উন্নত করতে হলে দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ উত্তোলনের বিকল্প নেই (২)
২৮ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার স্বর্ণালী যুগের নিরাপত্তা বিভাগের ইতিহাস (৩)
২৮ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
বর্তমানে দেশকে উন্নত করতে হলে দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ উত্তোলনের বিকল্প নেই (১)
২৭ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
শুধু স্পেন নয় ফিলিপাইনও ছিলো মুসলিম অধ্যুষিত, শাসিত বর্তমানে ফিলিপাইন হতে পারতো খ্রিস্টানের পরিবর্তে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ
২৬ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মুসলমানদের ক্ষমতা হারানোর কারণ: জ্ঞান চর্চা থেকে দূরে সরে আসা (২)
২২ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার)












