স্থাপত্য-নিদর্শন
ঐতিহাসিক বানিয়াবাসী মসজিদ (২)
, ৫ই রমাদ্বান শরীফ, ১৪৪৬ হিজরী সন, ৭ আশির, ১৩৯২ শামসী সন , ৬ মার্চ, ২০২৫ খ্রি:, ১৯ ফালগুন, ১৪৩১ ফসলী সন, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) স্থাপত্য নিদর্শন
১৮৭৮ খৃ: রুশ বিদ্রোহের মাধ্যমে বুলগেরিয়া উসমানীয় সালতানাতের কাছ থেকে কেড়ে নেওয়া হয়। মুসলিম শাসনাধীন থাকাবস্থায় ইসলামের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে বিপুল সংখ্যক খৃষ্টান ও ইহুদী স্বেচ্ছায় পবিত্র দ্বীন ইসলাম গ্রহণ করেন এছাড়াও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক তুর্কী মুসলিম বিভিন্ন প্রয়োজনে প্রতিবেশী দেশ বুলগেরিয়ায় বসতি স্থাপন করেন। এই সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম জনসংখ্যার প্রয়োজনে তৎকালীন উসমানীয় শাসকগণ রাজধানীসহ সমগ্র বুলগেরিয়াতে প্রায় চার শতাধিক মসজিদ ও মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেন। এই সকল প্রতিষ্ঠান প্রায় পাঁচ শতাধিক বছরকাল ঐ অঞ্চলের মুসলিম জনসাধারণের ধর্মীয় ও সামাজিক প্রয়োজন যথার্থভাবে আনজাম দিয়েছে। কিন্তু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ঐ অঞ্চলের শাসন ক্ষমতা রুশদের হাতে চলে গেলে তারা মুসলমানদের সকল দ্বীনী, সামাজিক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তালা ঝুলিয়ে দেয়, মুসলমানদের উপর অনেক অত্যাচার নির্যাতন শুরু করে। যার ফলে দীর্ঘদিন অনাবাদি থাকে সেখানকার মুসলমানের একমাত্র জামে মসজিদ।
চিত্র: মসজিদের অভ্যন্তরভাগের উপরে গম্বুজে মনমুগ্ধকর কারুকার্য।
যদিও বিগত ত্রিশ বছরে আরো কিছু মসজিদ সোফিয়ায় নির্মাণ করা হয়েছে, তবুও আজ পর্যন্ত বানিয়াবাসী মসজিদে বুলগেরিয়ার কেন্দ্রীয় মসজিদ হিসেবে স্বীকৃত, যেমনটি ছিল মুসলিম বুলগেরিয়ায় উসমানীয় সালতানাতকালে। কারণ তখনও বুলগেরিয়ার দুই শতাধিক মসজিদের মাঝে বানিয়াবাসী মসজিদকেই কেন্দ্রীয় মসজিদ হিসেবে গণ্য করা হতো। এই মসজিদ কেন্দ্র করে ঐ সময়ে এর চারিপাশে উসমানীয় শাসকগণ জনস্বার্থে আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নির্মাণ করেন। যেমন, মাদরাসা, হাসপাতাল, গণপাঠাগার, হাম্মামখানা, মুসাফিরখানা ও কবরস্থান ইত্যাদি।
বানিয়াবাসী মসজিদ ব্যতীত সোফিয়ায় উসমানীয় সালতানাত কর্তৃক নির্মিত আরো একটি মসজিদের স্থাপনা অক্ষুন্ন আছে বটে, তবে এটি ঐতিহ্য জাদুঘর হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। সেই হিসেবে স্থানীয় হাজার-হাজার মুসল্লীর নামায আদায়ের জন্য একমাত্র স্থান হচ্ছে বানিয়াবাসী মসজিদ। চলবে....
চিত্র: মসজিদের অভ্যন্তরভাগ।
-মুহম্মদ নাঈম।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
ফ্রান্সের ইতিহাসে মুসলিম অবদানের এক জীবন্ত দলিল
২১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
তাজ-উল-মসজিদ ভারতের সর্ববৃহৎ মসজিদ
১৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সুনামগঞ্জে কালের সাক্ষী শত বছরের পুরনো ঐতিহ্যবাহী পাগলা বড় মসজিদ
১৫ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মোঘল শাসক আওরঙ্গজেবের শাসনামল নিয়ে প্রচলিত ভাষ্য বদলে দিতে পারে ৩০০ বছর আগের নথি
১৪ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
উমাইয়া আমলের মুসলিম স্থাপত্য ‘কুসাইর আমরা দুর্গ’
১৩ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
আফ্রিকার দেশ ঘানার ঐতিহাসিক স্থাপত্য ‘লারাবাঙ্গা মসজিদ’
০৬ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
বন্দরের ঐতিহাসিক নিদর্শন হযরত বাবা সালেহ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার মাজার শরীফ
০১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পবিত্র মসজিদে জুমুয়াহ
১৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সম্মানিত ইসলামী সভ্যতার অনবদ্য নিদর্শন নাফত বা পেট্রোলিয়াম
১০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
ভারতের সাদা রত্ন ঐতিহাসিক মতি মসজিদ
২৪ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
নহরে জুবাইদা: ঐতিহাসিক মিষ্টি পানির খাল
১৬ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
হযরত নূর কুতুবে আলম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার নামকরণে তৈরী করা হয়েছিলো ভারতের যে মসজিদ: ফিরোজাবাদে যুগের সাক্ষী ঐতিহাসিক নিদর্শন কুতুব শাহি মসজিদ
৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার)












