৫১ কোটি জনসংখ্যার বাংলাদেশে ৫০ লক্ষাধিক নিয়মিত সশস্ত্র বাহিনীর কৌশলগত অপরিহার্যতা ও সামরিক রূপরেখা (পর্ব-১)
, ০৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০:০০ এএম ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) আপনাদের মতামত
ভূমিকা : ভূরাজনীতি এবং সমরবিজ্ঞানের একটি মৌলিক নিয়ম হলো, একটি রাষ্ট্রের জনসংখ্যা, ভৌগোলিক গুরুত্ব এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি যত বাড়বে তার বাহ্যিক নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা বলয়কেও এত বেশি শক্তিশালী করতে হবে। বর্তমান বৈশি^ক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ যখন তার ভূ-কৌশলগত অবস্থানকে কেন্দ্র করে পরাশক্তিগুলোর আকর্ষণের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে তখন জনসংখ্যার সমীকরণ মাথায় রেখে সুদূরপ্রসারী প্রতিরক্ষা নীতি ঢেলে গাজানো আবশাক। ৫১ কোটি জনসংখ্যার জন্য এই ভূখ- এবং অর্থনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বঙ্গোপসাগরের একচেটিয়া নৌসীমা সুরক্ষায় নূন্যতম ৫০ লক্ষ নিয়মিত সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তোলা কোনো বিলাসিতা নয়, বরং রাষ্ট্রের অস্তিত্ব রক্ষার অপরিহার্য শর্ত। এই কৌশলগতভাবে প্রয়োজনীয় বাহিনীর জন্য সমরাস্ত্র, নাজস্টিক চেইন এবং সামরিক কাঠামোর একটি পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা নিচে তুলে ধরা হলো।
১. ৫০ লক্ষ নিয়মিত বাহিনীর সুষম বিন্যাস:
আধুনিক ও বহুমাত্রিক যুদ্ধকৌশল এবং থিয়েটার কমান্ড অনুযায়ী এই বিশাল বাহিনীকে প্রধান তিনটি শাখায় বিন্যস্ত করতে হবে
স্থলবাহিনী : ৩০,০০,০০০ (ত্রিশ সীমান্ত প্রতিরক্ষা, দেশের চার কোণায় কৌশলগত স্ট্রাইক কোর গঠন এবং দ্রুত মোতায়েনযোগ্যা মেকানাইজড ইনফ্যান্ট্রির জন্য।
নৌবাহিনী : ১০,০০,০০০ (দশ লক্ষ) বঙ্গোপসাগর থেকে শুরু করে ভারত মহাসাগর পর্যন্ত ব্লুু ওয়াটার নেভি' হিসেবে আধিপত্য বিস্তার ও সামুদ্রিক বাণিজ্য পথ সুরক্ষায়।
বিমান ও মহাকাশ বাহিনী : ১০,০০,০০০ (দশ লক্ষ) সম্পূর্ণ আকাশসীমার অভেদ্য নিয়ন্ত্রণ, স্যাটেলাইট নজরদারি এবং সাইবার ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার পরিচালনার জন্য।
২. প্রয়োজনীয় সামরিক সমরাস্ত্র ও প্রযুক্তির প্রক্ষেপণ :
৫০ লক্ষ সৈন্যের এই আধুনিক বাহিনীকে পৃথিবীর সর্বাধুনিক প্রযুক্তিতে সজ্জিত করতে তুরস্ক, ইরান এবং পাকিস্তান থেকে উন্নত প্রযুক্তি এনে এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে।
ক. বিমান ও আকাশ প্রতিরক্ষা :
পঞ্চম ও ষষ্ঠ প্রজন্মের স্টিলথ ফাইটার: আকাশ প্রতিরক্ষাকে নিখুঁত করতে কমপক্ষে ৫০ থেকে ৬০টি যুদ্ধবিমান স্কোয়াড্রন (প্রায় ১,০০০ থেকে ১.২০০টি) আধুনিক স্টিলথ ফাইটার জেট (যেমন তুরস্কের কান বা সমমানের প্রযুক্তি) প্রয়োজন।
মাল্টি-লেয়ারড হাইপারসনিক এয়ার ডিফেন্স: সমগ্র দেশকে একটি অভেদ্য ছাতায় ঢাকতে দূরপাল্লার শেলিক কুব্বে, খোরদাদ-৩, এইচকিউ-৯ বা হিসার সিরিজের ৩০০টিরও বেশি ব্যাটালিয়ন সমন্বিত হাইপারসনিক মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেম।
সাঁড়াশি ড্রোন বহর : কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিত কমপক্ষে ৫০,০০০ কমব্যাট ও নজরদারি ড্রোন।
খ. স্থলবাহিনীর আধুনিক সমরাস্ত্র :
প্রধান যুদ্ধ ট্যাংক : সীমান্ত ও সমতল ভূমিতে প্রতিরক্ষামূলক ও আক্রমণাত্মক অপারেশনের জন্য কমপক্ষে ১০.০০০টি চতুর্থ প্রজন্মের মেইন ব্যাটল ট্যাংক (যেমন ভিটি-৪ বা আপগ্রেডেড সংস্করণ)।
কৌশলগত রকেট ও হাইপারসনিক মিসাইল: নিখুঁত দূরপাল্লার আঘাত হানার জন্য পাকিস্তানের সহযোগিতায় ১২,০০০ কিলোমিটার পাল্লার গাইড মাল্টিপল লঞ্চ রকেট সিস্টেম (এমএলআরএস) এবং ট্যাকটিক্যাল ব্যালিস্টিক মিসাইল সিস্টেম।
সাঁজোয়া যান : দ্রুত সেনা চলাচলের জন্য ৫০,০০০টিরও বেশি উভচর সাঁজোয়া যান।
গ. নৌবাহিনীর সমুদ্র-শ্রেষ্ঠত্ব :
ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ : বঙ্গোপসাগরের বাইরে গভীর সমুদ্রে দেশের শক্তি প্রদর্শনের জন্য কমপক্ষে ৬টি বিমানবাহী রণতরী।
সাবমেরিন ফ্রিট : সমুদ্রের নিচে স্থায়ী প্রতিরোধ ও সেকেন্ড স্ট্রাইক সক্ষমতার জন্য ৫০টি আধুনিক পারমাণবিক ও উন্নত ডিজেলে, ইলেকট্রিক সাবমেরিন।
সারফেস ফ্রিট : ১০০টি আধুনিক গাইডেড-মিসাইল ফ্রিগেট এবং ২০০টি কর্ভেট ও ডেস্ট্রয়ার।
৩. লজিস্টিক সাপোর্ট ও অবকাঠামোগত প্রয়োজনীয়তা :
৫০ লক্ষ নিয়মিত সৈন্যের একটি বাহিনীকে সার্বক্ষণিক যুদ্ধপ্রস্তুত রাখতে সমরাস্ত্রের চেয়েও শক্তিশালী ও নিñিদ্র লজিস্টিক চেইন গড়ে তোলা জরুরী।
আন্ডারগ্রাউন্ড স্ট্র্যাটেজিক সাইলো ও ডিপো: দেশের প্রতিটি সামরিক জোনে মাটির নিচে বিশাল বোম্ব-প্রুফ লজিস্টিক হাব তৈরি করতে হবে, যেখানে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে ব্যবহারের জন্য নূন্যতম ১ বছরের সামরিক গ্রেডের জ্বালানি (জেপি-৮. ডিজেল) এবং ড্রাই রেশন সংরক্ষিত থাকবে।
শতভাগ দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্প: সমরাস্ত্রের জন্য অনা দেশের ওপর নির্ভরশীলতা জিরো পার্সেন্টে নামিয়ে আনতে হবে। বাংলাদেশ অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরি ও শিপইয়ার্ডগুলোকে এমন পর্যায়ে নিয়ে যেতে হবে যেন নিজস্ব প্রযুক্তিতেই প্রতি বছর লাখ লাখ অ্যাসাল্ট রাইফেল, কোটি কোটি গোলাবারুদ, ভারী আর্টিলারি এবং সাঁজোয়া যান তৈরি ও রক্ষণাবেক্ষণ করা যায়।
সামরিক চিকিৎসাসেবা ট্রমা নেটওয়ার্ক: যুদ্ধক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা নিশ্চিত করতে প্রতিটি কমান্ডের অধীনে আন্তর্জাতিক মানের ফিল্ড হসপিটাল চেইন এবং কমপক্ষে ৫,০০০টি ডেডিকেটেড এয়ার অ্যাম্বুলেন্স ও মেডিকেল ইভাকুয়েশন হেলিকপ্টার।
কৌশলগত এয়ারলিফট ও ট্রুপ ক্যারিয়ার: একসাথে লক্ষাধিক সৈনাকে যেকোনো ফ্রন্টে দ্রুত স্থানান্তরের জন্য ১,০০০টি ভারী সামরিক পরিবহন বিমান (যেমন ওয়াই-২০ বা সি-১৩০জে) এবং ৩,০০০টি ট্যাকটিক্যাল হেলিকপ্টার।
৫১ কোটি জনসংখ্যার একটি দেশের প্রতিরক্ষা বলয়কে ৫০ লক্ষ সেনা বহরে উন্নীত করা কেবল একটি সামরিক সংখ্যা বৃদ্ধি নয়, এটি দেশের সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতার দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তা নিশ্চয়তা। এই বিশাল লক্ষ্য অর্জনে জিডিপির একটি সুনির্দিষ্ট অংশকে প্রতিরক্ষা শিল্পে দীর্ঘমেয়াদী। বিনিয়োগ করতে হবে। বহুমাত্রিক আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি সরবরাহকারীদের সাথে কৌশলগত ভারসামা রক্ষা করে এবং নিজস্ব উৎপাদন সক্ষমতা বাড়িয়ে এই ৫০ লক্ষাধিক বাহিনীকে যদি বাস্তব রূপ সেওয়া যায়, তবে তা কেবল দক্ষিণ এশিয়ায় নয়, বরং সমগ্র বিশে^ বাংলাদেশকে একটি অপরাজেয় ও সমাহ জাগানিয়া মহাশক্তিতে পরিণত করবে।
-মুহম্মদ শামসিত তাবরিজ।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
একবিংশ শতাব্দীর কৌশলগত প্রতিরক্ষা রূপরেখা (১)
১৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
জান্নাতের টিকিট বিক্রিকারী জামাতীরা কী মনে করে? বেহেশতে- যাওয়ার প্রস্তুতি হিসেবেই দুনিয়াতেই হারাম মদের সাথে সম্পৃক্ত থাকা উচিত! নাউযুবিল্লাহ। বিএনপির ভাষায় জামাত মুনাফেক। জাহান্নামের নি¤œস্তরের বাসিন্দা মুনাফিকরা- ভোটের বিনিময়ে জান্নাতের টিকিট বিক্রি করে তারা যে সত্যিই বড় মুনাফেক, তাই প্রমাণ করছে। মাতালদের পক্ষেই সম্ভব ভোটের বিনিময়ে জান্নাতের টিকিট বেচা।
১৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সার্বভৌমত্বের বিনিময়ে কী পাচ্ছি আমরা? - আকসা ও জিসোমিয়া চুক্তি প্রত্যাখ্যান করুন
১৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশীদের ইজারা দিলে বাংলাদেশ যে সমস্ত গুরুতর হুমকিতে পড়বে
১১ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
উত্তরাঞ্চলে এক ভয়ংকর চক্রান্ত ও আলেম সমাজের নীরবতা
১০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পুরোনো স্মার্টফোন বিক্রির আগে যে কাজ না করলে বিপদ
১০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পেগাসাসের জাল বিস্তার বাংলাদেশেও। সবাই সাবধান।
০৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
৫০ লক্ষের বাহিনী ও ভবিষ্যতের সাইবার যুদ্ধক্ষেত্রের মহাপ্রস্তুতি (পর্ব-৩)
০৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
বিজিবির দায়িত্ব সচেতনতা ও আন্তর্জাতিক আইনের বিজয়
০৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাতক্ষীরায় মসজিদ ভাঙার ধৃষ্টতা এবং আইনের শাসনের জরুরি প্রয়োজনীয়তা
০৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
বঙ্গোপসাগরে সাম্রাজ্যবাদী নব্য-ক্রুসেডারদের সামরিক আগ্রাসনের এক পৈশাচিক ফাঁদ
০৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছির আলাইহিস সালাম উনার নির্দেশনা মুবারক পালনেই সফলতা। ঢাকামুখী জনস্রোত বন্ধ এবং ঢাকা শহরের প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বিকেন্দ্রীকরণ ব্যতীত অন্য কোন পদ্ধতিতে কখনোই যানজট নিরসনের স্থায়ী সমাধান হবে না (৭)
০৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার)












