১৩ হিজরী শতকের মুজাদ্দিদ, মুজাহিদে মিল্লাত, শহীদে বালাকোট, আমীরুল মু’মিনীন, হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সাওয়ানেহ উমরী মুবারক (১৩)
, ২০ রবীউল আউওয়াল শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ০৫ রবি, ১৩৯৪ শামসী সন , ০৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রি:, ১৯ ভাদ্র, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম
বালাকোটের জিহাদ ও মুজাহিদে মিল্লাত, আমিরুল মু’মিনীন, হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার শাহাদাত মুবারক:
কেননা শিখদের সাথে সীমান্তের পাঠান মুনাফিক মুসলমান সর্দারগণও স্বার্থের তাগিদে একত্রিত হয়ে গিয়েছিলো। কারণ পূর্বে তারা ছিলো স্বাধীন। সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলোর দেখাশোনার ভার তাদেরই হাতে ন্যস্ত ছিলো। তাই তারা জুলুম করে কৃষকদের ফসলের উপর সীমার অতিরিক্ত উশরের বোঝা চাপিয়ে দিয়েছিলো।
যদি কোন কৃষক উশর দানে অস্বীকৃতি জানাতো তবে তার বাড়ি-ঘরে হামলা চালানো হতো। এবং জায়গা বিশেষ তাদেরকে শিখদের হাতে তুলে দেয়া হতো। আর শরয়ী হুকুমত বলতে এদেরই নিয়মনীতি চলতো। শরীয়তের কোন আইন-কানুনই নির্দিষ্টভাবে এই সমস্ত এলাকায় কখনোই চালু করা সম্ভব ছিলো না। একমাত্র এদের দৌরাত্ম্যের কারণে।
অবশেষে আমিরুল মু’মিনীন, হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার আগমনের কারণে অত্র অঞ্চলগুলোতে শরীয়তের হুকুমত পূর্ণভাবে চালু হয়। সাধারণ মানুষ, কৃষক, দিন মজুর, ব্যবসায়ী যারা ছিলো সর্দারদের হাতের পুতুল তারা হাফ ছেড়ে বাঁচলো। কিন্তু বেঁকে বসলো এই মুনাফিক সর্দারগণ যারা দীর্ঘদিন থেকে এ এলাকার রাজস্ব কর, খাজনা ও উশরের ভাগ নিজেদের ঝুলিতে রাখতো।
এখন খলীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার আগমণের কারণে সেই অবৈধ বাড়তি সুযোগ-সুবিধা জীবনের তরে বন্ধ হয়ে গেলো। তাই ব্যক্তিগত স্বার্থের জন্য তারা মুসলমান হয়েও মুনাফিকদের ভূমিকা পালন করে শিখদের সাথে গোপনে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হলো।
স্মরণ থাকা জরুরী যে, সিদুঁর যুদ্ধে এই মুনাফিক সর্দারদের মধ্যে ইয়ার মুহম্মদ খানের প্ররোচনাতেই আমিরুল মু’মিনীন, হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার খাদ্যে বিষ মিশ্রিত করা হয়েছিলো। সাম্মাবাসীদের বিশ্বাসঘাতকতার কারণে সেখানে শত শত মুজাহিদদের অকাতরে প্রাণ দিতে হয়েছিলো। তারও একমাত্র কারণ ছিলো এই পাঠান মুনাফিক মুসলমান সর্দারগণ।
আর ধোঁকাবাজ সুলতান নজফ খানের কারসাজিতেই শের সিংহ তার বাহিনীসহ বালাকোটে এসে পৌঁছে। নতুবা কোন অবস্থাতেই বালাকোটে মুজাহিদদের ঘাটি সম্পর্কে তার জানা সম্ভব ছিলো না।
বালাকোটের পশ্চিমে মাটিকোট টিলার পাশাপাশি শের সিংহ তার বাহিনী নিয়ে যুদ্ধের ছাউনি তৈরী করলো। লাহোরের শিখ সর্দার রনজিৎ সিং এর তরফ থেকে কড়া নির্দেশ ছিলো যাতে মুজাহিদ বাহিনীর সাথে শের সিং এর সৈন্যরা মরণপণ যুদ্ধ চালিয়ে যায়। ফলে বিশেষভাবে বালাকোটে শিখ সৈন্যদের মাশোহারা বৃদ্ধি করে দেয়া হয়।
একদিকে ইংরেজ অপরদিকে এই সীমান্তবর্তী মুনাফিক পাঠান সর্দার যারা প্রত্যেকেই ছিলো আব্দুল্লাহ ইবনে উবাইর চরিত্রে চরিত্র দুষ্ট। তারাও শিখদের সাথে একত্র হয়ে মুজাহিদের বিপক্ষ অবলম্বন করে। শিখদের মাটিকোট টিলায় আগমনের সংবাদ শুনে আমীরুল মু’মিনীন, হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি ও উনার মুজাহিদ বাহিনীদের বিভিন্ন সারিতে বিভক্ত করেন। এবং প্রত্যেক দলের সাথে একজন আমীর নিয়োগ করে তাদের নির্দিষ্ট জায়গা অনুযায়ী মোতায়েন করে রাখেন।
আমীরুল মু’মিনীন, হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার তরফ থেকে ফরমান ছিলো, শিখ সৈন্যরা যতক্ষণ পর্যন্ত মাটিকোট টিলা অতিক্রম করে সমতল ভূমিতে এগিয়ে না আসবে ততক্ষণ পর্যন্ত মুজাহিদদের তরফ থেকে কোন প্রকার যেন গোলাগুলি ছোড়া না হয়। অবশেষে শিখদের তরফ থেকেই প্রথম আক্রমণ করা হয়। কিন্তু সেটা ছিলো অতর্কিত এবং মুনাফিক পাঠান মুসলমান সর্দারদের সহযোগিতায় অত্যন্ত কূট চালে এ পরিকল্পনা করা হয়।
দিনের প্রথম পর্বে বা ভাগে মুজাহিদগণ প্রত্যেকেই তাদের ব্যক্তিগত কাজে ব্যস্ত ছিলেন। যেমন, এ সময় কেউ বিশ্রাম নিচ্ছিলেন, কেউ ঘুমন্ত অবস্থায় ছিলেন, কেউ কেউ খাদ্য পাকাচ্ছিলেন, কেউবা জরুরতবশতঃ নিজের নির্দিষ্ট স্থান ত্যাগ করে অনত্র গিয়েছিলেন- অর্থাৎ শিখদের অতর্কিত আক্রমণের সময় মুজাহিদগণ সম্পূর্ণভাবে অপ্রস্তুত ছিলেন। তাদের মধ্যে যারা প্রহরী সৈন্য হিসেবে বিভিন্ন জায়গায় মোতায়েন ছিলেন তারাও হঠাৎ করে এই ধরণের হামলার কথা কল্পনাও করতে পারেননি। ফলে পূর্ব প্রস্তুতি ছাড়াই তাড়াহুড়া করে মুসলিম মুজাহিদগণ একত্রিত হয়ে পাল্টা আক্রমণ করার পূর্বেই শিখ সৈন্যরা শাহীন, রাইফেল, মীনজানিকের সাহায্যে উনাদের উপর গোলাবারুদ নিক্ষেপ করতে থাকে। কার্তুজের ধোঁয়ায় মাটিকোট টিলা, বালাকোটের বস্তিগুলো এবং আকাশ অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে যায়। এ সময়ে মুজাহিদগণ জনে জনে শহীদ হতে লাগলেন। তারা একে অপরের সাহায্য-সহযোগিতা করারও সময়-সুযোগ পেলেন না।
অবশেষে খলীফাতুল্লাহ, আমীরুল মু’মিনীন, হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি প্রাণপণে কাফিরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে বহু শিখ সৈন্যদের জাহান্নামে পাঠিয়ে নিজেরাও শাহাদাতের শারাবান তাহুরা পান করলেন। এ যুদ্ধে শত শত মুজাহিদ বাহিনী শহীদ হয়েছেন। এটা ছিলো ১২৪৬ হিজরীর ২৪ যিলক্বদ মোতাবেক ইংরেজী ১৮৩১ সালের ৬ই মের ঘটনা।
-মুহাদ্দিস আহমদ হুসাইন।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
১৩ হিজরী শতকের মুজাদ্দিদ, মুজাহিদে মিল্লাত, শহীদে বালাকোট, আমীরুল মু’মিনীন, হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সাওয়ানেহ উমরী মুবারক (১২)
২০ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
১৩ হিজরী শতকের মুজাদ্দিদ, মুজাহিদে মিল্লাত, শহীদে বালাকোট, আমীরুল মু’মিনীন, হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সাওয়ানেহ উমরী মুবারক (১১)
১৭ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
১৩ হিজরী শতকের মুজাদ্দিদ, মুজাহিদে মিল্লাত, শহীদে বালাকোট, আমীরুল মু’মিনীন, হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সাওয়ানেহ উমরী মুবারক (১০)
১৩ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
১৩ হিজরী শতকের মুজাদ্দিদ, মুজাহিদে মিল্লাত, শহীদে বালাকোট, আমীরুল মু’মিনীন, হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সাওয়ানেহ উমরী মুবারক (৯)
১১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
১৩ হিজরী শতকের মুজাদ্দিদ, মুজাহিদে মিল্লাত, শহীদে বালাকোট, আমীরুল মু’মিনীন, হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সাওয়ানেহ উমরী মুবারক (৮)
০৮ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
বিশিষ্ট তাবেয়ী, হযরত উওয়াইস বিন ‘আমির আল-ক্বারানী রহমতুল্লাহি আলাইহি (৯ম পর্ব)
০৫ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
১৩ হিজরী শতকের মুজাদ্দিদ, মুজাহিদে মিল্লাত, শহীদে বালাকোট, আমীরুল মু’মিনীন, হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সাওয়ানেহ উমরী মুবারক (৭)
০৪ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
১৩ হিজরী শতকের মুজাদ্দিদ, মুজাহিদে মিল্লাত, শহীদে বালাকোট, আমীরুল মু’মিনীন, হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সাওয়ানেহ উমরী মুবারক (৬)
০১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
বিশিষ্ট তাবেয়ী, হযরত উওয়াইস বিন ‘আমির আল-ক্বারানী রহমতুল্লাহি আলাইহি (৪র্থ পর্ব)
৩১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
বিশিষ্ট তাবেয়ী, হযরত উওয়াইস বিন ‘আমির আল-ক্বারানী রহমতুল্লাহি আলাইহি (৮ম পর্ব)
২৯ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
বিশিষ্ট তাবেয়ী, হযরত উওয়াইস বিন ‘আমির আল-ক্বারানী রহমতুল্লাহি আলাইহি (৭ম পর্ব)
২৬ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
বিশিষ্ট তাবেয়ী, হযরত উওয়াইস বিন ‘আমির আল-ক্বারানী রহমতুল্লাহি আলাইহি (৬ষ্ঠ পর্ব)
২২ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)












