হাররার ঘটনা এবং ইয়াযীদ লা’নাতুল্লাহি আলাইহির কুফরী কাজের ফিরিস্তি (২য় পর্ব)
, ০৪ মুহররমুল হারাম শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১ ছানী, ১৩৯৩ শামসী সন , ৩০ জুন, ২০২৫ খ্রি:, ১৬ আষাঢ়, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) আইন ও জিহাদ
৪. হালালকে হারাম ও হারামকে হালাল ঘোষণা করা এবং প্রকাশ্যে বিভিন্ন অনৈতিক কার্যকলাপে জড়িয়ে যাওয়া: ইয়াযীদ লা’নাতুল্লাহি আলাইহি হালালকে হারাম ও হারামকে হালাল ঘোষণা করে এবং প্রকাশ্যে বিভিন্ন অনৈতিক কার্যকলাপে জড়িয়ে যায়। যেমন- সে আপন মা, বোন ও মেয়েকে বিবাহ করা বৈধ ঘোষণা করে, মদকে হালাল করে, প্রকাশ্যে মদ পান করে, নামায ত্যাগ করে, নাচ-গান করে, গায়িকা, নর্তকী ও বিনতুল হাওয়াদের (চরিত্র নষ্টকারী মহিলাদের) সঙ্গ দেয়, কুকুর ও বানর নিয়ে খেলতামাশায় মগ্ন থাকে, যিনা-ব্যভিচারে লিপ্ত হয়ে যায়। নাঊযুবিল্লাহ! (তারীখুল খুলাফা, ইবনে সা’দ, ত্ববারী, ইবনে জাওযী, মুরূজুয যাহাব, আনসাবুল আশরাফ, তাযকিরাতুল খাওয়াছ ইত্যাদি)
৫. ইয়াযীদ লা’নাতুল্লাহি আলাইহির কুফরী কাজের প্রতিবাদ এবং তার বায়াত ভঙ্গ: পবিত্র মদীনা শরীফবাসী হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা এবং হযরত তাবিয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা ইয়াযীদ লা’নাতুল্লাহি আলাইহির এই সকল কুফরী ও হারাম-নাজায়িয কাজের প্রতিবাদ করেন এবং তার বায়াত ভঙ্গ করেন। আল্লামা হযরত ইমাম ইবনে জাওযী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, “৬২ হিজরীতে ইয়াযীদ লা’নাতুল্লাহি আলাইহি তার চাচাতো ভাই উছমানকে পবিত্র মদীনা শরীফ উনার শাসক পদে নিয়োগ করে। উছমান ইয়াযীদ লা’নাতুল্লাহি আলাইহির নিকট পবিত্র মদীনা শরীফ থেকে একটি প্রতিনিধি দল প্রেরণ করে। কিন্তু প্রতিনিধি দল ফিরে এসে ইয়াযীদ লা’নাতুল্লাহি আলাইহির সকল অপকর্ম প্রকাশ করে দেন। উনারা বলেন-
قَدِمْنَا مِنْ عِنْدِ رَجُلٍ لَيْسَ لَهٗ دِيْنٌ يَشْرَبُ الْـخَمْرَ ويَـعْزِفُ بِالطَّــنَابِـيْـرِ وَيَـلْعَبُ بِالْكِلَابِ وَاِنَّا نُشْهِدُكُمْ اَنَّا قَدْ خَلَعْنَاهُ وَقَالَ حَضْرَتْ اَلْمُنْذِرُ رَحْـمَةُ اللهِ عَلَيْهِ اَمَا وَاللهِ لَقَدْ اَجَازَنِـىْ مِائَةَ اَلْفِ دِرْهَمٍ وَلَا يَـمْنَـعُنِـىْ مَا صَنَعَ اَنْ اَصْدُقَكُمْ عَنْهُ وَاللهِ اِنَّهٗ يَشْرَبُ الْـخَمْرَ وَاِنَّهٗ لَـيَسْكَـرُ حَتّٰـى يَدَعَ الصَّلَاةَ
‘আমরা এমন এক লোকের সাথে সাক্ষাৎ করে এসেছি যার কোনো দ্বীন নেই। সে মদ পান করে, গান-বাজনা করে ও কুকুরের সাথে খেল-তামাশা করে। নিশ্চয়ই আমরা আপনাদেরকে সাক্ষ্য রেখে তার বায়াত ভঙ্গ করছি। ’ আর হযরত মুনযির ইবনে যুবাইর রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, ‘সাবধান! মহান আল্লাহ পাক উনার ক্বসম! ইয়াযীদ লা’নাতুল্লাহি আলাইহি আমাকে ১ লক্ষ দিরহাম উপহার হিসেবে দিয়েছিলো। কিন্তু তার এই উপহার তার সম্পর্কে আপনাদের নিকট সত্য প্রকাশ করা থেকে আমাকে বিরত রাখতে পারবে না। মহান আল্লাহ পাক উনার ক্বসম! নিশ্চয়ই সে মদ খায় এবং মদ খেয়ে মাতাল হয়ে নামায ছেড়ে দেয়’। ” নাঊযুবিল্লাহ! (ওয়াফাউল ওয়াফা ১/১০৩)
১০ম হিজরী শতকের মুজাদ্দিদ হযরত ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূত্বী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, “পবিত্র মদীনা শরীফবাসী উনারা যেই কারণে ইয়াযীদ লা’নাতুল্লাহি আলাইহির বায়াত ভঙ্গ করেছিলেন, তা হলো- সে অত্যধিক পাপাচারে লিপ্ত ছিলো। হযরত ইমাম ওয়াকিদী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বিভিন্ন সূত্রে বিশিষ্ট ছাহাবী হযরত আবদুল্লাহ ইবনে হানযালা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন-
وَاللهِ مَا خَرَجْنَا عَلـٰى يَزِيْدَ (لَعْنَةُ اللهِ عَلَيْهِ) حَتّٰـى خِفْنَا اَنْ نُّـرْمِىَ بِالْـحِجَارَةِ مِنَ السَّمَاءِ اِنَّهٗ رَجُلٌ يَـنْكِحُ اُمَّهَاتِ الْاَوْلَادِ وَالْـبَـنَاتِ وَالْاَخَوَاتِ وَيَشْرَبُ الْـخَمْرَ وَيَدَعُ الصَّلَاةَ
‘মহান আল্লাহ পাক উনার ক্বসম! আমরা ইয়াযীদ লা’নাতুল্লাহি আলাইহির বিরুদ্ধে তখন রুখে দাঁড়িয়েছি যখন আমরা নিশ্চিত হয়েছি যে, তার অপকর্মের প্রতিবাদ না করলে আমাদের প্রতি আসমান থেকে পাথর নিক্ষেপ করা হবে। কেননা ইয়াযীদ লা’নাতুল্লাহি আলাইহি (হচ্ছে এমন নিকৃষ্ট লোক যে,) আপন মা, বোন ও মেয়েদেরকে বিয়ে করা বৈধ করেছে। আর সে প্রকাশ্যে মদ পান করে এবং নামায তরক করে’। ” নাঊযুবিল্লাহ! (তারীখুল খুলাফা)
পবিত্র মদীনা শরীফবাসী উনাদেরকে নিশ্চিহ্ন করে দেয়ার শপথ এবং উনাদের বিরুদ্ধে হাজার হাজার সৈন্য প্রেরণ:
আল্লামা ইয়া’কূবী রহমতুল্লাহি আলাইহি (বিছাল শরীফ ২৯২ হিজরী শরীফ উনার পর) তিনি ‘তারীখে ইয়া’কূবীতে’ বলেন, যখন ইয়াযীদ লা’নাতুল্লাহি আলাইহির নিকট পবিত্র মদীনা শরীফবাসী উনাদের বায়াত ভঙ্গের সংবাদ পৌঁছলো, তখন সে মুসরিফ ইবনে উক্ববা লা’নাতুল্লাহি আলাইহির নিকট লোক প্রেরণ করে তাকে ফিলিস্তিন থেকে তার নিকট নিয়ে আসে। তখন ইবনে উক্ববা লা’নাতুল্লাহি আলাইহি অসুস্থ ছিলো। ইয়াযীদ লা’নাতুল্লাহি আলাইহি ইবনে উক্ববা লা’নাতুল্লাহি আলাইহিকে তার কামরায় প্রবেশ করায়। তারপর তার কাছে ঘটনা খুলে বলে। তখন সে বলে-
يَا اَمِيْـرَ الْمُؤْمِنِـيْـنَ وَجِّهْنِـىْ اِلَـيْهِمْ فَـوَاللهِ لَاَدَعُّنَّ اَسْفَلَهَا اَعْلَاهَا يَـعْنِـىْ مَدِيْـنَةَ الرَّسُوْلِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَـوَجَّهَهٗ
“হে আমীরুল মু’মিনীন! আমাকে পবিত্র মদীনা শরীফবাসী উনাদের নিকট প্রেরণ করুন। মহান আল্লাহ পাক উনার ক্বসম! অবশ্যই অবশ্যই আমি পবিত্র মদীনাতুর রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে অর্থাৎ পবিত্র মদীনা শরীফবাসী উনাদেরকে বিনাশ করে দিবো। নাঊযুবিল্লাহ! তখন ইয়াযীদ লা’নাতুল্লাহি আলাইহি ইবনে উক্ববা লা’নাতুল্লাহি আলাইহিকে (বিশাল সৈন্যবাহিনীসহ) পবিত্র মদীনা শরীফ প্রেরণ করে। ” নাঊযুবিল্লাহ! (তারীখে ইয়া’কূবী ২০৯ নং পৃষ্ঠা)
-মুহাদ্দিস ইবনে মারইয়াম।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (১৫)
১৩ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (১৩তম পর্ব)
১২ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (১৪)
১১ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (১২তম পর্ব)
০৫ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (১৩)
২৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (১২)
২৭ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (১২)
২৩ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (১২)
২২ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়:
২১ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (১১)
২০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (১০ম পর্ব)
১৪ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (১০)
১৩ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)












