হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জে ড্রোন দিয়ে ছাড়া হচ্ছে হাজার হাজার মশা, কিন্তু কেন?
, ০৬ ছফর শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ০২ ছালিছ, ১৩৯৩ শামসী সন , ০১ আগস্ট, ২০২৫ খ্রি:, ১৮ শ্রাবণ, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) পাঁচ মিশালী
চলতি বছরের জুনে হাওয়াইয়ের বনাঞ্চলে ড্রোনের মাধ্যমে আকাশ থেকে ফেলা হয় শতাধিক বায়োডিগ্রেডেবল ক্যাপসুল। প্রতিটি ক্যাপসুলে ছিলো প্রায় ১ হাজার মশা!
আরও অবাক করার মতো বিষয় হলো, এগুলো কোনও সাধারণ মশাও ছিলো না। গবেষণাগারে তৈরি এসব দংশনহীন পুরুষ মশাগুলোর শরীরে একটি নির্দিষ্ট প্রজাতির ব্যাকটেরিয়া সংক্রমিত, যা স্ত্রী মশার সঙ্গে মিলনের পর ডিম নিষ্ক্রিয় করে তোলে। ফলে সেই ডিম থেকে আর বাচ্চা ফোটে না।
হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জে ছড়িয়ে পড়া আক্রমণাত্মক মশার বিস্তার নিয়ন্ত্রণ করার উদ্দেশ্যেই এই উদ্যোগ নেয়া। কারণ এসব মশার কারণে বিলুপ্তির মুখে পড়েছে হাওয়াইয়ের স্থানীয় সব দুর্লভ পাখি, বিশেষ করে বিলুপ্তপ্রায় হানিক্রিপার পাখি।
আমেরিকান বার্ড কনজারভেন্সির (এবিসি) হাওয়াই প্রোগ্রামের পরিচালক ড.ফার্মারের মতে, সবচেয়ে বড় ‘অস্তিত্ব সংকট’ তৈরি করেছে মশাবাহিত বার্ড ম্যালেরিয়া। মশা হাওয়াইয়ের নিজস্ব প্রজাতি নয়। ধারণা করা হয়, ১৮২৬ সালে তিমি শিকারি জাহাজের মাধ্যমে অনিচ্ছাকৃতভাবে এরা দ্বীপপুঞ্জে প্রবেশ করে।
ড. ফার্মার বলেছে, মশা সাধারণত দ্বীপগুলোর নিচু, উষ্ণ অঞ্চলে বেশি বিস্তার লাভ করে। তাই বেঁচে থাকা হানিক্রিপারদের অনেকেই আশ্রয় নিয়েছিলো দ্বীপের পাহাড়ি উচ্চভূমিতে। কিন্তু এখন আমরা দেখছি- মশা এখন ধীরে ধীরে পাহাড়ের উঁচুতে উঠে যাচ্ছে। আর পাখিরা বাধ্য হচ্ছে আরও উপরে সরে যেতে-যতক্ষণ না পর্যন্ত এমন জায়গায় পৌঁছাচ্ছে, যেখানে তাদের আর বাঁচার উপযোগী কোনো পরিবেশই নেই। ’
হানিক্রিপারদের রক্ষা করতে এবং মশার বিস্তার নিয়ন্ত্রণে আনার উপায় খুঁজে আসছে সংরক্ষণকর্মীরা। তবে পুরো অঞ্চলের প্রেক্ষাপটে মশা দমন অত্যন্ত জটিল কাজ।
ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গু, জিকা ভাইরাসসহ নানা রোগের কারণে মানুষের জন্যও মশা একটি বড় হুমকি। তাই সমস্যাটি মোকাবিলায় বিজ্ঞানীরা বহু দশক ধরে গবেষণা চালিয়ে বিভিন্ন সমাধান প্রস্তাব করেছে। এর মধ্যে একটি হলো ‘ইনকমপ্যাটিবল ইনসেক্ট টেকনিক (আইআইটি)’।
এই পদ্ধতিতে ‘উলবাখিয়া’ নামের ব্যাকটেরিয়া বহনকারী ল্যাব-উৎপাদিত পুরুষ মশা ছাড়া হয়। এরা যখন বন্য স্ত্রী মশার সঙ্গে মিলিত হয়, তখন তাদের ডিম নিষ্ক্রিয় থাকে বা ফোটে না। ধারাবাহিকভাবে এ ধরনের পুরুষ মশা ছাড়া হলে সময়ের সঙ্গে বন্য মশার সংখ্যা কমে যাওয়ার কথা।
২০১৬ সালে আমেরিকান বার্ড কনজারভেন্সি (এবিসি) ‘বার্ডস, নট মসকিটোস’ নামে এক বহুমুখী সংস্থার সঙ্গে যৌথভাবে হাওয়াইয়ের হানিক্রিপারদের রক্ষায় ইনকমপ্যাটিবল ইনসেক্ট টেকনিক (আইআইটি) সবচেয়ে কার্যকর পন্থা বলে সিদ্ধান্ত নেয় এবং এ পদ্ধতি কিভাবে বার্ড ম্যালেরিয়া ছড়ানো মশার ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা যায় তা নিয়ে গবেষণা শুরু করে।
হাওয়াইয়ের দূরবর্তী ও পাহাড়ি অঞ্চলে মশা ছাড়ার অন্যতম বড় বাধা ছিলো তীব্র বাতাস এবং অনিয়মিত আবহাওয়া। এ কারণে মূলত হেলিকপ্টারের ওপর নির্ভর করতে হয়েছে। আবহাওয়ার অনিশ্চয়তার কারণে অনেকবার অভিযান শেষ মুহূর্তে বাতিলও করতে হয়েছে।
এবং এই পরিস্থিতিতে কাজে এসেছে ড্রোন। কয়েক মাস কঠোর পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর, তারা জুন থেকে সফলভাবে ড্রোনের মাধ্যমে মশা ছাড়ার কাজ শুরু করে।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
করমচা খেলে কী হয়? জানুন এর স্বাস্থ্য উপকারিতা
২০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
কাঁঠালের বীজ খেলে কী হয় জানুন
২০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
ঘরোয়া মসলায় লুকিয়ে থাকা চিকিৎসাগুণ সম্পর্কে জানেন?
১৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
আমে কীটনাশক রয়েছে কিনা? পরীক্ষা করুন পাঁচ পদ্ধতিতে
১৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহাবিশ্ব দ্রুত গতিতে সম্প্রসারিত হচ্ছে: নতুন গবেষণা
১৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
কাচারি ঘরের ইতিকথা
১৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
কদম মুবারকে কদম রসূল
১৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
ব্রেইন-কম্পিউটার ইন্টারফেস
১৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ইন্দোনেশিয়ায় আন্তর্জাতিক উদ্ভাবন প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশি দুই শিক্ষার্থীর সাফল্য
১৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
জামের বীজের গোপন গুণ, যা অনেকেরই অজানা
১৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
এই চার পানীয় শরীর থেকে ক্ষতিকর পদার্থ বের করে দেয়
১৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ভুট্টায় প্রোটিন বাড়ানোর নতুন জিন আবিষ্কার
১৪ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার)












