বিষ্ময়কর মানুষের চোখ!
, ১১ শাওওয়াল শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ৩১ আশির, ১৩৯৩ শামসী সন , ৩১ মার্চ, ২০২৬ খ্রি:, ১৭ চৈত্র, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) পাঁচ মিশালী
খলিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার অপার নেয়ামতের একটি বিশেষ নিয়ামত হলো চোখ। চোখ আমাদের পঞ্চ ইন্দ্রিয়ের অন্যতম। চোখ দিয়ে আমরা দেখি। মানব চোখের কার্যপ্রণালি অপরিসীম। নিচে মানব চোখের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে আলোচনা করা হলো-
♦ চোখের কোটরে অক্ষিগোলক নামক একটি গোলাকার অংশ থাকে।
♦ অক্ষিগোলকের বাহিরে সাদা, শক্ত ও ঘন আঁশযুক্ত অস্বচ্ছ শ্বেতম-ল থাকে। এটি বাহিরের বিভিন্ন প্রকার অনিষ্ট হতে চোখকে রক্ষা করে এবং চোখের আকৃতি ঠিক রাখে।
♦ শ্বেতম-লের সামনের অংশে কর্নিয়া থাকে। কর্নিয়া স্বচ্ছ এবং শ্বেতম-লের অন্যান্য অংশ অপেক্ষা বাহিরের দিকে অধিকতর উত্তল।
♦ চোখের শ্বেতম-লের ভিতরের গাত্রে কালো রঙের একটি ঝিলি দ্বারা গঠিত কৃষ্ণম-ল থাকে। এর জন্য চোখের ভিতরে প্রবিষ্ট আলোকের প্রতিফলন হয় না।
♦ চোখের কর্নিয়ার ঠিক পিছনে আইরিস অবস্থিত। এটি অস্বচ্ছ পর্দা। পর্দাটি স্থান ও লোকবিশেষে বিভিন্ন রঙের যেমন- নীল, বাদামি বা কালো হয়ে থাকে।
♦ কর্নিয়ার কেন্দ্রস্থলে গোশতপেশিযুক্ত মণি বা তারারন্ধ্র থাকে। এটি গোলাকার ছিদ্রপথ। গোশতপেশির সংকোচন ও প্রসারণে তারারন্ধ্র্রের আকার পরিবর্তিত হয়।
♦ চোখের কর্নিয়ার পেছনে স্ফটিক উত্তর লেন্স থাকে। এটি জেলির মতো স্বচ্ছ পর্দাথ দিয়ে তৈরি।
♦ চোখের গোলকের পিছনে ঈষদচ্ছ গোলাপি আলোকগ্রাহী পর্দা রেটিনা থাকে। রেটিনার ওপর আলো পড়লে মস্তিষ্কে দর্শনের অনুভূতি জাগায়।
রাতের বেলায় পশু প্রাণীদের চোখ জ্বলজ্বল করে কেন?
প্রায় সব প্রাণীর চোখ রাতের হালকা আলোতে জ্বলজ্বল করে। জ্বলজ্বল করার কারণ হচ্ছে চোখের মধ্যে থাকা একটা প্রতিফলকের আস্তরন। এই আস্তরনের নাম টেপটাম লুসিডাম। এটি চোখের অপটিক নার্ভ ও রেটিনার মাঝখানে থাকে।
টেপটাম লুসিডাম মানুষ ছাড়া মোটামুটি সব প্রাণীর চোখে অবস্থিত। অন্ধকারে কম আলোতে দেখতে সাহায্য করে এই স্তরটি। চোখের অন্তর্গঠন দেখলে দেখা যাবে, কুকুরের ক্ষেত্রে টেপটাম লুসিডাম স্তরটি রেটিনার পরে অবস্থিত।
রাতের বেলা অন্ধকারে স্বাভাবিকভাবেই আলো কম থাকে। অর্থাৎ কোনো বস্তু থেকে খুব কম পরিমাণ আলো চোখের মধ্যে ঢুকে। আলো যখন মানুষের চোখের মধ্যে ঢুকে সেটা গিয়ে সরাসরি রেটিনাতে পৌঁছায় এবং সেখান থেকে মস্তিষ্কে যায়। যেহেতু রাতের অন্ধকারে আলোর পরিমাণ কম, সেই কম আলো স্বাভাবিকভাবেই “কম” দর্শানুভূতির সৃষ্টি করে, অর্থাৎ আমরা অন্ধকারে কম দেখি বা দেখতে পাই না।
আলো যখন কুকুর বা অন্য প্রাণীর মধ্যে পৌঁছায় সেই আলোও রেটিনাতে পৌঁছায়, আলোর কিছু অংশ রেটিনা পার করে টেপটাম লুসিডাম পৌঁছায়। যেহেতু এই অংশটি আয়নার মতো প্রতিফলক, সেহেতু এখান থেকে রশ্মি প্রতিফলিত হয়ে আবার রেটিনাতে গিয়ে পৌঁছায়।
অর্থাৎ রেটিনা দুই জায়গা থেকে আলো গ্রহণ করে। একবার সরাসরি একবার প্রতিফলনের পরে। সুতরাং একই অন্ধকার পরিবেশে মানুষ ছাড়া অন্য প্রাণীর রেটিনাতে আলোর পরিমাণ বেশি থাকে। তাই সেই প্রাণীরা রাতের বেলা বেশি দেখতে পায়।
আয়না বা অন্য প্রতিফলকের উপর আলো পড়লে যেমন জ্বলজ্বল করে তেমনি টেপটাম লুসিডামের উপর আলো পড়লেও চোখ জ্বলজ্বল করে।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
গরমে ডিহাইড্রেশন দূর করতে আখের রসই যথেষ্ট
০৫ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সমুচা আবিষ্কার করেছেন মুসলমানগণ
০৪ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
দিনে একটি পেয়ারা খেলেই যথেষ্ট
০৪ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
মানুষ কত ধরনের গন্ধ অনুভব করতে পারে?
০৩ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
ঘোড়ায় টানা ট্রেন ও তার ১২৩ বছরের ইতিহাস
০৩ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
কেন রক্তের গ্রুপ জেনে রাখা জরুরি?
০২ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
‘হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলবে, কিন্তু ড্রাম্পের জন্য বন্ধ থাকবে’
০২ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
৭ টনের উল্কা বিস্ফোরণ, দিনের আলোতে দেখা গেলো আগুনের গোলা
০১ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
রহস্যময় ধূমকেতুর উল্টো ঘোরা: মহাকাশে নতুন চমক
০১ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
দেশজুড়ে হামের প্রকোপ: শিশুকে সুরক্ষিত রাখবেন যেভাবে
৩১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ঝিনাইদহে বেগুন ক্ষেতে মিললো অস্বাভাবিক বড় শিলাখ-
৩১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
জামরুল ফলের বহুবিধ গুনাগুন
৩০ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)












