মন্তব্য কলাম
সুলতানুন নাছীর হযরত মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার বদ দোয়ার কারণে আমেরিকা এখন চরমভাবে ক্ষতবিক্ষত, বিপর্যস্ত, ধ্বংসপ্রাপ্ত এবং মৃত আমেরিকা শুধু দাফন করা বাকি কিন্তু ভোগবাদে মক্ত চরম চরিত্রহীণ, পশ্বাধম আমেরিকাবাসী তালমাতাল হওয়ার কারণেই এখনো তা উপলব্ধি করতে পারছে না
, ১৬ রমাদ্বান শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ০৬ আশির, ১৩৯৩ শামসী সন , ০৬ মার্চ, ২০২৬ খ্রি:, ২১ ফাল্গুন, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) মন্তব্য কলাম
(১ম পর্ব)
১৫০০ সালে যে স্পেন ছিল সারা বিশ্বের সবচেয়ে ধনী সাম্রাজ্য, বিশ্বের অর্ধেকের বেশি সোনা আর রূপো ছিল যাদের নিয়ন্ত্রণে, সমগ্র ইউরোপ চলত যাদের অঙ্গুলি হেলনে - সেই স্পেনই মাত্র ৮০ বছরের মধ্যে হয়ে যায় দেউলিয়া। আর সেই থেকে তারা আর মাথা তুলে দাঁড়াতে পারেনি।
১৯১৪ সালে যে ব্রিটেন ছিল বিশ্বের সবচেয়ে বড় সাম্রাজ্য, অধিকাংশ দেশকে বানিয়েছিল উপনিবেশ, যাদের পাউন্ড রাজত্ব করত সারা বিশ্বে - সেই ব্রিটেন মাত্র ৪০ বছরের মধ্যে হারিয়ে ফেলে নিজেদের ক্ষমতা।
১৯৯১ সালে যে সোভিয়েত ইউনিয়ন ছিল বিশ্বের সবচেয়ে বড় শক্তি, যাদের কাছে ছিল সর্বোচ্চ নিউক্লিয়ার অস্ত্র, মহাকাশ জুড়ে ছড়িয়ে ছিল স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক - সেই সোভিয়েত ইউনিয়ন মাত্র ৯০০ দিনের মধ্যে মিশে যায় মাটির সাথে, হারিয়ে ফেলে সুপার পাওয়ার তকমা।
চমকে উঠার মত তথ্য হলো, এই সমস্ত সুপার পাওয়ার দেশের পতন, কোনও বাইরের শত্রুর আক্রমণে কিংবা যুদ্ধের কারণে হয়নি। হয়েছে নিজেদের ভুলেই, নিজেদের অভ্যন্তরীণ সমস্যার কারণে, বেশ কিছু প্যাটার্ন মেনে।
আর সেই একই প্যাটার্ন বর্তমানে দেখা যাচ্ছে আমেরিকায়।
আমেরিকা কখনও সংকটমুক্ত ছিল না। যদিও অনেকে মনে করে যে দুইশ বছরেরও আগে প্রতিষ্ঠিত এই রাষ্ট্র এক সময় প্রগতিশীল বা অগ্রগামী রাষ্ট্র হিসেবে বিবেচিত হত। বর্তমানে দেশটির নানা ভিত্তিতে ধরেছে মারাত্মক পচন। গোটা মার্কিন জাতি এগিয়ে যাচ্ছে ধ্বংসের দিকে। এক যুগ আগেও মার্কিন সরকারের যে প্রভাব-প্রতিপত্তি ছিল তা এখন বহুলাংশে কমে গেছে। মার্কিন নাগরিকদের অনেকেই মনে করে দেশটির অবস্থা এখন চতুর্থ পর্যায়ের ক্যান্সার রোগীর মত। এ পর্যায়ে রোগীর শরীরের প্রায় সব অংশেই ছড়িয়ে পড়ে ক্যান্সার। আসলে শত শত বা হাজার হাজার দিক থেকে ছুয়ে যাচ্ছে আমেরিকা। প্রতিদিনই দেশটির আরও বেশি খারাপ অবস্থার বা দুর্দশার খবর আসছে। আমেরিকা সব দিক থেকেই পতনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে দ্রুত গতিতে। কিন্তু বেশিরভাগ মার্কিন নাগরিকই ভোগ-বিলাসিতায় মত্ত রয়েছে বলে তারা এই বাস্তবতাটি বুঝতে পারছে না। বরং তারা মনে করে মার্কিনী বলেই অশেষ সমৃদ্ধির ধারা তাদের জন্য চিরকাল বজায় থাকবে। একটি দেশের পতনের মূলে তিনটি কারণই প্রধান। অর্থনৈতিক ব্যাপক ধস, সামরিক বাহিনীর নৈতিক ও চারিত্রিক চরম অধঃপতন এবং সামাজিক পচনশীলতা। মার্কিনীরা এ তিনটি অবয়ের যাতাকলে পড়ে চরমভাবে ধিরে ধিরে পতনের দিকে এগুচ্ছে।
১. অর্থনৈতিক ধসে বিপর্যস্ত মার্কিন অর্থনীতি
সাম্প্রতিক সময়ে রিপাবলিকান পার্টির সাথে দ্বন্ধের কারণে বাজেট পাশ করতে না পারায় বন্ধ হচ্ছে মাকিন সেবা খাত সমূহ। বেকার হয়ে পড়েছে লক্ষ লক্ষ সেবা খাতের শ্রমিকরা। শীঘ্রই এ অবস্থার অবসান না হলে মার্কিন অর্থনীতি ব্যাপক সমস্যার মুখে পড়বে বলে বিশ্লষকদের আভাষ।
মার্কিন অর্থ-ব্যবস্থার ধস খুবই ¯পষ্ট। দেশটির বেদনার দিনগুলো অত্যাসন্ন। খুব বেশি দেরি না হওয়া পর্যন্ত বেশিরভাগ মার্কিনীই হয়ত তা বুঝবে না।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পতনের ৩৪ টি অর্থনৈতিক আভাস বা আলামত এখানে আমরা একে একে তুলে ধরছি:
১. বিশ্বব্যাংকের রিপোর্ট অনুযায়ী ২০০১ সালে বিশ্ব অর্থনীতিতে মার্কিন জিডিপি বা গড় অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের অবদান ছিল শতকরা ৩১ দশমিক ৮ ভাগ। আর ২০১১ সালে এই হার নেমে এসেছে ২১ দশমিক ৬ ভাগে।
২. ব্রিটিশ সাময়িকী ইকোনমিস্টের তথ্য অনুযায়ী ১৯৮৮ সালেও আমেরিকা ছিল মানব-শিশু জন্ম নেয়ার জন্য বিশ্বের সেরা স্থান। কিন্তু এখন এক্ষেত্রে আমেরিকার স্থান বিশ্বে ১৬তম।
৩. বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সামর্থ্যরে দিক থেকে একটানা চার বছর ধরে মার্কিন অবস্থান নীচে নামছে। বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরাম এই র্যাংঙ্কিং নির্ধারণ করে আসছে।
৪.ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের তথ্য অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় ৪০টি পাবলিক ট্রেড কো¤পানির অর্থের যোগানদাতাদের অর্ধেকই সেগুলোর মূল খরচের বরাদ্দ আগামী মাসগুলোতে কমিয়ে আনার চিন্তাভাবনা করছে।
৫. ২০১২ সালে আমেরিকায় যে সংখ্যক নতুন বাড়ী বিক্রি হয়েছে তার চেয়েও তিন গুণ বেশি বাড়ী বিক্রি হয়েছে ২০০৫ সালে।
৬. যুক্তরাষ্ট্রের শিল্প-শহরগুলোর সংখ্যা ছিল বিশ্বে সবচেয়ে বেশি। কিন্তু বর্তমানে এইসব শহরের বেশিরভাগই দেউলিয়া হয়ে পড়ছে। দৃষ্টান্ত হিসেবে ডেট্রয়েট শহরের কথা বলা যায়। একজন মার্কিন এমপি ডেট্রয়েট শহর গুটিয়ে নেয়ার দাবি জানিয়েছে।
৭. ২০০৭ সালে বিশ থেকে ২৯ বছর বয়সী মার্কিনীদের মধ্যে বেকারত্বের হার ছিল প্রায় ৬ দশমিক ৫। বর্তমানে এই শ্রেণীর মার্কিনীদের মধ্যে বেকারত্বের হার প্রায় ১৩ শতাংশ।
৮. ১৯৫০'র দশকে মার্কিন পুরুষদের শতকরা ৮০ ভাগেরও বেশি মানুষ ছিল চাকরিজীবী। বর্তমানে মার্কিন পুরুষদের শতকরা ৬৫ শতাংশেরও কম চাকরির অধিকারী।
৯. প্রায় প্রতি চার জন মার্কিন শ্রমিকের একজন ঘণ্টায় দশ ডলার বা তারও কম মজুরি পাচ্ছে।
১০. গত মন্দার সময় মার্কিন নাগরিকদের মধ্যে যারা চাকরি হারিয়েছে তাদের বেতন ছিল মধ্যম পর্যায়ের। এরপর থেকে আমেরিকায় যেসব চাকরি সৃষ্টি হয়েছে তার শতকরা ৫৮ ভাগই নি¤œ বেতনের চাকরি।
১১. মার্কিন পরিবারগুলোর বার্ষিক আয় গত চার বছর ধরে কমেই আসছে। এই কয় বছরে তাদের আয় ৪ হাজার ডলারের চেয়েও বেশি কমেছে।
১২. চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ ১৯৯০ সালের তুলনায় ২৮ গুণ বেড়েছে।
১৩. ২০০১ সালের পর থেকে আমেরিকার ৫৬ হাজারেরও বেশি কল-কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। ২০১০ সালে প্রতিদিন গড়ে ২৩টি মার্কিন কারখানা বন্ধ হয়েছে। তাই এইসব অবকাঠামোগত ধসের পরও এ কথা বলার কোনো সুযোগ নেই যে মার্কিন অর্থনীতির অবস্থা ক্রমেই ভাল হয়ে উঠছে।
১৪. আমেরিকায় ২০০৫ সালের প্রথমদিকে পেট্রোল বা জ্বালানী তেলের দাম ছিল গ্যালন-প্রতি ২ ডলার। ২০১২ সালে এর দাম তিন দশমিক ৬৩ ডলার।
১৫. ১৯৯৯ সালেও শতকরা ৬৪ দশমিক এক ভাগ আমেরিকান চাকরি-ভিত্তিক স্বাস্থ্য-বীমার আওতাভুক্ত ছিল। বর্তমানে ৫৫ দশমিক এক ভাগ আমেরিকান এই সুযোগ পাচ্ছে।
১৬. মার্কিন পিউ রিসার্চ সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী ১৯৭১ সালে আমেরিকার ৬১ ভাগ নাগরিকই ছিল মধ্যবিত্ত বা মধ্য-আয়ের অধিকারী। বর্তমানে শতকরা ৫১ ভাগ আমেরিকান মধ্যম আয়ের অধিকারী।
১৭. বর্তমানে আমেরিকার দুই কোটি বিশ লাখ নাগরিক তাদের আয়ের অর্ধেকেরও বেশি ব্যয় করে আবাসন খাতে। ২০০১ সাল থেকে এই খাতে তাদের ব্যয় বেড়েছে শতকরা ৪৬ ভাগ।
১৮. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আদম-শুমারি সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী দেশটির শতকরা প্রায় ২২ ভাগ শিশু দরিদ্র।
১৯. ১৯৮৩ সালে মার্কিন নাগরিকদের মধ্যে উপার্জনকারী ব্যক্তিরা প্রতি এক ডলার আয় করতেন ৬২ সেন্ট ঋণের বিপরীতে, ২০০৭ সালে প্রতি ডলারের বিপরীতে তাদের ঋণের পরিমাণ এক দশমিক ৪৮ ডলার।
২০. মার্কিন নাগরিকদের গৃহ বাবদ বন্ধকি ঋণের মোট পরিমাণ এখন বিশ বছর আগের তুলনায় ৫ গুণ বেশি।
২১. ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে নেয়া মার্কিনীদের বর্তমান ঋণের মোট পরিমাণ ত্রিশ বছর আগের তুলনায় ৮ গুণ বেশি।
২২. মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ঋবফবৎধষ জবংবৎাব চালু হওয়ার পর থেকে দেশটির মুদ্রা ডলারের মূল্য ৯৬ গুণ কমেছে।
২৩. ২৫ থেকে ৩৪ বছর বয়স-গ্রুপের মার্কিন নাগরিকদের শতকরা ২৯ ভাগ এখনও তাদের বাবা-মায়ের সঙ্গে বসবাস করে।
২৪. ১৯৫০ সালে মার্কিন পরিবারগুলোর ৭৮ শতাংশের মধ্যেই (প্রতি পরিবারে) বিবাহিত এক দম্পতি থাকত। কিন্তু বর্তমানে এই বিবাহিত এক দম্পতি রয়েছে এমন পরিবারের সংখ্যা ৪৮ শতাংশ মাত্র।
২৫. মার্কিন আদম শুমারি সংস্থার হিসেব মতে শতকরা ৪৯ শতাংশ মার্কিন নাগরিক এক ইউনিট বাড়ীর অধিকারী এবং এই খাতে তাদেরকে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে সরাসরি আর্থিক সাহায্য নিতে হচ্ছে। অথচ ১৯৮৩ সালে এক তৃতীয়াংশেরও কম মার্কিন নাগরিক এ ধরনের সাহায্য নিত।
২৬.মার্কিন সরকার ১৯৮০ সালে সব আয়ের ১১ দশমিক ৭ শতাংশ অর্থ হস্তান্তর-খরচ বাবদ পরিশোধ করত। বর্তমানে এই খাতে ব্যয় ১৮ শতাংশ।
২৭. ২০০৮ সালের নভেম্বর মাসে তিন কোটি ৮০ লাখ আমেরিকান ফুড স্ট্যা¤প বা সস্তা খাদ্য কেন্দ্রের ওপর নির্ভরশীল ছিল। বর্তমানে ৪ কোটি ৭১ লাখ মানুষ এই খয়রাতি সাহায্যের ওপর নির্ভরশীল।
২৮. বর্তমানে প্রতি চার মার্কিন শিশুর একজনই ফুড স্ট্যা¤প বা সস্তা খাদ্য কেন্দ্রের ওপর নির্ভরশীল।
২৯. এক হিসেব মতে ফুড স্ট্যা¤প বা সস্তা খাদ্য কেন্দ্রের ওপর নির্ভরশীল মার্কিন নাগরিকদের সংখ্যা ২৫ টি মার্কিন অঙ্গরাজ্যের মোট জনসংখ্যার চেয়েও বেশি।
৩০. আমেরিকায় ১৯৬৫ সালে প্রতি ৫০ জন নাগরিকের মধ্যে কেবল একজন খয়রাতি চিকিৎসা-সহায়তা পেত। কিন্তু বর্তমানে দেশটির প্রতি ছয় জনের একজনকে এ সাহায্য নিতে হচ্ছে। ওবামা সরকার আরও এক কোটি ৬০ লাখ মার্কিন নাগরিককে এই খয়রাতি সহায়তার আওতায় আনার পদক্ষেপ নিচ্ছে।
৩১. ২০০১ সালে আমেরিকার জাতীয় ঋণের পরিমাণ ছিল ছয় ট্রিলিয়ন ডলার বা ছয় লাখ কোটি ডলারেরও কম। বর্তমানে দেশটির জাতীয় দেনার পরিমাণ ১৬ ট্রিলিয়ন ডলার বা ১৬ লাখ কোটি ডলারেরও বেশি। প্রতি ঘণ্টায় এর সঙ্গে দশ কোটি ডলার যুক্ত হয়ে এই দেনার বোঝা আরও বাড়ানো হচ্ছে।
৩২. ১৯৭৭ সালের তুলনায় বর্তমানে মার্কিন জাতীয় দেনার পরিমাণ ২৩ গুণ বেশি।
৩৩. মার্কিন পিবিএস (পাবলিক ব্রডকাস্টিং সার্ভিস) রিপোর্ট অনুযায়ী যেসব মার্কিন পরিবারের বার্ষিক আয় ১৩ হাজার ডলার বা তারও কম সেইসব পরিবার তাদের আয়ের শতকরা নয় ভাগ লটারির টিকেট বাবদ খরচ করে!
৩৪. মার্কিন অর্থনীতি যত বেশি শোচনীয় হচ্ছে ততই মার্কিনীরা হতাশা প্রতিরোধক ওষুধসহ চিকিৎসকদের নির্দেশিত নানা ধরনের ওষুধ সেবন করছে। এই খাতে মার্কিনীরা ২০০৫ সালে যতটা অর্থ ব্যয় করত তার চেয়েও ৬০০০ কোটি ডলার বেশি খরচ করেছে ২০১০ সালে।
আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রকে বর্তমানে তালাকের রাজধানী বলা হয়। বুক অফ ট্যাকসর ১৯৭৭ এর রির্পোট মোতাবেক ১৯৭৬ সালে প্রথম ছয় মাসে আমেরিকায় ৯৮৭০০০টি বিবাহ অনুষ্ঠিত হয়। তখন ৫৩৮০০০টি তালাকের ঘটনা ঘটে। অর্থ্যাৎ প্রতি মিনিটে গড়ে ২টি করে বিবাহ তালাকের মাধ্যমে ছিন্ন হয়। লসএঞ্জেলেসে প্রতি বছর প্রায় ৫০,০০০ তালাক সরকারী ভাবে নথীভূক্ত করা হয়। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের পূর্বে ১৮টি বিয়ের মধ্যে ১টি তালাক কার্যকর করা হতো। ১৯৬০ সালে থেকে তা ব্যাপক আকারে বৃদ্ধি পেতে থাকে। পরবর্তী ২৫ বছর এ হার তিন গুন বৃদ্ধি পায়। এখন বার্ষিক তালাকের সংখ্যা ১১,৬০,০০০টি। আর একটি পরিসংখ্যানে জানা যায়, আমেরিকায় বার্ষিক ১৫ লাখ নারী তালাক প্রাপ্ত হয়।
অবৈধ সন্তান
আমেরিকার জৈনিক বিশেষজ্ঞ মুহানী বিশ্বকে চমকে দেওয়ার মতো এক গবেষনা করেছে। তাতে সে এক পর্যায়ে বলে, শ্বেতাংঙ্গ লোকদের মধ্যে অবৈধ সন্তানের ব্যাপকতা অনেক। ১৯৬০ সালে এই নোংরামী কৃষ্ণাঙ্গদের এলাকায় আসে। তখন মুহানী বিপদ সংকেত বাজিয়ে বলেছিল, যদি এই নোংরামী বন্ধ করা না হয়, তবে কৃষ্ণাঙ্গদের পরিবার ধ্বংস হয়ে যাবে। ১৯৯১ সালে ১২ লাখ অবৈধ সন্তান জন্ম হয়েছে। গত দিন জন্ম নেওয়া শিশুদের সংখ্যা ৩০%, কৃষ্ণাঙ্গ ৩২%, শ্বেতাংঙ্গ ২২%। টাইমস এর একটি পরিসংখ্যানে জানা যায়, আমেরিকায় বার্ষিক ২০ লাখ অবৈধ সন্তান জন্ম নেয়। ১৯৬৩ সালে ২০ লাখ জারজ সন্তান জন্ম নেয় পরবর্তী বছরে সাড়ে তেইশ লাখ। বর্তমানে কয়েক কোটি ছাড়িয়ে গেছে। আমেরিকায় জারজ সন্তানে গিজ গিজ করছে।
ধ্বংসের পথে মার্কিন সমাজ ব্যবস্থা
ক্যামব্রীজ ইউনিভার্সিটির ডক্টর আইডিমিউম পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলের এবং পুরাতন গোত্রসমূহের লোকদের জীবনী অধ্যায়ন করেছে। এ অধ্যায়নের পর সে সভ্য সমাজের লোকদের জীবনী অধ্যায়ন করেছে। তারপর সে এবিষয়ক স্বীয় বই ‘‘সেক্স কালচার’’ এ খুবই সুন্দরভাবে উপস্থাপন করেছে। ভূমিকায় সে লিখে, আমি বিভিন্ন পদ্ধতিতে অনুসন্ধানের পর যে ফলাফল লাভ করেছি তার সংক্ষিপ্ত বিবরন এই ঃ- প্রতিটি জাতি দুটি জিনিসের উপর নির্ভর করে। একটি হল তাদের সম্মিলিত জীবন ব্যবস্থা, দ্বিতীয়ত এমন আইন শৃঙ্খলা যা তারা যৌন চাহিদার উপর আরোপ করে। সে আরোও লিখে যে, যদি আপনি কোন জাতির ইতিহাস দেখেন যে, কোন সময় তাদের সভ্যতা উন্নত হয়েছে অথবা নীচে নেমে গিয়েছে তাহলে আপনি খোঁজ নিলেই জানতে পারবেন যে, তারা যৌন বিষয়ক আইনে রদবদল করেছে। যার ফলাফল সভ্যতার উন্নতি অথবা অবনতির আকৃতিতে প্রকাশ পেয়েছে। সে ৮০টি গোত্রের সভ্যতা সংস্কৃতি অধ্যায়ন করে যে সিদ্ধান্তে উপনীত হয় তা এই- ১. যে সকল গোত্রে বিবাহের পূর্বে যৌন চাহিদা মিটানোর অবাধ স্বাধীনতা ছিল, তারা সভ্যতার সর্বনিন্ম স্তরে পৌঁছে গিয়েছিল। ২. যে সকল গোত্রে বিবাহের পূর্বে যৌন চাহিদা পূরণের ক্ষেত্রে মোটামুটি আইনানুগ ব্যবস্থা ছিল, তারা সভ্যতার মধ্যস্তরে ছিল। ৩. সভ্যতার সর্বোচ্চ শিঔরে সে জাতিই আরোহন করেছে, যারা বিবাহের পূর্বে যৌনাচার থেকে পুতঃপবিত্র ছিল। যারা বিবাহের পূর্বে যৌনাচারকে অবৈধ ও অপরাধ মনে করত। উক্ত লিখক আরো মন্তব্য করে যে, মনোবিজ্ঞানের অনুসন্ধানে জানা যায় যে, যৌনাচারের উপর আইন আরোপ করা হলে তার অবশ্যম্ভবী ফলাফল দাঁড়াবে এই যে, জাতির কর্ম ও চিন্তা চেতনার শক্তি ও যোগ্যতা বৃদ্ধি পাবে। কিন্তু যে জাতি নারী পুরুষকে অবাধ যৌনতার সুযোগ দেয় তাদের কর্মক্ষমতা, চিন্তাশক্তি এবং যোগ্যতা ধ্বংস হয়ে যায়। রোমীয়দের অবস্থাও তাই হয়েছিল। রোমীয়রা আইন কানুনের তোয়াক্কা না করে অবাধে পশুর ন্যায় যৌনতায় লিপ্ত হত। ফলে তারা শারীরিক দিক থেকে দুর্বল হয়ে পড়েছিল এবং কোন কাজ করার মত ক্ষমতা তাদের ছিল না। এভাবে পৃথিবীর ধ্বংসকৃত জাতির সবাই যৌন অপরাধের কারণে ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। আজকে যৌনতার ভয়াবহ অবক্ষয়ের পড়ে মার্কিনীরা সেই অশ্লীল পথেই ভয়াভহভাবে ধ্বংস প্রাপ্ত হচ্ছে।
(ইনশাআল্লাহ চলবে)
-আল্লামা মুহম্মদ ওয়ালীউর রহমান আরিফ।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
এক কেজি আলু বেচে এক কাপ চা হয় না আলুর কেজি ৮ টাকা, লোকসানে কাঁদছে কৃষক ও ব্যবসায়ী ২৫০ মিলি লিটার পানির দামে এক কেজি আলু, আলুচাষির কান্নার আওয়াজ কে শুনবে? তিন মাসেও মেলেনি প্রণোদনা, লোকসানের চক্রে আলুচাষি আলু প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পের উদ্যোগ জরুরি
০৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
বিভিন্ন দেশে দুর্নীতিগ্রস্ত সরকারের নেয়া ঋণকে ‘অডিয়াস ডেট’ বিবেচনা করে মওকুফ বা ঋণ পুনর্গঠনের উদাহরণ রয়েছে এ মুহূর্তে এমন ঋণ নিয়ে প্রক্রিয়া চালাচ্ছে লেবানন, গ্রিস, জাম্বিয়া, শ্রীলংকাসহ বেশ কয়েকটি দেশ কিন্তু দুর্নীতির মা- শেখ হাসিনার আমলে দুর্নীতিগ্রস্থ বিদেশী ঋণ নিয়ে প্রথমে অভিযোগ করলেও এখন নীরব সম্মতিতে, নিস্ক্রিয় হয়ে শেখ হাসিনার পক্ষেই হাটছে সরকার
০৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
বাংলাদেশকে সুদী ইউনুস কতটা ঘৃণা করে এবং বাংলাদেশের চূড়ান্ত ক্ষতি ও সার্বভৌমত্ব বিক্রী কত বেশী পছন্দ করে; তার সাক্ষাত প্রমাণ আমেরিকার সাথে তার সরকারের বাণিজ্য চুক্তি
০৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
বিশ্লেষকদের অভিমত: এলএনজি আমদানিতে বিপর্যস্ত হবে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি। দেশে উৎপাদিত গ্যাসের চেয়ে ২৪ গুণ বেশি দামে এলএনজি আমদানি করা হচ্ছে। এলএনজির ভর্তুকি পোষাতে বার বার গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হচ্ছে। জ্বালানি খাতে আর কত শোষিত হবে দেশের জনগণ?
০২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র যাকাত সঠিকভাবে আদায় না করায় দেশবাসী আক্রান্ত হচ্ছে অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি, খরা, বন্যাসহ নানা দুর্যোগে। সঠিকভাবে পবিত্র যাকাত আদায় এবং সঠিক জায়গায় পৌঁছানোই এসব দুর্যোগ থেকে পরিত্রাণের একমাত্র উপায়।
০১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
বছরে অর্থনৈতিক অপচয় ৩০ হাজার কোটি টাকা, রোগাক্রান্ত হচ্ছে যুবসমাজ, ধানী জমিতে চাষ হচ্ছে তামাক। অন্য পদক্ষেপের পাশাপাশি ইসলামী মূল্যবোধের আলোকেই সরকারকে তামাক নিয়ন্ত্রণ সক্রিয় ও যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে ইনশাআল্লাহ।
২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত খলীফাতুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি এবং উনার অনবদ্য তাজদীদ ‘আত-তাক্বউইমুশ শামসী’ সম্পর্কে জানা ও পালন করা এবং শুকরিয়া আদায় করা মুসলমানদের জন্য ফরয। মুসলমান আর কতকাল গাফিল ও জাহিল থাকবে?
২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
বাংলাদেশকে সুদী ইউনুস কতটা ঘৃণা করে এবং বাংলাদেশের চূড়ান্ত ক্ষতি ও সার্বভৌমত্ব বিক্রী কত বেশী পছন্দ করে; তার সাক্ষাত প্রমাণ আমেরিকার সাথে তার সরকারের বাণিজ্য চুক্তি এই তথাকথিত বাণিজ্যচুক্তির মাধ্যমে কার্যত বাংলাদেশের অর্থনীতি, বাণিজ্য, এমনকি পররাষ্ট্রনীতির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিরঙ্কুশ আধিপত্য প্রতিষ্ঠার আয়োজন করা হয়েছে।
২৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
কথিত স্বাস্থ্য বিজ্ঞানীরা রোযার উপর গবেষনা করে রোযার মাহাত্ম স্বীকার করে তথাকথিত নোবেল পুরষ্কার পায়! কিন্তু মুসলমান দ্বীন ইসলাম উনার আধিপত্য প্রতিষ্ঠায় লজ্জাকরভাবে ব্যার্থ হয়। কথিত বিজ্ঞান ও কথিত স্বাস্থ্যবিজ্ঞানী এবং চিকিৎসাবিজ্ঞানের মতে রোযার উপকারিতা অপরিসীম।
২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
কথিত স্বাস্থ্য বিজ্ঞানীরা রোযার উপর গবেষনা করে রোযার মাহাত্ম স্বীকার করে তথাকথিত নোবেল পুরষ্কার পায়! কিন্তু মুসলমান দ্বীন ইসলাম উনার আধিপত্য প্রতিষ্ঠায় লজ্জাকরভাবে ব্যার্থ হয়। কথিত বিজ্ঞান ও কথিত স্বাস্থ্যবিজ্ঞানী এবং চিকিৎসাবিজ্ঞানের মতে রোযার উপকারিতা অপরিসীম। (পর্ব-১)
২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
দেশে কয়েক বছরে ধনী-গরীব বৈষম্য প্রকট আকার ধারণ করেছে পুঁজিবাদী অর্থ ব্যবস্থায় জাতীয় সম্পদ কুক্ষিগত হচ্ছে গুটিকয়েক ব্যক্তির হাতে ধনী গরীব বৈষম্য দূরীকরণে যাকাত ব্যবস্থাই একমাত্র সমাধান মার্কিন অধ্যাপকের গবেষণা- “বছরে এক লাখ কোটি টাকা যাকাত আদায় সম্ভব” এ বক্তব্য সঠিক নয় বরং দৈনিক আল ইহসান শরীফের গবেষণা অনুযায়ী বছরে প্রায় আড়াই লাখ কোটি টাকা যাকাত আদায় সম্ভব ইনশাআল্লাহ
২৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ইফতারীসহ বিভিন্ন খাদ্য ও পানীয়কে লোভনীয় করতে মেশানো হয় বিভিন্ন আকর্ষণীয় রং। সাধারণ মানুষ রংবিহীন বিশুদ্ধ খাবারের পরিবর্তে রংযুক্ত ভেজাল ও ক্ষতিকর খাদ্য ও পানীয় ক্রয় করতেই বেশি উৎসাহী। এতে করে তারা আর্থিকভাবে এবং স্বাস্থ্যগতভাবে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার মধ্যে কোনো কৃত্রিমতা নেই।
২১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার)












