সুন্নতী কদমবুছী সম্পর্কে শরীয়তে সুস্পষ্ট দলীল রয়ে গেছে
, ১২ ছফর শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ২৮ ছানী, ১৩৯৪ শামসী সন , ২৭ জুলাই, ২০২৬ খ্রি:, ১২ শ্রাবণ, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) শিক্ষামূলক জিজ্ঞাসা
সুওয়াল: ক্বওমী মাদরাসার মুখপত্রের জুমাদাল উখরা ১৪৪৬ হিজরী সংখ্যায় এক সুওয়ালের জাওয়াবে বলা হয়েছে, কদমবুছি নিষেধ হওয়ার পক্ষে শরীয়তে কোন নস তথা প্রমাণ নেই। তবে সেজদার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ যেনো না হয়ে যায় সেজন্য সতর্কতা হলো- কদমবুছি থেকে বিরত থাকা।
জাওয়াব:
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার বহু সংখ্যক বর্ণনার মধ্যে রয়েছে, হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কদমবুছি করেছেন। আর তিনি উনাদের কদমবুছী গ্রহন করেছেন। অনুরূপভাবে একজন ছাহাবী আরেকজন ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার কদমবুছী করেছেন। অর্থাৎ কদমবুছী খাছ সুন্নত মুবারকের অন্তর্ভুক্ত।
কাজেই কদমবুছী থেকে বিরত থাকার জন্য বলার অর্থ হচ্ছে সুন্নত মুবারক থেকে বিরত থাকতে বলা। যা কাট্টা কুফরী এবং কাফির ও জাহান্নামী হওয়ার কারণ। এ সমস্ত লোক আসলে আক্বীদা-আমলে পবিত্র হাদীছ শরীফে বর্ণিত ৭২টি জাহান্নামী ফিরকার অন্তর্ভুক্ত। কেননা পবিত্র হাদীছ শরীফে রয়েছে আখিরী উম্মত ৭৩ ফিরক্বা বা দলে বিভক্ত হবে। তন্মধ্যে ১টি ব্যতীত বাকী ৭২টি দলই হবে জাহান্নামী।
যে একটি দল জান্নাতী হবেন উনাদের পরিচয় সম্পর্কে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
مَا اَنَا عَلَيْهِ وَاَصْحَابِىْ
অর্থ: যার উপর আমি এবং আমার ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম রয়েছি। অর্থাৎ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত ছাহাবায়ে কিরাম উনাদেরকে যে আক্বীদা আমল শিক্ষা দিয়েছেন সেই আক্বীদা-আমল যারা গ্রহন করবেন উনারাই হচ্ছেন সেই একটি দল বা জান্নাতী দল।
প্রতিভাত হচ্ছে যে, হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা কদমবুছী করেছেন এখন যারা কদমবুছি করবে উনারা হবেন হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের অনুসারী এবং জান্নাতী দলের অন্তর্ভুক্ত। আর যারা কদমবুছি করতে নিষেধ করবে বা বিরত থাকতে বলবে তারা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের অনুসারী নয়। ফলে তারা জান্নাতী দলটির অন্তর্ভুক্ত নয়। বরং তারা জান্নাতী দলটির বিপরীত ৭২টি জাহান্নামী দলের অন্তর্ভুক্ত। নাউযুবিল্লাহ!
উল্লেখ্য, কদমবুছি করার দলীলসমূহ জানতে পাঠ করুন যামানার তাজদীদী মুখপত্র মাসিক আল বাইয়্যিনাত শরীফ ১২তম সংখ্যা। যেখানে অসংখ্য দলীল-প্রমাণ সাপেক্ষে বিস্তারিত ফতওয়া প্রদান করা হয়েছে।
পবিত্র হাদীছ শরীফে বর্ণিত রয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ ثَابِتٍ رَضِىَ اللهُ تَـعَالٰى عَنْهُ أَنَّهُ قَـبَّلَ يَدَ أَنَسٍ رَضِىَ اللهُ تَـعَالٰى عَنْهُ وَأَخْرَجَ أَيْضًا أَنَّ عَلِيًّا عَلَيْهِ السَّلَامُ قَـبَّلَ يَدَ الْعَبَّاسِ عَلَيْهِ السَّلَامُ وَرِجْلَهٗ
অর্থ: হযরত ছাবিত রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত। তিনি হযরত আনাস ইবনে মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার হাত মুবারকে বুছা (চুম্বন) দিয়েছেন। তিনি এটাও বর্ণনা করেন যে, হযরত ইমামুল আউওয়াল কার্রামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি হযরত আব্বাস আলাইহিস সালাম উনার হাত ও পা মুবারকে বুছা (চুম্বন) দিয়েছেন। (ফতহুল বারী খ- ১১ পৃষ্ঠা৫৭, তুহ্ফাতুল আহ্ওয়াযী শরহে তিরমিযী খ- ৭ পৃষ্ঠা৫২৮)
عَنْ حَضْرَتْ بُـرَيْدَةَ رَضِىَ اللهُ تَـعَالٰى عَنْهُ قَالَ فَائْذَنْ لِّى اُقَبِّلُ يَدَيْكَ وَرِجْلَيْكَ فَاَذِنَ لَهٗ اَىْ فِى تَـقْبِيْلِ يَدَيْهِ وَرِجْلَيْهِ فَـقَبَّـلَهُمَا
অথ: হযরত বুরাইদাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, (গাছের সিজদা দেয়ার ঘটনা সংঘটিত হওয়ার পর) আমি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে বললাম, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমাকে আপনার উভয় হাত ও পা মুবারকে বুছা (চুম্বন) দেয়ার অনুমতি দিন। তখন উনাকে উভয় হাত ও পা মুবারকে বুছা (চুম্বন) দেয়ার অনুমতি দেয়া হলো। তিনি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার উভয় হাত ও পা মুবারকে বুছা (চুম্বন) দিলেন। (নাসীমুর রিয়াজ শরহে কাজী আয়াজ খ- ৩ পৃষ্ঠা ৫০, কিতাবুল আযকার লিন্ নববী)
عَنِ الْوَازِعِ بْنِ زَارِعٍ رَضِىَ اللهُ تَـعَالٰى عَنْهُ ، عَنْ جَدِّهَا وَكَانَ فِيْ وَفْدِ عَبْدِ الْقَيْسِ قَالَ: لَمَّا قَدِمْنَا الْمَدِينَةَ فَجَعَلْنَا نَـتَـبَادَرُ مِنْ رَوَاحِلِنَا فَـنُـقَبِّلُ يَدَ رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَرِجْلَهٗ
অর্থ: হযরত ওয়াযে’ ইবনে যারে রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার দাদা হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমরা আব্দুল কায়েস গোত্রে থাকা অবস্থায় যখন মদীনা শরীফ আসতাম, তখন আমরা সাওয়ারী হতে তাড়াতাড়ি অবতরণ করে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নূরুল মাগফিরাত বা হাত মুবারক ও নূরুদ দারাজাত বা পা মুবারক বুছা (চুম্বন) দিতাম। (আবু দাউদ শরীফ খ- ২ পৃষ্ঠা ৭০৯, বযলুল মাজহুদ খ- ৬ পৃষ্ঠা ৩২৮, ফতহুল বারী খ- ১১ পৃষ্ঠা৫৭, মেশকাত শরীফ, মেরকাত খ- ৭ পৃষ্ঠা ৮০, আশয়াতুল লুময়াত, মুযাহেরে হক্ব, ই’লাউস সুনান খ- ১৭ পৃষ্ঠা ৪২৬)
উল্লেখিত পবিত্র হাদীছ শরীফ দ্বারাই প্রমাণিত হয়েছে যে, কদমবুছি করা সুন্নতে ছাহাবা’র অন্তুর্ভুক্ত। আর সুন্নতে ছাহাবা পালন করা সম্পর্কে স্বয়ং মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন নাবিয়্যীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
عَلَيْكُمْ بِسُنَّتِيْ وَسُنَّةِ الْـخُلَفَاءِ الرَّاشِدِيْنَ الْمَهْدِيِّيْنَ تَمَسَّكُوْابِهَا وَعَضُّوْا عَلَيْـهَا بِالنَّـوَاجِذِ
অর্থ: তোমাদের প্রতি আমার সুন্নত মুবারক ও আমার হেদায়েতপ্রাপ্ত হযরত খুলাফায়ে রাশেদীন তথা ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের সুন্নত মুবারক পালন করা ওয়াজিব। তোমরা তা মাড়ির দাঁত দিয়ে দৃঢ়তার সহিত আঁকড়ে ধরো অর্থাৎ আমল করো। (মেশকাত শরীফ)
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, আজকাল কিছু নীম মোল্লার উদ্ভব ঘটেছে যাদের কদমবুছী সম্পর্কে ইলিম না থাকায় কু যুক্তি দিয়ে থাকে যে, কদমবুছী করতে মাথা নীচু করতে হয় যা সিজদার নামান্তর বিধায় তা শিরিক। নাউযুবিল্লাহ!
নীম মোল্লাদের বক্তব্যের জবাবে বলতে হয় যে, তারা তো অনেক কাজে মাথা নীচু করে সম্পাদন করে থাকে তাহলে তারাওতো শিরিক কাজ করে মুশরিক হয়েছে। যেমন পানাহারে, অযু-ইস্তিঞ্জায়, লেখা-পড়ায়, ঘর ঝাড়- দেয়ার সময় ইত্যাদি কাজে মাথা নীচু করতে হয়, এগুলোকে তো শিরক বা সিজদা বলা হয় না। মূলতঃ সিজদা হয় নাক ও কপাল দিয়ে। আর চুম্বন হয় মুখ দিয়ে। চুম্বন করতে তো মাথা নীচু করতেই হবে। যদি মাথা নীচু করলেই শিরিক হয় তাহলে জামায়াতে নামাযের সময় কাতার বন্দী হয়ে একজন অপরজনের পায়ের কাছে সিজদা করে নামায পড়ে থাকে তাহলে এটাকেতো আরো বড় শিরক বলা হতো। কিন্তু তাতো বলা হয় না।
মোটকথা, মাথা নিচু হলেই সিজদা বা শিরিক হয় না। সিজদার আলাদা হুকুম। আর কদমবুছি’র আলাদা হুকুম। একটার সাথে আরেকটার কোন সম্পর্ক নেই।
(মাসিক আল বাইয়্যিনতা শরীফ ৩০০তম সংখ্যা থেকে সংকলিত)
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
প্রসঙ্গ: খাতামুন নাবিয়্যীন শান মুবারক নিয়ে দেওবন্দীদের মনগড়া বক্তব্য ও লেখনীর দলীলভিত্তিক জবাব
২১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
প্রসঙ্গ মূর্তি-ভাস্কর্য দ্বীন ইসলামে নিষিদ্ধ (৩)
১৫ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহুম সম্পর্কে বিশুদ্ধ আক্বিদা (২)
১৩ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
প্রসঙ্গ: জামায়াতে নামাযের মধ্যে মুক্তাদির জন্য পবিত্র সূরা ফাতিহা শরীফ পাঠের হুকুম
০৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহুম সম্পর্কে বিশুদ্ধ আক্বিদা
০৬ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
প্রসঙ্গ মূর্তি-ভাস্কর্য দ্বীন ইসলামে নিষিদ্ধ (১)
০১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত মীলাদ শরীফ পাঠে অনন্য তাজদীদ মুবারক (৫)
৩০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
প্রসঙ্গ: জামায়াতে নামাযের মধ্যে মুক্তাদির জন্য পবিত্র সূরা ফাতিহা শরীফ পাঠের হুকুম
৩০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
প্রসঙ্গ: জামায়াতে নামাযের মধ্যে মুক্তাদির জন্য পবিত্র সূরা ফাতিহা শরীফ পাঠের হুকুম
২৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সম্মানিত মীলাদ শরীফ পাঠে অনন্য তাজদীদ মুবারক (৩)
১৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
প্রসঙ্গ: জামায়াতে নামাযের মধ্যে মুক্তাদির জন্য পবিত্র সূরা ফাতিহা শরীফ পাঠের হুকুম
১৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সম্মানিত মীলাদ শরীফ পাঠে অনন্য তাজদীদ মুবারক (২)
০৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












