সম্মানিত মীলাদ শরীফ পাঠে অনন্য তাজদীদ মুবারক (৫)
, ১৪ মুহররম শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ০১ ছানী, ১৩৯৪ শামসী সন , ৩০ জুন, ২০২৬ খ্রি:, ১৬ আষাঢ়, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) শিক্ষামূলক জিজ্ঞাসা
সুওয়াল: রাজারবাগ শরীফ সিলসিলা ভুক্তদেরকে সম্মানিত মীলাদ শরীফ পাঠকালে ছলাত শরীফ বলার সময় নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নাম মুবারক না বলে লক্বব মুবারক যথা রসূলিল্লাহ ও হাবীবিল্লাহ বলে থাকেন। আর অন্য যারা মীলাদ শরীফ পড়েন উনারা সরাসরি নাম মুবারক বলেন।
আবার সালাম পেশ করার সময় আপনারা আসসালামু আলাইকুম ইয়া রসূলাল্লাহ, আসসালামু আলাইকুম ইয়া নাবিয়্যাল্লাহ, আসসালামু আলাইকুম ইয়া হাবীবাল্লাহ বলেন। আর অন্যরা ইয়া নাবী সালামু আলাইকা, ইয়া রসূল সালামু আলাইকা, ইয়া হাবীব সালামু আলাইকা বলে থাকেন।
সম্মানিত মীলাদ শরীফ পাঠের উক্ত দুই নিয়মের মধ্যে কোন নিয়মটি উত্তম? দলীলসহ জানিয়ে বাধিত করবেন।
জাওয়াব: (৫ম অংশ)
বলার অপেক্ষা রাখে না, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সুমহান পরিচয় মুবারক এবং বুলন্দ শান মুবারক প্রকাশের জন্য যথাক্রমে
اَلنَّبِـىُّ (صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ)
বা
نَبـِىُّ اللهِ
(صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ)
رَسُوْلُ اللهِ (صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ)
حَبِيْبُ اللهِ (صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ)
উক্ত সম্মানিত লক্বব মুবারকত্রয় বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
যার কারণে পবিত্র মীলাদ শরীফ উনার মধ্যে উক্ত সম্মানিত তিনখানা লক্বব মুবারক উল্লেখ করা হয়েছে।
সম্মানিত نَبِـىُّ اللهِ লক্বব মুবারক হতে অতি খাছ লক্বব মুবারক হচ্ছেন সম্মানিত رَسُوْلُ اللهِ লক্বব মুবারক। আর حَبِيْبُ اللهِ লক্বব মুবারক হচ্ছেন সর্বাধিক খাছ লক্বব মুবারক। উক্ত সম্মানিত হাবীবুল্লাহ লক্বব মুবারকখানি হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের মধ্যে শুধুমাত্র নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকেই হাদিয়া মুবারক করা হয়েছে। সুবহানাল্লাহ!
আর তাই পবিত্র ছলাত শরীফ পাঠ করার সময় ‘আলা শব্দ মুবারক উনার পর যথাক্রমে রসূলিল্লাহ এবং হাবীবিল্লাহ লক্বব মুবারকদ্বয় উল্লেখ করা হয়েছে। আর পবিত্র সালাম মুবারক পেশ করার সময় ইয়া শব্দ মুবারক উনার পর যথাক্রমে রসূলাল্লাহ, নাবিয়্যাল্লাহ ও হাবীবাল্লাহ লক্বব মুবারকত্রয় উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি “রসূলুল্লাহ” লক্বব মুবারক উনার ব্যবহার সবচেয়ে বেশি ও ব্যাপক হওয়ায় ছলাত শরীফ ও সালাম মুবারক উভয় স্থানে প্রথমেই উক্ত রসূলুল্লাহ লক্বব মুবারক উল্লেখ করা হয়েছে।
আর সালাম মুবারক পেশ করার যে নিয়ম ও আদব তা হচ্ছে, প্রথমেই اَلسَّلَامُ عَلَيْكُمْ (আসসালামু ‘আলাইকুম) বাক্য মুবারক বলতে হবে। তারপর সম্বোধনসূচক বাক্য মুবারক উল্লেখ করতে হবে। সেটাই পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার দ্বারা প্রতিভাত। এমন বর্ণনা বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ, মুয়াত্তা মালিক শরীফ, বায়হাক্বী শরীফ, মিশকাত শরীফ ইত্যাদি পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার কিতাবসমূহে উল্লেখ রয়েছে।
বর্ণিত রয়েছে, মহান আল্লাহ পাক তিনি আবুল বাশার হযরত আদম ছফিউল্লাহ আলাইহিস সালাম উনাকে সৃষ্টি করে হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদের একটি দলের নিকট গিয়ে সালাম দেয়ার জন্য বললেন এবং আরো বলে পাঠালেন যে, আপনার সালামের জাওয়াবে উনারা কি বলেন তা শ্রবণ করুন। কেননা সেটাই হবে আপনার এবং আপনার সন্তানদের সালাম। তখন তিনি গিয়ে “আসসালামু আলাইকুম” বলে সালাম প্রদান করলেন। (বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ, মিশকাত শরীফ)
কাজেই, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সালাম পেশ করার ক্ষেত্রেও অবশ্যই সর্বোচ্চ আদব বজায়ে পেশ করতে হবে।
اَلسَّلَامُ عَلَيْكَ না বলে اَلسَّلَامُ عَلَيْكُمْ বলে সালাম পেশ করা হলে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে উনার সম্মানিত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকেও সালাম পেশ করা হয়। তাছাড়া অনেক ক্ষেত্রে ব্যক্তি একক হওয়া সত্বে উনার জন্য বহুবচন ক্রিয়া বা সর্বনাম ব্যবহার করা হয় সুমহান সম্মান-মর্যাদা বুঝানোর জন্য। সুবহানাল্লাহ!
অতএব, নি¤েœাক্ত তরতীবে সালাম মুবারক পেশ করতে হবে। যথা-
اَلسَّلَامُ عَلَيْكُمْ يَا رَسُوْلَ اللهِ
اَلسَّلَامُ عَلَيْكُمْ يَا نَبِـىَّ اللهِ
اَلسَّلَامُ عَلَيْكُمْ يَا حَبِيْبَ اللهِ
صَلَوَاتُ اللهِ عَلَيْكُمْ
স্মরণীয় যে, শুরুতেই সম্বোধন করে কাউকে সালাম দেয়া কখনোই সম্মানিত শরীয়ত ও সম্মানিত সুন্নত উনার অন্তর্ভুক্ত নয় এবং আদব মুবারক উনারও অন্তর্ভুক্ত নয়।
কেননা পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
اَلسَّلَامُ قَبْلَ الْكَلَامِ কথার আগেই সালাম পেশ করবে। (তিরমিযী শরীফ)
যার কারণে মুজাদ্দিদে আ’যম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম ইমাম রাজারবাগ শরীফ উনার সম্মানিত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি পবিত্র মীলাদ শরীফ পাঠকালে সালাম পেশ করার পূর্বের নিয়ম পরিবর্তন করে বর্তমানে পঠিত নিয়ম মুবারক প্রবর্তন ও প্রচলন করেন। সুবহানাল্লাহ!
(মাসিক আল বাইয়্যিনাত শরীফ থেকে সংকলিত)
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
প্রসঙ্গ: শানে আওলাদু রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
১৮ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
প্রসঙ্গ: ফাদ্বায়িলু ঈদে আকবর ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
১১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
প্রসঙ্গ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যিন্দিগী মুবারক দু’ভাগে বিভক্ত বলা কুফরী
১০ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
প্রসঙ্গ: ফাদ্বায়িলু ঈদে আকবর ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
০৪ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
প্রসঙ্গ: ফাদ্বায়িলু ঈদে আকবর ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
২৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সুন্নতী কদমবুছী সম্পর্কে শরীয়তে সুস্পষ্ট দলীল রয়ে গেছে
২৭ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
প্রসঙ্গ: খাতামুন নাবিয়্যীন শান মুবারক নিয়ে দেওবন্দীদের মনগড়া বক্তব্য ও লেখনীর দলীলভিত্তিক জবাব
২১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
প্রসঙ্গ মূর্তি-ভাস্কর্য দ্বীন ইসলামে নিষিদ্ধ (৩)
১৫ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহুম সম্পর্কে বিশুদ্ধ আক্বিদা (২)
১৩ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
প্রসঙ্গ: জামায়াতে নামাযের মধ্যে মুক্তাদির জন্য পবিত্র সূরা ফাতিহা শরীফ পাঠের হুকুম
০৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহুম সম্পর্কে বিশুদ্ধ আক্বিদা
০৬ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
প্রসঙ্গ মূর্তি-ভাস্কর্য দ্বীন ইসলামে নিষিদ্ধ (১)
০১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)












