প্রসঙ্গ: জামায়াতে নামাযের মধ্যে মুক্তাদির জন্য পবিত্র সূরা ফাতিহা শরীফ পাঠের হুকুম
, ১৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০:০০ এএম ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) শিক্ষামূলক জিজ্ঞাসা
সুওয়াল:
যে ব্যক্তি সূরা ফাতিহা পড়বে না, তার নামায হবে না। বুখারী শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত উক্ত হাদীছ শরীফ উনার উদ্ধৃতি উল্লেখ করে কেউ কেউ বলে থাকে যে, ইমামের পিছনে মুক্তাদীকেও সূরা ফাতিহা শরীফ পাঠ করতে হবে। ইহা কতটুকু সঠিক?
জাওয়াব: (১ম অংশ)
বুখারী শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত উক্ত পবিত্র হাদীছ শরীফখানা মূলত অন্যান্য মাযহাবের দলীল। অর্থাৎ অন্যান্য মাযহাবের ফতওয়া হচ্ছে ইমামের পিছনে মুক্তাদীকেও পবিত্র সূরা ফাতিহা শরীফ পাঠ করতে হবে। আর আমাদের হানাফী মাযহাব উনার ফতওয়া হচ্ছে ইমামের পিছনে মুক্তাদী শুধুমাত্র সূরা ফাতিহা শরীফই নয়, মূলত কোনো সূরা কিরায়াতই পাঠ করবে না। এ ব্যাপারে হানাফী মাযহাব উনার দলীল হলো-
পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
واذا قرئ القران فاستمعوا له وانصتوا لعلكم ترحمون.
অর্থ: যখন পবিত্র কুরআন শরীফ পাঠ করা হয় তখন তোমরা চুপ থেকে তা শ্রবণ করো। অবশ্যই তোমরা রহমত প্রাপ্ত হবে। (পবিত্র সূরা আ’রাফ শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ: ২০৪)
উক্ত আয়াত শরীফ উনার ব্যাখ্যায় অনুসরণীয় সকল হযরত মুফাসসিরীনে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা বলেছেন যে, সূরা আ’রাফ শরীফ উনার উক্ত আয়াত শরীফ নামাযের কিরায়াত সম্মন্ধে নাযিল হয়েছে। অর্থাৎ ইমামের পিছনে মুক্তাদীর পবিত্র কুরআন শরীফ (কিরায়াত) পড়া নিষিদ্ধ।
যেমন ইমাম নাসায়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে একখানা হাদীছ শরীফ বর্ণনা করেছেন যার দ্বারা ইমামের পিছনে মুক্তাদীর কুরআন শরীফ পড়া নিষিদ্ধ প্রমানিত হয়েছে।
যেমন ছহীহ নাসায়ী শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে-
عن حضرت ابى هريرة رضى الله تعالى عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم انما جعل الامام ليؤتم به فاذا كبر فكبروا واذا قرأ فانصتوا
অর্থ: হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, ইমামকে নির্ধারণ করা হয়েছে উনার দ্বারা মুক্তাদীর নামায পূর্ণ করার জন্য। সুতরাং ইমাম যখন তাকবীরে তাহরীমা বলে হাত বাঁধবেন তখন তোমরাও (মুক্তাদীগণ) তাকবীরে তাহরীমা বলে হাত বাঁধো এবং ইমাম যখন কুরআন শরীফ অর্থাৎ কিরায়াত পাঠ করবেন তখন তোমরা (মুক্তাদীগণ) চুপ থাকবে।
হযরত আলী ইবনে তলহা রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেছেন, সূরা আ’রাফ শরীফ উনার উক্ত আয়াত শরীফ উনার অর্থ হচ্ছে, যে সময় ফরয নামাযে কুরআন শরীফ পাঠ করা হয় (তোমরা মুক্তাদীগণ) শ্রবণ করো ও নীরব থাকো। (তাফসীরে ইবনে কাছীর)
ইমাম মুজাহিদ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বর্ণনা করেছেন যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নামাযে কুরআন শরীফ পাঠ করা অবস্থায় (উনার পিছনে) জনৈক আনছারী যুবক উনাকে কুরআন শরীফ পড়তে শুনলেন সেই সময় সূরা আ’রাফ শরীফ উনার উক্ত আয়াত শরীফ নাযিল হয়।
উক্ত আয়াত শরীফ উনার দ্বারা প্রতিভাত হয়েছে যে, ইমাম ছাহিব যখন নামাযে কিরায়াত পাঠ করেন তখন মুক্তাদীর জন্য নীরব থেকে তা শ্রবণ করা ওয়াজিবের অন্তর্ভুক্ত। অনুরূপ ইমাম ছাহিব খুৎবা দানকালে মুছল্লীদের জন্য তা নীরব থেকে শ্রবন করাও ওয়াজিব।
যেমন পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে-
عن حضرت ابى هريرة رضى الله تعالى عنه قال قال النبى صلى الله عليه وسلم انما جعل الامام ليوتـمبه اذا كبر الامام فكبروا واذا ركع فاركعوا واذا قرأ فانصتوا.
অর্থ: হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন, মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, ইমাম নিযুক্ত করা হয়েছে উনার অনুসরণ করার জন্য। সুতরাং ইমাম যখন তাকবীর বলবেন তখন তোমরাও তাকবীর বলবে, ইমাম যখন রুকু করবেন, তখন তোমরাও রুকু করবে, আর ইমাম যখন কিরায়াত পাঠ করবেন তোমরা তখন চুপ থাকবে। (মুসলিম শরীফ)
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো বর্ণিত রয়েছে-
عن حضرت ابى الدرداء رضى الله تعالى عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم من كان له امام فقراءة الامام له قراءة.
অর্থ: হযরত আবূ দারদা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন, মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, যে ব্যক্তির ইমাম থাকবেন, তার সূরা ফাতিহা বা অন্য কোন সূরা পাঠ করার প্রয়োজন নেই। কারণ ইমামের কিরায়াতই তার কিরায়াত। (নাসায়ী শরীফ ও ইবনে মাজাহ শরীফ)
-০-
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহুম সম্পর্কে বিশুদ্ধ আক্বিদা (২)
১৩ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
প্রসঙ্গ: জামায়াতে নামাযের মধ্যে মুক্তাদির জন্য পবিত্র সূরা ফাতিহা শরীফ পাঠের হুকুম
০৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহুম সম্পর্কে বিশুদ্ধ আক্বিদা
০৬ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
প্রসঙ্গ মূর্তি-ভাস্কর্য দ্বীন ইসলামে নিষিদ্ধ (১)
০১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত মীলাদ শরীফ পাঠে অনন্য তাজদীদ মুবারক (৫)
৩০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
প্রসঙ্গ: জামায়াতে নামাযের মধ্যে মুক্তাদির জন্য পবিত্র সূরা ফাতিহা শরীফ পাঠের হুকুম
৩০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
প্রসঙ্গ: জামায়াতে নামাযের মধ্যে মুক্তাদির জন্য পবিত্র সূরা ফাতিহা শরীফ পাঠের হুকুম
২৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সম্মানিত মীলাদ শরীফ পাঠে অনন্য তাজদীদ মুবারক (৩)
১৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সম্মানিত মীলাদ শরীফ পাঠে অনন্য তাজদীদ মুবারক (২)
০৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সম্মানিত মীলাদ শরীফ পাঠে অনন্য তাজদীদ মুবারক (১)
০২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
প্রসঙ্গ: নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে অন্যদের সাথে তুলনা করা কুফরী -তার দলীলভিত্তিক জবাব
০২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
প্রসঙ্গ: পবিত্র কুরবানী সংশ্লিষ্ট জরুরী মাসায়িল
২৬ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












