পূর্বের পর্বগুলোতে অকাট্য দলীলের ভিত্তিতে প্রমাণ করা হয়েছে, সামর্থ্যবান প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য পবিত্র কুরবানী দেয়া ওয়াজিব।
যারা বলে, “পবিত্র কুরবানী করা একটি সাধারণ ইবাদত, যতো সম্পদশালী হউক না কেন পবিত্র কুরবানী করলে ছাওয়াব আছে আর না করলে কোনো গুনাহ হবেনা। না‘উযুবিল্লাহ! এখানে পবিত্র কুরবানী সম্পর্কে তাদের গুরু ইবনে তাইমিয়ার মত উল্লেখ করা হলো।
তথাকথিত আহলে হাদীছ ওরফে আহলে হদছ, ওহাবী, সালাফী, লা-মাযহাবীদের গুরু ইবনে তাইমিয়ার মতেও কুরবানী করা ওয়াজিব:
وَأَمَّا الْأُضْحِيَّةُ فَالْأَظْهَرُ وُجُوبُهَا أَيْضًا فَإِنَّهَا مِنْ أَعْظَمِ شَعَائِرِ الْإِسْل বাকি অংশ পড়ুন...
পবিত্র সুন্নত মুবারক ও আদেশ মুবারক এবং ওয়াছিয়ত মুবারক পালন করা ফরয যা ক্বেতঈ দলীল দ্বারাই সাব্যস্ত হয়েছে
২য় দলীল
নিম্নোক্ত মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মাধ্যমে এই ফতওয়াটি আরো শক্তিশালী হয়,
عَنْ حَضْرَتْ عَلْقَمَةَ رَحْـمَةُ اللهِ عَلَيْهِ عَنْ حَضْرَتْ عَبْدِ اللهِ رَضِىَ اللهُ تَـعَالـٰى عَنْهُ قَالَ لَعَنَ اللهُ الْوَاشِـمَاتِ وَالْمُوْتَشِمَاتِ وَالْمُتَـنَمِّصَاتِ وَالْمُتَـفَلِّجَاتِ لِلْحُسْنِ الْمُغَيِّـرَاتِ خَلْقَ اللهِ فَـبَـلَغَ ذٰلِكَ اِمْرَاَةً مِّنْ بَۢـنِـىْ اَسَدٍ يُـقَالُ لَـهَا حَضْرَتْ اُمُّ يَـعْقُوْبَ رَضِىَ اللهُ تَـعَالـٰى عَـنْـهَا فَجَاءَتْ فَـقَالَتْ اِنَّهٗ بَـلَغَنِـىْ عَنْكَ اَنَّكَ لَعَنْتَ كَـيْتَ وَكَـيْتَ বাকি অংশ পড়ুন...
(ধারাবাহিক পর্ব- ০২)
হযরত আবূ দাঊদ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার ‘মারাসীল’ গ্রন্থে উনার থেকে রেওয়ায়েত করেছেন। সেটা আবার হযরত ওয়ালিউদ্দীন আহমদ ইবনে আব্দুর রহীম ইবনে হুসাইন আবূ যুরআ ইরাক্বী রহমতুল্লাহি আলাইহি (বিছাল শরীফ ৮২৬ হিজরী) তিনি উনার ‘তুহফাতুত তাহছীল ফী যিকরি রুওয়াতিল মারাসীল’ নামক গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। (তুহফাতুত তাহছীল ১/৩৭৯ দ্রষ্টব্য)
উক্ত বর্ণনা থেকে প্রমাণিত হয় এই হাদীছটা মুরসাল।
ইমামগণ যে সকল ক্ষেত্রে মুরসাল হাদীছ শরীফ দলীল হিসেবে গ্রহণ করেছেন তার কয়েকটি হলো:
(১) যদি মুরসাল হাদীছ শরীফ কোন ছহীহ হাদীছ শরীফের পক্ বাকি অংশ পড়ুন...
উম্মতের প্রতি আবাদুল আবাদ বা অনন্তকাল যাবৎ কুরবানী করার আদেশ মুবারক
২য় দলীল
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছেন-
عَنْ حَضْرَتْ حَنَشِ بْنِ الْـحَارِثِ رَحْـمَةُ اللهِ عَلَيْهِ قَالَ كَانَ اِمَامُ الْاَوَّلِ سَيِّدُنَا حَضْرَتْ كَرَّمَ اللهُ وَجْهَهٗ عَلَيْهِ السَّلَامُ يُضَحِّىْ بِكَـبْشٍ عَنْ رَّسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَبِكَـبْشٍ عَنْ نَّـفْسِهٖ قُـلْنَا لَهٗ يَا اَمِيْـرَ الْمُؤْمِنِيْـنَ تُضَحِّىْ عَنْ رَّسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ اِنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اَمَرَنِـىْ اَنْ اُضَحِّىَ عَنْهُ اَبَدًا فَاَنَا اُضَحِّىْ عَنْهُ اَبَدًا
“বিশিষ্ট তাবিয়ী হযরত হান বাকি অংশ পড়ুন...
রহমাতুল্লিল ‘আলামীন, ছাহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, ইমামুল আইম্মাহ্, মুজাদ্দিদুয যামান, কুতুবুল আলম, মুহইউস সুন্নাহ, মাহিউল বিদয়াহ, গাউছুল আ’যম, আযীযুয যামান, ক্বইউমুজ জামান, আল জাব্বারিউল আউওয়াল, আল ক্বউইউল আউওয়াল, আস সাফফাহ, হাবীবুল্লাহ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মাওলানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, হযরত জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনছারী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল বাকি অংশ পড়ুন...
উম্মতের প্রতি আবাদুল আবাদ বা অনন্তকাল যাবৎ কুরবানী করার আদেশ মুবারক
১ম দলীল
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছেন-
عَنْ حَضْرَتْ حَنَشٍ رَحْـمَةُ اللهِ عَلَيْهِ عَنْ اِمَامِ الْاَوَّلِ سَيِّدِنَا حَضْرَتْ كَرَّمَ اللهُ وَجْهَهٗ عَلَيْهِ السَّلَامُ قَالَ اَمَرَنِـىْ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اَنْ اُضَحِّىَ عَنْهُ فَاَنَا اُضَحِّىْ عَنْهُ اَبَدًا
“বিশিষ্ট তাবিয়ী হযরত হানাশ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ইমামুল আউওয়াল সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লা বাকি অংশ পড়ুন...
নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুজূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সুমহান পক্ষ থেকে উম্মতের কুরবানী করার বিষয়ে দুইটি আপত্তি সমাজে দেখে যায়। ১ম আপত্তি- এ বিষয়ে সহীহ কোন বর্ণনা নেই, যা আছে দুর্বল। ২য় আপত্তি- এ ধরনের আমল পরবর্তী যুগে কেউ করেছেন তার কোন প্রমাণ কোন কিতাবে নেই। আমরা দুইটি আপত্তির স্পষ্ট খ-ন করবো, ইনশাআল্লাহ!
ইমাম হাকীম নিশাপুরী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার কিতাবে সহীহ সনদসহ বর্ণনা করেন,
عَنْ حَنَشٍ، قَالَ: ضَحَّى عَلِيٌّ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ بِكَبْشَيْنِ كَبْشٍ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وكبشٍ عَنْ نَفْسِهِ وَقَالَ: أَمَرَنِي رَسُولُ اللَّه বাকি অংশ পড়ুন...
উম্মতের প্রতি কুরবানী করার আদেশ এবং ওছিয়ত মুবারক
২য় দলীল
অপর বর্ণনায় রয়েছেন,
عَنْ حَضْرَتْ حَنَشٍ رَحْـمَةُ اللهِ عَلَيْهِ عَنْ اِمَامِ الْاَوَّلِ سَيِّدِنَا حَضْرَتْ كَرَّمَ اللهُ وَجْهَهٗ عَلَيْهِ السَّلَامُ اَنَّهٗ كَانَ يُضَحِّىْ بِكَبْشَيْـنِ اَحَدُهُـمَا عَنِ النَّبِـىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَالْاٰخَرُ عَنْ نَّـفْسِهٖ فَقِيْلَ لَهٗ فَـقَالَ اِنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اَوْصَانِــىْ اَنْ اُضَحِّىَ عَنْهُ فَاَنَا اُضَحِّىْ عَنْهُ
“বিশিষ্ট তাবিয়ী হযরত হানাশ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ইমামুল আউওয়াল সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার সম্পর্কে বর্ণনা করেন, ইমামুল আউওয়াল সা বাকি অংশ পড়ুন...
উম্মতের প্রতি কুরবানী করার আদেশ এবং ওছিয়ত মুবারক
১ম দলীল
এ প্রসঙ্গে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছেন অর্থাৎ ইরশাদ মুবারক হয়েছেন-
عَنْ حَضْرَتْ حَنَشٍ رَحْـمَةُ اللهِ عَلَيْهِ قَالَ رَاَيْتُ اِمَامَ الْاَوَّلِ سَيِّدَنَا حَضْرَتْ كَرَّمَ اللهُ وَجْهَهٗ عَلَيْهِ السَّلَامُ يُضَحِّىْ بِكَبْشَيْـنِ فَـقُلْتُ لَهٗ مَا هٰذَا فَـقَالَ اِنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اَوْصَانِـىْ اَنْ اُضَحِّىَ عَنْهُ فَاَنَا اُضَحِّىْ عَنْهُ
“বিশিষ্ট তাবিয়ী হযরত হানাশ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইমামুল আউওয়াল সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সা বাকি অংশ পড়ুন...
পবিত্র সূরা কাওছার ২নং আয়াত শরীফ উনার ব্যাখ্যায় আল্লামা কাযী ছানাউল্লাহ পানিপথী হানাফী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার বিশ্বখ্যাত তাফসীরগ্রন্থ ‘তাফসীরে মাযহারী’ উনার মধ্যে উল্লেখ করেন,
فَعَلـٰى هٰذَا يُثْبَتُ بِهٖ وُجُوْبُ صَلـٰوةِ الْعِيْدِ وَالْاُضْحِيَّةِ
অর্থ: পবিত্র আয়াত শরীফ উনার দ্বারা এটাই প্রমাণিত হয় যে, পবিত্র ঈদের নামায এবং কুরবানী করা উভয়ই ওয়াজিব। সুবহানাল্লাহ! (তাফসীরে মাযহারী ১০/৩৫৩)
উক্ত পবিত্র আয়াত শরীফ উনার ব্যাখ্যায় আল্লামা সাইয়্যিদ মাহমূদ আলূসী বাগদাদী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার স্বীয় তাফসীরগ্রন্থ ‘তাফসীর বাকি অংশ পড়ুন...
সুওয়াল:
“আল আয়িম্মাতু মিন কুরাইশ” এবং “তা‘য়াল্লামুল ফারায়িদ্বা ওয়া আল্লিমূহা ফাইন্নাহা নিছফুল ইলম” হাদীছ শরীফ দুখানা জনৈক ব্যক্তি বানোয়াট মনে করে অস্বীকার করে থাকে। এ বিষয়ে সঠিক জাওয়াব কি হবে?
জাওয়াব: (১ম অংশ)
উল্লেখিত পবিত্র হাদীছ শরীফ দু’খানা বিশুদ্ধ এবং দলীলসমৃদ্ধ। যেমন প্রথম হাদীছ শরীফখানা উনার মূল বর্ণনাকারী হচ্ছেন হযরত আনাস বিন মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু। যিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিশিষ্ট খাদিম। তিনি সুদীর্ঘ দশ বৎসর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্ বাকি অংশ পড়ুন...












