সম্পাদকীয়-২
সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে ব্যয় বাড়লেও সুবিধার বাইরে ৭১ ভাগ দরিদ্র জনগোষ্ঠী। দারিদ্রের যাঁতাকল থেকে জনগণকে বের করে না আনলে দেশ অবিলম্বে ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হবে। বাঁচতে হলে খিলাফত আলা মিনহাজিন নুবুওওয়াহ্র চেতনায়ই পাওয়া যাবে প্রকৃত নিরাপত্তা ও সফলতা ইনশাআল্লাহ
, ১৯ রমাদ্বান শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ০৯ আশির, ১৩৯৩ শামসী সন , ০৯ মার্চ, ২০২৬ খ্রি:, ২৪ ফাল্গুন, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) সম্পাদকীয়
সব প্রশংসা মুবারক খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য; যিনি সকল সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নবী আলাইহিমুস সালাম উনাদের নবী, রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি অফুরন্ত দুরূদ শরীফ ও সালাম মুবারক।
দরিদ্রদের আয় বাড়াতে সরকার সামাজিক নিরাপত্তামূলক বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। আয়ের উৎস সৃষ্টির মাধ্যমে দারিদ্র্য হ্রাসে ভূমিকা রাখতে কাজ করছে এই কর্মসূচি। এ কর্মসূচিতে প্রতি বছর বরাদ্দের অংক বাড়ছে। একই সঙ্গে বাড়ছে সুবিধাভোগীর সংখ্যাও। তারপরও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর বড় অংশ এখনো সামাজিক সুরক্ষার বাইরে রয়ে গেছে। পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) তথ্যমতে, দরিদ্রদের প্রায় ৭১ শতাংশ এখনো সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির বাইরে রয়েছে। তথ্যমতে, দেশে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা মোট জনসংখ্যার এক-চতুর্থাংশ। এসব মানুষের মাত্র ২৯ শতাংশ সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় রয়েছে। বাকি ৭১ শতাংশই রয়েছে এর বাইরে।
ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত দেশ গড়তে সমাজের চরম দরিদ্র ও সর্বাধিক ঝুঁকিগ্রস্তদের অগ্রাধিকার দিয়ে বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি চালু করলেও মাঠ পর্যায়ের বাস্তবতা বলছে, এই খাতে সরকার যে বরাদ্দ দিচ্ছে তা দরিদ্র মানুষের তুলনায় খুবই অপ্রতুল। শুধু তাই নয়, সুশাসনের অভাব এবং রাজনৈতিক দোষে দুষ্ট হওয়ায় এসব কর্মসূচির সুফলও পাচ্ছে না অনেক প্রকৃতজন, পাচ্ছে চিহ্নিত কিছু মানুষ। এ কারণে প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি ইস্যুতে সরকারের সদিচ্ছা।
প্রসঙ্গত, কোনো ধরনের নীতিমালা ও সুসংহত কাঠামোগত কার্যকর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া ও জবাবদিহিতা না থাকায় বর্তমান সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা একটি লুটপাটের কর্মসূচিতে পরিণত হয়েছে। ক্ষমতাভোগী ও গ্রামীণ শক্তি কাঠামো নিজেদের কায়েমি স্বার্থ পূরণে সামাজিক নিরাপত্তাকে ব্যবহার করছে। যার পরিণতি, যাদের পাওয়া উচিত তারা বাদ পড়ছে। পরিকল্পনা কমিশনই বলছে, ৩৩ শতাংশ বৃদ্ধ ভাতা নিচ্ছে যাদের বয়স ৬০ বছর হয়নি। যদিও ২৪ দশমিক ৫ শতাংশ পরিবার সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতাভুক্ত, তথাপি এখনো ৫৭ শতাংশ হতদরিদ্র ও দরিদ্রদের ৬৬ শতাংশ এসব সহায়তা কর্মসূচির বাইরে আছে। এ থেকেই চলমান সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার মূল চরিত্রটি বোঝা যায়। খোদ পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের প্রতিবেদন বলছে, এখনো ৫৭ শতাংশ হতদরিদ্র ও দরিদ্রদের ৬৬ শতাংশই এসব সহায়তা কর্মসূচির বাইরে রয়েছে।
উল্লেখ্য, সরকারি পেনশনের অংশ বাদ দিলে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে সরকারের বরাদ্দ জিডিপি’র ১.৬ শতাংশ। বাংলাদেশে ২৫ শতাংশ মানুষ বিত্তশালী। বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা যায়, এদেরও ২৭ শতাংশ কোনো না কোনোভাবে সেফটি নেটের সুবিধা ভোগ করছে। এমনিতেই এ কর্মসূচির বরাদ্দযোগ্য ব্যক্তিদের কাছে পৌঁছাচ্ছে না। তার উপর বরাদ্দে এভাবে ভাগ বসালে তা উপরে উপরে গরিবের জন্য বরাদ্দ হলেও পুরো সুবিধা বিত্তশালীরা লুটে নিয়ে যাবে।
সঙ্গতকারণেই বলতে হয়, অতি দারিদ্র্য হ্রাসে সরকার সফলতা দাবি করলেও সত্যিকার অর্থে অতি দারিদ্র্যের যাঁতাকল থেকে মানুষ আদৌ মুক্তি পায়নি। তাই সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির প্রয়োজনীয়তা অনেক বেশি। তবে এক্ষেত্রে সর্বাগ্রে প্রয়োজন সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর বরাদ্দের বিভিন্ন স্তরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আনা। পাশাপাশি বরাদ্দের পরিমাণ অনেক বাড়ানো। এদিকে পেনশনকে সর্বজনীন করার বিষয়ে ভাবতে হবে, মনে রাখতে হবে, দ্রুত নগরায়নের ফলে বিশেষ ধরনের দারিদ্র্য সৃষ্টি হচ্ছে। এর জন্যও কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া অপরিহার্য। সেইসাথে এই সামাজিক নিরাপত্তা কৌশলের সুফল যাতে দেশের দুস্থ-দরিদ্র জনগোষ্ঠী সঠিকভাবে লাভ করতে পারে, সেজন্য উপযোগী ব্যক্তি নির্ধারণের সময় যাতে কোনো প্রকার অনিয়মের সৃষ্টি না হয়, সেদিকে কঠোরভাবে লক্ষ্য রাখতে হবে।
মূলত, এসব বিষয় বাস্তবায়নের অনুভূতি ও দায়িত্ববোধ আসে পবিত্র ঈমান ও পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনাদের খিলাফত আলা মিনহাজিন নুবুওওয়াহ্র চেতনা ও জজবা এবং পরিক্রমা থেকে ইনশাআল্লাহ।
ছহিবে সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, রাজারবাগ শরীফ উনার মামদূহ মুর্র্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার নেক ছোহবত মুবারক-এ কেবলমাত্র তা লাভ করা সম্ভব। খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদেরকে তা নছীব করুন। আমীন!
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পবিত্র কুরআন শরীফ উনার চিরন্তন ঘোষণা অনুযায়ী কাফির-মুশরিকদের নিকৃষ্ট চরিত্রের একটি নগ্ন বহিঃপ্রকাশ : এপস্টিন ফাইলস
১৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
চলমান সংসদে “সর্বশক্তিমান আল্লাহ পাক উনার প্রতি আস্থা ও বিশ্বাসই হবে রাষ্ট্রের যাবতীয় কার্যাবলীর মূল ভিত্তি- এই অনুচ্ছেদ পূর্ণবহালের প্রতিশ্রুতির সাথে চতুর্থ শ্রেণী থেকে হারাম খেলাধূলায় বাধ্য করার ঘোষণা চরম সাংঘর্ষিক।
১৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
পৃথিবী চাইলেই বাংলাদেশ অনলাইন শিক্ষা ব্যবস্থা চাইতে পারেনা। তাহলে সবার আগে বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতি প্রমাণ হয়না। শিক্ষামন্ত্রী তথা সরকারকে অবিলম্বে অনলাইন শিক্ষা থেকে সরে আসতে হবে।
১৮ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
পারমাণবিক বোমায় সফলতা অর্জন প্রতিটি মুসলিম দেশের জন্য জরুরী এবং সম্ভব ইনশাআল্লাহ। এজন্য ঈমান দ্বীপ্ত মুসলিম বিজ্ঞানী, সরকারের পাশাপাশি বিশ্বাস ঘাতকদের সম্পর্কে সচেতনতা এবং সাবধানতাও দরকার।
১৭ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পূর্ব তুর্কিস্তানে চীনের বর্বরোচিত আগ্রাসন: পূর্ব তুর্কিস্তানের রক্তক্ষরণ ও খতীব কাশগরী রহমতুল্লাহি আলাইহি
১৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
“বাংলাদেশ আমাদের ভাই, তাদের বিবৃতিতে কষ্ট পেয়েছি”- ইরানী রাষ্ট্রদূতের এই বেদনার উপশম করা দরকার। হরমুজ প্রণালী দিয়ে অন্য দেশের জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকলেও বাংলাদেশের অনুমতি পাওয়ার বিষয়টির প্রতি নূন্যতম কৃতজ্ঞতা কী কাঙ্খিত এবং বাঞ্ছিত নয়?
১৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
আজ মহিমান্বিত ২৫শে শাওওয়াল শরীফ। সাইয়্যিদাতুনা, শাফিয়াতুনা, হাবীবাতুনা, হযরত ওয়ালিদাতু সুলত্বানিন নাছীর আলাইহিস সালাম আমাদের মহাসম্মানিতা হযরত দাদী হুযূর ক্বিবলা আলাইহাস সালাম উনার সুমহান পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ দিবস। সুবহানাল্লাহ!
১৪ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
আজ মহিমান্বিত ২৪শে শাওওয়াল শরীফ। সুবহানাল্লাহ! নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে সাইয়্যিদাতুন নিসায়ি আলাল আলামীন, আফদ্বলুন নাস ওয়ান নিসা বা’দা রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আস সাদিসাহ আলাইহাস সালাম উনার পবিত্র নিসবাতুল আযীমাহ শরীফ দিবস। সুবহানাল্লাহ! পাশাপাশি সাইয়্যিদাতুনা হযরত সাইয়্যিদাতুল উমাম আস সাদিসাহ আলাইহাস সালাম উনার পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ দিবস। সুবহানাল্লাহ!
১৩ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
দেশের ২৫ লাখ জেলে প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকার দাদনের কশাঘাতে জর্জরিত। কৃষকদের জন্য অনেক সরকারী সহযোগিতা, ঋণ ব্যবস্থা থাকলেও জেলেদের জন্য তা নেই। কৃষকদের পাশাপাশি জেলেদের দুরাবস্থা, দুর্দশা দূরীকরণে সরকারের সদিচ্ছা কবে হবে?
১২ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মুবারক হো ২২ শাওওয়াল শরীফ! সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, উম্মু আবীহা, বিনতে সুলত্বানিন নাছীর, সাইয়্যিদাতুন নিসা, সাইয়্যিদাতুনা হযরত নাক্বীবাতুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার এবং নূরে মদীনা, গুলে মুবীনা, সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, আওলাদে রসূল, বিনতে সুলত্বানিন নাছীর, সাইয়্যিদাতুনা হযরত নিবরাসাতুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার
১১ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
আজ মহিমান্বিত ২১শে শাওওয়াল শরীফ! যা বিশ্ব বাল্যবিবাহ দিবস। সুবহানাল্লাহ! কেননা, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ ছিদ্দীক্বাহ আলাইহাস সালাম উনার পবিত্র আক্বদ্ মুবারক ও নিসবাতুল আযীম মুবারক সম্পন্নের বরকতময় সুমহান দিবস। সুবহানাল্লাহ!
১০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
আজ সুমহান বরকতময় মহাপবিত্র ২০শে শাওওয়াল শরীফ। সুবহানাল্লাহ! সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আল খ্বামিসাহ আলাইহাস সালাম উনার মহাপবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ দিবস। সুবহানাল্লাহ!
০৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার)












