সম্পাদকীয়
মহাপবিত্র যিলহজ্জ শরীফ মাস উনার ৯, ১০, ১১, ১২ এবং ১৪ তারিখ মহাসম্মানিত আইয়্যামুল্লাহ শরীফ উনাদের অন্তর্ভূক্ত। সুবহানাল্লাহ! এ দিবসসমূহের তাৎপর্য অনুধাবন গোটা মুসলিম উম্মাহর জন্য ফরয-ওয়াজিব।
, ০৮ যিলহজ্জ শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ২৬ ছানী আশার, ১৩৯৩ শামসী সন , ২৬ মে, ২০২৬ খ্রি:, ১২ জৈষ্ঠ্য, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) সম্পাদকীয়
সব প্রশংসা মুবারক খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য; যিনি সকল সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নবী আলাইহিমুস সালাম উনাদের নবী, রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি অফুরন্ত দুরূদ শরীফ ও সালাম মুবারক।
দিনের শুরুটা হয় সূর্যের আলো দ্বারা। রাতের শুরুটা হয় চাঁদ উঠার দ্বারা। চাঁদ ও সূর্য উভয়ের অবস্থানই আসমানে। আসমান থেকেই বৃষ্টি হয়। কি পার্থিব জীবনে কী মানবীয় জীবনে, আসমানের গুরুত্ব অত্যাধিক। আসমান ছাড়া জীবন অকল্পনীয়। সাত আসমানের উপরই মহান আল্লাহ পাক উনার আরশে আযীম শরীফ, কুরসী শরীফ, লওহ-কলম শরীফ।
এই যে পৃথিবীতে বেঁচে থাকার সংগ্রামে মানুষ এতো হন্য, জীবিকার সন্ধানে এতো ব্যস্ত; এসব ফায়সালা আসমানে হয়। আসমানী কিতাবই মানুষের জীবনের মূল চালিকা শক্তি। আসমান পৃথিবী থেকে উর্ধ্বমূখী।
সঙ্গতকারণেই মানুষের বিশেষত: মুসলমান মাত্রই জীবন-চেতনা উর্ধ্বমূখী হওয়া উচিৎ। মুসলমান উনাদের পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের পর মুনাজাত, তথা মুনাজাত মাত্রই দু’হাতকে ঊর্ধ্বমুখী তথা আসমানমুখী করতে হয়। এতে প্রতিভাত হয় আসমান মুখী হওয়াই মুসলমান উনাদের প্রবৃত্তি ও প্রকৃতি। মুসলমান উনাদের সব ফায়সালা আসমানে হয়। মুসলমান তাই সবার আগে আসমানী তথ্য নিবে।
উল্লেখ্য, সম্মানিত যিলহজ্জ শরীফ মাস বিভিন্ন কারণে সীমাহীন বরকতময়। একদিক থেকে এ মাস হচ্ছেন ৪টি হারাম মাস উনাদের মধ্যে অন্যতম একটি হারাম বা সম্মানিত মাস। সুবহানাল্লাহ! অপরদিক থেকে এ মাস হচ্ছেন: পবিত্র হজ্জ ও পবিত্র কুরবানী উনার মাস। সুবহানাল্লাহ! আর বিশেষ করে এ সম্মানিত মাসে অনেকগুলো আইয়ামুল্লাহ শরীফ তথা নিদর্শন মুবারক সম্বলিত বিশেষ দিবস মুবারক রয়েছেন। আর এ আইয়ামুল্লাহ শরীফ উনাদের সম্পর্কে ইলম মুবারক অর্জন করা সকলের জন্য অতীব জরুরী।
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, ‘মহান আল্লাহ পাক উনার নিদর্শন সম্বলিত দিবসগুলিকে স্মরণ করিয়ে দিন সমস্ত কায়িনাতকে। নিশ্চয়ই এর মধ্যে ধৈর্যশীল ও শোকরগোজার বান্দা-বান্দী উনাদের জন্য ইবরত ও নছীহত রয়েছে।’ সুবহানাল্লাহ! উক্ত পবিত্র আয়াত শরীফ উনার আলোকে সুমহান মহাপবিত্র যিলহজ্জ শরীফ উনার ৯, ১০, ১১, ১২ এবং ১৪ তারিখ মহাসম্মানিত আইয়্যামুল্লাহ শরীফ উনাদের অন্তর্ভুক্ত। সুবহানাল্লাহ!
৯ যিলহজ্জ শরীফ ইয়াওমে আরাফাহ। সুবহানাল্লাহ! আরাফাহ দিবস দ্বারা পবিত্র ৯ ই যিলহজ্জ শরীফ উদ্দেশ্য। এটি একটি পারিভাষিক নাম, যেহেতু হজ্জের সময় পবিত্র ৯ই যিলহজ্জ শরীফ আরাফাহ ময়দানে অবস্থান করা হয়, তাই এই দিনটিকে ইয়াওমে আরাফাহ দিবস বলা হয়। উল্লেখ্য, পবিত্র আরাফা উনার (৯ই পবিত্র যিলহজ্জ শরীফ উনার) রোযা বান্দার এক বৎসর পূর্বের ও এক বৎসর পরের গুনাহসমূহ মিটিয়ে দেয়।” সুবহানাল্লাহ! তাই যাদের পক্ষে সম্ভব তারা যেন পহেলা পবিত্র যিলহজ্জ শরীফ থেকে ১০ পবিত্র যিলহজ্জ শরীফ তারিখ পর্যন্ত রোযা রাখে। অর্থাৎ ৯ তারিখ পর্যন্ত রোযা রাখা। আর ১০ তারিখে পবিত্র কুরবানীর গোশত দিয়ে খাদ্য খাওয়া শুরু করা। এতে এক রোযার ছওয়াব পাবে। তা না হলে ৩টি রোযা রাখা। আর তাও সম্ভব না হলে ৯ যিলহজ্জ শরীফ তারিখে রোযাটা রাখা।
একইভাবে পবিত্র ১০ই যিলহজ্জ শরীফ যেহেতু পবিত্র কুরবানি দেয়া হয়, তাই একে ‘ইয়াওমুন নাহর’ বলা হয়। যে অঞ্চলে যেদিন পবিত্র যিলহজ্জ উনার দশ তারিখ হবে, সে অঞ্চলে সেদিনই কুরবানি হবে।
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “পাঁচ রাত্রে নিশ্চিত দোয়া কবুল হয়। পবিত্র রজবুল হারাম শরীফ মাস উনার পহেলা রাত্র, পবিত্র লাইলাতুল বরাত শরীফ উনার রাত্র, পবিত্র লাইলাতুল ক্বদর শরীফ উনার রাত্র, পবিত্র দুই ঈদ মুবারক উনাদের দুই রাত্র মুবারক।” সুবহানাল্লাহ!
নূরে মুজাস্সাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “যে ব্যক্তি পবিত্র ঈদ উনার রাতে জাগ্রত থেকে ইবাদত-বন্দেগীতে কাটাবে; যখন সমস্ত অন্তরগুলো মৃত থাকবে তখন তার অন্তর জীবিত থাকবে।” সুবহানাল্লাহ!
১২ যিলহজ্জ শরীফ পবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’দাদ শরীফ অর্থাৎ ১২ই শরীফ। এ প্রসঙ্গে উল্লেখ্য, এক মুহূর্তের তরেও নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার স্পর্শ মুবারক-এ মাটি, ধূলি-বালি যা কিছুই (পদার্থ-বস্তু যা কিছুই হোক না কেন) এসেছেন তা আসমান-যমীন, সম্মানিত কা’বা শরীফ, সম্মানিত কুরসী শরীফ, মহান আল্লাহ পাক উনার কায়িনাতে যা কিছু রয়েছে; এমনকি সম্মানিত আরশে আযীম মুবারক থেকেও লক্ষ-কোটি গুণ বেশি পবিত্র, ফযীলতপ্রাপ্ত, সম্মানিত এবং সর্বশ্রেষ্ঠ হয় তাহলে সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’দাদ শরীফ তথা মহাপবিত্র ১২ই রবিউল আউয়াল শরীফ উনার সাথে নিসবত মুবারক থাকার কারণে হিজরী মাসের প্রতি ১২ই শরীফই বিশেষভাবে সম্মানিত। সুবহানাল্লাহ! এ দিন কোটি কোটি কণ্ঠে পবিত্র মীলাদ শরীফ অনুষ্ঠিত হয়। সুবহানাল্লাহ!
এই দিনে সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নুর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ। সুবহানাল্লাহ! এবং সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আযম আলাইহিস সালাম তিনি পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ!
১৪ যিলহজ্জ শরীফ চাঁদ দ্বিখন্ডিত হওয়ার দিবস। সুবহানাল্লাহ! আনুষ্ঠানিক নবুওওয়াত প্রকাশ উনার ষষ্ঠ বছর পবিত্র ১৪ই যিলহজ্জ শরীফ রাতে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ইশারা মুবারকে চাঁদ দ্বিখ-িত হয়ে আসর হতে মাগরিব পর্যন্ত যে পরিমাণ সময়, সে পরিমাণ সময় থরথর করে কাঁপতে থাকে। সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! যা দেখে সারাবিশ্বে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। পূর্ববর্তী আসমানী কিতাবসমূহে এ সম্পর্কে বর্ণনা থাকায় সারাবিশ্বের মানুষ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শান মুবারক সম্পর্কে জানতে পারে। এমনকি তা দেখে বিশ্বের তৎকালীন অনেক শাসক ঈমান আনেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক খিদমতে লোক পাঠান, হাদিয়া পাঠান এবং ঈমান ও দ্বীন ইসলাম স্বীকার করে নেন। সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ!
অপরদিকে, মহাপবিত্র ১৪ যিলহজ্জ শরীফ হচ্ছেন- সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, রাইহানাতু মুর্শিদিনা, নূরে মদীনা, গুলে মুবীনা, জান্নাতী নূরাইন, শাহী বুশরা, নাক্বীবাতুন নিসায়ী, আকরামে রহমানী, হাবীবাতুল্লাহ, ত্বাহিরা, ত্বইয়িবা, ওলীয়ে মাদারযাদ, আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদাতুল উমাম হযরত শাহ নাওয়াসী আছ ছালিছা আলাইহাস সালাম উনার মহাপবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করার সুমহান দিবস। সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ!
ছহিবে সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, রাজারবাগ শরীফ উনার মামদূহ মুর্র্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার নেক ছোহবত মুবারক-এ কেবলমাত্র তা লাভ করা সম্ভব। খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদেরকে তা নছীব করুন। আমীন।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
সমুদ্র অর্থনীতির সোনালী সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হবে
২৬ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
শিশুর দেহে এন্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্টেন্সের ভয়ানক উপস্থিতি
২৫ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
শীতের সবজি, গ্রীষ্মের ফল, ফসল এখন বর্ষায় অকল্পনীয় বাম্পার ফলন হয়
২৩ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুস সাবি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ দিবস। সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! পাশাপাশি আখাছছুল খাছ আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ উনার সম্মানিত আ’দাদ শরীফ। সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ!
২২ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
তেরো হিজরী শতকের মুজাদ্দিদ, মুজাহিদে মিল্লাত, শহীদে বালাকোট, আমীরুল মু’মিনীন সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ দিবস। সুবহানাল্লাহ!
২১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম উনার মহাপবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ দিবস। সুবহানাল্লাহ!
২০ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাধারণ প্রসব প্রক্রিয়ায় সরকারের শুভবুদ্ধি তখন শুদ্ধ হবে যখন সিজার সিন্ডিকেটকে সরকার শক্ত হাতে নির্মূল করতে পারবে
১৯ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
৬০ হাজার কোটিতেও ঢুকছে বন্যার পানি বছরে ক্ষয়ক্ষতি প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা
১৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের রফতানির সম্ভাবনার সব বাধা দূর করে সোনালী সমৃদ্ধি এনে সর্বনাশা ঋণের খপ্পর থেকে দেশকে বাচাতে সরকারকে সক্রিয় হতে হবে।
১৭ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সব সরকারের আমলেই নেয়া পানিবদ্ধতা নিরসনের সব টাকা পানিতেই যায়।
১৬ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
বাংলাদেশ-ইন্দোনেশিয়ার হালাল পণ্যের বাণিজ্য সম্প্রসারণে সর্বোচ্চ সাড়া দিতে হবে
১৫ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
চায়ের কাঙ্খিত উৎপাদন বৃদ্ধিতে অন্য সব ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি সমতলেও চায়ের উৎপাদন বৃদ্ধি করতে হবে।
১৪ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












