সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, রহমাতুল্লিল আলামীন, ক্বয়িদুল মুরসালীন, রউফুর রহীম, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র জীবনী মুবারক (২৩০২)
, ১২ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০:০০ এএম ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) আইন ও জিহাদ
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বনূ কুরাইজা উনার জিহাদ মুবারক:
হযরত আবূ লুবাবা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু নিজেকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদুন নববী শরীফ উনার খুঁটির সাথে বাঁধা প্রসঙ্গে:
বনূ কুরাইজা জিহাদের স্মরণীয় একটা ঘটনা হচ্ছে হযরত আবূ লুবাবা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার সম্পর্কে। যখন ইহুদীরা বাঁচার কোন পথ খুঁজে পেলো না তখন তারা রহমাতুল্লিল আ’লামীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কাছে অনুরোধ জানিয়ে সংবাদ পাঠালো যে, বনূ আমর ইবনে আওফ গোত্রের হযরত আবূ লুবাবা ইবনে আব্দুল মুনযির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে যেন আমাদের কাছে পাঠিয়ে দেয়া হয়। উনার সাথে আমরা পরামর্শ করতে চাই। উল্লেখ্য যে, বনূ আমর ছিলো অতীতে আওস গোত্রের মিত্র।
স্বয়ং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইহুদী গোত্রটির আর্জির পরিপ্রেক্ষিতে হযরত আবূ লুবাবা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে তাদের কাছে পাঠালেন। উনাকে দেখা মাত্র পুরুষরা উনাকে অভিবাদন জানাতে ছুটে আসলো, আর নারী ও শিশুরা উনার সামনে গিয়ে কেঁদে কেঁদে ফরিয়াদ জানাতে লাগলো। তাদের সে বুকফাটা কান্না দেখেও তিনি কোন ফায়সালা দিলেন না। তারা বললো, হে হযরত আবূ লুবাবা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু! আপনি কি বলেন, আমরা কি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত নির্দেশ মুবারকে দুর্গ থেকে নেমে আসবো? তিনি বললেন, হ্যাঁ; সেই সাথে গলদেশের দিকেও ইঙ্গিত করলেন। অর্থাৎ পরিণাম যবাই।
হযরত আবূ লুবাবা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, মহান আল্লাহ পাক উনার ক্বসম! আমি সে স্থান থেকে একবিন্দুও নড়িনি। এরই মধ্যে আমার ফিকিরে আসলো, আমি মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছি, উনাদের সাথে বেয়াদবী হয়ে গেছে।
হযরত আবূ লুবাবা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি সেই অবস্থাতেই সোজা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদুন নববী শরীফ উনার মধ্যে চলে গেলেন, আর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দিকে রুজু হয়ে তওবা- ইস্তেগফার পাঠ করতে থাকলেন। তিনি মহাসম্মানিত মসজিদুন নববী শরীফ উনার খুঁটিতে নিজেকে শক্ত করে বাঁধলেন। তিনি বললেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি ও উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা যতক্ষণ পর্যন্ত আমাকে ক্ষমা না করবেন ততক্ষণ পর্যন্ত আমি এ স্থান ত্যাগ করবো না। তিনি ইস্তেগফার তওবা করতে লাগলেন এবং তিনি দৃঢ় প্রতিজ্ঞা করলেন, আমি জীবনে আর ইহুদী বনূ কুরাইজার মাটি পা দিয়ে মাড়াবো না। আর যে মাটিতে আমি মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছি সেখানে কখনও নিজের মুখ দেখাবো না। তিনি বললেন, আমাকে পবিত্র নামাযের ওয়াক্তের সময় ছাড়া আমার যেন বাঁধন না খোলা হয়।
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন, তিনিতো আমার কাছে আসেননি। তিনি আমার কাছে এলে উনাকে ক্ষমা করে দিতাম। কিন্তু স্বয়ং যিনি খ্বালিক যিনি মালিক যিনি রব মহান আল্লাহ পাক তিনি এই বিষয় ফায়সালা মুবারক দিয়ে দিলেন। এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
وَلَوْ أَنَّهُمْ إِذ ظَّلَمُوا أَنفُسَهُمْ جَاءُوكَ فَاسْتَغْفَرُوا اللَّهَ وَاسْتَغْفَرَ لَهُمُ الرَّسُولُ لَوَجَدُوا اللَّهَ تَوَّابًا رَّحِيمًا
অর্থ: (আমি মহাসম্মানিত রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে এজন্য পাঠিয়েছি, (মানুষ) যেন মহান আল্লাহ পাক উনার নির্দেশ অনুযায়ী (নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উনার আনুগত্য করে। ) আর যারা নফসের প্রতি জুলুম করেছে, তারা যদি আপনার কাছে আসতো, অতঃপর মহান আল্লাহ পাক উনার কাছে ক্ষমা চাইতো আর মহাসম্মানিত হাবীব পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তাদের জন্য ক্ষমা চাইতেন অর্থাৎ তিনি তাদের জন্য সুপারিশ করতেন, অবশ্যই তারা মহান আল্লাহ পাক উনাকে ক্ষমাশীল, দয়ালু হিসেবে পেতো। অথবা আর যারা নফসের উপর জুলুম করেছে, তারা যদি আপনার কাছে আসতো, আপনার উছীলা দিয়ে মহান আল্লাহ পাক উনার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতো, আর মহাসম্মানিত রসূল পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তাদের ক্ষমা করতেন, অবশ্যই তারা মহান আল্লাহ পাক উনাকে ক্ষমাশীল, দয়ালু হিসাবে পেতো। (পবিত্র সূরা নিসা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৬৪)
-আল্লামা সাইয়্যিদ শাবীব আহমদ।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (১৫)
১৩ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (১৩তম পর্ব)
১২ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (১৪)
১১ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (১২তম পর্ব)
০৫ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (১৩)
২৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (১২)
২৭ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (১২)
২৩ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (১২)
২২ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়:
২১ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (১১)
২০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (১০ম পর্ব)
১৪ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (১০)
১৩ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)












