সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, রহমাতুল্লিল আলামীন, ক্বয়িদুল মুরসালীন, রউফুর রহীম, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র জীবনী মুবারক (২২৮১)
, ১৬ মে, ২০২৫ ১২:০০:০০ এএম ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) আইন ও জিহাদ
জিহাদের ময়দানে মক্কার কাফির মুশরিকদের আগমন:
বিশিষ্ট ঐতিহাসিক হযরত ইবনে ইসহাক্ব রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের নিয়ে পরিখা খনন শেষ করতেই কুরাইশ কাফির বাহিনী এসে পড়ে। তারা জরূফ ও যুগাবার মাঝখানে রূমার স্রোত-সংযোগস্থলে তাবু স্থাপন করে। তাদের সাথে ছিলো দশ হাজার কৃষ্ণাঙ্গ, কিনানা ও তিহামা হতে যোগদানকারী সৈন্য।
ওদিকে গাতফানীরা তাদের নাজদী অনুসারীদের নিয়ে উহুদ পাহাড়ের পাশে যানাবনাকমায় এসে অবস্থান নিলো। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের নিয়ে বের হয়ে পড়লেন। তিনি সালা’ পর্বতকে পিছনে রেখে শিবির স্থাপন করলেন। উনারা সৈন্য সংখ্যা ছিলেন তিন হাজার। এখন মুসলমানদের এবং কাফিরদের মাঝখানে থাকলো পরিখা।
হযরত ইবনে হিশাম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন-
واستعمل على المدينة حضرت أبن ام مكتوم رضى الله تعالى عنه.
অর্থ: ‘নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এই সম্মানিত খন্দক জিহাদের সময় মহাসম্মানিত মদীনা শরীফ উনার দায়িত্বে রাখেন হযরত ইবনে উম্মে মাকতুম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে। ’ সুবহানাল্লাহ! (সীরতে ইবনে হিশাম রহমতুল্লাহি আলাইহি)
হযরত ইবনে ইসহাক্ব রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন-
أمر بالذراري والنساء فجعلوا في الآطام
অর্থ: ‘নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত নির্দেশ মুবারকে সম্মানিত নারী ও শিশুদেরকে দূর্গের ভিতর হিফাযতে রাখা হয়েছিলো। ’ সুবহানাল্লাহ!
হুয়াঈ ইবনে আখতাব কর্তৃক ইহুদী কা’ব ইবনে আসাদকে প্ররোচনা:
বিশিষ্ট ঐতিহাসিক হযরত ইবনে ইসহাক্ব রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, মহান আল্লাহ পাক উনার দুশমন হুয়াঈ ইবনে আখতাব বনূ কুরাইযার নেতা কা’ব ইবনে আসাদের সাথে সাক্ষাৎ করতে গেলো। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে ইহুদী কা’ব ইবনে আসাদ শান্তি চুক্তিতে আবদ্ধ ছিলো এবং সে তা রক্ষা করতে সংকল্প করেছিলো।
হুয়াই ইবনে আখতাবের আগমনের সংবাদ শুনেই কা’ব তার দুর্গের ফটক বন্ধ করে দিলো। হুয়াঈ ভিতরে প্রবেশের অনুমতি চাইলো, কিন্তু সে দরজা খুলতে অস্বীকার করলো। হুয়াঈ চিৎকার করে বললো, হে কা’ব! তোমার কি হলো, দরজা খুলো। ইহুদী কা’ব তাকে ধিক্কার দিয়ে বললো, হে হুয়াঈ! তুমি একটা অলক্ষুণে লোক। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে আমার চুক্তি আছে। আমিতো সে চুক্তি কিছুতেই ভাঙ্গবো না। আমি উনাকে সর্বদা ওয়াদা রক্ষাকারী ও বিশ্বস্তই পেয়েছি। সুবহানাল্লাহ!
হুয়াঈ তাকে ধিক্কার দিয়ে বললো, দরজা খুলো তোমার সাথে কথা আছে। কিন্তু ইহুদী কা’ব বললো, আমি কিছুতেই দরজা খুলবো না। হুয়াঈ বললো, মহান আল্লাহ পাক উনার ক্বসম! বুঝেছি আমি তোমার উপাদেয় খাবারে ভাগ বসাবো বলেই দরজা বন্ধ করে রেখেছো। এতে ইহুদী কা’ব ক্রুদ্ধ হয়ে দরজা খুলে দিলো।
হুয়াঈ বললো, আশ্চর্য! আমি বিরাট শক্তিশালী ও বিশাল বাহিনী নিয়ে তোমার সাথে সাক্ষাৎ করতে এসেছি, আর তোমার এই আচরণ। আমি এসেছি কুরাইশদের নিয়ে তাদের নেতাদেরসহ। রূপার স্রোত-সংযোগস্থলে আমি তাদের মোতায়েন করে এসেছি। আর গাতফান গোত্র তাদের নেতা ও প্রধানদের নিয়ে উহুদের দিকে যানাব নাকমায় তাবু স্থাপন করেছি। তারা আমাকে এই অঙ্গীকার দিয়েছে যে, যৌথ আক্রমণে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও উনার হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদেরকে সমূলে উৎখাত না করে প্রস্থান করবে না।
রাবী বলেন-
فقال له كعب جئتني والله بذل الدهر وبجهام قد هراق ماءه فهو يرعد ويبرق ليس فيه شيء ويحك يا حيي فدعني وما أنا عليه فأني لم ار من حضرت محمد صلى عليه وسلم إلا صدقا ووفاء
অর্থ: ‘ইহুদী কা’ব বললো, মহান আল্লাহ পাক উনার ক্বসম! তুমি আমার কাছে নিয়ে এসেছো যুগ-যুগান্তের লজ্জা, আর পানিবিহীন মেঘ যা শুধু গর্জে আর চমকায়, কিন্তু বর্ষে না মোটেই। ছিঃ ছিঃ হুয়াঈ! তুমি আমাকে এর মধ্যে টেনো না। আমি এসবে নেই। আমি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে কখনও কোনরূপে বিশ্বাসঘাতকতা ও ওয়াদা খেলাফী পাইনি। ’ সুবহানাল্লাহ!
কিন্তু হুয়াঈ তাকে অবিরাম ফুসলাতেই থাকলো।
-আল্লামা সাইয়্যিদ শাবীব আহমদ।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (১৫)
১৩ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (১৩তম পর্ব)
১২ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (১৪)
১১ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (১২তম পর্ব)
০৫ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (১৩)
২৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (১২)
২৭ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (১২)
২৩ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (১২)
২২ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়:
২১ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (১১)
২০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (১০ম পর্ব)
১৪ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (১০)
১৩ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)












