সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, রহমাতুল্লিল আলামীন, ক্বয়িদুল মুরসালীন, রউফুর রহীম, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র জীবনী মুবারক (২২৭৮)
, ২০ শাওওয়াল শরীফ, ১৪৪৬ হিজরী সন, ২০ হাদি আশির, ১৩৯২ শামসী সন , ১৯ এপ্রিল, ২০২৫ খ্রি:, ৬ বৈশাখ, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) আইন ও জিহাদ
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দক জিহাদের মূল চিত্র:
অপরপক্ষে মহাসম্মানিত মদীনা শরীফ উনার মুসলমানরা হুঁশিয়ার নেতৃত্ব গোয়েন্দা রিপোর্টের মাধ্যমে আগেই সাবধান হয়ে যান। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বিরোধীদের খবর জানার জন্য হযরত যুবায়ের ইবনুল আওয়াম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে নিয়োগ করেন। তিনি বলেন- ‘শত্রুপক্ষের খবর আনার জন্য কে আছো? হযরত যুবায়ের রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বললেন, ‘লাব্বাইক ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমি আছি। ’ তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, প্রত্যেক হযরত নবী-রসূল আলাইহিস সালাম উনার জন্য একজন ‘হাওয়ারী’ (নিকট সহচর) থাকেন। আমার হাওয়ারী হলেন হযরত যুবায়ের ইবনুল আওয়াম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি। সুবহানাল্লাহ! (বুখারী শরীফ)
হযরত যুবায়ের ইবনে আওয়াম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে পাঠানো হয়েছে পবিত্র মক্কার কাফির মুশরিকদের সাথে বনু কুরাইজার যে ওয়াদা ছিলো তা ভঙ্গ করেছে কি-না সেই খোঁজ খবর নেয়ার জন্য। অতঃপর সম্মানিত জিহাদ শেষে কুরাইশ কাফির মুশরিকদের অবস্থা জানার জন্য হযরত হুযায়ফা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে পাঠানো হয়। (ফতহুল বারী)
অতঃপর কতিপয় হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের সাথে পরামর্শ মুতাবেক নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহাপবিত্র মদীনা শরীফ উনার উত্তর মুখে উহুদের দিকে দীর্ঘ পরিখা খনন করেন এবং তার পিছনে ৩,০০০ সুদক্ষ সম্মানিত সৈন্যদলকে মোতায়েন করেন। সুবহানাল্লাহ! এর কারণ ছিলো এই যে, তিনদিকে পাহাড় ও খেজুর বাগিচা বেষ্টিত মহাপবিত্র মদীনা শরীফ। মূলত; মহাপবিত্র মদীনা নগরী প্রাকৃতিকভাবে সুরক্ষিত দুর্গের মত ছিলো। কেবল উত্তর দিকেই খোলা ছিলো। যেদিক দিয়ে শত্রুদের হামলার আশংকা ছিলো। এখানে পরিখা খনন করা হয়। যার দৈর্ঘ্য ছিলো ৫০০০ হাত, প্রস্থ ৯ হাত ও গভীরতা ৭ থেকে ১০ হাত। প্রতি ১০ জনকে ৪০ হাত করে খননের দায়িত্ব দেওয়া হয়। (সীরাতে মুস্তফা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহাপবিত্র মদীনা শরীফ উনার অভ্যন্তরভাগের ‘সালা’ পাহাড়কে পিছনে রেখে মুজাহিদ হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদেরকে খন্দকমুখি করে সন্নিবেশ করেন এবং নারী ও শিশু উনাদেরকে বনু হারেছার ‘ফারি’ দুর্গে রেখে দেন। যা ছিলো সম্মানিত মুসলমান উনাদের সবচেয়ে মজবুত দুর্গ’। সুবহানাল্লাহ! (সীরাহ ছহীহাহ)
সম্মানিত মুসলিম বাহিনী উনারা তীর-ধনুক নিয়ে সদা প্রস্তুত থাকেন, যাতে করে শত্রুরা পরিখা টপকে বা ভরাট করে কোনভাবেই মহাপবিত্র মদীনা শরীফ উনার মধ্যে ঢুকতে না পারে। সম্মানিত মুসলিম বাহিনী উনাদের এই নতুন কৌশল দেখে কাফির-মুশরিকরা হতচকিত হয়ে যায়। ফলে তারা যুদ্ধ করতে না পেরে যেমন ভিতরে ভিতরে ফুঁসতে থাকে, তেমনি রসদ ফুরিয়ে যাওয়ার ভয়ে আতঙ্কিত হতে থাকে। মাঝে-মধ্যে পরিখা অতিক্রমের চেষ্টা করতে গিয়ে তাদের ১০ জন নিহত হয়। অমনিভাবে তাদের তীরের আঘাতে মুসলিম উনাদের পক্ষে ৬ জন শাহাদাতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। উক্ত ৬ জন হলেন, আউস গোত্রের বনু আব্দিল আশহাল থেকে গোত্রের আমির হযরত সা‘দ বিন মুয়ায রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, হযরত আনাস বিন আউস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ও হযরত আব্দুল্লাহ বিন সাহল রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু। খাযরাজ গোত্রের বনু জুশাম থেকে হযরত তুফায়েল বিন নুমান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ও হযরত ছা‘লাবাহ বিন গানমাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু। বনু নাজ্জার থেকে হযরত কা‘ব বিন যায়েদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু। যিনি একটি অজ্ঞাত তীরের মাধ্যমে শহীদ হন। উনাদের মধ্যে আহত হযরত সা‘দ বিন মুয়ায রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা বনু কুরায়যা জিহাদের শেষে বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন। (সীরতে ইবনে হিশাম)
-আল্লামা সাইয়্যিদ শাবীব আহমদ।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (১৫)
১৩ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (১৩তম পর্ব)
১২ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (১৪)
১১ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (১২তম পর্ব)
০৫ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (১৩)
২৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (১২)
২৭ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (১২)
২৩ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (১২)
২২ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়:
২১ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (১১)
২০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (১০ম পর্ব)
১৪ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (১০)
১৩ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)












