সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, রহমাতুল্লিল আলামীন, ক্বয়িদুল মুরসালীন, রউফুর রহীম, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র জীবনী মুবারক (২২৭১)
, ১৮ শা’বান শরীফ, ১৪৪৬ হিজরী সন, ২১ তাসি’, ১৩৯২ শামসী সন , ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ খ্রি:, ০৪ ফালগুন, ১৪৩১ ফসলী সন, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) আইন ও জিহাদ
পরিখা খননকালে প্রকাশিত কতিপয় মহাসম্মানিত মহাপবিত্র মু’জিযাহ শরীফ:
فَقَالَ قُومُوا، فَقَامَ المهَاجِرُونَ وَالأنْصَارُ، فَدَخَلْتُ عَلَيْهَا فَقُلتُ: وَيْحَكِ قَدْ جَاءَ النبيُّ صلى الله عليه وسلم وَالمُهَاجِرُونَ وَالأنْصَارُ وَمَن مَعَهُمْ ! قَالَت: هَلْ سَألَكَ؟ قُلْتُ: نَعَمْ، قَالَ: ادْخُلُوا وَلاَ تَضَاغَطُوا فَجَعَلَ يَكْسرُ الخُبْزَ، وَيَجْعَلُ عَلَيْهِ اللَّحْمَ، وَيُخَمِّرُ البُرْمَةَ وَالتَّنُّورَ إِذَا أخَذَ مِنْهُ، وَيُقَرِّبُ إِلَى أصْحَابِهِ ثُمَّ يَنْزِعُ، فَلَمْ يَزَلْ يِكْسِرُ وَيَغْرِفُ حَتَّى شَبِعُوا، وَبَقِيَ مِنْهُ، فَقَالَ: كُلِي هَذَا وَأهِدي، فَإنَّ النَّاسَ أصَابَتْهُمْ مَجَاعَةٌ. (متفقٌ عَلَيْهِ)
তারপর (সকলের উদ্দেশ্যে) তিনি বললেন, আপনারা উঠুন! (হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি আপনাদেরকে খাবারের দাওয়াত দিয়েছেন। )” সুবহানাল্লাহ! হযরত মুহাজির ও আনছার ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা উঠলেন (এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পিছনে পিছনে চলতে লাগলেন)। অতঃপর আমি আমার আহলিয়া উনার নিকট গিয়ে বললাম, আপনি পরীক্ষার মধ্যে পড়েছেন! (এখন কী হবে?) সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনিতো হযরত মুহাজির, আনছার ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম এবং উনাদের অন্যান্য সাথীদের নিয়ে চলে আসছেন। ’
তিনি (হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার আহলিয়া) বললেন, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কি আপনাকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন?’ আমি বললাম, হ্যাঁ। ’ (আমার আহলিয়া বললেন, তাহলে মহান আল্লাহ পাক তিনি ও উনার রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা সর্বাধিক জানেন। অর্থাৎ উনারা সবকিছুই অবগত রয়েছেন। আমাদের কাছে যা আছে তাতো আপনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খিদমত পেশ করেছেন’। হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, তখন আমার ভয়, চিন্তা দূর হয়ে গেল। আমি বললাম, আপনি ঠিকই বলেছেন। ’)
তারপর সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তাশরীফ মুবারক নিয়ে বললেন, আপনারা সকলেই প্রবেশ করুন এবং ভিড় করবেন না। ” ইহা বলে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি রুটি মুবারক টুকরো করে তার উপর গোশত মুবারক দিয়ে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের মাঝে বন্টন করতে শুরু করলেন। সুবহানাল্লাহ! (এগুলো পরিবেশন করার সময়) তিনি ডেকচি মুবারক ও চুলা মুবারক ঢেকে রেখেছিলেন। এভাবে তিনি রুটি টুকরো করে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল মাগফিরাত মুবারক তথা হাত মুবারক ভরে বন্টন করতে লাগলেন। এতে সকলে তৃপ্তি সহকারে খেলেন এবং খাবার পরেও কিছু বাকী রয়ে গেল। সুবহানাল্লাহ!
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার আহলিয়াকে বললেন, এগুলো আপনি খান এবং অন্যকে হাদিয়া দিন। কেননা, লোকদেরকে ক্ষুধা পেয়েছে। ” সুবহানাল্লাহ! (বুখারী শরীফ ও মুসলিম শরীফ)
ফিকিরের বিষয়: মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রসূল, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উম্মতকে তা’লীম মুবারক দিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ! ক্ষুধা পেলে পেটে পাথর বাঁধা এবং রিয়াজত-মাশাক্কাত করতে হলে না খেয়ে থাকা সুন্নত। আর মহান আল্লাহ পাক ও উনার মহাসম্মানিত হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের আদেশ-নির্দেশ মুবারক পালন করতে কখনও কখনও হয়ত না খেয়েও থাকতে হতে পারে এবং এর জন্য ধৈর্য্যধারণ করতে হবে। সুবহানাল্লাহ! এটা হচ্ছে ঈমানী পরীক্ষা। এই অবস্থায় মুসলমানদেরকে কখনও ধৈর্য্য হারা হওয়া, অস্তির হওয়া, নিরাশ হওয়া ইত্যাদি হওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে, তবেই কামিয়াবী অর্জন করা যাবে। সেই বিষয়গুলো নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উম্মতদেরকে তা’লীম দিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ!
-আল্লামা সাইয়্যিদ শাবীব আহমদ।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (২৪)
২২ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (২১ তম পর্ব)
২১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (২৩)
১৫ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (২০ তম পর্ব)
১৪ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (২২)
০৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (১৯ তম পর্ব)
০৭ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (২১)
০১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (১৮তম পর্ব)
৩০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (২০)
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (১৭তম পর্ব)
২৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (১৯)
১৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (১৬তম পর্ব)
১৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












