আইন
সম্মানিত দ্বীন ইসলাম ও মুসলমানগণের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে আইনী কার্যক্রম
, ২৯ ছফর শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ২৫ ছালিছ, ১৩৯৩ শামসী সন , ২৪ আগস্ট, ২০২৫ খ্রি:, ০৯ ভাদ্র, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) আইন ও জিহাদ
মুসলমানদের চিরশত্রু ইহুদী, নাসারা, হিন্দু, বৌদ্ধসহ সমস্ত কাফির, বেদ্বীন, বদদ্বীনরা ছলে, বলে, কৌশলে মুসলমানদের জাহিরী-বাতিনী তথা সর্বোত ক্ষতি সাধনে তৎপর। যার বাস্তবতা দেখতে পাই আমাদের দেশেও। এদেশ থেকে ইসলামী অনুশাসন, তাহযীব-তামাদ্দুন উঠিয়ে দিয়ে মুসলমানদেরকে কোনঠাসা করার লক্ষ্যে এই কাফির গোষ্ঠী কখনো মিডিয়াকে, কখনো শাসক শ্রেণীকে এবং কখনো আদালতকে ব্যবহার করে তাদের স্বার্থ উদ্ধার করে যাচ্ছে। এমনকি শাসক শ্রেণী কোন বিষয়ে সম্মত না হলে, আনুগত্যতা না দেখালে তাদের পরিবর্তনেও সা¤্রাজ্যবাদীরা দেশের আদালতকে ব্যবহার করছে।
তাই, বর্তমান সময়ের যিনি সম্মানিত ইমাম ও মুজাদ্দিদ, ছহিবু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, সুলত্বানুন নাছীর, আল ক্বউইউল আউওয়াল, আল জাব্বারিউল আউওয়াল, ক্বইয়ুমুয্যামান, ঢাকা রাজারবাগ শরীফ উনার মহাসম্মানিত মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিস সালাম তিনি সম্মানিত দ্বীন ইসলাম ও মুসলমানদের স্বার্থ বিরোধী কাফির ও মুনাফিকদের যাবতীয় ষড়যন্ত্র ও কূট কৌশল নস্যাৎ করে সত্যিকার অর্থেই ইসলামী অনুশাসন প্রতিষ্ঠায় বহুমুখী কার্যক্রম গ্রহণ করেছেন। সেগুলোর অন্যতম “আইনী কার্যক্রম”। সুবহানাল্লাহ। যা উনার ঐতিহাসিক অভূতপূর্ব আজিমুশ্বান তাজদীদ মুবারক।
এ তাজদীদী কার্যক্রমের সফলতা আজ দিবালোকের চেয়েও সুস্পষ্ট। ফলশ্রুতিতে সম্মানিত দ্বীন ইসলাম ও মুসলমানদের স্বার্থ বিরোধী কাফির ও মুনাফিকদের অনেক ষড়যন্ত্র ও কূট কৌশল নস্যাৎ হয়েছে, হচ্ছে এবং হতেই থাকবে। ইনশাআল্লাহ!
পাঠকের উপলব্ধির স্বার্থে নীচে বিশেষ কিছু আইনী কার্যক্রমের তালিকা ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ করা হলো।
‘সাইবার নিরাপত্তা আইন ২০২৩’ বিষয়ে বিশেষ কার্যক্রম:
সরকার ‘সাইবার নিরাপত্তা আইন ২০২৩’ নামক একটা নতুন আইন পাশ করেছে। আইনটির খসড়া প্রস্তুত করে সরকার ঘোষণা দিয়েছিলো এ আইন সম্পর্কে কারো কোন মতামত থাকলে জানাতে। এজন্য তারা একটা মেইল আইডি দিয়েছিলো এবং বলেছিলো সেখানে সবাইকে মতামত জানাতে।
এমনই প্রেক্ষাপটে রাজারবাগ শরীফ উনার পক্ষ হতে বহুমুখী কার্যক্রম গৃহীত হয়েছে। রাজারবাগ শরীফ হতে নির্দেশনাপ্রাপ্ত হয়ে আশিকীন-মুহিব্বীনগণ বহু সংখ্যক ই-মেইল করেন। একই সাথে রাজারবাগ শরীফ উনার পক্ষ হতে সরকারের দায়িত্বশীল কয়েকজনের নিকট ‘সাইবার নিরাপত্তা আইন ২০২৩’ বিষয়ে শরঈ ফায়সালা জ্ঞাতার্থে চিঠি প্রেরণ করা হয়। তারা হলো- (১) মন্ত্রী, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় (২) মন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (৩) মন্ত্রিপরিষদ সচিব, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ (৪) প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় (৬) উপসচিব (আইন অধিশাখা), তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ।
প্রেরিত চিঠিসমূহে যে বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়, তা নিম্নরুপ-
১. অনলাইনে দ্বীনী অনুভূতিতে আঘাত বা ২৮ ধারার সাজা কিছুতেই হ্রাস করা যাবে না। প্রয়োজনে আরো বৃদ্ধি করতে হবে। কারণ ২০১৩ সালের সাইবার ট্রাইব্যুনাল
প্রতিষ্ঠার পূর্বে অনলাইনে দ্বীনী অনুভূতিতে আঘাত রোধে কার্যকরী শক্ত কোনো আইন ছিলো না, ফলে এ অপরাধ রোধ হচ্ছিলো না। যার প্রতিক্রিয়ায় দেশে ভয়ঙ্কর অস্থিতিশীলতা তৈরী হয় এবং শাপলা চত্বরের মত ঘটনা ঘটে। ২০১৩ সালের পর শক্ত আইন কার্যকরের মাধ্যমে অনলাইনে দ্বীনী অনুভূতিতে আঘাতের অপরাধ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায় এবং দেশে স্থিতিশীলতা ফিরে আসে। কিন্তু এই সাজা যদি হ্রাস বা দূর্বল করা হয় তাহলে পুনরায় দ্বীনী অনূভুতিতে আঘাতের অপরাধ বৃদ্ধি পাবে। যার প্রতিক্রিয়ায় দেশে আবারও অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরী হবে। এমনকি শাপলা চত্বরের পুনরাবৃত্তিও ঘটতে পারে।
২. প্রস্তাবিত আইনের ২১ ধারায় মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বা জাতীয় পতাকার সাথে রাষ্ট্রদ্বীন ও রাষ্ট্রভাষা সংযুক্ত করতে হবে। অর্থাৎ, কেউ যদি রাষ্ট্রদ্বীন ও তৎসংশ্লিষ্ট বিষয় অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম, হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম, পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র কা’বা শরীফ, পবিত্র মদীনা শরীফ ইত্যাদি নিয়ে কটূক্তি করে অথবা রাষ্ট্রভাষার বিরুদ্ধে প্রোপাগান্ডা বা অপপ্রচার চালায় তাকে ২১ ধারায় বিচারের মুখোমুখি হতে হবে।
৩. প্রস্তাবিত আইনে ২৯ ধারায় মানহানীর সাজা শুধুমাত্র জরিমানা করা হলে অনেক সময় মানুষ ন্যায়বিচার বঞ্চিত হবে। কারণ কোনো কোনো ক্ষেত্রে মানহানীর ক্ষতি অপূরণীয় হয়। যেমন: কষ্টে গড়া ক্যারিয়ার ধ্বংস, বিবাহ বিচ্ছেদ, প্রতিষ্ঠান দেওলিয়া হওয়া, হার্ট এ্যাটাক বা গুরুতর অসুস্থতা হওয়ার ঘটনা ঘটে, এমনকি মানহানী সহ্য করতে না পেরে অনেকে আত্মহত্যাও করে। তাই শুধুমাত্র জরিমানা দিয়ে এ অপরাধের সাজা নির্ধারণ করা ন্যায়সঙ্গত হবে না। তাই প্রস্তাবিত সাইবার নিরাপত্তা আইনে ২৯ ধারার কারাদ- বাতিল করা যাবে না।
মূলকথা হলো, রাষ্ট্রদ্বীন পবিত্র দ্বীন ইসলাম সংশ্লিষ্ট যে কোন বিষয়ের অবমাননার সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতে আইন পাস করতে সরকারকে আহ্বান করা হয়।
-০-
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (৬ষ্ঠ পর্ব)
০৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (৬)
০২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের মুহব্বত ঈমান, আর উনাদের সমালোচনা করা লা’নতগ্রস্ত হওয়ার কারণ
২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (৬)
২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
দ্বীন ইসলাম ব্যতিত অন্য কোন তন্ত্র-মন্ত্র নিয়মনীতি শরীয়তসম্মত নয়
২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (৫ম পর্ব)
২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (৫)
২৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (৫)
১৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (৪র্থ পর্ব)
১৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (৪)
১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (৪)
১১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (৩য় পর্ব)
১০ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












