ইতিহাস
সম্মানিত ইসলামী সভ্যতা উনার অনন্য বিচারিক ব্যবস্থা ‘আল হিসবাহ’ উনার ইতিকথা (১)
, ০৬ রবীউল আউওয়াল শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ০২ রবি’, ১৩৯৩ শামসী সন , ৩১ আগস্ট, ২০২৫ খ্রি:, ১৬ ভাদ্র, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) ইতিহাস
সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার পূর্বের সমাজ ব্যবস্থাও এমন কোনো বিচারিক বিভাগের সৃষ্টি করা হয়নি যার দায়িত্বশীলরা সমাজের নানা অনাচার, মিথ্যা, চোগলখোরী, প্রতারণা, যিনা-ব্যভিচার, অত্যাচার-নির্যাতন, নিপীড়ন ইত্যাদি সরেজমিনে প্রত্যক্ষ করে সেগুলো নির্মূল করবে। কিন্তু সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার আগমনের পর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বিশ্বসভ্যতাকে সেই মহামহিম বিষয়টি হাদিয়া মুবারক করেছেন। সুবহানাল্লাহ! এই বিচারিক ব্যবস্থাটির নাম হলো ‘আল হিসবাহ’। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র মক্কা শরীফ বিজয়ের পর ইতিহাসে প্রথম মুহতাসিব (হিসবার দায়িত্বশীল) হিসেবে পবিত্র মক্কা শরীফ উনার এক বাজারে হযরত সাঈদ ইবনুল আস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে মনোনীত করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে মুবারক নির্দেশনাক্রমে আল হিসবাহর বিষয়টি পরিপূর্ণরূপে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন হযরত খুলাফায়ে রাশেদীন আলাইহিমুস সালাম উনারা।
সম্মানিত হযরত খুলাফায়ে রাশেদীন আলাইহিমুস সালাম উনাদের সময়ে বিচার বিভাগেরই একটি স্বতন্ত্র শাখা ছিলো আল হিসবাহ। এ বিভাগের মূল কার্যক্রম ছিলো মানুষকে সৎ কাজের আদেশ করা এবং অসৎ কাজ থেকে নিষেধ ও সচেতন করা। এই বিভাগের কার্যক্রম ও কর্মসূচি বৃদ্ধি পাওয়ার সাথে সাথে সমাজে সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজ থেকে নিষেধের পাশাপাশি সাধারণ মুসলমান উনাদের জন্য এ বিভাগে অনেক কল্যাণকর বাস্তবিক কার্যধারার সূচনা হয়। সামাজিক আরও অনেক বিষয় এ বিভাগের দায়িত্বে যুক্ত হয়। যেমন: সড়ক ও জনপথ পরিষ্কার রাখা, কোনো নিরীহ পশুর উপর সাধ্যাতীত কোনো বোঝা চাপিয়ে না দিয়ে তার প্রতি রহম করা, পাত্র ঢেকে রাখার মাধ্যমে স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা, শিক্ষাপ্রদান করতে গিয়ে শিক্ষকগণ যেন কোমলমতি শিশুদের মাত্রাতিরিক্ত প্রহার না করেন তা নিশ্চিত করা, কেউ শরাবের দোকান খুলেছে কিনা, মদ পান করেছে কিনা, নারীরা বেপর্দায় বের হচ্ছে কিনা সে বিষয়ে নজরদারী করা।
মোটকথা, সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টি করা, চারিত্রিক স্থলন প্রতিরোধ করা এবং সামাজিক উন্নতি-অগ্রগতি বজায় রাখাই ছিলো এ বিভাগের প্রধান কাজ। শুধু তাই নয়, অর্থনৈতিক বিষয়গুলোতে নজরদারি করাও ছিলো এ বিভাগের অন্যতম দায়িত্ব। কারণ সম্মানিত খিলাফত মুবারক উনার সময়ে বিশ্বব্যাপী বিজয়াভিযানের ফলে লাখ লাখ নগর, ভূখন্ড মুসলমান উনাদের আওতাভুক্ত হয়ে পড়ে। সেই সাথে বাড়তে থাকে নানা পেশাজীবি ও ব্যবসায়ী শ্রেণীর আনাগোনা। এই বিভাগের মৌলিক দায়িত্ব ছিলো কর্ম, শিল্পব্যবসা ও লেনদেনে প্রতারণা প্রতিরোধ করা। বিশেষত ওজন ও মাপদ-ের পরিমাপ ও বিশুদ্ধতা যাচাই করা।
বিশেষভাবে উল্লেখ্য, আমিরুল মু’মিনীন, সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনিও সম্মানিত মুহতাসিব হিসেবে দায়িত্ব মুবারক পালন করেছেন। মানুষকে সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজ থেকে বিরত থাকতে বলতেন। সত্য ও ন্যায়ের পথে অবিচল থাকতে মানুষকে উৎসাহ মুবারক দিতেন। তিনি উনার লাঠি মুবারক নিয়ে প্রতিদিন বের হতেন। প্রতারণা ও দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির সাথে জড়িতদের ওই লাঠি মুবারক দিয়ে শাসন করতেন এবং পরবর্তীতে মুহব্বতের সাথে বুঝিয়ে বলতেন। (অসমাপ্ত)
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
বিধর্মীরা যতটুকু সভ্যতা পেয়েছে তা মুসলিম শাসনামলেই আর বর্বরোচিত প্রথাসমূহ বন্ধ করেছিলেন মুসলিম শাসকরাই
১১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার স্বর্ণালী যুগের নিরাপত্তা বিভাগের ইতিহাস (৪)
১১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
বিখ্যাত মুসলিম পর্যটক ইবনে বতুতার বর্ণনায় বাংলাদেশ
০৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
উপমহাদেশে ব্রিটিশবিরোধী সুফি, ফকীর-দরবেশ বিদ্রোহের ইতিকথা
০১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
বন্দর দখলদার, নব্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী, বিশ্ব সন্ত্রাসী ইহুদী দস্যুদের দোসর ডিপি ওয়ার্ল্ড এর পরিচিতি এবং উদ্দেশ্য (২)
৩১ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
বর্তমানে দেশকে উন্নত করতে হলে দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ উত্তোলনের বিকল্প নেই (২)
২৮ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার স্বর্ণালী যুগের নিরাপত্তা বিভাগের ইতিহাস (৩)
২৮ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
বর্তমানে দেশকে উন্নত করতে হলে দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ উত্তোলনের বিকল্প নেই (১)
২৭ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
শুধু স্পেন নয় ফিলিপাইনও ছিলো মুসলিম অধ্যুষিত, শাসিত বর্তমানে ফিলিপাইন হতে পারতো খ্রিস্টানের পরিবর্তে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ
২৬ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মুসলমানদের ক্ষমতা হারানোর কারণ: জ্ঞান চর্চা থেকে দূরে সরে আসা (২)
২২ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার স্বর্ণালী যুগের নিরাপত্তা বিভাগের ইতিহাস (২)
২১ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত ইসলামী ইতিহাসের স্বর্ণালী পুলিশ বিভাগের ইতিহাস (১)
১৪ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)












