বর্তমানে দেশকে উন্নত করতে হলে দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ উত্তোলনের বিকল্প নেই (১)
, ০৭ শাবান শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ২৯ ছামিন, ১৩৯৩ শামসী সন , ২৭ জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রি:, ১৩ মাঘ, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) ইতিহাস
বর্তমানে বাংলাদেশকে যদি উন্নত করতে হয়, তবে দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ উত্তোলন করতে হবে। পৃথিবীর অনেক দেশ নিজস্ব সম্পদ উত্তোলন করে অর্থনৈতিকভাবে উন্নত হয়ে গেছে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো এর সবচেয়ে বড় উদাহরণ। তেল, গ্যাস বিক্রি করে তারা এখন বিশ্বের অন্যতম ধনী। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, বাংলাদেশে প্রচুর প্রাকৃতিক সম্পদ থাকার পরও আমরা সেগুলো উত্তোলন করতে পারছি না। নিজেদের প্রয়োজন মেটাচ্ছি বিদেশ থেকে আমদানি করা সম্পদ দিয়ে। ফলে আমরা অর্থ সংকটেই থেকে যাচ্ছি।
বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সম্পদ উত্তোলনের বিপক্ষে সবচেয়ে বড় যুক্তি হচ্ছে পরিবেশ দূষণ। লক্ষ্য করে দেখবেন, দেশের কোন প্রাকৃতিক সম্পদ উত্তোলন করতে গেলেই কিছু এনজিও বা গোষ্ঠী এসে বাধা দিয়ে বলবে, প্রাকৃতিক সম্পদ উত্তোলন করলে পরিবেশ দূষণ হবে। দেখা যায়, এসব এনজিও বা গোষ্ঠীর পেছনে বৈদেশিক ফান্ডিং থাকে। অথচ নিজ দেশের সম্পদ উত্তোলন না করে আপনি যখন নিজ দেশের প্রয়োজন বিদেশ থেকে আমদানি করে মেটাবেন, তখন তারা কিন্তু কিছু বলবে না। অর্থাৎ ঐ এনজিও বা গোষ্ঠীটি দেশের সম্পদ উত্তোলনের বিপক্ষে কিন্তু বিদেশ থেকে আমদানির পক্ষে। অথচ পরিবেশের কিন্তু দেশ-সীমা নেই। পরিবেশ কথা যদি চিন্তা করতেই হয়, তবে যে কোন দেশ থেকে আমদানি করার বিরোধীতা করা উচিত। কারণ তাদেরও তো পরিবেশ ধ্বংস হওয়ার কথা। কিন্তু ঐ বিশেষ গোষ্ঠীটি তা করে না।
আসলে বর্তমানে যে কোন পরিবেশবাদী বয়ান (হধৎৎধঃরাব) পেছনে যতটা না পরিবেশগত স্বার্থ থাকে, তার থেকে বেশি থাকে ভিন্ন কোন স্বার্থ। বিশেষ করে একপক্ষ অন্যপক্ষকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে এসব পরিবেশবাদী বয়ান (হধৎৎধঃরাব) দেয়। যেমন, ধরুন ‘বেলা’ নামক একটি বিদেশী পদদপুষ্ট এনজিও পরিবেশের কথা বলে সিলেট বিভাগ থেকে পাথর ও বালু উত্তোলন বন্ধ করার জন্য কাজ করছে। কিন্তু সিলেটে পাথর উত্তোলন বন্ধ করলেও তো বিভিন্ন নির্মাণ কাজে পাথরের প্রয়োজন আছে। সেই পাথর আমদানি করা হচ্ছে ভারত বা ভুটান থেকে। ফলে সেখানকার ব্যবসায়ীরা উপকৃত হচ্ছে। আবার দেশের বাইরে থেকে আমদানি করা মানেই ডলার ব্যবহার। আমরা জানি ফিয়াট কারেন্সি মার্কিন ডলারের দাম নির্ভর করে চাহিদা-যোগানের উপর। আমেরিকা বিশ্বজুড়ে প্রচুর খরচ করে, বিশেষ করে ইসরাইল-ইউক্রেন যুদ্ধে আমেরিকা খরচ করছে। কিন্তু সেই খরচ মেটাতে গিয়ে আমেরিকার ডলারের দাম নেমে যাওয়ার কথা। কিন্তু সেই নেমে যাওয়া বন্ধ করতে আমেরিকা চাইবে ডলারের চাহিদা অব্যাহত রাখা। আর সেই চাহিদা বজায় থাকবে, যখন আমরা প্রচুর পরিমাণে বিদেশ থেকে আমদানি করবো। আমরা যদি আমদানি বন্ধ করে দিতাম, তবে ডলার তার মূল্যমান ঠিক রাখতে পারতো না। অর্থাৎ আমরা দেশের সম্পদ উত্তোলন না করে যত বিদেশ থেকে আমদানি করবো, তত আমরা অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল হবো এবং আমেরিকা তত অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী হবে, যা টিকিয়ে রাখবে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদকে।
আবার প্রতিনিয়ত ভারতের মেঘালয় থেকে প্রাকৃতিকভাবে পাথর ও পলি এসে সিলেটের নদীগুলো ভরাট করে দিচ্ছে। পাথর বা বালু উত্তোলন বন্ধ থাকায় সিলেটের নদীগুলো নাব্যতা হারাচ্ছে। এতে বর্ষাকালে ভারত থেকে সামান্য ঢল নেমে আসলেই নদী উপচে বন্যা ঘটে। ২০২২ সালে সিলেট বিভাগে যে ভয়াবহ বন্যা হয়, তার অন্যতম কারণ ছিলো নদী থেকে পাথর বা বালু উত্তোলন বন্ধ করা। অর্থাৎ পরিবেশবাদীরা পরিবেশের কথা বলে পাথর উত্তোলন বন্ধ করলেও বাস্তবে পাথর উত্তোলন না করাই ছিলো সিলেট বিভাগের পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর।
আবার বাংলাদেশে প্রচুর পরিমাণে কলয়া সম্পদ রয়েছে। কিন্তু সেই কয়লাও উত্তোলন করতে দেয়া হয় না। বাংলাদেশে কয়লা সম্পদ উত্তোলন বন্ধ হয় ২০০৬ সালের ২৬ আগস্ট দিনাজপুরের ফুলবাড়িয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে। যেখানে বামপন্থী পরিবেশবাদীরা পুলিশের সাথে মারামারি বাধায়। পুলিশের গুলিতে সেই সময় ৩ জন নিহত এবং ২০০ জন আহত হয়। এই ঘটনাকে পূঁজি করে বাংলাদেশের কয়লা উত্তোলন প্রায় নেই করে দেয়া হয়। বর্তমানে বাংলাদেশে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে প্রচুর পরিমাণে কয়লা লাগে, যার প্রায় পুরোটাই আমদানি করা হয় বিদেশ থেকে। অথচ ইউরোপ-আমেরিকা-চীন-ভারত নিজ দেশের কয়লা দিয়ে ভালোভাবেই চলছে। তাদের পরিবেশের কোন ক্ষতি হয় না। ক্ষতি হয় শুধু বাংলাদেশের পরিবেশের।
উল্লেখ্য, পৃথিবীর সবচেয়ে বড় কয়লা খনি ধরা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াইয়োমিং এর নর্থ অ্যান্টিলোপ রোশেলের কয়লা খনিকে। সেখানে কয়লার উত্তোলনযোগ্য মজুদ ১৭০ কোটি টন। অপরদিকে, বাংলাদেশের জয়পুরহাটের জামালগঞ্জে সম্ভাব্য কয়লার মোট মজুদ ৫৫০ কোটি টন। এর এক-তৃতীয়াংশও যদি উত্তোলন করা যায়, তবে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় কয়লা মজুদ রয়েছে এক জয়পুরহাটের জামালগঞ্জেই, দেশের বাকি কয়লা খনিগুলো তো রয়েই গেলো। আরো উল্লেখ্য করার মত বিষয় হচ্ছে, বাংলাদেশের কয়লা পৃথিবীর যে কোন দেশের কয়লা থেকে উন্নত। যেমন- জামালগঞ্জের কয়লার ক্যালোরিফিক ভ্যালু বা শক্তি উৎপাদনক্ষমতা ১২ হাজার ১০০ বিটিইউ/পাউন্ড। এ ধরনের কয়লার গঠন শুরু পারমিয়ান যুগে (২৫ কোটি বছর আগে)। অত্যন্ত উচ্চমানের এ কয়লায় সালফারের পরিমাণ খুবই সামান্য। ফলে এ কয়লা ব্যবহারে পরিবেশদূষণ কম হবে। (তথ্যসূত্র: বনিকবার্তা, অক্টোবর ২৯, ২০২২)
-এস হাবীব।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
বিধর্মীরা যতটুকু সভ্যতা পেয়েছে তা মুসলিম শাসনামলেই আর বর্বরোচিত প্রথাসমূহ বন্ধ করেছিলেন মুসলিম শাসকরাই
১১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার স্বর্ণালী যুগের নিরাপত্তা বিভাগের ইতিহাস (৪)
১১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
বিখ্যাত মুসলিম পর্যটক ইবনে বতুতার বর্ণনায় বাংলাদেশ
০৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
উপমহাদেশে ব্রিটিশবিরোধী সুফি, ফকীর-দরবেশ বিদ্রোহের ইতিকথা
০১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
বন্দর দখলদার, নব্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী, বিশ্ব সন্ত্রাসী ইহুদী দস্যুদের দোসর ডিপি ওয়ার্ল্ড এর পরিচিতি এবং উদ্দেশ্য (২)
৩১ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
বর্তমানে দেশকে উন্নত করতে হলে দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ উত্তোলনের বিকল্প নেই (২)
২৮ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার স্বর্ণালী যুগের নিরাপত্তা বিভাগের ইতিহাস (৩)
২৮ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
শুধু স্পেন নয় ফিলিপাইনও ছিলো মুসলিম অধ্যুষিত, শাসিত বর্তমানে ফিলিপাইন হতে পারতো খ্রিস্টানের পরিবর্তে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ
২৬ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মুসলমানদের ক্ষমতা হারানোর কারণ: জ্ঞান চর্চা থেকে দূরে সরে আসা (২)
২২ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার স্বর্ণালী যুগের নিরাপত্তা বিভাগের ইতিহাস (২)
২১ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত ইসলামী ইতিহাসের স্বর্ণালী পুলিশ বিভাগের ইতিহাস (১)
১৪ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
দেশে দেশে সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার আগমন (চীন)
১১ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার)












