সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ উনার সম্মানার্থে অনন্তকালব্যাপী আয়োজিত বিশেষ মাহফিলে আজিমুশ্বান নছীহত মুবারক:
সবকিছুতে তাকওয়া পরহেজগারীকে সবসময় প্রাধান্য দিতে হবে
, ১৬ মুহররমুল হারাম শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১৩ ছানী, ১৩৯৩ শামসী সন , ১২ জুলাই, ২০২৫ খ্রি:, ২৮ আষাঢ়, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) তাজা খবর
আল ইহসান ডেস্ক:
প্রতিদিনের ন্যায় পবিত্র সুন্নতী জামে মসজিদে অনন্তকালব্যাপী জারীকৃত সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ উনার সম্মানে অনন্তকালব্যাপী মাহফিল মুবারক ও ৯০ দিনব্যাপী বিশেষ মিাহফিল মুবারক অনুষ্ঠিত হয়। গত ১৫ই মুহররমুল হারাম শরীফ ১৪৪৭ হিজরী সাইয়্যিদুনা মামদূহ হযরত মুরশিদ কিবলা আলাইহিস সালাম তিনি বা’দ ইশা কুল-কায়িনাতের সকলের উদ্দেশ্যে বিশেষ নছীহত মুবারক করেন।
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, ৯০ দিনব্যাপী বিশেষ মাহফিল মুবারক উনার মধ্যে প্রতিযোগিতার তা’লিমী মজলিসের আজকে চতুর্থ দিন হয়ে গেলো। যারা অংশগ্রহণ করে তারা কোথাও ঠেকে গেলে তাদেরকে স্মরণ করে দিলেই হয়। এরা যেহেতু সারা বছর পড়ে না, চর্চা করে না, সেজন্য ভুলে যায়। এরা সূরা শরীফও এলোমেলো পাঠ করে। সূরা শরীফ তরতীব মুতাবিক পাঠ করতে হয়। তরতীব মুতাবিক সূরা শরীফ তিলাওয়াত না করলে নামাজেও ভুল হবে। এছাড়া শাজরা শরীফ মনে হয় বছরেও পড়ে না, যার ফলে শাজরা শরীফ ধারাবাহিক বলার সময়ও এমন এলোমেলো অবস্থা। সম্মানিত পবিত্র নাম মুবারক পড়া, নসবনামা মুবারক সব জায়গায় ভুল করে। আসলে প্রত্যেকের পবিত্র ইলিম শিখার আগ্রহ থাকতে হবে। জোর করে কাউকে পবিত্র ইলিম শিখানো যায় না। আজকাল সারা দুনিয়াটাই এমন অবস্থা হয়ে গেছে।
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, মানুষ সব গাইরুল্লাহ, দুনিয়ামুখী। যার কারণে সারা দুনিয়া হতে প্রতিবছর লক্ষ-কোটি আলেম বের হলেও এরা নিজেরাই দুনিয়াদারদের সাথে মিশে একাকার হয়ে যায়। অথচ দুনিয়াদাররা কিন্তু এদের সাথে মিশে কখনো আলেম, দ্বীনদার হয়ে যায় না। এসব কথিত আলেম নামধারীরা সারাদিন আন্দোলন করে। রাস্তাঘাটে মাঠে ময়দানে এরা সারাদিন কুফরী প্রতিষ্ঠার আন্দোলন করে। সারাদিন যে তারা আন্দোলন করে, তাদের সব আন্দোলন কাফেরের পক্ষে, তাদের গোলামীর জন্যই তারা সব করে। অথচ মাদরাসা থেকে একটা কামিল পাশ আর দুনিয়াবী কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএ পাশ করা সমান মানের হলেও দেখা যায়, এমএ পাশ করা লোকটাই কোন উচ্চপদে চলে যায়, কিন্তু মাদরাসা থেকে ওই কামিল পাশ করা লোকটা যেখানে ছিলো সেখানেই রয়ে যায়। নাউযুবিল্লাহ!
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, আলেম-উলামাদের জন্য একটা ভালো ব্যবস্থা করা উচিত সেই বিষয়ে কারো কোন অনুভূতি নাই। ব্রিটিশ বেনিয়ারা যেভাবে রেখে গেলো সেভাবেই এখনো চলছে। ক্ষমতার পালাবদল হয়ে একসময় এসব আলেম-উলামা নামধারীরাও ক্ষমতার জোটে ছিলো, কিন্তু তারাও কতটুকু কি করলো। আলেম-উলামাদের জন্য স্থায়ীভাবে কিছুই তারা করেনি। যারা দুনিয়াবী শিক্ষা শিখে এত এত পদে যেতে পারে তাহলে দ্বীনি শিক্ষা লাভ করে কেনো ভালো পদে যেতে পারবে না। আসলে তারা আলেম হয় রছম রেওয়াজ। সেজন্যই এই অবস্থা। মাদরাসা শিক্ষার উন্নতি হওয়া দরকার, কিভাবে মাদরাসা শিক্ষা উন্নত করা হবে, তারা সেটা নিয়ে কথা বলে না। অথচ তাদের জেনে রাখা উচিত, যখন পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ মাদরাসাগুলোতে আরো ভালোভাবে শিখানো হবে, তখনই মাদরাসা শিক্ষা উন্নত হওয়া সম্ভব। এরপর মাদরাসা হতে ফারেগ হলে কি করতে হবে সেটার একটা সুন্দর ব্যবস্থা করে রাখা জরুরী ছিলো। এছাড়া সমস্ত মসজিদের খতীব ইমাম মুয়াজ্জিন ও খাদেম তাদেরকেও সরকারী ভাতা দেয়া উচিত। ছোট বড় মসজিদ অনুযায়ী প্রত্যেককে সম্মানজনক পদ দেয়া উচিত এবং সরকারীভাবে ভাতা দেয়া উচিত। ইসলামিক ফাউন্ডেশন যতটুকু পয়সা দেয় সেটা একপ্রকার না দেয়ার মতোই।
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, মুসলমানদের উচিত ছিলো, সবার দ্বীনি শিক্ষায় শিক্ষিত হওয়া। এখন দ্বীনি শিক্ষাতো দূরের কথা এরা দ্বীনের কোন ফিকিরও করে না। যারা কথিত দ্বীনদার আর কথিত দুনিয়াদার রয়েছে তাদের সবার চাওয়া পাওয়া একই হয়, অর্থাৎ প্রত্যেকেই কঠিন দুনিয়াতালাশী হয়। নাউযুবিল্লাহ! চীন রাশিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তাদের নাস্তিক্যবাদী ধর্ম ঠিকই পালন করা হয়, এমনকি সেগুলো পাঠ্য হিসেবে পড়ানো হয়। কিন্তু দ্বীন ইসলাম পালনের কথা আসলেই তাদের পক্ষ থেকে আসে যতরকম বাধা। অথচ, পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ ঠিকমতো পড়লে, পড়ালে সবকিছু আরো ভালো চালানোর কথা। মাদরাসা যা আছে কম-বেশী তবে সব জায়গায় আরো বেশী মাদরাসা করা জরুরী। যারা মাদরাসা হতে ফারেগ হয় তাদের জন্য ভালো ব্যবস্থা রাখা উচিত। মূলত কাফেরদের ওয়াছওয়াছার কারণেই তারা এসব দায়িত্ব-কর্তব্যগুলো পালন করে না। এই কথাগুলো সবজায়গায় বেশী বেশী বলা উচিত।
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, যারা মসজিদ মাদরাসার দায়িত্বে থাকে তারা বেশী বেশী পবিত্র মিলাদ শরীফ মাহফিল ও ওয়াজ মাহফিল করতে পারে। একজন খতীব ইমাম মুয়াজ্জিন তাদের অনেক দায়িত্ব কর্তব্য রয়েছে। সবসময় তারা ইলমে দ্বীনের তা’লীম দিক, সেটাও কিন্তু তারা দেয় না। আসল হচ্ছে, পবিত্র ইলমে তাছাওউফ চর্চা না থাকার কারণেই মানুষ এখন মূলের থেকে সরে গেছে। পবিত্র ইলমে তাছাওউফ চর্চার মাধ্যমে অন্তরটা যদি কিছুটা ইছলাহ করা না হয়, তবে কোনদিন তারা দ্বীনি ইলিমের তা’লীম তালকীনের হাকীকী চিন্তা ফিকির করবে না। এজন্য বাদশাহ আলমগীর রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি কাউকে কোন পদ দিলে আগে হযরত ইমাম মাসুম রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার নিকট বাইয়াত গ্রহণ করিয়ে তাকে পবিত্র ইলমে তাছাওউফের সবক দিতেন। যাতে করে পদ-পদবীতে বসার পর হাকীকীভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারে। এককথায় সবকিছুতে তাকওয়া পরহেজগারীকে সবসময় প্রাধান্য দিতে হবে।
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, তাকওয়া পরহেজগারীর গুরুত¦ প্রয়োজনীয়তা নিয়ে কেউ আলোচনাও করে না। মূলত প্রত্যেক নামাযের পর বিশেষ করে যোহর নামাযের পর ইমাম খতীব যেই থাকুক না কেনো তাকেই তা’লীম তালকীন দিতে হবে। একজন মুয়াল্লিম হিসেবে প্রতিদিন সূচি করে সার্বিকভাবে তা’লীম দিতে হবে। অল্প অল্প করে আলোচনা করলে, তা’লীম দিলে আওয়ামুন্নাছ মুছল্লীরা অনেক কিছুই জেনে যাবে। যারা ছবি তোলে তখন হারাম ছবি তোলা বাদ দিবে, যারা দাঁড়ি চাঁছে দিনে তিনবার, তারাও দাঁড়ি রেখে দিবে। মোট কথা, আওয়ামুন্নাছ এর মধ্যে হালাল হারাম সব একাকার হয়ে গেছে। এর মূল কারণটাই হলো, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে কোন নিসবত নাই, যার জন্য তাদের এই অবস্থা। সেজন্য দুনিয়া আখিরাতে কামিয়াবী হাছিল করার জন্য নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিসবত কুরবত রেজামন্দি সন্তুষ্টি মুবারক হাছিল করা কতবেশী জরুরী, প্রয়োজন সেই বিষয়টির অনেক প্রচার-প্রসার, আলোচনা করা সবার জন্য এখন বেশী বেশী দরকার।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
সুন্দরবনের দস্যুবাহিনী এখন অনেকটাই ‘কোণঠাসা’
১৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
বাজারে স্বস্তি নেই, অপরিবর্তিত নিত্যপণ্যের দাম
১৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
বড় বাজেটে কৃষির হিস্যা ছোট
১৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
‘উচ্চাভিলাষী’ বাজেট, বাস্তবায়ন নিয়ে উদ্বেগ
১৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
দিল্লিতে বিজিবি-বিএসএফ বৈঠক: যৌথ সংবাদ সম্মেলন ছাড়াই শেষ
১৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
ব্যাংকঋণের ওপর সরকারি নির্ভরতা কমানোর ঘোষণা
১৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি ইহুদীবাদী ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেয়ার প্রক্রিয়া বন্ধ করার দাবীসহ ৫ দাবীতে প্রতিবাদ সমাবেশ
১৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি ইহুদীবাদী ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেয়ার প্রক্রিয়া বন্ধ করার দাবীসহ ৫ দাবীতে প্রতিবাদ সমাবেশ
১৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
বড় বাজেটে কৃষির হিস্যা ছোট
১৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সুন্দরবনের দস্যুবাহিনী এখন অনেকটাই ‘কোণঠাসা’
১৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
বাজারে স্বস্তি নেই, অপরিবর্তিত নিত্যপণ্যের দাম
১৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
ব্যাংকঋণের ওপর সরকারি নির্ভরতা কমানোর ঘোষণা
১৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার)












