রোগীর জন্য প্রয়োজনে খাদ্য আহার করার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা মহাসম্মানিত সুন্নাহ শরীফ উনার অন্তর্ভুক্ত
, ১৪ মুহররম শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ০১ ছানী, ১৩৯৪ শামসী সন , ৩০ জুন, ২০২৬ খ্রি:, ১৬ আষাঢ়, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) সুন্নত মুবারক তা’লীম
যিনি খ¦ালিক, মালিক, রব মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে রোগের আরোগ্যতা সম্পর্কে ইরশাদ মুবারক করেন-
وَإِذَا مَرِضْتُ فَهُوَ يَشْفِيْنِ.
অর্থ: “আর যখন আমি (অর্থাৎ বান্দা) রোগাক্রান্ত হই, তখন (মহান আল্লাহ পাক) তিনিই আমাকে আরোগ্য দান করেন’। (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা শু‘আরা শরীফ, সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ৮০)
উল্লেখ্য, চিকিৎসার মাধ্যম দুইটি:
(ক) পবিত্র দোয়া-কালাম ও ঝাড়-ফুঁকের মাধ্যমে।
(খ) ঔষধ গ্রহণ ও প্রয়োগের মাধ্যমে।
কেউ অসুস্থ হলে অবশ্যই তার চিকিৎসা করাতে হবে, এটাই মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার অন্তর্ভুক্ত। অসুস্থতায় চিকিৎসা না নেওয়া বা অবহেলা করা একটি মারাত্মক ভুল। রোগের প্রাথমিক আলামতগুলোকে এড়িয়ে গেলে সাধারণ রোগও জটিল আকার ধারণ করতে পারে। তাই সঠিক সময়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানো অত্যন্ত জরুরি ও মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারকও বটে।
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَت أُسَامَةَ بْنِ شَرِيكٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ أَتَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَصْحَابُهُ كَأَنَّمَا عَلَى رُءُوسِهِمُ الطَّيْرُ فَسَلَّمْتُ ثُمَّ قَعَدْتُ فَجَاءَ الأَعْرَابُ مِنْ هَا هُنَا وَهَا هُنَا فَقَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَتَدَاوَى فَقَالَ تَدَاوَوْا فَإِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ لَمْ يَضَعْ دَاءً إِلاَّ وَضَعَ لَهُ دَوَاءً غَيْرَ دَاءٍ وَاحِدٍ الْهَرَمُ
অর্থ: হযরত উসামা ইবন শারীক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা আমি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট এমন সময় আসি, যখন উনার হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা উনার চারপাশে এমন ভাবে বসে ছিলেন, যেন উনাদের মাথা মুবারকের উপর পাখী বসে আছে (অর্থাৎ অত্যন্ত আদব ও মুহব্বতের কারণে)। এরপর আমি সালাম দেই এবং বসে পড়ি। এ সময় আরবের লোকেরা এদিক-সেদিক থেকে সেখানে সমবেত হন এবং উনারা বলেনঃ ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমরা কি চিকিৎসা করাব? তিনি ইরশাদ মুবারক করলেনঃ হ্যাঁ, তোমরা রোগের চিকিৎসা করাবে। কেননা, মহান আল্লাহ পাক তিনি এমন কোন রোগ সৃষ্টি করেননি, যার চিকিৎসার জন্য ঔষধের ব্যবস্থা রাখেন নি; তবে বার্ধক্য এমন একটি রোগ যার কোন চিকিৎসা নেই। (আবূ দাউদ শরীফ, কিতাবুত তিব: পবিত্র হাদীছ শরীফ নং: ৩৮১৫)
কাজেই কেউ অসুস্থ হলে অবশ্যই তাকে চিকিৎসা করাতে হবে। সুস্থতার জন্য কিছু খাদ্য আহার করা থেকে বিরত থাকার প্রয়োজন হলে মুসলমান চিকিৎসকের পরামর্শে তা থেকে বিরত থাকবে। খাদ্যাভ্যাসে প্রয়োজনে পরিবর্তন আনবে। যা মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার অন্তর্ভুক্ত।
রোগীর খাদ্য গ্রহণে সতর্কতা সম্পর্কে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَت أُمِّ الْمُنْذِرِ بِنْتِ قَيْسٍ الأَنْصَارِيَّةِ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْها قَالَتْ دَخَلَ عَلَىَّ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَمَعَهُ حَضْرَت عَلِيٌّ عَلَيْهِ السَّلاَمُ وَ حَضْرَت عَلِيٌّ عَلَيْهِ السَّلاَمُ نَاقِهٌ وَلَنَا دَوَالِي مُعَلَّقَةٌ فَقَامَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَأْكُلُ مِنْهَا وَقَامَ حَضْرَت عَلِيٌّ عَلَيْهِ السَّلاَمُ لِيَأْكُلَ فَطَفِقَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ لِحَضْرَت عَلِيٍّ عَلَيْهِ السَّلاَمُ"مَهْ إِنَّكَ نَاقِهٌ" . حَتَّى كَفَّ حَضْرَت عَلِيٌّ عَلَيْهِ السَّلاَمُ. قَالَتْ وَصَنَعْتُ شَعِيرًا وَسِلْقًا فَجِئْتُ بِهِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ" يَا حَضْرَت عَلِيُّ عَلَيْهِ السَّلاَمُ أَصِبْ مِنْ هَذَا فَهُوَ أَنْفَعُ لَكَ".
অর্থ: হযরত উম্মু মুনযির বিনতে কায়স আনসারী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমার নিকট মহাসম্মানিত তাশরীফ মুবারক আনেন এবং সে সময় উনার সাথে ইমামুল আউওয়াল সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি ছিলেন, যিনি অসুস্থতার কারণে (বাহ্যিকভাবে) দুর্বল ছিলেন। আমাদের নিকট খেজুরের কাঁদি টানানো ছিল।
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তা থেকে খেজুর খেতে থাকেন। তখন ইমামুল আউওয়াল সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি খেজুর খাওয়ার জন্য দাঁড়ালে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেনঃ হে ইমামুল আউওয়াল সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম! আপনি তো এখনো দুর্বল, কাজেই আপনি খেজুর খাওয়া হতে বিরত থাকুন। এ কথা শুনে ইমামুল আউওয়াল সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তা খাওয়া হতে বিরত থাকেন।
হযরত উম্মু মুনযির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা তিনি বলেনঃ এরপর আমি যব ও বীটচিনি দিয়ে খাদ্য প্রস্তুত করে উনার সামনে পেশ করি। তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইমামুল আউওয়াল সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনাকে বললেনঃ হে ইমামুল আউওয়াল সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম আপনি এটা খেতে পারেন এটা আপনার জন্য উপকারী। (আবূ দাউদ শরীফ, কিতাবুত তিব: পবিত্র হাদীছ শরীফ নং: ৩৮১৬)
উপরোক্ত পবিত্র হাদীছ শরীফ থেকে স্পষ্ট হয় যে, অসুস্থতার সময় প্রয়োজনে কোন কোন খাদ্য খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হতে পারে। যা সম্মানিত শরীয়তসম্মত তো অবশ্যই। বরং মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার অন্তর্ভুক্ত বটে।
উল্লেখ্য, চিকিৎসার ক্ষেত্রে অবশ্যই মুসলমান চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে চলতে হবে। কাফির-মুশরিক চিকিৎসকের পরামর্শে কোন খাদ্য খাওয়া বাদ দেওয়া ঠিক হবে না। কেননা, তারা সব সময় অকারণে মহাসম্মানিত সুন্নতী খাদ্য ও উপকারী খাদ্য খাওয়া থেকেই বিরত থাকতে বলে। তারা সর্বাবস্থায় মুসলমানদের ক্ষতি করার চেষ্টায় লিপ্ত থাকে, তারা মুসলমানদের শত্রু। তাদের কাছে যাওয়া যাবে না।
বি:দ্র: অসুস্থ হলে হজম ক্ষমতা কমে যায়, সকল খাবার সহজেই হজম হয় না। তাই এমন খাবার বেছে নিতে হবে যা পর্যাপ্ত পরিমাণ ভিটামিনযুক্ত, স্বাস্থ্যকর, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে এবং সহজে হজমযোগ্য।
-আহমদ হুসাইন
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
খাওয়ার পর দাঁত খিলাল করা মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার অন্তর্ভুক্ত
২৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার মাধ্যমেই সর্বপ্রকার নেয়ামত মুবারক হাছিল করা সহজ ও সম্ভব
২৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
পবিত্র আশূরা শরীফ উনার গুরুত্ব- ফযীলত ও মহাসম্মানিত সুন্নতী আমল মুবারক (৭)
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পবিত্র আশূরা শরীফ উনার গুরুত্ব- ফযীলত ও মহাসম্মানিত সুন্নতী আমল মুবারক (৬)
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পবিত্র আশূরা শরীফ উনার গুরুত্ব-ফযীলত ও মহাসম্মানিত সুন্নতী আমল মুবারক (৫)
২৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পবিত্র আশূরা শরীফ উনার গুরুত্ব- ফযীলত ও মহাসম্মানিত সুন্নতী আমল মুবারক (৪)
২২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র আশূরা শরীফ উনার গুরুত্ব-ফযীলত ও মহাসম্মানিত সুন্নতী আমল মুবারক (৩)
২১ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
পবিত্র আশূরা শরীফ উনার গুরুত্ব-ফযীলত ও মহাসম্মানিত সুন্নতী আমল মুবারক (২)
২০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
পবিত্র আশূরা শরীফ উনার গুরুত্ব- ফযীলত ও মহাসম্মানিত সুন্নতী আমল মুবারক (১)
১৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
মহাসম্মানিত সুন্নত তরীক্বায় দোয়ার খাযীনাহ (৯)
১৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নতী খাবার কিছ্ছা
১৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
ফলমূল খাওয়া খাছ সুন্নত মুবারক (২)
১৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)












