খাওয়ার পর দাঁত খিলাল করা মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার অন্তর্ভুক্ত
, ২৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০:০০ এএম ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) সুন্নত মুবারক তা’লীম
মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন-
لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِيْ رَسُوْلِ اللهِ اُسْوَةٌ حَسَنَةٌ
অর্থ: “তোমাদের জন্য তোমাদের মহাসম্মানিত রসূল, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মধ্যেই রয়েছেন সর্বোত্তম আদর্শ মুবারক।” (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা আহযাব শরীফ: সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ২১)
অর্থাৎ সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সকলের জন্য সর্বোত্তম আদর্শ মুবারক। মাখলুকাতের সবার জন্যই তিনি অনুসরণীয়-অনুকরণীয়। সুবহানাল্লাহ!
সঙ্গতকারণেই উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাওয়ানেহ উমরী মুবারক জানা, বেশি বেশি আলোচনা-পর্যালোচনা করা এবং সে অনুযায়ী আমল করা সবার জন্যই আবশ্যক। হায়াত থেকে মউত পর্যন্ত চলা- ফেরা, উঠা-বসা, খাওয়া-দাওয়া সকলক্ষেত্রেই সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে অনুসরণ করতে হবে।
আহার করার পর দাঁত খিলাল করা খাছ সুন্নত মুবারকঃ
এ প্রসঙ্গে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে-
عَنْ حَضْرِتْ أبي أيوب الأنصاري رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ خَرَجَ عَلَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ حَبَّذَا الْمُتَخَلِّلُونَ مِنْ أُمَّتِي قَالُوا وَمَا الْمُتَخَلِّلُونَ يَا رَسُوْلَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ؟ قَالَ الْمُتَخَلِّلُوْنَ بِالْوُضُوْءِ وَالْمُتَخَلَّلُوْنَ مِنْ الطَّعَامِ اَمَّا تَـخْلِيْلُ الْوُضُوْءِ فَالْمَضْمَضَةُ وَالْاَسْتِنْشَاقُ وَبَيْنَ الْاَصَابِعِ. وَاَمَّا تَـخْلِيْلُ الطَّعَامِ فَمِنْ الطَّعَامِ اَنَّهُ لَيْسَ شَيْءٌ اَشَدَّ عَلَى الْمَلَكَيْنِ مِنْ اَنْ يَّرَيَا بَيْنَ اَسْنَانِ صَاحِبِهِمَا طَعَامًا وَهُوَ قَائِمٌ يُصَلِّيْ.
অর্থ: “হযরত আবূ আইউব আনছারী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সম্মানিত হুজরা শরীফ থেকে বাইরে এসে আমাদেরকে ইরশাদ মুবারক করেন, আমার উম্মতের খিলালকারীগণ কতই না উত্তম। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা সুওয়াল মুবারক করলেন, ইয়া রসূলাল্লাহ্ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! মুতাখাল্লিলুন কি? নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন, উযূ এবং খাদ্যের ক্ষেত্রে খিলালকারীগণ। উযূর ক্ষেত্রে খিলাল করা হচ্ছে মজমজা (কুলি) করা এবং ইসতিনশাক (নাকে পানি দেয়া) করা সহ অঙ্গুলীসমূহ খিলাল করা। আর আহারের পরে দাঁতে খিলাল করা। কেননা নামায আদায়ের সময় মু’মিনের দাঁতের ফাঁকে লেগে থাকা খাদ্যাংশ সঙ্গী হযরত ফেরেশতা আলাইহিমাস সালাম উনাদের নিকট অত্যন্ত কষ্টদায়ক।” (তবারানী ফিল কাবীর; তারগীব ওয়াত তারহিব ১ম খ- ১০৩ পৃষ্ঠা: পবিত্র হাদীছ শরীফ নং: ৩৩৭)
উপরোক্ত পবিত্র হাদীছ শরীফ থেকে আমরা জানতে পারলাম, আহার করার পর দাঁত খিলাল করা খাছ সুন্নত মুবারক। মু’মিনের দাঁতের ফাঁকে লেগে থাকা খাদ্যাংশ দুই কাঁধে অবস্থানকারী কিরামান-কাতিবীন হযরত ফেরেশতা আলাইহিমাস সালাম উনাদের নিকট অত্যন্ত কষ্টদায়ক। তাই, দাঁত পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে নিয়মিত খিলাল করতে হবে।
দাঁত খিলাল করার উপকারিতা:
ক) দাঁত ক্ষয় রোধ: দাঁতের ফাঁকে জমে থাকা খাদ্যকণা থেকে অ্যাসিড তৈরি হয়ে ক্যাভিটি বা ছোট ছিদ্র হতে পারে। খিলাল করলে তা দূর হয়।
খ) পাথর জমা কমানো: অনেকের দাঁতে পাথর জমে থাকতে দেখা যায়। এটি খিলাল না করার কারণে হয়ে থাকে। খিলাল দাঁতের গভীরের জমে থাকা পাথর পরিষ্কার করে, যা দাঁতের স্কেলিং করার প্রয়োজনীয়তা কমায়।
গ) মাড়ির রোগ প্রতিরোধ: খিলাল করলে মাড়ির সংযোগস্থলে জমে থাকা ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া ও প্লাক দূর হয়, যা মাড়িকে সুস্থ রাখে এবং রক্তপাত বা প্রদাহ কমায়।
ঘ) নিঃশ্বাসের দুর্গন্ধ দূর: দাঁতের ফাঁকে আটকে থাকা পচা খাবার থেকে মুখে দুর্গন্ধ হয়। নিয়মিত খিলাল করলে মুখ পরিষ্কার ও সতেজ থাকে, ফলে দুর্গন্ধ দূর হয়।
উল্লেখ্য, খিলালের পাশাপাশি খাওয়ার পর ভালোভাবে কুলি করাও মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার অন্তর্ভুক্ত, যা দাঁত পরিষ্কার ও দুর্গন্ধ দূর করতে সাহায্য করে।
সতর্কতা:
অতিরিক্ত জোরে ও ধারালো কিছু দিয়ে খিলাল করা উচিত নয়, এতে মাড়িতে জ্বালা বা ক্ষত হতে পারে এবং রক্ত নির্গত হতে পারে। সতর্কতার সাথে নিয়মিত দাঁত খিলাল করতে হবে।
মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদেরকে মহাসম্মানিত সুন্নত মুতাবিক দাঁত খিলালসহ যাবতীয় মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার আমল করার তাওফীক্ব দান করুন। আমীন!
-আহমদ হুসাইন
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছানা-ছিফত মুবারক বর্ণনা করা, খিদমত মুবারক করা, সকল হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের সম্মানিত সুন্নত মুবারক (২)
১৬ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছানা-ছিফত মুবারক বর্ণনা করা, খিদমত মুবারক করা, সকল হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের সম্মানিত সুন্নত মুবারক (১)
১৫ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
পবিত্র দ্বীনি মজলিসে বা মাহফিলে বসার মহাসম্মানিত সুন্নতী তরীক্বাহ
১৪ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
আপদ-বিপদ ও অনিষ্টতা থেকে মুক্তির জন্য ঘুমানোর পূর্বে আগুন/বাতি নিভিয়ে রাখতে হবে; যা মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার অন্তর্ভুক্ত
১৩ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পবিত্র আখিরী চাহার শোম্বাহ শরীফের গুরুত্ব-ফযীলত ও মহাসম্মানিত সুন্নতী আমল মুবারক (২)
১২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পবিত্র আখিরী চাহার শোম্বাহ শরীফের গুরুত্ব-ফযীলত ও মহাসম্মানিত সুন্নতী আমল মুবারক (১)
১১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
অনিষ্টতা থেকে হিফাযতের জন্য খাবারের পাত্র ঢেকে রাখতে হবে; যা মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার অন্তর্ভুক্ত
১০ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
প্রত্যেক মুসলমান পুরুষ-মহিলার জন্য আবশ্যক হচ্ছে, সর্বক্ষেত্রে মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক অনুযায়ী আমল করা
০৯ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ তিলাওয়াত করার গুরুত্ব-ফযীলত ও খাছ সুন্নতী তারতীব
০৮ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার অন্যতম সুমহান তাজদীদ মুবারক “সুন্নতী সামা শরীফ মাহফিল”
০৭ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
প্রতিক্ষেত্রে মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার অনুসরণ করা যেমন ফরয; অনুরূপভাবে প্রতিক্ষেত্রেই কাফির- মুশরিকদের খিলাফ করাও ফরয (২)
০৫ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
প্রতিক্ষেত্রে মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার অনুসরণ করা যেমন ফরয; অনুরূপভাবে প্রতিক্ষেত্রেই কাফির- মুশরিকদের খিলাফ করাও ফরয (১)
০৪ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












