রোযায় জরায়ু ও স্তন ক্যানসার রোগীদের করণীয়
, ১৯ রমাদ্বান শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ০৯ আশির, ১৩৯৩ শামসী সন , ০৯ মার্চ, ২০২৬ খ্রি:, ২৪ ফাল্গুন, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) পাঁচ মিশালী
রোযা রাখা মুসলমানদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং অত্যাবশ্যকীয় ফরজ ইবাদত। তবে যারা জরায়ু, ডিম্বাশয় বা স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত এবং চিকিৎসাধীন, তাদের ক্ষেত্রে শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করা জরুরি।
এ বিষয়ে গাইনি, স্ত্রী ও প্রসূতি রোগ এবং গাইনি ক্যানসার বিশেষজ্ঞ ডা. রুখসানা পারভীন জানিয়েছেন- ‘ক্যানসার রোগীর ক্ষেত্রে একক কোনো নিয়ম নেই। রোগের ধরণ, স্টেজ, চলমান চিকিৎসা, রোগীর শারীরিক সক্ষমতা সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হয়।’
কারা রোযা রাখতে পারবেন, কারা নয়?
ডা. রুখসানা পারভীন জানান, যেসব রোগী কেমোথেরাপি নিচ্ছেন, রেডিওথেরাপির মধ্যে আছেন, অস্ত্রোপচারের পর দুর্বল অবস্থায় রয়েছেন, গুরুতর রক্তস্বল্পতা বা সংক্রমণে ভুগছেন তাদের ক্ষেত্রে রোযা না রাখাই ভালো। কারণ দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকলে শরীরের শক্তি কমে যায়, ডিহাইড্রেশন হয় এবং চিকিৎসার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বেড়ে যেতে পারে।
অন্যদিকে, যেসব রোগী চিকিৎসা শেষ করে ফলোআপে আছেন এবং শারীরিকভাবে স্থিতিশীল তারা রোযা রাখবেন।
কেমোথেরাপি চলাকালে সতর্কতা:
কেমোথেরাপির সময় সাধারণত বমি ভাব, দুর্বলতা, মুখে ঘা, ক্ষুধামন্দা, পানিশূন্যতা দেখা দেয়। এ অবস্থায় শরীরে পানির ঘাটতি বাড়তে পারে, ওজন দ্রুত কমে যেতে পারে, ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে।
অস্ত্রোপচারের পর রোযা:
জরায়ু বা স্তন ক্যানসারের অস্ত্রোপচারের পর রোগীর শরীর সুস্থ হতে সময় লাগে। সেলাই শুকানো, সংক্রমণ প্রতিরোধ, রক্তস্বল্পতা কাটানো এসব প্রক্রিয়ায় পর্যাপ্ত পুষ্টি ও পানি দরকার। এ সময়ে রোযা না রেখে সুস্থ হওয়ার পর রোযা কাজা আদায় করে নেয়া ভালো। অন্যথায় সুস্থতার প্রক্রিয়া ধীর হতে পারে।
খাদ্যাভ্যাসে কি পরিবর্তন জরুরি?
* ইফতার থেকে সাহরি পর্যন্ত পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে।
* ডিম, মাছ, মুরগি, ডাল, দুধ এসব খাবার শরীরের ক্ষত সারাতে সাহায্য করে।
* ভিটামিন ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে। এসব খাবার রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
* অতিরিক্ত তৈলাক্ত ও ঝাল খাবার এড়িয়ে চলা
কখন রোযা না রাখা উচিত?
* মাথা ঘোরা বা অজ্ঞান হওয়ার অনুভূতি
* অতিরিক্ত দুর্বলতা
* প্রস্রাব কমে যাওয়া
* তীব্র বমি বা ডায়রিয়া
ক্যানসার রোগীদের অনেক সময় মানসিক চাপ, উদ্বেগ ও হতাশা থাকে। মুসলিমদের রমাদ্বান শরীফ মাসে অন্যদের সঙ্গে রোযা রাখতে না পারলে অপরাধবোধ তৈরি হতে পারে। কিন্তু এক্ষেত্রে আগে সুস্থতার দিকে মনোনিবেশ দেয়া উচিত।
জরায়ু, ডিম্বাশয় বা স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে রোযা রাখা সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত ও চিকিৎসাবিষয়ক সিদ্ধান্ত। রোগের অবস্থা ও চিকিৎসার ধরন অনুযায়ী বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
মূল কথা হলো- অতিরিক্ত অসুস্থ হলে (যে অসুস্থতায় রোযা রাখলে শারিরীক ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল) এমন ব্যক্তি ব্যতিত সাধারণ (হালকা) অসুস্থতায় রোযা ভাঙা যাবে না।
উল্লেখ্য, অতিরিক্ত স্বাস্থ্যঝুঁকি তথা অসুস্থ ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে রোযা রাখা নিয়ে সম্মানিত ইসলামে ছাড় রয়েছে। অসুস্থতার দিনগুলো রোযা না রেখে পরে কাজা করে নেয়ার নির্দেশনা রয়েছে পবিত্র কুরআন শরীফে।
ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্ট কি, উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্য কেন এগুলো গুরুত্বপূর্ণ?
পারস্য উপসাগরীয় দেশ বাহরাইন জানিয়েছে, ইরানি ড্রোন তাদের একটি পানি লবণমুক্তকরণ (ডিস্যালিনেশন) প্ল্যান্টে হামলা চালিয়েছে। চলমান যুদ্ধে গত ৯ দিনে এই প্রথম কোনো আরব দেশ অভিযোগ করলো যে, ইরান ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্ট লক্ষ্য করে হামলা করেছে। এর আগে ইরান জানিয়েছিলো, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের দক্ষিণের কেশম দ্বীপে অবস্থিত একটি ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্টে হামলা চালিয়েছে।
ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্ট হলো- এমন একটি শিল্প স্থাপনা, যা সমুদ্রের লবণাক্ত পানি থেকে লবণ, খনিজ পদার্থ এবং অন্যান্য উপাদান অপসারণ করে সুপেয় পানি উৎপাদন করে। এটি পানি সংকটপূর্ণ অঞ্চলে, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য এবং উত্তর আফ্রিকার মতো শুষ্ক অঞ্চলে পানি সরবরাহের প্রধান উৎস হিসেবে কাজ করে।
প্রধান দুটি পদ্ধতিতে পানি ডিস্যালিনেট করা হয়। সেগুলো হলো-রিভার্স অসমোসিস (আরও)। এই পদ্ধতিতে উচ্চ চাপে পানিকে অর্ধভেদ্য ঝিল্লির মধ্য দিয়ে সবেগে প্রবেশ করানো হয়, যাতে লবণ আটকে যায় এবং ৫০-৬০ পানি সুপেয় পানিতে পরিণত হয়। এই পদ্ধতিই বিশ্বের ৭০ শতাংশ ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্টে ব্যবহৃত হয়। দ্বিতীয় পদ্ধতি হলো- থার্মাল ডিস্টিলেশন। এই প্রক্রিয়ায় পানি গরম করে বাষ্পীভবন ও ঘনীভবন করা হয়। বর্তমানে বিশ্বে ২০ হাজারে বেশি ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্ট রয়েছে। এসব প্ল্যান্ট থেকে দৈনিক ১৪২ মিলিয়ন ঘনমিটার পানি পাওয়া যায়।
ডিস্যালিনেশনের ইতিহাস প্রাচীনকাল থেকে শুরু। রোমানরা সৌরশক্তি ব্যবহার করে পানি বিশুদ্ধ করতো। ১৯ শতকের শুরুর দিকে ইংল্যান্ডে থার্মাল ডিস্যালিনেশন পরীক্ষা শুরু হয়। ১৯৫০-এর দশকে কালিফোর্নিয়ায় বিশ্বের প্রথম বাণিজ্যিক রিভার্স অসমোসিস প্ল্যান্ট স্থাপিত হয়। মধ্যপ্রাচ্যে তেলসমৃদ্ধ দেশগুলো ১৯৭০-এর দশকে বড় আকারে এই প্রক্রিয়া শুরু করে। এর মধ্যে সৌদি আরবের জুবাইল প্ল্যান্ট উল্লেখযোগ্য। ১৯৮০-এর দশকে রিভার্স অসমোসিস প্রযুক্তি সস্তা হয়ে ওঠে। সন্ত্রাসী ইসরায়েলে বিশ্বের সবচেয়ে বড় রিভার্স অসমোসিস প্ল্যান্ট সোরেকস স্থাপিত হয় ২০১৩ সালে। তবে বর্তমানে সৌদি আরব ডিস্যালিনেশন প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে বেশি সুপেয় পানি-৩০ শতাংশ উৎপাদন করে।
উপসাগরীয় দেশগুলোতে প্রাকৃতিক মিঠাপানির উৎস অত্যন্ত সীমিত। এ কারণে পানির চাহিদা পূরণে তারা ব্যাপকভাবে নির্ভর করে সমুদ্রের পানি লবণমুক্ত করার প্রযুক্তির ওপর। এই প্রক্রিয়া অত্যন্ত শক্তিনির্ভর। ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্টগুলো উপসাগরীয় অঞ্চলের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
কবর খননে মিললো ২ যুগ আগে দাফন করা অক্ষত মরদেহ
০৪ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ছয় মিনিটের জন্য অন্ধকারে ডুবে যাবে সৌদি আরব
০৩ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সূর্যের বুকে লুকিয়ে থাকা রুপার সন্ধান
০৩ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মহাকাশ থেকে নীল নদের শ্বাসরুদ্ধকর ছবি শেয়ার
০২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ফল ফলাদির বৈচিত্রতা!
০২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
কদুর যত পুষ্টিগুণ
০২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
আরও ৪ নক্ষত্রের সন্ধান
০১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
ধনেপাতার পুষ্টিগুণ
০১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
যেভাবে মানুষের মস্তিষ্কে প্লাস্টিক জমা হচ্ছে
৩০ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মেক্সিকোতে ইসলামের আগমনের ইতিহাস
৩০ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
প্রতারিত বাংলাদেশি শ্রমিকরাই আজ মিশরে সফল শিল্পোদ্যোক্তা
২৯ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পৃথিবীর বয়স নিয়ে বিজ্ঞানীদের ধারণার আমূল পরিবর্তন
২৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












