মন্তব্য কলাম
রোগের খনি সাদা চিনি! বিপরীতে ব্র্যান্ডিং, যথাযথ প্রচারণার অভাবে অবহেলায় উপকারি দেশীয় লাল চিনি সরকারের উচিত, লাল চিনিকে বাজারসুলভ করে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষিত রাখা।
, ২৭ শা’বান শরীফ, ১৪৪৬ হিজরী সন, ৩০ তাসি’, ১৩৯২ শামসী সন , ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ খ্রি:, ১৩ ফালগুন, ১৪৩১ ফসলী সন, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) মন্তব্য কলাম
খাদ্যসামগ্রীর মধ্যে চিনি একটি অতীব প্রয়োজনীয় পণ্য। আমাদের দৈনন্দিন বিভিন্ন খাদ্যে চিনির প্রয়োজন পড়ে। বাংলাদেশের বাজারে প্রধানত দুই ধরণের চিনির দেখা মেলে। সাদা চিনি ও লাল চিনি। লাল চিনি মূলত দেশীয় আখ থেকে তৈরী করা।
দেশে আখের চিনি সরবরাহকারী রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান হচ্ছে বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্যশিল্প কর্পোরেশন (বিএসএফআইসি) আওতাভুক্ত ১৬টি চিনিকল। আর বিটনির্ভর আমদানিকৃত ও পরিশোধিত চিনি সরবরাহ দিচ্ছে গুটিকয়েক বেসরকারি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান। তবে রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলে উৎপাদিত চিনির চাহিদা সাম্প্রতিক সময়ে বাড়লেও এখনও সার্বিকভাবে বেসরকারি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোই ক্রেতার চাহিদার সিংহভাগ পূরণ করছে। পাশাপাশি ক্রেতা আকৃষ্টে আকর্ষণীয় মোড়ক, প্রচারণা, জনবল, বিক্রয়কেন্দ্র সবকিছুই বেশি এসব প্রতিষ্ঠানের। অপরদিকে প্রচারণা কম থাকায় এবং সার্বিকভাবে উৎপাদন ও বিক্রয়কেন্দ্র কম হওয়ায় আখের চিনিতে বাড়তি চাহিদা তৈরি হওয়ার বিষয়টি আড়ালেই থেকে যাচ্ছে।
লালচে রঙের দেশীয় চিনি স্বাস্থ্যকর হওয়া সত্ত্বেও ভুল ধারণা থেকে এড়িয়ে চলে সাধারণ ক্রেতারা। খোঁজ করা হয় বিট থেকে উৎপাদিত ঝকঝকে, মিহি দানার সাদা চিনি। কিন্তু সম্প্রতি প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের বাজারে সাদা চিনির আধিপত্য দেশবাসীর স্বার্থের জন্য হুমকি হয়ে উঠেছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেÑ পরিশোধিত চিনি দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়, দেহে খনিজ লবণের ভারসাম্য নষ্ট করে, শিশুদের বদমেজাজি, অমনোযোগী ও একরোখা করে, ডায়াবেটিকস’এর ঝুঁকি বাড়ায়, টিস্যুর স্থিতিস্থাপকতা ও কার্যক্রম কমিয়ে দেয়, ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয় বিশেষ করে স্তন, ওভারি, প্রোস্টেট ও রেকটাম, অভুক্ত অবস্থায় গ্লুকোজ লেভেল বাড়ায়, কপারের অভাব দেখা দেয়, ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম শোষণে বাধা দেয়, দৃষ্টিশক্তি কমায়, এসিডিটি তৈরি করে, অকালে বার্ধক্য আনে, এলকোহলিজমের ঝুঁকি বাড়ায়, দাঁত ক্ষয় করে, স্থূল হতে সাহায্য করে, অন্ত্রনালীর প্রদাহ বাড়ায়, গ্যাস্ট্রিক সৃষ্টি করে, অ্যাজমার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়, পিত্তথলির পাথর, হƒদরোগ, এপেনডিসাইটিস, দন্তরোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি, হাড়ক্ষয়, ইনসুলিনের প্রতি সংবেদনশীলতা হ্রাস, রক্তে ভিটামিন ই-এর পরিমাণ হ্রাস, গ্রোথ হরমোন হ্রাস, কোলেস্টেরল বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। পরিশোধিত সাদা চিনি এসব রোগ তরান্বিত করে।
পরিশোধিত চিনির ক্ষতির আরও কারণÑ এই চিনি পরিষ্কার বা সাদা করার ক্ষেত্রে ব্যবহার হচ্ছে মানুষসহ পশুপাখির হাড়ের গুঁড়া। ভারত, পকিস্তান, আফগানিস্তান, আর্জেন্টিনাসহ চিনি রপ্তানিকারক দেশগুলো হাড় ব্যবহার অন্যতম পন্থা হিসেবে বেছে নিয়েছে। ব্লিচিং এবং সালফোনেশন পদ্ধতিতে চিনি পরিশোধিত করা হয় এবং সেখানে সালফার ব্যবহƒত হয়। এই সালফার বিষাক্ত রাসায়নিক উপাদান এবং যখন চিনি বা চিনিজাতীয় যেকোনো মিষ্টিদ্রব্য গ্রহণ করা হয়, তখন এই বিষাক্ত উপাদান মানবদেহে প্রবেশ করে।
বিপরীতে লাল চিনিতে রয়েছে প্রচুর মাত্রায় ক্যালসিয়াম। যার কারণে লাল চিনি খেলে হাড় শক্তপোক্ত হয়। সেই সঙ্গে দাঁতের স্বাস্থ্যেরও উন্নতি ঘটে। ক্যাভিটি এবং ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন হওয়ার আশঙ্কাও দূর হয়। আখের অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ক্যান্সার প্রতিরোধ করে এবং শরীরের ভিতরে উপস্থিত ক্ষতিকর টক্সিক উপাদান বের করে দেয়। লিভার সুস্থ রাখে। জন্ডিসের প্রকোপ কমায়। কোষ্ঠ কাঠিন্য দূর করে। শরীরের ভিটামিনের চাহিদা পূরণ করে। আখে থাকা অ্যালকেলাইন প্রপাটিজ গ্যাস-অম্বলের প্রকোপ কমাতেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে। শরীরের মিনারেল তথা খনিজ পদার্থের চাহিদা পূরণ করে মস্তিষ্কে রক্ত প্রবাহ স্বাভাবিক রাখে, যা স্ট্রোক প্রতিরোধ করে।
প্রসঙ্গত, সাম্প্রতিক সময়ে সাধারণ ক্রেতারা কিছুটা হলেও লাল চিনির দিকে ঝুকছে। সাদা চিনির অপকারিতা সম্পর্কে সচেতন হচ্ছে। কিন্তু তা নিতান্ত্যই সামান্য। কারণ, লাল চিনিকে সরকারিভাবে উপযুক্ত ব্র্যান্ডিং করা হয় না, আকর্ষণীয় মোড়ক, ক্রেতাদের আকৃষ্ট করার জন্য মাঠপর্যায়ে আলাদা বিক্রয়কেন্দ্র ইত্যাদি প্রায় কিছুই করা হয় না। ফলে দেশীয় চিনিকে মানুষ নিম্নমানের ভেবে ক্রয় করে না। মানুষ ক্রয় করে শরীরের জন্য মহাক্ষতিকর সাদা চিনি।
এক্ষেত্রে সরকারি যদি দেশীয় চিনিকে উপযুক্ত ব্র্যান্ডিংয়ের মাধ্যমে বাজারে ছাড়ে, জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকারিভাবে ক্যাম্পিং করে তাহলে ধীরে ধীরে দেশের মানুষের সাদা চিনির ব্যবহার কমে আসবে। আর এতে যে শুধু জনস্বাস্থ্য সুরক্ষিত হবে তাই নয় পাশাপাশি দেশীয় চিনি উৎপাদনের সাথে জড়িত হাজার হাজার শ্রমিকের জীবিকা বাঁচবে, তারা তাদের শ্রমের ন্যায্য হক্ব পাবে। সম্প্রতি রাজশাহীর চিনি কলের শ্রমিকরা উৎপাদন বয়কটের ডাক দিয়েছিলো। আর এর মুখ্য কারণই ছিলো লাল চিনি বাজারে বিক্রি না হওয়া। বিক্রি না হওয়ায় তাদের বকেয়া তেমনও জমা পড়ে আছে। তাই বাজারে দেশীয় চিনির আধিপত্যে এসব শ্রমিকদেরও অধিকার রক্ষা হবে। দেশীয় চিনি শিল্প ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা পাবে।
পাশাপাশি, সরকারের উচিত হবে চিনি উৎপাদনে দেশীয় আখের ওপর গুরুত্ব প্রদান করা। বিভিন্ন অনাবাদি জমিতে আখ উৎপাদনে কৃষকদের সহায়তা করা। দেশীয় চিনি শিল্প, যেগুলো শুধু আখকে কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করছে, সেগুলো যাতে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারে তার ব্যবস্থা করা।
পাশাপাশি, সাধারণ জনগণের দায়িত্ব হবে নিজ উদ্যোগে বাজার থেকে লাল চিনি ক্রয়ে উদ্ভুদ্ধ হওয়া। দেশের মানুষ যদি লাল চিনি কিনতে চায় তাহলে এমনিতেই বাজারে চাহিদা সৃষ্টি হবে। তখন ব্যবসায়ীরাও লাল চিনি বিক্রিতে আগ্রহী হবে।
-আল্লামা মুহম্মদ ওয়ালীউর রহমান।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
মালয়েশিয়া-বাংলাদেশ সম্পোর্কোন্নয়ন কেন শুধু দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভিত্তিতে? অনন্য উচ্চতায় উঠা এ সম্পর্ক কেন ইসলামী মূল্যবোধ ও মুসলিম ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে উজ্জীবিত হবে না? (১ম পর্ব)
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
প্রতিরক্ষা আধুনিকায়ন ও কৌশলগত স্বনির্ভরতা: বাংলাদেশের ৫০ লক্ষ পদাতিক বাহিনীর জন্য ৩য় প্রজন্মের এটিজিএম রোডম্যাপ (পর্ব ৭)
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
বিশ্বে তৈরী পোশাক রফতানীতে প্রথম বাংলাদেশ কেনো তুলা আমদানীতেও প্রথম? নামে তুলা উন্নয়ন বোর্ড থাকলেও স্বাধীনতার পর থেকে আজ পর্যন্ত তুলা চাষে কোনো উন্নয়নই নেই অপার সম্ভাবনা থাকলেও দেশে তুলা উৎপাদনে সরকারী কোনো তৎপরতা নেই অথচ ১৬৫০ থেকে ১৭৫০-এই ১০০ বছরে ইউরোপীয় কোম্পানিগুলোই বাংলা থেকেই ৩ লাখ গজ থেকে ৩ কোটি গজ কাপড় রপ্তানি করেছে। এই বিপুল উৎপাদনে এই বাংলাদেশই কীভাবে তুলার যোগান দিল?
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
বিশ্বে তৈরী পোশাক রফতানীতে প্রথম বাংলাদেশ কেনো তুলা আমদানীতেও প্রথম? নামে তুলা উন্নয়ন বোর্ড থাকলেও স্বাধীনতার পর থেকে আজ পর্যন্ত তুলা চাষে কোনো উন্নয়নই নেই অপার সম্ভাবনা থাকলেও দেশে তুলা উৎপাদনে সরকারী কোনো তৎপরতা নেই
২৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
দেশের ৪ কোটি মানুষ না খেয়ে থাকে। অথচ বছরে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকার শস্য নষ্ট হয় খাদ্য অপচয় রোধ করতে ‘নিশ্চয়ই অপব্যয়কারীরা শয়তানের ভাই’- পবিত্র কুরআন শরীফ উনার এই নির্দেশ সমাজের সর্বাত্মক প্রতিফলন ব্যতীত কোনো বিকল্প নেই।
২২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
অলস জমিদারের কায়দায় বসে বসে তালুক বিক্রী করে খাওয়ার মতই জ্যামিতিক হারে ঋণ বাড়িয়ে চলছে সরকার ২০২৮-২৯ অর্থবছর ঋণের পরিমাণ দাঁড়াবে ৩৩ লাখ ৭৭ হাজার ৬০০ কোটি টাকায়। দুর্নীতি বন্ধের পাশাপাশি উৎপাদন বাড়ানো রফতানী বৃদ্ধি ও বহুর্মুখীকরণ করার উদ্যম নেই সরকারের দেশ জাতিকে করে যাচ্ছে সুদী মহাজনদের কাছে জিম্মি ও বিক্রী।
২২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছির আলাইহিস সালাম উনার নির্দেশনা মুবারক পালনেই সফলতা। ঢাকামুখী জনস্রোত বন্ধ এবং ঢাকা শহরের প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বিকেন্দ্রীকরণ ব্যতীত অন্য কোন পদ্ধতিতে কখনোই যানজট নিরসনের স্থায়ী সমাধান হবে না (১৩)
২১ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ঋণ নির্ভর বাজেট প্রণয়ন না করে রফতানী বহুর্মুখীকরণের দ্বারা সমৃদ্ধ বাজেট প্রণয়ন খুব সহজেই সম্ভব। কাঁঠাল উৎপাদনে বাংলাদেশ প্রথম হলেও রফতানীতে তলানীতে। কাঁঠাল রফতানী করেও বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার আয় সম্ভব।
২০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
বাংলাদেশের প্রয়োজনীয় ৫০ লক্ষ সেনাবাহিনীর অপ্রতিরোধ্যকরণের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদির বিবরণ (পর্ব ৬)
১৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
বাংলাদেশের প্রয়োজনীয় ৫০ লক্ষ সেনাবাহিনীর অপ্রতিরোধ্যকরণের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদির বিবরণ (পর্ব- ৫)
১৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
“বাংলাদেশের ওষুধ রফতানি হচ্ছে ১৪০টির বেশি দেশে”- গত পরশু (৮ই জুন) এই বিবৃতি দেয়া স্বাস্থ্যমন্ত্রী কী ভেবে দেখবেন মার্কিনীদের সাথে করা গোলামী চুক্তিতে তার এই উচ্ছাস পুরোটাই গভীর এবং চরম-পরম উৎকণ্ঠায় পর্যবসিত হয়েছে মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি বাংলাদেশের ওষুধশিল্পের জন্যও মহা ধ্বংস প্রক্রিয়া বাংলাদেশের ৫১ কোটি নাগরিকের নিরাপত্তা নির্মূলীকরণ প্রক্রিয়া। মহা আত্মঘাতী, সর্বনাশী, দেশের সার্বভৌমত্ব বিক্রিকারী এ চুক্তি অবিলম্বে বাতিল করতে হবে (২য় পর্ব)
১৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
বাংলাদেশের মহাকাশ প্রতিরক্ষা কৌশল: ৫০ লক্ষাধিক বহরের সমন্বিত বাহিনীর জন্য কৃত্রিম উপগ্রহ প্রযুক্তির রূপরেখা (পর্ব-৪)
১৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)












