মৃত ব্যক্তির কবরে তালক্বীন দেয়ার গুরুত্ব-ফযীলত মুবারক এবং খাছ সুন্নতী তারতীব মুবারক-৪
, ০৬ ছফর শরীফ, ১৪৪৫ হিজরী সন, ২৪ ছালিছ, ১৩৯১ শামসী সন , ২৩ আগস্ট, ২০২৩ খ্রি:, ০৮ ভাদ্র শ্রাবণ, ১৪৩০ ফসলী সন, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) সুন্নত মুবারক তা’লীম
وكيفيته أن يقال يا فلان ابن فلان أذكر دينك الذي كنت عليه في دار الدنيا بشهادة أن لا إله إلا الله وأن محمدا رسول الله صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
অর্থ: তালক্বীন করার নিয়ম হলো- কোনো একজন, মৃত ব্যক্তিকে উদ্দেশ্য করে বলবে-
“হে অমুকের সন্তান অমুক” (তুমি এই সময় স্বরণ করো/বলো) দুনিয়ায় থাকাকালীন অবস্থায় তুমি যার উপর কায়িম ছিলে অর্থাৎ মহান আল্লাহ্ পাক তিনি ব্যতীত কোন মা’বুদ নেই, আর অবশ্যই আখিরী রসূল, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। (মারাকিউল ফালাহ বি ইমদাদিল ফাত্তাহ শরহে নূরুল ইযাহ ওয়া নাজাতিল আরওয়াহ ১/২২৪)
তালক্বীন দেয়া প্রসঙ্গে কিতাবে আরো বর্ণিত রয়েছে যে, মৃতের দাফনের পরে তার কোন পরহেযগার আত্মীয় বা বন্ধু তার বক্ষ বরাবর দাঁড়িয়ে নিম্নোক্ত দোয়া তালক্বীন করবে-
يا عبد الله قل اشهد ان لا اله الا الله وان محمدا رسول الله صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ان الجنة حق والنار حق والبعث حق وان الساعة اتية لا ريب فيها وان الله يبعث من فى القبور وقل رضيت بالله ربا وبالاسلام دينا وبمحمد صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نبيا وبالقران اماما وبالكعبة قبلة وبالمؤمنين اخوانا.
অর্থ: “হে মহান আল্লাহ্ পাক উনার বান্দা! তুমি বলো, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মহান আল্লাহ্ পাক তিনি ব্যতীত কোন ইলাহ্ (মা’বুদ) নেই। আর নিশ্চয়ই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহান আল্লাহ্ পাক উনার রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। নিশ্চয়ই জান্নাত সত্য, জাহান্নাম সত্য, মৃত্যুর পর পুনরুত্থান সত্য। আর নিশ্চয়ই ক্বিয়ামত সংঘটিত হবেই এতে কোন প্রকার সন্দেহ নেই; এবং নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ্ পাক তিনি কবরবাসীকে উঠাবেন।
সুতরাং তুমি বলো, আমি মহান আল্লাহ্ পাক উনাকে রব হিসেবে, পবিত্র ইসলাম উনাকে দ্বীন হিসেবে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে মহাসম্মানিত নবী ও রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হিসেবে, মহাসম্মানিত মহাপবিত্র কুরআন শরীফ উনাকে পথ প্রদর্শক হিসেবে, মহাপবিত্র কা’বা শরীফ উনাকে ক্বিবলা হিসেবে এবং মু’মিনগণকে ভাই হিসেবে সন্তুষ্ট চিত্তে মেনে নিয়েছি। (আল আযকারুন নবুবিয়্যাহ)
কিতাবে আরো বর্ণিত রয়েছে-
يا عبد الله قل الله ربى ومحمد صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نبى والاسلام دينى والقران امامى والكعبة قبلتى والمؤمنون اخوانى وانا اشهد ان لا اله الا الله وحده لاشريك له واشهد ان محمدا عبده ورسوله.
অর্থ: “হে মহান আল্লাহ্ পাক উনার বান্দা! তুমি বলো, মহান আল্লাহ্ পাক তিনি আমার রব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আমার সম্মানিত নবী ও রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সম্মানিত ইসলাম আমার দ্বীন, মহাসম্মানিত মহাপবিত্র কুরআন শরীফ আমার পথ প্রদর্শক, মহাপবিত্র কা’বা শরীফ আমার ক্বিবলা এবং মু’মিনগণ আমার ভাই। আর আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মহান আল্লাহ্ পাক তিনি ব্যতীত কোন ইলাহ্ (মা’বুদ) নেই, তিনি একক, উনার কোন শরীক নেই এবং আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, নিশ্চয়ই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহান আল্লাহ্ পাক উনার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাবীব ও রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।” (মাওয়াহিবুল জালীল লি শারহি মুখতাছিরুল খলীল)
হাফিযুল হাদীছ মুহম্মদ ফজলুল হক্ব
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
মুছাফাহা করা মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক। যা গুনাহ মাফের মাধ্যম
৩১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
খেজুর ও তরমুজ একত্রে খাওয়া খাছ সুন্নত মুবারক
৩০ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র শাওওয়াল শরীফ মাসে ৬টি রোযা রাখা খাছ সুন্নত মুবারক এবং বেমেছাল ফযীলত মুবারক লাভের মাধ্যম (৪)
২৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
পবিত্র শাওওয়াল শরীফ মাসে ৬টি রোযা রাখা খাছ সুন্নত মুবারক এবং বেমেছাল ফযীলত মুবারক লাভের মাধ্যম (৩)
২৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
পবিত্র শাওওয়াল শরীফ মাসে ৬টি রোযা রাখা খাছ সুন্নত মুবারক এবং বেমেছাল ফযীলত মুবারক লাভের মাধ্যম (২)
২৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পবিত্র শাওওয়াল শরীফ মাসে ৬টি রোযা রাখা খাছ সুন্নত মুবারক এবং বেমেছাল ফযীলত মুবারক লাভের মাধ্যম (১)
২৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পবিত্র ঈদুল ফিতর সংক্রান্ত মহাসম্মানিত সুন্নতী আমল সমূহ (২)
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পবিত্র ঈদুল ফিতর সংক্রান্ত মহাসম্মানিত সুন্নতী আমল (১)
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পবিত্র শবে ক্বদর শরীফ পালন করার গুরুত্ব-ফযীলত ও মহাসম্মানিত সুন্নতী তারতীব
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে রোযা অবস্থায়- ইনজেকশন, ইনহেলার, স্যালাইন ও টিকা নেয়া অবশ্যই রোযা ভঙ্গের কারণ (১৫)
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র রমাদ্বান শরীফ উনার শেষ দশকে পবিত্র লাইলাতুল ক্বদর তালাশ করা খাছ সুন্নত মুবারক (৩)
১৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
পবিত্র রমাদ্বান শরীফ উনার শেষ দশকে পবিত্র লাইলাতুল ক্বদর তালাশ করা খাছ সুন্নত মুবারক (২)
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার)












