পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে রোযা অবস্থায়- ইনজেকশন, ইনহেলার, স্যালাইন ও টিকা নেয়া অবশ্যই রোযা ভঙ্গের কারণ (১৫)
, ২৬ রমাদ্বান শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১৬ আশির, ১৩৯৩ শামসী সন , ১৬ মার্চ, ২০২৬ খ্রি:, ২ চৈত্র, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) সুন্নত মুবারক তা’লীম
রেডিও থেরাপি (Radio Therapy):
রেডিও থেরাপি দেয়া হয়, সাধারণতঃ দু’টি প্রধান পদ্ধতিতে- (১) টেলিথেরাপি (Tele therapy), (২) ব্রেকি থেরাপি (Bracy therapy)। এ দু’টো পদ্ধতিতে বিশেষতঃ দু’টি রশ্মি ব্যবহৃত হয়- গামা রশ্মি (γ-ray) এবং বিটা রে (β-ray) রেডিও থেরাপিতে যে সকল তেজস্ক্রিয় পদার্থ ব্যবহৃত হয়, তাদের মধ্যে কোবাল্ট-৬০, সিজিয়াম-১৩৭, রেডিয়াম, ইররিডিয়াম, ষ্ট্রনিয়াম, ফসফরাস, ইট্রিয়াম ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। রেডিও থেরাপি এক্সরে প্রয়োগের মাধ্যমেও দেয়া হয়। তবে সেখানে অনেক উচ্চ মাত্রার এক্সরে প্রয়োগ করা হয়। এই পদ্ধতিতে রশ্মি ব্যবহৃত হয় বলে রেডিও থেরাপি প্রয়োগে রোযার কোন ক্ষতি হবে না।
মেডিসিনাল পেচ (Patch):
মেডিসিনাল পেচ সাধারণতঃ বিভিন্ন রোগের জন্য বিভিন্ন উপাদানের তৈরী হয়ে থাকে। মাথা ব্যাথা, বুকের ব্যাথা, বাতের ব্যথা এ সকল রোগের জন্য বিভিন্ন রকমের পেচ ব্যবহৃত হয়ে থাকে। উদাহরণ হিসেবে কয়েকটি পেচ নিয়ে আলোচনা করা হলো-
বুকের ব্যথা: বুকের ব্যথায় অনেক সময় হৃৎপিন্ডের কৌশিক নালী সংকুচিত হলে সেখানে রক্ত সঞ্চালন কম হয়, ফলে ব্যথা উঠে। সে ক্ষেত্রে আইসোসরবাইড-ডাইনাইট্রেট পেচ ব্যবহার করলে ব্যথা কমে যায়। কেননা কৌশিক নালী সম্প্রসারিত হয়। রক্তে ওষুধের শোষন না হলে এটা সম্ভব নয়।
বাতের ব্যথা: বাতের ব্যাথায় বেলাডোনা প্লাষ্টার যা বাতের ব্যথা এবং আরো বিভিন্ন কারণে ব্যবহৃত হয়। বেলাডোনা প্লাষ্টারে আরো লেখা হয়ে থাকে “Against pleurisy, bronchitis, cough, the affections of the throat, chest, lungs, etc. 1 or 2 plasters as the case requires are used.”
সুতরাং এ সকল পেচ ব্যবহারে রক্তে ওষুধের শোষন ঘটে। সুতরাং যদি জানা যায়, কোন পেচ ব্যবহারে রক্তে ওষুধের শোষন ঘটে, তবে রোযা ভেঙ্গে যাবে। কিন্তু যদি জানা যায় পৌঁছে না, তবে ভাঙ্গবে না। কিন্তু মূলতঃ পেচ এ কারণেই দেয়া হয়, যাতে ধীরে ধীরে রক্তে ওষুধের শোষণ ঘটে।
স্প্রে (Spray):
বাজারে বিভিন্ন রকমের স্প্রে পাওয়া যায়। বিভিন্ন কারণে বিভিন্ন রকম স্প্রে ব্যবহৃত হয়। হঠাৎ ব্যথা পেলে ব্যথা অংশে স্প্রে করলে ব্যথা কমে যায়। এ সকল স্প্রেতে সাধারণতঃ ব্যথা নাশক উপাদান থাকে। কিন্তু কিছু স্প্রে ব্যবহৃত হয় ঘাম কমিয়ে আনার জন্যে, এগুলো ব্যবহারে ঘর্মগ্রন্থি (sweat gland) সংকুচিত হয়ে আসে এবং ঘামের পরিমাণ কমে যায়। এছাড়াও রয়েছে অ্যালকোহল স্প্রে যা চেতনানাশক (Anesthesia) হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
সুতরাং যদি জানা যায়, কোন স্প্রে ব্যবহারে ওষুধ রক্তে পৌঁছে, তবে সে ধরণের স্প্রে ব্যবহারে রোযা ভেঙ্গে যাবে। কিন্তু যে সকল স্প্রে ব্যবহারে রক্তে উপস্থিতি পাওয়া যাবে না, সেরকম স্প্রে ব্যবহারে রোযার কোন ক্ষতি হবে না। শুধু সুগন্ধি স্প্রে (perfume spray) শরীরের ত্বকের কোন অংশে দিলে যদি তার প্রবেশের কোন যোগ্যতা না থাকে, তবে রোযা ভঙ্গ হবে না। কেননা অনেক স্প্রের ক্ষেত্রেই উদ্বায়ী পদার্থ থাকাতে সেটা শরীরের ত্বকে প্রবেশের পূর্বেই উড়ে যায়।
মূলকথা হলো, রক্তে যে সকল ওষুধের শোষন ঘটে, ওই সকল ওষুধ ব্যবহারে রোযা ভঙ্গ হয়ে যাবে, কারণ রক্তে ওষুধের শোষন ঘটলে তা অবশ্যই মগজে পৌঁছে যায়।
অসুস্থতার কারণে রোযা না রাখার হুকুম:
এখানে একটি বিষয় খুবই লক্ষনীয়, তাহলো- কারো যদি রোযা অবস্থায় দিনের বেলায় ইনজেকশন নেওয়ার খুব বেশী প্রয়োজন হয়ে যায়, তবে তার জন্যে রোযা না রাখার হুকুম তো শরীয়তে রয়েই গেছে। যেমন মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
وَمَنْ كَانَ مَرِيْضًا اَوْ عَلٰى سَفَرٍ فَعِدَّةٌ مِّنْ اَيَّامٍ اُخَرَ ۗ
অর্থ: “আর যদি কেউ অসুস্থ বা মুসাফির হয়, তবে অন্য সময় রোযাগুলো আদায় করবে।” (পবিত্র সূরা বাকারা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ১৮৫)
এখন কেউ প্রশ্ন করতে পারেন যে, অসুস্থতার কারণে, মুসাফির সফরের কারণে অথবা কারো রোযা অবস্থায় ইনজেকশন নেওয়ার প্রয়োজন হলো, অনুরূপ শরয়ী কোন ওজরের কারণে যদি কেউ রমাদ্বান শরীফ মাস উনার মধ্যে রোযা না রাখে এবং অন্য সময় রোযাগুলো আদায় করে নেয়, তবে কি সে রমাদ্বান শরীফ মাসের ন্যায় ফযীলত লাভ করতে পারবে?
তার জবাবে বলতে হয়- হ্যাঁ কেউ যদি অসুস্থতার কারণে, সফর অথবা শরয়ী যেকোন ওজরের কারণে রমাদ্বান শরীফ মাস উনার মধ্যে রোযা রাখতে না পারে এবং অন্য সময় রোযাগুলো আদায় করে নেয়, তবে সে রমাদ্বান শরীফ মাসের ন্যায় সকল ফাযায়িল-ফযীলত হাছিল করতে পারবে। কারণ সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার কোথাও উল্লেখ নেই যে, এরূপ ব্যক্তি রমাদ্বান শরীফ উনার ফাযায়িল-ফযীলত হাছিল করতে পারবে না।
-০-
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনাকে বিদয়াত বলা কুফরী
০৫ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার মাধ্যমেই সর্বপ্রকার নেয়ামত মুবারক হাছিল করা সহজ ও সম্ভব
০৪ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
‘আন্তর্জাতিক পবিত্র সুন্নত মুবারক প্রচার কেন্দ্র’ থেকে সকল প্রকার সুন্নতী সামগ্রী সংগ্রহ করুন
০৩ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
পাগড়ীর উপর অথবা শুধু টুপির উপর সাদা রুমাল পরিধান করা খাছ সুন্নত মুবারক (১)
৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহাসম্মানিত সুন্নত তরীক্বায় দোয়ার খাযীনাহ (৩)
৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
ইমামাহ বা পাগড়ী পরিধান করা খাছ সুন্নত মুবারক
২৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পবিত্র নামায উনার মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারকসমূহ
২৮ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
কিয়ামত পর্যন্ত মহাসম্মানিত মহাপবিত্র সুন্নত মুবারক উনার কোন পরিবর্তন-পরিবর্ধন হবে না
২৭ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
স্বভাবজাত মহাসম্মানিত মহাপবিত্র সুন্নত মুবারক
২৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
‘আন্তর্জাতিক পবিত্র সুন্নত মুবারক প্রচার কেন্দ্র’ থেকে সংগ্রহ করুন সুন্নতী জয়তুনের তেল
২৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্রতম চিকিৎসা পদ্ধতি মুবারক : হিজামা বা শিঙ্গা লাগানো (৪)
২৫ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
‘আন্তর্জাতিক পবিত্র সুন্নত মুবারক প্রচার কেন্দ্র’ থেকে সংগ্রহ করুন সুন্নতী খাবার ‘পনির’
২৫ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার)












