পবিত্র ঈদুল ফিতর সংক্রান্ত মহাসম্মানিত সুন্নতী আমল (১)
, ২৮ রমাদ্বান শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১৮ আশির, ১৩৯৩ শামসী সন , ১৮ মার্চ, ২০২৬ খ্রি:, ০৪ চৈত্র, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) সুন্নত মুবারক তা’লীম
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, পাঁচটি মহিমান্বিত রাত্রিতে বিশেষভাবে দু‘আ কবুল হয়ে থাকে। তারমধ্যে একটি রাত্রি হচ্ছে পবিত্র ঈদুল ফিতর উনার রাত্রি।
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
اِنَّ الدُّعَاءَ يُسْتَجَابُ فِىْ خَمْسِ لَيَالٍ اَوَّلُ لَيْلَةٍ مِّنْ رَجَبَ وَلَيْلَةُ النِّصْفِ مِنْ شَعْبَانَ وَلَيْلَةُ الْقَدْرِ الْمُبَارَكَةِ وَلَيْلَتَا الْعِيْدَيْنِ.
অর্থ : “নিশ্চয়ই দোয়া পাঁচ রাত্রিতে নিশ্চিতভাবে কবুল হয়। পবিত্র রজবুল হারাম শরীফ মাস উনার পহেলা রাত্রি, পবিত্র শা‘বান শরীফ মাস উনার মধ্য রাত্রি ( পবিত্র ১৪ই শা’বান শরীফ দিবাগত রাত্রি), পবিত্র ক্বদর শরীফ উনার রাত্রি এবং দুই পবিত্র ঈদ (পবিত্র ঈদুল ফিতর ও পবিত্র ঈদুল আদ্বহা) উনাদের দুই রাত্রি।” (মা ছাবাতা বিসসুন্নাহ, আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলাতি)
কাজেই উক্ত রাত্রিতে সকলের উচিত সারা রাত সজাগ থেকে বিশেষভাবে তওবা-ইস্তিগফার করা, ইবাদত-বন্দেগী করা- যেরূপ পবিত্র শবে বরাত, পবিত্র শবে ক্বদরে করা হয়ে থাকে।
এ রাতটি ইবাদত-বন্দেগীতে কাটানোর ফযীলত সম্পর্কে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ أَبِيْ أُمَامَةَ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ قَامَ لَيْلَتَيْ الْعِيدَيْنِ مُحْتَسِبًا لِلَّهِ لَمْ يَمُتْ قَلْبُهُ يَوْمَ تَمُوتُ الْقُلُوبُ.
অর্থ: “হযরত আবূ উমামা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, যে ব্যক্তি ইখলাছের সাথে পবিত্র ঈদের রাতে জাগ্রত থেকে ইবাদতে কাটাবে; যেদিন (ক্বিয়ামতের দিন) অন্য সমস্ত দিল মরবে, সেদিন তার দিল মরবে না।” সুবহানাল্লাহ! (ত্ববারানী শরীফ)
পবিত্র ঈদুল ফিতর উনার হুকুম-আহকাম
“ঈদ” অর্থ খুশি, আনন্দ। পবিত্র রমাদ্বান শরীফ উনার এক মাস রোযা উনার পর পবিত্র শাওওয়াল শরীফ মাস উনার প্রথম তারিখ দিনটি মুসলিম উম্মাহর জন্য খুশির দিন হিসেবে মহান আল্লাহ পাক তিনি ও উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা বান্দা-বান্দি ও উম্মতকে হাদিয়া করেছেন। সুবহানাল্লাহ!
সর্বপ্রথম ফজর নামায আদায়ের পর গোসল করে, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন জামা কাপড় পরে আতর-সুরমা মেখে খুব সকাল সকাল ঈদগাহে গিয়ে পবিত্র ঈদুল ফিতর উনার দু'রাকায়াত নামায আদায় করার মধ্য দিয়েই এই ঈদ শুরু হয়। নামায শেষে মুছাফাহা-মুআনাকা করে পরস্পরে কুশল বিনিময় করে, যথাসাধ্য ভাল খাদ্য খেয়ে এদিন মু’মিন-মুসলমান উনারা পবিত্র ঈদ উদযাপন করে থাকেন।
পবিত্র ঈদুল ফিতর উনার দিন বেজোড় সংখ্যক খুরমা-খেজুর খেয়ে তাকবীর বলতে বলতে এক রাস্তা দিয়ে ঈদগাহে যাওয়া এবং ফেরার সময় অন্য রাস্তা দিয়ে বাড়িতে আসা খাছ সুন্নত মুবারক।
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, পবিত্র ঈদুল ফিতর উনার নামায আদায় করে ফিরার পথে হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা রাস্তার মোড়ে মোড়ে দাঁড়িয়ে রোযা পালনকারী ব্যক্তিকে এই বলে ইাস্তকবাল জানাতে থাকেন যে, “হে মহান অল্লাহ পাক উনার বান্দা! আপনাদেরকে ক্ষমা করা হলো। আপনাদের গুণাহ-খতা মাফ করা হলো। আপনাদেরকে কবুল করা হলো।” সুবহানাল্লাহ!
পবিত্র ঈদুল ফিতর উনার নামায আদায় করার সম্মানিত সুন্নতী ওয়াক্তঃ
সকাল বেলা সূর্য পূর্ণভাবে উদিত হওয়ার পর থেকে (অর্থাৎ মাকরূহ ওয়াক্ত শেষ হওয়ার পর থেকে অথবা সূর্য উদয়ের শুরু থেকে ঘড়ির মিনিট অনুযায়ী ২৩ মিনিট পর) পবিত্র ঈদ উনার নামাযের ওয়াক্ত শুরু হয়। আর শরয়ী অর্ধদিন বা দ্বিপ্রহর অর্থাৎ সূর্যের ইস্তাওয়া আরম্ভ হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত পবিত্র ঈদ উনার নামাযের ওয়াক্ত থাকে।
সূর্য পূর্ণভাবে উদিত হওয়ার পর থেকে অর্থাৎ মাকরূহ ওয়াক্ত যা ঘড়ির হিসাব অনুযায়ী ২৩ মিনিট অতিক্রম হওয়ার পূর্বে পবিত্র ঈদ উনার নামায আদায় করলে নামায হবে না এবং যুহরের নামাযের ওয়াক্ত হওয়ার পূর্বের ১ ঘন্টা যা মাকরূহ ওয়াক্ত নামে পরিচিত অর্থাৎ দ্বিপ্রহর আরম্ভ হওয়ার পর পবিত্র ঈদ উনার নামায আদায় করলে তা আদায় হবে না। (অসমাপ্ত)
-আহমদ হুসাইন
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পবিত্র ঈদুল ফিতর সংক্রান্ত মহাসম্মানিত সুন্নতী আমল সমূহ (২)
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পবিত্র শবে ক্বদর শরীফ পালন করার গুরুত্ব-ফযীলত ও মহাসম্মানিত সুন্নতী তারতীব
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে রোযা অবস্থায়- ইনজেকশন, ইনহেলার, স্যালাইন ও টিকা নেয়া অবশ্যই রোযা ভঙ্গের কারণ (১৫)
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র রমাদ্বান শরীফ উনার শেষ দশকে পবিত্র লাইলাতুল ক্বদর তালাশ করা খাছ সুন্নত মুবারক (৩)
১৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
পবিত্র রমাদ্বান শরীফ উনার শেষ দশকে পবিত্র লাইলাতুল ক্বদর তালাশ করা খাছ সুন্নত মুবারক (২)
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
পবিত্র রমাদ্বান শরীফ উনার শেষ দশকে পবিত্র লাইলাতুল ক্বদর তালাশ করা খাছ সুন্নত মুবারক (১)
১৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পবিত্র রমাদ্বান শরীফ উনার শেষ দশকে সম্মানিত ই’তিকাফ করা খাছ সুন্নত মুবারক (২)
১০ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পবিত্র যাকাত-ফিতরা, উশর আদায়ের হুকুম আহকাম ও মহাসম্মানিত সুন্নতী তারতীব মুবারক (১)
০৭ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
ইফতার ও সাহরীতে খেজুর খাওয়া খাছ সুন্নত মুবারক (১)
০৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নতী খাবার কালোজিরা (হাব্বাতুস সাওদা) - ১
০৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
কাফির-মুশরিকদের পণ্য পরিত্যাগ করে মহাসম্মানিত সুন্নতী পণ্য ব্যবহার করতে হবে
০২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
আন্তর্জাতিক পবিত্র সুন্নত মুবারক প্রচারকেন্দ্রের সাথে সংযুক্ত-সম্পৃক্ত থাকা সকলের জন্য আবশ্যক
০১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার)












