মন্তব্য কলাম
মুসলিম শিক্ষার্থী বেশি হওয়ায় কাশ্মীরে মেডিকেল কলেজ বন্ধ ভারতে কাশ্মীরি শিক্ষার্থীদের নির্যাতনের অভিযোগ নতুন নয়। ভারতে কাশ্মিরী শিক্ষার্থীদের উপর নির্যাতনের খবর বিচ্ছিন্ন নয়।
, ২৬ রজবুল হারাম শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১৮ ছামিন, ১৩৯৩ শামসী সন , ১৬ জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রি:, ০২ মাঘ, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) মন্তব্য কলাম
অব্যাহত এবং ভয়াবহ
কাশ্মীরে স্কুলে বাধ্যতামূলক ‘বন্দে মাতারাম’- চাপানো হচ্ছে হিন্দুত্ববাদ
কাশ্মীরি ছাত্রদের বিরুদ্ধে মামলার ঘটনায় জঙ্গিদের হুমকি
ভারতে কাশ্মীরি ছাত্রকে মেয়েদের পোশাক পরিয়ে অমানবিক নির্যাতন
৩৭০ ধারা বাতিলের পর সরকারী হিসেবেই ১ মাসেই নিখোঁজ ১৩ হাজার শিশু
কাশ্মীরে সামগ্রিক নির্যাতনের পাশাপাশি বিশেষভাবে নারী-শিশু ও শিক্ষার্থীদের উপর চরম নির্যাতন করা হচ্ছে
সব মুসলিম দেশই দেখেও না দেখার ভান করছে।
কাশ্মীরীদের কান্নায় বোবা হয়ে আছে শক্তিধর সব মুসলিম দেশ। (নাউযুবিল্লাহ)
(১ম পর্ব)
কাশ্মীরে জুলুমের ইতিহাস বেশ দীর্ঘ। ১৯৪৭-এর পর থেকেই জম্মু কাশ্মীরে ভারতীয় আধিপত্য ছিল। তার সঙ্গে ছিল নানা রকম জুলুম নির্যাতন। সম্প্রতি এ জুলুম একটি চূড়ান্ত রূপ ধারণ করেছে। হিন্দুত্ববাদী মোদি সরকার আলোচিত ৩৭০ ধারা বাতিল করেছে; যে ধারার বলে কাশ্মীরের জনগণ বিশেষ কিছু স্বতন্ত্র সুবিধা পেতেন। তাদের এই স্বতন্ত্র মর্যাদা বিলুপ্ত করার জন্যই ৩৭০ ধারা বাতিল করা হয়। এর বিরুদ্ধে কাশ্মীরের জনগণ ক্ষোভ প্রকাশ করেন, প্রতিবাদ করেন, কিন্তু তার আগে থেকেই তাদেরকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। বর্তমানে কাশ্মীরী মুসলমানরা নির্যাতন ও অবরুদ্ধতার এক কঠিন জীবন যাপন করতে বাধ্য হচ্ছেন।
৩৭০ ধারা বাতিল করে কেবলমাত্র কাশ্মীরের স্বতন্ত্র মর্যাদাই ধ্বংস করেনি ভারতীয় সরকার, বরং জম্মু-কাশ্মীর এক ভাগ এবং লাদাখকে আরেক ভাগ করে কাশ্মীরকে বিভক্ত করে ফেলা হয়েছে। এরপর গোটা কাশ্মীরকে এই কেন্দ্রীয় শাসনের অধীনে নিয়ে আসা হয়েছে। অর্থাৎ ভারতে কোনো মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ রাজ্য থাকতে দিবে না তারা।
কাশ্মীরী মুসলমানদের এই কঠিন সময়ে তাদের প্রতিবেশী পাকিস্তান রাষ্ট্রটি ছাড়া অন্য কোনো মুসলিম রাষ্ট্রকেই তাদের পাশে দাঁড়াতে দেখা যায়নি। প্রভাবশালী মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর আচরণে মনে হয়েছে, কাশ্মীরীদের এ সংকট নিয়ে তাদের কোনো মাথাব্যথাই নেই। জাতিসংঘ বরাবরের মতো অনেকটা নীরব ভূমিকা পালন করছে। যদিও অনেক বছর পর জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ কাশ্মীর ইস্যুতে একটি বৈঠক করেছে, সেখানেও কোনো নিন্দা প্রস্তাব পর্যন্ত পাশ করা হয়নি। সে হিসেবে নিরাপত্তা পরিষদের এ বৈঠক কাশ্মীরীদের সংকট উত্তরণে কোনো বিশেষ পদক্ষেপ রাখতে পারছে- এমন কথা বলা যাবে না।
কাশ্মীরী মুসলমানদের এই সংকট ও নির্যাতিত অবস্থার মধ্যেই দু-একটি আরব দেশের শাসকদের কা-কারখানা দেখে পৃথিবীর দেশে দেশে মুসলমানরা আরো কষ্ট পেয়েছেন। কাশ্মীরের এই পরিস্থিতির মধ্যেই প্রথমে সংযুক্ত আরব আমিরাত, পরে বাহরাইন ভারতের মোদিকে তাদের রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদক ও সম্মাননা দিয়েছে। খবরে এসেছে, দিল্লিতে নিযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূত কাশ্মীরে ভারতের পদক্ষেপ ও নির্যাতনের পক্ষে বিবৃতিও দিয়েছে। কাশ্মীরী ভাই-বোনদের নিয়ে দুনিয়ার মুসলমানরা এমনিতেই কষ্টে আছেন। এর মধ্যে আরব রাষ্ট্রগুলোর শাসকদের এই আচরণ বিশ্বব্যাপী মুসলমানদের কাটা ঘায়ে লবন ছিটিয়ে দেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি করেছে।
কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করার পর কার্যত কাশ্মীরীরা অবরুদ্ধ আছেন। সেখানে কারফিউ জারি করে রাখা হয়েছে। মোবাইল ও ইন্টারনেট নেটওয়ার্কসহ যোগাযোগের মাধ্যমগুলো বন্ধ করে রাখা হয়েছে বা সীমিত করে দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে তাদের উপর চালানো নানা রকম নিগ্রহ-নির্যাতনের খবর প্রকাশ হচ্ছে।
এতকিছুর পরও সৌদি আরবসহ বড় বড় মুসলিম রাষ্ট্রের কারো পক্ষ থেকে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া তো দূরের কথা, কোনোরকম নিন্দাবাদ ব্যক্ত করার কথাও শোনা যায়নি। অবশ্য কোনো কোনো অমুসলিম রাষ্ট্র কাশ্মীরের সংকট নিয়ে দু-একটি কথা বলেছে। পাকিস্তানের অনুরোধে চীন ও জাতিসংঘ কিছু বক্তব্য রেখেছে। কিন্তু যেখানে মুসলিম রাষ্ট্রগুলোই নীরবতা অবলম্বন করছে সেখানে অমুসলিম দেশ এবং অমুসলিমদের দ্বারা প্রভাবিত জাতিসংঘের কাছে কী আর পদক্ষেপ আশা করা যেতে পারে!
ভারতশাসিত কাশ্মিরে একটি নবপ্রতিষ্ঠিত মেডিকেল কলেজ বন্ধ করে দিয়েছে ভারত সরকার। কলেজটির প্রথম ব্যাচে এমবিবিএস কোর্সে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের বড় অংশ মুসলিম হওয়ায় উগ্র কট্টরপন্থি হিন্দু সংগঠনগুলোর বিক্ষোভের মুখে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা বলছেন, মেধাভিত্তিক ভর্তি প্রক্রিয়াকে ধর্মের প্রশ্নে পরিণত করা হয়েছে।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা বলছে, চলতি বছরের ৬ জানুয়ারি ভারতের চিকিৎসা শিক্ষা ও পেশা তদারককারী কেন্দ্রীয় সংস্থা ন্যাশনাল মেডিকেল কমিশন (এনএমসি) রিয়াসি জেলার পাহাড়ি এলাকায় মেডিকেল ইনস্টিটিউটের (এসএমভিডিএমআই) স্বীকৃতি বাতিল করে। পির পাঞ্জাল পর্বতমালার পাদদেশে অবস্থিত এই এলাকা জম্মুর সমতল অঞ্চল ও কাশ্মির উপত্যকার মাঝামাঝি।
গত বছরের নভেম্বরে কলেজটির প্রথম এমবিবিএস ব্যাচে ভর্তি হওয়া ৫০ শিক্ষার্থীর মধ্যে ৪২ জনই ছিলেন মুসলিম। তাদের অধিকাংশই কাশ্মিরের বাসিন্দা। বাকি শিক্ষার্থীদের মধ্যে সাতজন হিন্দু ও একজন শিখ। কলেজটি একটি হিন্দু ধর্মীয় ট্রাস্টের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হলেও আংশিকভাবে সরকারি অর্থায়ন পেয়েছিল।
ভারতে সরকারি ও বেসরকারি সব মেডিকেল কলেজে ভর্তির জন্য কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষা ন্যাশনাল এলিজিবিলিটি কাম এন্ট্রান্স টেস্ট (নিট/ঘঊঊঞ) দিতে হয়। কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি এই পরীক্ষা নেয়। দেশটিতে এমবিবিএস আসন রয়েছে আনুমানিক ১ লাখ ২০ হাজার এবং প্রতি বছর প্রায় ২০ লাখ শিক্ষার্থী নিট পরীক্ষায় অংশ নেয়। সরকারি কলেজে ফি কম হলেও ভর্তি হতে নম্বরের কাট-অফ বেশি। যারা কাট-অফে পৌঁছাতে পারে না, কিন্তু ন্যূনতম যোগ্যতা অর্জন করে, তারা বেসরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তি হয়।
১৮ বছর বয়সী সানিয়া জান (ছদ্মনাম) কাশ্মিরের বারামুল্লা জেলার বাসিন্দা। নিটে উত্তীর্ণ হয়ে মেডিকেল পড়ার সুযোগ পাওয়ার স্মৃতি বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘এটা ছিল স্বপ্ন পূরণের মতো, ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন’। ভর্তি কাউন্সেলিংয়ে সানিয়া মেডিকেল ইনস্টিটিউট বা এসএমভিডিএমআই বেছে নেন। কারণ এটি তার বাড়ি থেকে প্রায় ৩১৬ কিলোমিটার দূরে। অর্থাৎ এটি কাশ্মিরি শিক্ষার্থীদের জন্য তুলনামূলকভাবে কাছাকাছি।
গত বছরের নভেম্বরে শিক্ষাবর্ষ শুরু হলে তার বাবা-মা তাকে কলেজে পৌঁছে দেন। সানিয়ার বাবা গজনফর আহমেদ (ছদ্মনাম) বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই সে মেধাবী। আমার তিন মেয়ের মধ্যে সে সবচেয়ে ভালো। মেডিকেলে ভর্তি হতে সে সত্যিই কঠোর পরিশ্রম করেছে’। কিন্তু পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায়।
গত বছরের নভেম্বরে কলেজটির প্রথম ব্যাচে শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় পরিচয় প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয় হিন্দু সংগঠনগুলো বিক্ষোভ শুরু করে। তারা মুসলিম শিক্ষার্থীদের ভর্তি বাতিলের দাবি তোলে।
বিক্ষোভকারীরা টানা কয়েক সপ্তাহ কলেজের ফটকের সামনে জমায়েত হয়ে স্লোগান দেয়। এ সময় কুখ্যাত মোদির দল বিজেপির কয়েকজন বিধায়ক কাশ্মিরের লেফটেন্যান্ট গভর্নরের কাছে আবেদন জানান, যেন কলেজটিতে শুধু হিন্দু শিক্ষার্থীদের জন্য আসন সংরক্ষণ করা হয়। মূলত লেফটেন্যান্ট গভর্নর হচ্ছেন কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়োজিত প্রশাসক।
পরবর্তী সময়ে দাবি আরও কঠোর হয়ে কলেজ পুরোপুরি বন্ধের দাবিতে রূপ নেয়। এর মধ্যেই গত ৬ জানুয়ারি এনএমসি জানায়, সরকারি নির্ধারিত ন্যূনতম মানদ- পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় কলেজটির স্বীকৃতি বাতিল করা হয়েছে। সংস্থাটির দাবি, কলেজে শিক্ষকের ঘাটতি, শয্যার হার কম, বহির্বিভাগে রোগীর সংখ্যা কম, গ্রন্থাগার ও অপারেশন থিয়েটারে ঘাটতি রয়েছে। পরদিন কলেজ পরিচালনার অনুমতিপত্রও বাতিল করা হয়।
তবে শিক্ষার্থীরা বলছেন, তারা কলেজে কোনও বড় ধরনের ঘাটতি দেখেননি। জাহান (ছদ্মনাম) নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমরা অন্য মেডিকেল কলেজও দেখেছি। অনেক কলেজে একটি ব্যাচে মাত্র একটি মৃতদেহ থাকে। এখানে চারটি ছিল এবং প্রত্যেক শিক্ষার্থী আলাদাভাবে ডিসেকশন করার সুযোগ পেয়েছে’।
রফিক (ছদ্মনাম) জানান, তার আত্মীয়রা শ্রীনগরের সরকারি মেডিকেল কলেজে পড়ে। ওদের কলেজেও এমন সুবিধা নেই, যেমনটা এখানে ছিল।
সানিয়ার বাবা বলেন, কলেজে ভর্তি করাতে গিয়ে তার কাছে সবকিছুই স্বাভাবিক মনে হয়েছিল। তার ভাষায়, ‘শিক্ষকরা সহযোগিতাপূর্ণ ছিলেন। ক্যাম্পাসে ধর্ম নিয়ে কোনও বিভাজন চোখে পড়েনি।’
জম্মুভিত্তিক রাজনৈতিক বিশ্লেষক জাফর চৌধুরী প্রশ্ন তোলেন, অবকাঠামোগত ঘাটতি থাকলে শুরুতেই কলেজকে অনুমোদন দেয়া হলো কীভাবে। তিনি বলেন, ‘ক্লাস শুরু হওয়ার পর অবকাঠামো তো উন্নত হওয়ার কথা। হঠাৎ করে ঘাটতি এলো কোথা থেকে?’
তিনি আরও বলেন, ধর্মের ভিত্তিতে ভর্তি নিয়ে হিন্দু সংগঠনগুলোর দাবি সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। কারণ ভারতে মেডিকেল কলেজে ভর্তি পুরোপুরি ধর্মনিরপেক্ষ প্রক্রিয়ায় হওয়ার কথাই ভারতের সংবিধানে থাকছে।
এদিকে শিক্ষার্থীরা কলেজ ছেড়ে বাড়ি ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছে। শিক্ষার্থী সালিম মানজুর (ছদ্মনাম) বলেন, মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ কাশ্মিরেও এমন মেডিকেল কলেজ আছে, যেখানে সংখ্যালঘু কোটায় হিন্দু শিক্ষার্থীরা ভর্তি হয়।
জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ জানান, যেসব রাজ্যে কাশ্মীরি শিক্ষার্থীদের হুমকি বা তাদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে, সেসব রাজ্যের কর্মকর্তাদের সঙ্গে তার সরকার যোগাযোগ রাখছে। এ বিষয়ে তিনি বিস্তারিত আর কিছু বলেননি।
ওমর আবদুল্লাহর দল ন্যাশনাল কনফারেন্সের (এনসি) একজন মুখপাত্র জানান, বেশ কিছু ভিডিওতে দেখা গেছে, বিভিন্ন কলেজে ও জায়গায় কাশ্মীরি শিক্ষার্থীদের হয়রানি করা হচ্ছে। এসব ভিডিও অনলাইনে ছড়িয়ে পড়েছে।
ভারতশাসিত কাশ্মীরে ভয়াবহ হামলায় ব্যাপক হতাহতের ঘটনার পর ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে কাশ্মীরি শিক্ষার্থীদের হুমকি ও হয়রানির অভিযোগ শুধু বিচ্ছিন্ন নয় বরং ভয়াবহ।
জম্মু-কাশ্মীর স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক নাসির খুইহামি জানিয়েছেন, উত্তরাখ-, উত্তর প্রদেশ ও হিমাচল প্রদেশের বিভিন্ন স্থানে কাশ্মীরি শিক্ষার্থীদের ভাড়া বাসা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের হোস্টেল ছেড়ে দিতে বলা হয়েছে।
হিমাচল প্রদেশের এক বিশ্ববিদ্যালয়ে হোস্টেলের দরজা ভেঙে শিক্ষার্থীদের হেনস্তা ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার ঘটনা ঘটেছে বলেও জানান তিনি। কাশ্মীরি শিক্ষার্থীদের ‘সন্ত্রাসী’ বলে আখ্যায়িত করা হচ্ছে।
এটি শুধু নিরাপত্তার বিষয় নয়, বরং একটি নির্দিষ্ট অঞ্চল ও পরিচয়ের ছাত্রদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত ঘৃণা ও হেয়প্রতিপন্ন করার অভিযান।
উত্তরাখ-ের রাজধানী দেরাদুনে অন্তত ২০ জন কাশ্মীরি ছাত্র হিন্দু রক্ষা দল নামে একটি উগ্র ডানপন্থি গোষ্ঠীর হুমকির মুখে বুধবার বিমানবন্দরে পালিয়ে যায়। ওই গোষ্ঠী কাশ্মীরি মুসলিম শিক্ষার্থীদের দ্রুত শহর ছাড়তে বলেছে, নইলে ভয়াবহ পরিণতির হুমকি দিয়েছে বলে অভিযোগ।
জম্মু ও কাশ্মীর স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান নাসির খুইহামি একটি ভিডিও শেয়ার করেছেন। সেখানে দেখা যায়, উত্তরাখন্ড রাজ্যে উগ্র হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠী কাশ্মীরি মুসলিম শিক্ষার্থীদের রাজ্য ছেড়ে যেতে হুমকি দিচ্ছে। না হলে তাদের শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হবে বলে ভয় দেখানো হয়।
৩৭০ ধারা বাতিলের পর
কাশ্মীরের নিখোঁজ ১৩ হাজার শিশু-কিশোরের এখনো খোজ পাওয়া যায়নি।
এক সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, ‘যে গ্রামগুলোয় আমরা গিয়েছিলাম, সেখানকার অধিকাংশ বাড়িতে ছোট ছোট ছেলে নিখোঁজ। এদের ধরে নিয়ে গিয়েছে সেনাবাহিনী ও আধা সেনা সদস্যরা। তাদের অভিভাবকরা খোঁজ নিতে গেলে তাদের বলা হচ্ছে, তিন রাজ্যের জেলে গিয়ে খোঁজ নিতে। সেখানে গেলে দেখা যাচ্ছে, জেলের বাইরের দেওয়ালে একটি তালিকা আটকানো রয়েছে, যেখানে নাম রয়েছে কাশ্মীরি অধিবাসীদের। এভাবে অগণিত কাশ্মীরি ছোট ছোট ছেলে জেলের মধ্যে রয়েছে।’
ভারতের যোজনা কমিশনের সাবেক সদস্য ও সাবেক আমলা সঈদা হামিদ ছোট থেকেই তিনি কাশ্মীরে বড় হয়েছেন। কাশ্মীরের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘কাশ্মীরের পরিস্থিতি বোঝাতে গেলে বলতে হয়, এই উপত্যকার পরিস্থিতি এখন বড় বেশি শান্ত, বড় বেশি অবসাদগ্রস্ত। সমাজের বিভিন্ন স্তরের জনগণের সঙ্গে কথা বলার পরে আমরা প্রাথমিকভাবে যে হিসাবে পেয়েছি তাতে দেখা যাচ্ছে, ৩৭০ ধারা বিলোপের পর উপত্যকা থেকে নিখোঁজ হয়েছে প্রায় তেরো হাজার নাবালক।’
তার আরও দাবি করেন, ‘আমরা জম্মু-কাশ্মীর বার অ্যাসোসিয়েশনের অফিসে গিয়ে তালা ঝুলতে দেখেছি। স্থানীয় আইনজীবীরা আমাদের জানিয়েছেন, আদালতে কোনো কাজ হচ্ছে না। কার্যত পুরো বিচারব্যবস্থাই ভেঙে পড়েছে। দেশের সংবিধানের কোনো অস্তিত্ব নেই এই উপত্যকায়। মারাত্মক ভয়, গ্লানি আর অসম্মানকে সঙ্গী করে বাঁচার জন্য রোজ লড়াই করতে হচ্ছে।’
(ইনশাআল্লাহ চলবে)
-আল্লামা মুহম্মদ ওয়ালীউর রহমান আরিফ।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
বাংলাদেশের ভূ-কৌশলগত প্রতিরক্ষা কৌশলের জরুরি রূপরেখা (পর্ব-২)
২৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
নওমুসলিমদের আইনি সুরক্ষা ও তথাকথিত ‘ডিটেনশন সেল’ উচ্ছেদের দাবি
২৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
৫০ লক্ষাধিক সেনাবাহিনীর জন্য বাংলাদেশের বাংকার নেটওয়ার্কের রূপরেখা (পর্ব ৯)
২৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মালয়েশিয়া-বাংলাদেশ সম্পোর্কোন্নয়ন কেন শুধু দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভিত্তিতে? অনন্য উচ্চতায় উঠা এ সম্পর্ক কেন ইসলামী মূল্যবোধ ও মুসলিম ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে উজ্জীবিত হবে না? (১ম পর্ব)
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
প্রতিরক্ষা আধুনিকায়ন ও কৌশলগত স্বনির্ভরতা: বাংলাদেশের ৫০ লক্ষ পদাতিক বাহিনীর জন্য ৩য় প্রজন্মের এটিজিএম রোডম্যাপ (পর্ব ৭)
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
বিশ্বে তৈরী পোশাক রফতানীতে প্রথম বাংলাদেশ কেনো তুলা আমদানীতেও প্রথম? নামে তুলা উন্নয়ন বোর্ড থাকলেও স্বাধীনতার পর থেকে আজ পর্যন্ত তুলা চাষে কোনো উন্নয়নই নেই অপার সম্ভাবনা থাকলেও দেশে তুলা উৎপাদনে সরকারী কোনো তৎপরতা নেই অথচ ১৬৫০ থেকে ১৭৫০-এই ১০০ বছরে ইউরোপীয় কোম্পানিগুলোই বাংলা থেকেই ৩ লাখ গজ থেকে ৩ কোটি গজ কাপড় রপ্তানি করেছে। এই বিপুল উৎপাদনে এই বাংলাদেশই কীভাবে তুলার যোগান দিল?
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
বিশ্বে তৈরী পোশাক রফতানীতে প্রথম বাংলাদেশ কেনো তুলা আমদানীতেও প্রথম? নামে তুলা উন্নয়ন বোর্ড থাকলেও স্বাধীনতার পর থেকে আজ পর্যন্ত তুলা চাষে কোনো উন্নয়নই নেই অপার সম্ভাবনা থাকলেও দেশে তুলা উৎপাদনে সরকারী কোনো তৎপরতা নেই
২৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
দেশের ৪ কোটি মানুষ না খেয়ে থাকে। অথচ বছরে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকার শস্য নষ্ট হয় খাদ্য অপচয় রোধ করতে ‘নিশ্চয়ই অপব্যয়কারীরা শয়তানের ভাই’- পবিত্র কুরআন শরীফ উনার এই নির্দেশ সমাজের সর্বাত্মক প্রতিফলন ব্যতীত কোনো বিকল্প নেই।
২২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
অলস জমিদারের কায়দায় বসে বসে তালুক বিক্রী করে খাওয়ার মতই জ্যামিতিক হারে ঋণ বাড়িয়ে চলছে সরকার ২০২৮-২৯ অর্থবছর ঋণের পরিমাণ দাঁড়াবে ৩৩ লাখ ৭৭ হাজার ৬০০ কোটি টাকায়। দুর্নীতি বন্ধের পাশাপাশি উৎপাদন বাড়ানো রফতানী বৃদ্ধি ও বহুর্মুখীকরণ করার উদ্যম নেই সরকারের দেশ জাতিকে করে যাচ্ছে সুদী মহাজনদের কাছে জিম্মি ও বিক্রী।
২২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছির আলাইহিস সালাম উনার নির্দেশনা মুবারক পালনেই সফলতা। ঢাকামুখী জনস্রোত বন্ধ এবং ঢাকা শহরের প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বিকেন্দ্রীকরণ ব্যতীত অন্য কোন পদ্ধতিতে কখনোই যানজট নিরসনের স্থায়ী সমাধান হবে না (১৩)
২১ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ঋণ নির্ভর বাজেট প্রণয়ন না করে রফতানী বহুর্মুখীকরণের দ্বারা সমৃদ্ধ বাজেট প্রণয়ন খুব সহজেই সম্ভব। কাঁঠাল উৎপাদনে বাংলাদেশ প্রথম হলেও রফতানীতে তলানীতে। কাঁঠাল রফতানী করেও বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার আয় সম্ভব।
২০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
বাংলাদেশের প্রয়োজনীয় ৫০ লক্ষ সেনাবাহিনীর অপ্রতিরোধ্যকরণের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদির বিবরণ (পর্ব ৬)
১৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার)












