মন্তব্য কলাম
“সর্বশক্তিমান আল্লাহ পাক উনার প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস” ব্যক্ত করার সরকারকে অবিলম্বে কুরআন শরীফে হারাম ঘোষিত শুকরের গোশত আমদানীর বাণিজ্য চুক্তি বাতিল করতে হবে ইনশাআল্লাহ।
, ২৫ যিলক্বদ শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১৪ ছানী আশার, ১৩৯৩ শামসী সন , ১৪ মে, ২০২৬ খ্রি:, ৩১ বৈশাখ, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) মন্তব্য কলাম
পবিত্র কুরআন শরীফে মহান আল্লাহ পাক তিনি চার স্থানে শূকরের গোশত খেতে নিষেধ করেছেন। মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কুরআন শরীফে বলেন- ‘নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি তোমাদের প্রতি হারাম করেছেন মৃত জীবজন্তুর গোশত, প্রবাহমান রক্ত, শূকরের গোশত এবং সেইসব জন্তু যা মহান আল্লাহ পাক ব্যতীত অন্য কারো নামে জবেহ করা হয়। (পবিত্র সূরা আল-বাক্বারা শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ১৭৩)
‘তোমাদের জন্য হারাম করা হয়েছে মৃত জন্তু, প্রবাহমান রক্ত, শূকরের গোশত, মহান আল্লাহ পাক ছাড়া অন্যের নামে যবেহকৃত পশু, আর শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মৃত জন্তু, আঘাতে মৃত জন্তু, উপর থেকে পতনের ফলে মৃত, সংঘর্ষে মৃত আর হিংস্র জন্তুর খাওয়া পশু। (পবিত্র সূরা আল মায়েদাহ শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ- ৩)
অন্যত্র মহান আল্লাহ তাআলা আরও বলেন- ‘বলুন! আমার প্রতি যে অহী মুবারক করা হয়েছে তাতে মানুষ যা আহার করে তার কিছুই নিষিদ্ধ পাই না; মৃত, প্রবাহমান রক্ত ও শূকরের গোশত ছাড়া। কারণ তা অপবিত্র অথবা মহান আল্লাহ পাক ছাড়া অন্যের নামে যবেহ করা ফাসেক্বী কাজ। (পবিত্র সূরা আল-আনয়াম শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ- ১৪৫)
মহান আল্লাহ পাক তিনি আরও বলেন- ‘মহান আল্লাহ পাক তিনি তোমাদের জন্য হারাম করেছেন মৃত পশু, রক্ত, শূকরের গোশত আর যা আল্লাহ পাক ছাড়া অন্যের নামে যবেহ করা হয়েছে। (পবিত্র সূরা আন-নাহল শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ- ১১৫)
মুসলিমদের কাছে শূকরের গোশতকে কুরআন শরীফ উনার স্পষ্ট আয়াত শরীফ দ্বারা হারাম করা হয়েছে বলে কোনো মুসলিম শূকরের গোশত খান না। কঠিন ঘৃণাভরে তা প্রত্যাখান করেন। পাশাপাশি মুসলিম দেশ সমূহেও সরকারীভাবে তার উপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
৯৮ ভাগ জনগোষ্ঠী মুসলমানের দেশ বাংলাদেশের আমদানিনীতি আদেশ ২০২১-২৪ অনুসারে যে ২৬ ধরণের পণ্য নিষিদ্ধ তার মধ্যে অন্যতম হলো শূকর ও শূকরজাত সব পণ্য।
শূকরের গোশত থেকে উৎপন্ন উপজাত খাদ্য ও পণ্য ব্যবহার করে তৈরি করা আমদানি করা নিষেধ বাংলাদেশে।
এমন বিধিনিষেধের পরও সুদখোর, শুকরখোর ইউনুস শেষ সময়ে তড়িঘড়ি করে অ্যাগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোকাল ট্রেড (এআরটি) নামে এই বাণিজ্য চুক্তিতে শুকরের গোশত আমদানীর শর্ত জুড়ে দেয়। (নাউযুবিল্লাহ)
এই চুক্তিতে বলা হয়েছে- ব্ল্যাক ফরেস্ট হ্যাম, ব্রাটর্ভুস্ট, ক্যাপোকোলা, চরিজো, কিলবাসা, মরটাডেলা, প্যানসেটা, প্রসিউটো এবং সালামি বাজারে প্রবেশগম্য পণ্যের তালিকায় রাখতে হবে। মূলত এগুলো শূকরের গোশত দিয়ে তৈরি বিভিন্ন ধরণের পণ্য।
কিন্তু এই চুক্তির মাধ্যমে মুসলিমদের জন্য হারাম শুকরের গোশত আমদানির বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে।
Article ২.৫ (Meat Terms) বলছে, গোশতের নির্দিষ্ট টার্ম বা নাম ব্যবহার করার কারণে বাংলাদেশ কোনো মার্কিন পণ্যের প্রবেশে বাধা দিতে পারবে না। অর্থাৎ “meat” হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ পণ্যের মধ্যে ঢ়ড়ৎশ-ও পড়ে - সেক্ষেত্রে দ্বীনি বা সামাজিক কারণে নামের ভিত্তিতে বাধা দেয়া যাবে না - এই ব্যাখ্যা দাঁড় করানো হবে।
Article ২.৩ (Agriculture) বলছে, বাংলাদেশকে মার্কিন কৃষিপণ্যের জন্য সধৎশবঃ ধপপবংং দিতে হবে এবং ঝচঝ ব্যবস্থা হতে হবে “science-based” - অর্থাৎ বৈজ্ঞানিক ভিত্তি ছাড়া কোনো পণ্য ঠেকানো যাবে না।
অৎঃরপষব ২.১ (Import Licensing) অনুযায়ী, আমদানি এমনভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না যাতে মার্কিন পণ্যের প্রবেশ বাধাগ্রস্ত হয়।
এছাড়া Article ২.৭ (Non-discrimination) - এর নীতি অনুযায়ী, কোনো ধরণের বৈষম্যমূলক আচরণও করা যাবে না।
চুক্তিতে এমন একটি কাঠামো তৈরি করা হয়েছে - যেখানে শুকরের গোশত আমদানীর চাপ তৈরি করার সুযোগ আছে।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ১৮৫৭ সালের ১৮ নভেম্বর হাবিলদার রজব আলীর নেতৃত্বে চট্টগ্রামের পদাতিক বাহিনী প্রকাশ্যে বিপ্লবে যোগদান করের এবং জেলখানা থেকে সব বন্দিকে মুক্তি দেওয়া হয়।
১৮৫৭ সালে ঝাঁকে ঝাঁকে সৈন্য ব্যারাক ছেড়ে ময়দানে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল ইংরেজ দখলদারদের বিরুদ্ধে।
‘সিপাহী বিপ্লবে’র প্রধান কারণ ছিল ‘দ্বীন ইসলাম’। উপমহাদেশের মুসলিম সৈন্যদের এনফিল্ড রাইফেলের কার্তুজের সঙ্গে শূকরের চর্বি মুসলমানদের দ্বীনি মূল্যবোধে আঘাত হানার প্রতিবাদে সৈন্যদের স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিবাদ-প্রতিরোধ ব্রিটিশ শাসনকে প্রায় পরাস্ত করে ফেলেছিল।
১৮৫৭ সালের সেই বিপ্লবের চেতনা নিয়ে এখন বাংলাদেশের মুসলমানদের আমেরিকার বিরুদ্ধে আমেরিকার সাথে গোলামীর চুক্তির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ-প্রতিরোধ ব্যাপক করতে হবে ইনশাআল্লাহ।
সবার আগে বাংলাদেশ ‘সর্বশক্তিমান আল্লাহ পাক উনার প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস’ প্রুতিশ্রুতির সরকারকে অবিলম্বে মহান আল্লাহ পাক যা হারাম করেছেন, সে চুক্তিকে হারাম ঘোষণা করতে হবে।
-আল্লামা মুহম্মদ ওয়ালীউর রহমান আরিফ।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গোপনীয় বাণিজ্য চুক্তি: জনগণের অজান্তে জিএমও খাদ্য অর্থাৎ বিষ ও রোগ জীবাণু ঢোকানোর ষড়যন্ত্র
১৪ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
দেশি আম বাজারে আসার আগেই শুরু হয়েছে কথিত কেমিক্যাল অপপ্রচার : দেশীয় ফলের বিরুদ্ধে বিদেশী দালাল চক্রের এই অপপ্রচার রুখতে হবে।
১২ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
‘ইউনিসেফ’ এর ভয়ংকর তৎপরতা। বাংলাদেশের শিশু ও শিক্ষার্থীদের পশ্চিমা দাস বানানোর প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে ইউনিসেফ। (১)
১২ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
উচ্চ আদালতে ‘ডেড ল’ বা অকার্যকর ঘোষিত ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধি ১৯০০’ পুণঃবহালের অপচেষ্ঠা চলছে। উচ্চ আদালত, সেনাবাহিনী এবং সরকারের উচিত দেশবিরোধী এই চক্রান্ত ষড়যন্ত্র রুখে দেওয়া। (৩)
১১ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
৭১ এ তারা মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিলো ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরোধীতার নামে। তবে তারা ২০২৬- এ আমেরিকার আধিপত্যবাদী বাণিজ্য চুক্তির বিরোধিতায় নামছে না কেন?
১১ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মৃত আইন- “পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধি-১৯০০”: অখ-তার পথে এক ঔপনিবেশিক কাঁটা
১০ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার বরকতে- দেশের বুকে স্থলে, নদীতে, পাহাড়ে, কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে, বঙ্গোপসাগরে রয়েছে বিপুল পরিমাণ মহামূল্যবান ইউরেনিয়াম। বাংলাদেশের ইউরেনিয়াম অনেক বেশী গুণগত মান সম্পন্ন ভারতসহ দেশী-বিদেশী ষড়যন্ত্রের কারণেই তা উত্তোলন হচ্ছে না। হিন্দুস্থান টাইমস ও কুখ্যাত প্রথম আলো তথা ভারত আমেরিকার কুচক্রীরা একযোগে ষড়যন্ত্র করছে। জনগণকে জনসচেতন হতে হবে ইনশাআল্লাহ। (৩য় পর্ব)
০৯ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
প্রধানমন্ত্রীকে সাবধান থাকতে হবে- তার মন্ত্রী বা উপদেষ্টাদের দ্বারা যেনো দেশের ভাবমর্যাদা নষ্ট না হয়! বি.এন.পি ক্ষমতায় আসলেই দেশ, সন্ত্রাসবাদের ঝুকিতে পড়ে এই ধরণের প্রচারণার জন্য তথ্য উপদেষ্টার, ‘দেশে সন্ত্রাসবাদ আছে’- এই মিথ্যা উক্তিই কী যথেষ্ট নয়?
০৯ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
আত্মঘাতী ঋণের কঠিন শর্তের বেড়াজালে আটকে যাচ্ছে সরকার। দেশবাসী কেনো নির্বিকার?
০৮ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পূর্ব তিমুর কেনো মুসলমানদের হারানো ভূমি? পূর্ব তিমুরের ঘটনা কী শিক্ষা দেয়। উপজাতিরা কেনো খ্রীস্টান হয়? উপজাতিরা কেনো মুসলমান হয় না? কেনো কঠিন হয়রানির মুখোমুখি হয়। স্বাধীন জুমল্যান্ড তথা খ্রীস্টান রাজ্য বানানোর বিপরীতে ৯৮ ভাগ জনগোষ্ঠী মুসলমানকে গর্জে উঠতে হবে ইনশাআল্লাহ।
০৭ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
ইউনুসের দেশদ্রোহীতার বয়ান : এক সাংবাদিকের জবানবন্দি (৩)
০৬ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার বরকতে- দেশের বুকে স্থলে, নদীতে, পাহাড়ে, কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে, বঙ্গোপসাগরে রয়েছে বিপুল পরিমাণ মহামূল্যবান ইউরেনিয়াম। বাংলাদেশের ইউরেনিয়াম অনেক বেশী গুণগত মান সম্পন্ন ভারতসহ দেশী-বিদেশী ষড়যন্ত্রের কারণেই তা উত্তোলন হচ্ছে না।
০৬ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)












