মন্তব্য কলাম
দেশি আম বাজারে আসার আগেই শুরু হয়েছে কথিত কেমিক্যাল অপপ্রচার : দেশীয় ফলের বিরুদ্ধে বিদেশী দালাল চক্রের এই অপপ্রচার রুখতে হবে।
, ২৪ যিলক্বদ শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১৩ ছানী আশার, ১৩৯৩ শামসী সন , ১৩ মে, ২০২৬ খ্রি:, ৩০ বৈশাখ, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) মন্তব্য কলাম
বাংলাদেশ সরকারের জন্য দায়িত্ব ও কর্তব্য হলো দেশের সম্পদ রক্ষায় সার্বিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
গত ১০ মে ২০২৬ তারিখে একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকার শিরোনাম ছিল- “বিষমাখা আম-লিচুতে সয়লাব বাজার”। আরেকটি খবরে শিরোনাম করা হয়েছে- “কৃত্রিমভাবে পাকানো ‘বিষাক্ত’ আমে সয়লাব বাজার”। খবরে দাবি করা হয়েছে, আম নাকি কার্বাইড বা ইথোফেন দিয়ে পাকানো হচ্ছে, যা নাকি বিষাক্ত ও ক্যান্সারের জন্য দায়ী।
এসব সংবাদে যা বলা হচ্ছে, তা বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে পুরোপুরি ভুল। কারণ কার্বাইড বা ইথোফেন দিয়ে ফল পাকালে ফল কখনোই বিষাক্ত হয় না। কার্বাইড বা ইথোফেন কোনো ফলে প্রয়োগ করলে অ্যাসিটিলিন বা ইথোফেন গ্যাস ফলের ‘রেসপিরেশন রেট’ বা শ্বাস-প্রশ্বাসের গতি বাড়িয়ে দেয়। এতে ফলের ভেতরে নির্দিষ্ট কিছু এনজাইম সক্রিয় হয় এবং ফল দ্রুত পেকে যায়। এগুলোর ব্যবহার সম্পূর্ণ নিরাপদ। পৃথিবীর অনেক দেশেই ফল পাকানোর জন্য এগুলো গ্রোথ হরমোন হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
তবে বাণিজ্যিক কার্বাইডে আর্সেনিকসহ কিছু পদার্থ থাকতে পারে। কিন্তু সেগুলো মূলত ফলের খোসায় লেগে থাকে। অথচ আম বা কলার মতো ফল আমরা খোসা ফেলে খাই। যেসব ফল খোসা ফেলে খাওয়া হয়, সেসব ফলের ভেতরে এর কোনো প্রভাব থাকে না। বাংলাদেশের কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকেও এতদিন এসব গ্রোথ হরমোন ব্যবহারে চাষিদের উৎসাহিত করা হয়েছে। কিন্তু হঠাৎ গজিয়ে ওঠা কিছু পত্রিকা ‘বিজ্ঞানী’ সেজে এসব গ্রোথ হরমোনের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে বলছে- এগুলো নাকি বিষাক্ত।
২০১৪ সালে ফরমালিনের গুজব ছড়িয়ে লক্ষ লক্ষ টন ফল নষ্ট করা হয়েছিল। পরবর্তীতে বলা হয়, সেই অভিযোগ ভুল ছিল। সরকারি যে যন্ত্র দিয়ে ফরমালিন শনাক্তের দাবি করা হয়েছিল, সেটিও নাকি ত্রুটিপূর্ণ ছিল। এ বিষয়ে পরে প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়-২০১৪ সালে ফরমালিন মেশানোর অভিযোগে সারা দেশে শত শত টন আম ও লিচু ধ্বংস করায় মানুষের মনে গভীর সন্দেহ তৈরি হয়। পরে দেশবাসীর সেই সন্দেহ দূর করতে এগিয়ে আসে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ। গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে সংস্থাটি জানায়, ফলে ফরমালিন মেশালে তা সংরক্ষণে কোনো ভূমিকা রাখে না। বরং যে যন্ত্র দিয়ে এতদিন ফরমালিন শনাক্ত করা হতো, সেটি মানসম্পন্ন নয় এবং ভুল রিডিং দেয়। দেশের কৃষিবিজ্ঞানী ও রসায়নবিদরাও এ বক্তব্য সমর্থন করেন। অথচ এই ভুল যন্ত্রের কারণে গত এক দশকে ধ্বংস হয়েছে কয়েক হাজার টন ফল। (বাংলা ট্রিবিউন, ২২ মে ২০১৯)
স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন আসে- এই যে মিথ্যা অপপ্রচার চালিয়ে দেশীয় ফল ধ্বংস করা হলো, পরবর্তীতে সেই চাষিদের কি কোনো ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছিল? হয়নি। আর এ কারণেই প্রতি বছর একটি মহল দেশীয় ফলের বিরুদ্ধে অপপ্রচার শুরু করে। অথচ বাজারে এখন প্রচুর বিদেশি আম, আপেল, কমলা, আঙুর, নাশপাতিসহ নানা ধরনের ফল রয়েছে। কিন্তু সেই বিদেশি ফলগুলোতে ক্ষতিকর কিছু আছে বলে কি কখনো কোনো সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে? বিদেশ থেকে আমদানি করা ফলগুলো কীভাবে দিনের পর দিন দৃশ্যত সতেজ থাকে, সেই রহস্য কি কেউ উদ্ঘাটনের চেষ্টা করেছে? সেখানে কী ধরনের কেমিক্যাল ব্যবহার হয়, তা নিয়েও কখনো কোনো প্রশ্ন তোলা হয়নি।
মূলত দেশীয় ফলশিল্প ধ্বংস করে বিদেশি ফল দিয়ে দেশের বাজার দখল করাই ওই মহলের উদ্দেশ্য। তাদের এই কুচক্রী তৎপরতা অবশ্যই রুখতে হবে। বাংলাদেশ সরকারের জন্য দায়িত্ব ও কর্তব্য হলো দেশের সম্পদ রক্ষায় সার্বিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
-নাহিন।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গোপনীয় বাণিজ্য চুক্তি: জনগণের অজান্তে জিএমও খাদ্য অর্থাৎ বিষ ও রোগ জীবাণু ঢোকানোর ষড়যন্ত্র
১৪ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
“সর্বশক্তিমান আল্লাহ পাক উনার প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস” ব্যক্ত করার সরকারকে অবিলম্বে কুরআন শরীফে হারাম ঘোষিত শুকরের গোশত আমদানীর বাণিজ্য চুক্তি বাতিল করতে হবে ইনশাআল্লাহ।
১৩ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
‘ইউনিসেফ’ এর ভয়ংকর তৎপরতা। বাংলাদেশের শিশু ও শিক্ষার্থীদের পশ্চিমা দাস বানানোর প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে ইউনিসেফ। (১)
১২ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
উচ্চ আদালতে ‘ডেড ল’ বা অকার্যকর ঘোষিত ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধি ১৯০০’ পুণঃবহালের অপচেষ্ঠা চলছে। উচ্চ আদালত, সেনাবাহিনী এবং সরকারের উচিত দেশবিরোধী এই চক্রান্ত ষড়যন্ত্র রুখে দেওয়া। (৩)
১১ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
৭১ এ তারা মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিলো ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরোধীতার নামে। তবে তারা ২০২৬- এ আমেরিকার আধিপত্যবাদী বাণিজ্য চুক্তির বিরোধিতায় নামছে না কেন?
১১ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মৃত আইন- “পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধি-১৯০০”: অখ-তার পথে এক ঔপনিবেশিক কাঁটা
১০ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার বরকতে- দেশের বুকে স্থলে, নদীতে, পাহাড়ে, কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে, বঙ্গোপসাগরে রয়েছে বিপুল পরিমাণ মহামূল্যবান ইউরেনিয়াম। বাংলাদেশের ইউরেনিয়াম অনেক বেশী গুণগত মান সম্পন্ন ভারতসহ দেশী-বিদেশী ষড়যন্ত্রের কারণেই তা উত্তোলন হচ্ছে না। হিন্দুস্থান টাইমস ও কুখ্যাত প্রথম আলো তথা ভারত আমেরিকার কুচক্রীরা একযোগে ষড়যন্ত্র করছে। জনগণকে জনসচেতন হতে হবে ইনশাআল্লাহ। (৩য় পর্ব)
০৯ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
প্রধানমন্ত্রীকে সাবধান থাকতে হবে- তার মন্ত্রী বা উপদেষ্টাদের দ্বারা যেনো দেশের ভাবমর্যাদা নষ্ট না হয়! বি.এন.পি ক্ষমতায় আসলেই দেশ, সন্ত্রাসবাদের ঝুকিতে পড়ে এই ধরণের প্রচারণার জন্য তথ্য উপদেষ্টার, ‘দেশে সন্ত্রাসবাদ আছে’- এই মিথ্যা উক্তিই কী যথেষ্ট নয়?
০৯ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
আত্মঘাতী ঋণের কঠিন শর্তের বেড়াজালে আটকে যাচ্ছে সরকার। দেশবাসী কেনো নির্বিকার?
০৮ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পূর্ব তিমুর কেনো মুসলমানদের হারানো ভূমি? পূর্ব তিমুরের ঘটনা কী শিক্ষা দেয়। উপজাতিরা কেনো খ্রীস্টান হয়? উপজাতিরা কেনো মুসলমান হয় না? কেনো কঠিন হয়রানির মুখোমুখি হয়। স্বাধীন জুমল্যান্ড তথা খ্রীস্টান রাজ্য বানানোর বিপরীতে ৯৮ ভাগ জনগোষ্ঠী মুসলমানকে গর্জে উঠতে হবে ইনশাআল্লাহ।
০৭ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
ইউনুসের দেশদ্রোহীতার বয়ান : এক সাংবাদিকের জবানবন্দি (৩)
০৬ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার বরকতে- দেশের বুকে স্থলে, নদীতে, পাহাড়ে, কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে, বঙ্গোপসাগরে রয়েছে বিপুল পরিমাণ মহামূল্যবান ইউরেনিয়াম। বাংলাদেশের ইউরেনিয়াম অনেক বেশী গুণগত মান সম্পন্ন ভারতসহ দেশী-বিদেশী ষড়যন্ত্রের কারণেই তা উত্তোলন হচ্ছে না।
০৬ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)












