মন্তব্য কলাম
মুসলিম শিক্ষার্থী বেশি হওয়ায় কাশ্মিরে মেডিকেল কলেজ বন্ধ ভারতে কাশ্মীরি শিক্ষার্থীদের নির্যাতনের অভিযোগ নতুন নয়। ভারতে কাশ্মিরী শিক্ষার্থীদের উপর নির্যাতনের খবর বিচ্ছিন্ন নয়।
, ২৭ রজবুল হারাম শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১৯ ছামিন, ১৩৯৩ শামসী সন , ১৭ জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রি:, ০৩ মাঘ, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) মন্তব্য কলাম
অব্যাহত এবং ভয়াবহ
কাশ্মীরে স্কুলে বাধ্যতামূলক ‘বন্দে মাতারাম’- চাপানো হচ্ছে হিন্দুত্ববাদ
কাশ্মীরি ছাত্রদের বিরুদ্ধে মামলার ঘটনায় জঙ্গিদের হুমকি
ভারতে কাশ্মীরি ছাত্রকে মেয়েদের পোশাক পরিয়ে অমানবিক নির্যাতন
৩৭০ ধারা বাতিলের পর সরকারী হিসেবেই ১ মাসেই নিখোঁজ ১৩ হাজার শিশু
কাশ্মীরে সামগ্রিক নির্যাতনের পাশাপাশি বিশেষভাবে নারী-শিশু ও শিক্ষার্থীদের উপর চরম নির্যাতন করা হচ্ছে
সব মুসলিম দেশই দেখেও না দেখার ভান করছে।
কাশ্মীরিদের কান্নায় বোবা হয়ে আছে শক্তিধর সব মুসলিম দেশ। (নাউযুবিল্লাহ)
(২য় পর্ব)
ভারতীয় পিশাচ সেনারা কাশ্মীরে মুসলিম নারীদের সম্ভ্রমহরণকেই তাদের প্রধান অস্ত্র বানিয়েছে
‘কাশ্মীরে রাতের অভিযানে শিশু অপহরণ ও নারী নির্যাতন করছে ভারতীয় পিশাচ সেনারা’
১৯৮৭ সালে জম্মু-কাশ্মীরের নির্বাচনে ভোট কারচুপির কারণে রাজ্য বিধানসভার কয়েকটি আসন হারায় উপত্যকার ইসলামি দলগুলো। ঠিক তখন থেকেই ভারতীয় সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে সশস্ত্র বিদ্রোহ শুরু। পৃথিবীতে সামরিক অঞ্চল যতগুলো আছে, তার মধ্যে কাশ্মীর উপত্যকা সবার শীর্ষে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, এই উপত্যকায় ছয় লাখ ভারতীয় সেনার উপস্থিতি আছে। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে যখন সশস্ত্র বিদ্রোহ শুরু হল, তখন থকেই সম্ভ্রমহরণকে ভারতীয় সেনারা বিদ্রোহ দমনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে আসছে। এই উপত্যকার মুসলিম মহিলাদের কেবল ভারতীয় সেনারাই সম্ভ্রমহরণ করেনি, বরং ডোগরা সেনা, হিন্দু ও শিখরাও তাদের সম্ভ্রমহরণ করেছে। ১৯৪৭ সালের নভেম্বরে যখন জম্মুতে গণহত্যা চালায় হিন্দু উগ্রপন্থীরা, তখন ডোগরা সৈন্যদের সহায়তায় শিখ ও হিন্দুরা মুসলিম মহিলাদের অপহরণ ও সম্ভ্রমহরণ করে। গণসম্ভ্রমহরণের ঘটনাও কম ঘটেনি এই উপত্যকায়।
১৯৯৩ সালের হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডাব্লিউ) রিপোর্ট অনুসারে, কাশ্মীরি নাগরিকদের বিদ্রোহের প্রতিশোধ হিসেবে সম্ভ্রমহরণকে বেছে নেয় ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনী। বেশিরভাগ সম্ভ্রমহরণের ঘটনাগুলো ঘটেছে তল্লাশির সময়। এইচআরডাব্লিউ এর ১৯৯৬ রিপোর্টেও অনুরূপ তথ্য উঠে এসেছে।
ইঙ্গার বলেছেন, সৈন্যরা যখন বেসামরিক বাড়িতে প্রবেশ করে, তখন মহিলাদের সম্ভ্রমহরণ করার আগে বাড়ির পুরুষদের হত্যা বা গ্রেফতার করে। শুভ মাথুর সম্ভ্রমহরণকে কাশ্মীরে ভারতীয় সামরিক কৌশলের অপরিহার্য উপাদান বলে অভিহিত করেছে। সীমা কাজির মতে, কাশ্মীরি পুরুষদের দমানোর হাতিয়ার হিসেবে ভারতীয় সেনারা মহিলাদের সম্ভ্রমহরণ করে এবং কাশ্মীরি জনগণের প্রতিরোধের মনোবল ভেঙে দিতেই তারা সম্ভ্রমহরণকে বেছে নিয়েছে।
মানবাধিকার বিষয়ক জাতিসংঘের ৫২তম অধিবেশনে অধ্যাপক উইলিয়াম বাক বলেছিলেন, কাশ্মীরি জনগোষ্ঠীকে অপমান ও ভয় দেখানোর জন্য ভারতীয় বাহিনী সম্ভ্রমহরণ ব্যবহার করছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কাশ্মীরি বিদ্রোহের পাল্টা জবাব দিতে ভারতীয় বাহিনী সম্ভ্রমহরণকে ব্যবহার করছে। সংস্থাটি কয়েকজন ভারতীয় সৈন্যকে সম্ভ্রমহরণের কারণ জিজ্ঞেস করেছিল। কেউ উত্তর দিয়েছে, কাশ্মীরি মেয়েরা সুন্দর। তাই সম্ভ্রমহরণ করেছে। কেউ উত্তর দিয়েছে প্রতিশোধ নেয়ার জন্য সম্ভ্রমহরণ করেছে।
মেডিসিনস সানস ফ্রন্টিয়ারসের করা ২০০৫ সালের একটি গবেষণায় বলা হয়েছে, কাশ্মীরি নারীদের বিরুদ্ধে যৌন সহিংসতার হার বিশ্বের সংঘাতময় অঞ্চলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি। সমীক্ষায় দেখা গেছে, চেচনিয়া, সিয়েরা লোন এবং শ্রীলঙ্কার মত সংঘাতের শিকার অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় কাশ্মীরে সম্ভ্রমহরণের সাক্ষীর সংখ্যা অনেক বেশি।
এইচআরডাব্লিউয়ের রিপোর্ট অনুসারে, কাশ্মীরে ভারতীয় বাহিনীর সম্ভ্রমহরণের ঘটনার কোনো হিসাব নেই। সম্ভ্রমহরণের ঘটনা নথিভুক্ত হলেও এর বিচার হয় ন। আবার লজ্জায় অনেকে বলতেই চায় না সম্ভ্রমহরণের ঘটনা।
মানবাধিকার সংস্থাগুলোর রিপোর্ট থেকে জানা গেছে, ১৯৯২ সালে ভারতীয় বাহিনী ৮৮২ কাশ্মীরি মহিলাকে গণসম্ভ্রমহরণ করেছে। এদের মধ্যে সম্ভ্রমহরণ ক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করেছে ১৫০ থেকেও বেশি ভারতীয় বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তা।
২০১৬ সালে কাশ্মীরি মানবাধিকার কর্মী এবং আইনজীবী পারভেজ ইমরোজ বলেছেন, ভারতীয় সেনাবাহিনী কর্তৃক সম্ভ্রমহরণের এই ভয়াবহ চিত্র এখনো অপরিবর্তিত আছে।
সম্ভ্রমহরণের পর মহিলারা সাধারণত শারীরিক এবং মানসিক যন্ত্রণায় ভুগে। যেহেতু সমাজ বিশ্বাস করে- সম্ভ্রম লুণ্ঠিত হয়ে সে তার সম্মান হারিয়েছে। ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস অস্টিনের সাগর গবেষণা জার্নালের হাফসা কানজওয়ালের মতে, কাশ্মীরি সমাজ যেহেতু সম্ভ্রমহরণের দোষ চাপায় মহিলাদের উপর, তাই তারা মনে করে তারা সম্মান হারিয়েছে। পবিত্রতা খুইয়ে ফেলেছে। এই বিশ্বাস অনেক সময় হতাশা ডেকে আনে। এমনকি বিবাহবিচ্ছেদ পর্যন্তও গড়ায়। সাক্ষাৎকারে অনেক মহিলা বলেছেন, সম্ভ্রম লুণ্ঠিত হবার পর তাদের স্বামী তাদেরকে অপবিত্র মনে করছে। অনেকের বিবাহ ভেঙেছে। অনেকে পরিবার থেকে বহিষ্কারও হয়েছে।
১৯৯০ সালের ২৬ জুন বিএসএফ সদস্যরা জামির কাদিমের একটি এলাকায় তল্লাশি চালানোর সময় ২৪ বছর বয়সী একজন তরুণীকে গণসম্ভ্রমহরণ করে। সে বছর জুলাইয়ে সোপোরের পুলিশ থানায় বিএসএফ-এর বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয় [Kayi, Seema. ÒRape, Impunity and Justice in Kashmir]
১৯৯০ সালের ৭ মার্চ সিআরপিএফ শ্রীনগরের ছানপোরা এলাকার বেশ কয়েকটি বাড়িতে হানা দেয়। এসময় শত শত মহিলা সম্ভ্রমহরণের শিকার হন। ১৯৯০ সালের ১২ থেকে ১৬ মার্চ ‘কমিটি ফর ইনিশিয়েটিভ ইন কাশ্মীর’-এর সদস্যরা কাশ্মীর সফর করেন এবং সম্ভ্রম হারানোদের সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেন। সম্ভ্রম হারানোদের মধ্যে ২৪ বছর বয়সী নূরা বিবরণে জানায় যে, নূরা ও তার ননদ জাইনাকে তাদের রান্নাঘর থেকে সিআরপিএফের ২০ জন সদস্য টেনে-হিঁচড়ে বের করে এবং তারপর তাদেরকে গণসম্ভ্রমহরণ করে। তারা অন্য দু’জন কিশোরীকে সম্ভ্রম লুণ্ঠিত হতে দেখেছেন বলেও বর্ণনা K‡ib [CHAPTER-V PROBLEM OF HUMAN RIGHTS IN JAMMU AND KASHMIR (PDF)। পৃষ্ঠা ২২৪।]।
১৯৯১ সালে শ্রীনগরের বাবর শাহ এলাকায় ভারতীয় নিরাপত্তারক্ষীরা একজন মানসিক বিকারগ্রস্ত বৃদ্ধা মহিলাকে সম্ভ্রমহরণ করে [Bhat, Aashaq Hussain, and R. Moorthy. ÒImpact of Security Provisions in Kashmir. (2016).]|
১৯৯১ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি ভারতীয় সেনাবাহিনীর একটি দল কাশ্মীরের কুপওয়ারা জেলার কুনান পোশপোরা গ্রামে একটি তল্লাশি ও জিজ্ঞাসাবাদ অভিযান পরিচালনা করে। এসময় তারা গ্রামটির বিভিন্ন বয়সের শতাধিক নারীকে গণসম্ভ্রমহরণ করে।
১৯৯১ সালের ২০ আগস্ট ভারতীয় সৈন্যরা কুনান পোষ্পোরা থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরের পাজিপোরা-বাল্লিপোরা গ্রামের ১৫ জনেরও বেশি নারীকে গণসম্ভ্রমহরণ করে [Mathur, Shubh (১ ফেব্রুয়ারি ২০১৬)। The Human Toll of the Kashmir Conflict: Grief and Courage in a South Asian Borderland| Palgrave Macmillan US। পৃষ্ঠা ৬০]
১৯৯২ সালের ১০ অক্টোবর ভারতীয় সেনাবাহিনীর ২২তম গ্রেনেডিয়ার্সের একদল সৈন্য কাশ্মীরের চক সাইদপোরা গ্রামে প্রবেশ করে এবং ৯ জন নারীকে গণসম্ভ্রমহরণ করে। সম্ভ্রম হারানোদের মধ্যে ছিলেন ৬০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধা এবং ১১ বছর বয়সী এক বালিকা [Rape in Kashmir: A Crime of WarÓ (PDF). Asia Watch & Physicians for Human Rights A Division of Human Rights Watch.]|
১৯৯২ সালের ২০ জুলাই কাশ্মীরের হারান এলাকায় একটি সেনা অভিযানের সময় বেশ কয়েকজন মহিলা সম্ভ্রম লুণ্ঠিত হয়। এশিয়া ওয়াচ এবং পিএইচআর কয়েকজন সম্ভ্রম হারানোর সাক্ষাৎকার গ্রহণ করে। সম্ভ্রম হারানোদের একজনকে দুইজন সৈন্য পালাক্রমে সম্ভ্রমহরণ করেছিল। আরেকজন সম্ভ্রম হারানোকে একজন শিখ সৈন্য সম্ভ্রমহরণ করেছিল [ÒRape in Kashmir: A Crime of WarÓ (PDF). Asia Watch & Physicians for Human Rights A Division of Human Rights Watch. ]|১৯৯২ সালের ১ অক্টোবর বিএসএফ সদস্যরা কাশ্মীরের বাখিকার গ্রামে ৫০ জন লোককে হত্যা করে এবং এরপর নিকটবর্তী গুরিহাখার গ্রামে প্রবেশ করে শত শত নারীকে সম্ভ্রমহরণ করে। এশিয়া ওয়াচ গ্রামটির একজন নারীর সাক্ষাৎকার গ্রহণ করে, যিনি তার মেয়েকে অসম্মানের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য নিজেকে সম্ভ্রম হারানো বলে দাবি করে (প্রকৃতপক্ষে সম্ভ্রমহরণের শিকার হয়েছিলো তার মেয়ে) [ÒRape in Kashmir: A Crime of WarÓ (PDF). Asia Watch & Physicians for Human Rights A Division of Human Rights Watch]|
১৯৯৩ সালে ভারতীয় সৈন্যরা কাশ্মীরের বিজবেহারা শহরের হাজার হাজার নারীকে গণসম্ভ্রমহরণ ও যৌন নির্যাতন করে। স্থানীয় বয়স্ক ব্যক্তিরা ঘটনাটি প্রচার হলে সম্ভ্রম হারানোদের পরিবার অসম্মানিত হবে এই আশঙ্কায় এই ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করে। পরবর্তীতে সেনাবাহিনীর ওপর বিচ্ছিন্নতাবাদীদের হামলার প্রতিশোধ নেয়ার জন্য সৈন্যরা বিজবেহারা শহরের প্রান্তে গাধাঙ্গিপোরায় একজন নারীকে সম্ভ্রমহরণ করে [ÒThe Massacre Of A Town By Murtaya ShibliÓ|ww w.countercurrents.org]|
১৯৯৪ সালের ১৭ জুন মেজর রমেশ ও রাজ কুমারসহ রাষ্ট্রীয় রাইফেলসের সৈন্যরা কাশ্মীরের হিহামা গ্রামের শত শত মহিলাকে সম্ভ্রমহরণ করে [Hashmi, Syed Junaid (31 gvP© 2007)| ÒConflict Rape Victims: Abandoned And Forgotten]|
১৯৯৪ সালে কাশ্মীরের শেখপোরায় সৈন্যরা একটি বাড়িতে প্রবেশ করে বাড়ির পুরুষদের বন্দি করে ৬০ বছর বয়সী এক নারীকে সম্ভ্রমহরণ করে [Bhat, Aashaq Hussain, and R. Moorthy. ÒImpact of Security Provisions in Kashmir.Ó (2016).]|
১৯৯৪ সালে ভারতীয় নিরাপত্তারক্ষী বাহিনীর সদস্যরা কাশ্মীরের থেনো বুদাপাথারীতে এক মহিলা ও তার ১২ বছর বয়সী মেয়েকে সম্ভ্রমহরণ করে [Bhat, Aashaq Hussain, and R. Moorthy. ÒImpact of Security Provisions in Kashmir.Ó (2016).]|
১৯৯৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর রাষ্ট্রীয় রাইফেলসের সৈন্যরা কাশ্মীরের পুলওয়ামা জেলার বুরবুন গ্রামের একটি বাড়িতে প্রবেশ করে তিনজন নারীকে যৌন নির্যাতন করে এবং সম্ভ্রমহরণের চেষ্টা K‡i [ ÒIndiaÕs Secret Army in KashmirÓ| Human Rights Watch|]|
১৯৯৭ সালের নভেম্বরে কাশ্মীরের পুলওয়ামা জেলার নরবল পিঙ্গালগোমে ভারতীয় নিরাপত্তারক্ষীরা একজন তরুণীকে সম্ভ্রমহরণ করে [Bhat, Aashaq Hussain, and R. Moorthy. ÒImpact of Security Provisions in Kashmir.Ó (2016).]|
১৯৯৭ সালের ১৩ এপ্রিল ভারতীয় সৈন্যরা শ্রীনগরের নিকটে ১২ জন কাশ্মীরি তরুণীকে জোরপূর্বক নগ্ন করে এবং গণসম্ভ্রমহরণ করে [Van Praagh, David (2003)| Greater Game: IndiaÕs Race with Destiû and China| McGill-QueenÕs University Press| পৃষ্ঠা ৩৯০]।
১৯৯৭ সালের ২২ এপ্রিল ভারতীয় সৈন্যরা কাশ্মীরের বাভুসা গ্রামে ৩২ বছর বয়সী এক নারীর বাড়িতে প্রবেশ করে ঐ নারীর ১২ বছর বয়সী মেয়ের ওপর যৌন নির্যাতন করে এবং ১৪, ১৬ ও ১৮ বছর বয়সী বাকি তিন মেয়েকে সম্ভ্রমহরণ করে। অন্য একটি বাড়িতে তারা আরো কয়েকটি মেয়েকে সম্ভ্রমহরণ করে এবং মেয়েটির মা বাধা দেয়ার চেষ্টা করলে তাকে মারধর করে [ ÒIndia: High Time to Put an End to Impunity in Jammu and KashmirÓ (PDF). 15 May 1997. Archived from the original (PDF) on 29 October 2013]|
কাশ্মীরের দোদা জেলার লুদনা গ্রামের ৫০ বছর বয়সী এক নারী হিউম্যান রাইটস ওয়াচকে জানান যে, ১৯৯৮ সালের ৫ অক্টোবর রাষ্ট্রীয় রাইফেলসের সদস্যরা তার বাড়ি থেকে তাকে তুলে নিয়ে যায় এবং প্রহার করে। এরপর একজন হিন্দু ক্যাপ্টেন তাকে সম্ভ্রমহরণ করে এবং বলে যে, “তোমরা মুসলিম, এবং তোমাদের সকলের সাথে এমন আচরণ করা হবে” [ÒUnder Siege: Doda and the Border DistrictsÓ| Human Rights Watch]|
২০০০ সালের ২৯ অক্টোবর ভারতীয় সেনাবাহিনীর ১৫ বিহার রেজিমেন্টের সৈন্যরা কাশ্মীরের বিহোটায় একটি তল্লাশি অভিযানের সময় একজন মহিলাকে তুলে নিয়ে আসে। পরবর্তী দিন ২০ জন নারী ও কয়েকজন পুরুষ ঐ মহিলাকে মুক্ত করার জন্য যায়। কিন্তু সৈন্যরা আগত মহিলাদের ৪-৫ ঘণ্টার জন্য বন্দি করে রাখে এবং তাদের ওপর অত্যাচার করে [Kayi, Seema. ÒRape, Impunity and Justice in Kashmir ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ১৮ নভেম্বর ২০১৬ তারিখে.]।
২০০৪ সালের ২৮ অক্টোবর কাশ্মীরের জিরো ব্রিজের একটি গেস্ট হাউজে ৪ জন নিরাপত্তারক্ষী বাহিনীর সদস্য ২১ বছর বয়সী এক তরুণীকে গণসম্ভ্রমহরণ করে [ Bhat, Aashaq Hussain, and R. Moorthy. ÒImpact of Security Provisions in Kashmir.Ó (2016)]|
২০০৬ সালের ৬ নভেম্বর কাশ্মীরের বাদেরপাইনে এক মা এবং তার মেয়ে সম্ভ্রম লুণ্ঠিত হয়। সম্ভ্রমহরণকারী সেনা কর্মকর্তা (মেজর রহমান হুসেইন) একজন মুসলিম হওয়ায় সেনা কর্তৃপক্ষ এটিকে কোনো ইস্যু হিসেবে বিবেচনা করে নি। “‘Do you need 700,000 soldiers to fight 150 militants?Õ: Kashmiri rights activist Khurram ParveyÓ| Scroll.in (Bs‡iwR fvlvq)]|
২০০৯ সালের ২৯ মে কাশ্মীরের শোপিয়ান জেলায় ভারতীয় সৈন্যরা আসিয়া এবং নিলুফার জান নামে দু’জন নারীকে অপহরণ ও গণসম্ভ্রমহরণের পর হত্যা করে।
ভারতীয় সেনাদের বিরুদ্ধে সম্ভ্রমহরণ মামলার কোন তদন্তই হয় না
সীমা কাজীর মতে, কাশ্মীরে মানবাধিকার লঙ্ঘনের মধ্যে সবচেয়ে কম তদন্ত ও মামলা হচ্ছে সম্ভ্রমহরণ মামলায়। নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯৯১ সালের কুনান পোশপোরায় গণসম্ভ্রমহরণের ঘটনার পর ভারত বিবৃতি দিয়ে বলেছিল, কোনো যৌন হয়রানির ঘটনা ঘটেনি।
এইচআরডাব্লিউ ১৯৯৩ সালের প্রতিবেদনে বলেছিল, ভারতীয় সেনাবাহিনী এবং আধাসামরিক বাহিনী কর্তৃক ব্যাপক যৌন সহিংসতার ঘটনা প্রমাণিত হওয়া সত্ত্বেও কর্তৃপক্ষ ধর্ষকদের কোনো বিচার করেনি। সংস্থাটি ১৯৯৬ সালের রিপোর্টে বলেছে, বিচার তো দূরের কথা, ঘটনার তদন্তই করে না কর্তৃপক্ষ।
সীমা কাজীর মতে, রাষ্ট্রীয় অনুমোদন পেয়েই ভারতীয় সেনারা সম্ভ্রমহরণের মত পাশবিক কাজে লিপ্ত হয়। মাথুরের মতে, ভারত সরকার ধর্ষকদের আইনি প্রোটেকশন দেয়। সুখেলসবেইকের মতে, বিচারহীনতাই কাশ্মীরে যৌন সহিংসতার অনুমতি দেয়।
ওম প্রকাশ দ্বিবেদী এবং ভিজি জুলি রাজনের মতে, সশস্ত্র বাহিনী বিশেষ ক্ষমতা আইন (এএফএসপিএ) ভারতীশ সেনাদের যুদ্ধাপরাধ করতে উৎসাহিত করে। এই ক্ষমতার বলে তারা যেকোনো বেসামরিক বাড়িতে ঢুকে পড়তে পারে। তাদের এই স্বাচ্ছাচারিতার সুযোগ দেয়ার কারণে কাশ্মীরের বিচার বিভাগও স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছে না।
(ইনশাআল্লাহ চলবে)
-আল্লামা মুহম্মদ ওয়ালীউর রহমান আরিফ।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
বিভিন্ন দেশে দুর্নীতিগ্রস্ত সরকারের নেয়া ঋণকে ‘অডিয়াস ডেট’ বিবেচনা করে মওকুফ বা ঋণ পুনর্গঠনের উদাহরণ রয়েছে এ মুহূর্তে এমন ঋণ নিয়ে প্রক্রিয়া চালাচ্ছে লেবানন, গ্রিস, জাম্বিয়া, শ্রীলংকাসহ বেশ কয়েকটি দেশ কিন্তু দুর্নীতির মা- শেখ হাসিনার আমলে দুর্নীতিগ্রস্থ বিদেশী ঋণ নিয়ে প্রথমে অভিযোগ করলেও এখন নীরব সম্মতিতে, নিস্ক্রিয় হয়ে শেখ হাসিনার পক্ষেই হাটছে সরকার
০৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
বাংলাদেশকে সুদী ইউনুস কতটা ঘৃণা করে এবং বাংলাদেশের চূড়ান্ত ক্ষতি ও সার্বভৌমত্ব বিক্রী কত বেশী পছন্দ করে; তার সাক্ষাত প্রমাণ আমেরিকার সাথে তার সরকারের বাণিজ্য চুক্তি
০৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
বিশ্লেষকদের অভিমত: এলএনজি আমদানিতে বিপর্যস্ত হবে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি। দেশে উৎপাদিত গ্যাসের চেয়ে ২৪ গুণ বেশি দামে এলএনজি আমদানি করা হচ্ছে। এলএনজির ভর্তুকি পোষাতে বার বার গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হচ্ছে। জ্বালানি খাতে আর কত শোষিত হবে দেশের জনগণ?
০২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র যাকাত সঠিকভাবে আদায় না করায় দেশবাসী আক্রান্ত হচ্ছে অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি, খরা, বন্যাসহ নানা দুর্যোগে। সঠিকভাবে পবিত্র যাকাত আদায় এবং সঠিক জায়গায় পৌঁছানোই এসব দুর্যোগ থেকে পরিত্রাণের একমাত্র উপায়।
০১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
বছরে অর্থনৈতিক অপচয় ৩০ হাজার কোটি টাকা, রোগাক্রান্ত হচ্ছে যুবসমাজ, ধানী জমিতে চাষ হচ্ছে তামাক। অন্য পদক্ষেপের পাশাপাশি ইসলামী মূল্যবোধের আলোকেই সরকারকে তামাক নিয়ন্ত্রণ সক্রিয় ও যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে ইনশাআল্লাহ।
২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত খলীফাতুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি এবং উনার অনবদ্য তাজদীদ ‘আত-তাক্বউইমুশ শামসী’ সম্পর্কে জানা ও পালন করা এবং শুকরিয়া আদায় করা মুসলমানদের জন্য ফরয। মুসলমান আর কতকাল গাফিল ও জাহিল থাকবে?
২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
বাংলাদেশকে সুদী ইউনুস কতটা ঘৃণা করে এবং বাংলাদেশের চূড়ান্ত ক্ষতি ও সার্বভৌমত্ব বিক্রী কত বেশী পছন্দ করে; তার সাক্ষাত প্রমাণ আমেরিকার সাথে তার সরকারের বাণিজ্য চুক্তি এই তথাকথিত বাণিজ্যচুক্তির মাধ্যমে কার্যত বাংলাদেশের অর্থনীতি, বাণিজ্য, এমনকি পররাষ্ট্রনীতির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিরঙ্কুশ আধিপত্য প্রতিষ্ঠার আয়োজন করা হয়েছে।
২৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
কথিত স্বাস্থ্য বিজ্ঞানীরা রোযার উপর গবেষনা করে রোযার মাহাত্ম স্বীকার করে তথাকথিত নোবেল পুরষ্কার পায়! কিন্তু মুসলমান দ্বীন ইসলাম উনার আধিপত্য প্রতিষ্ঠায় লজ্জাকরভাবে ব্যার্থ হয়। কথিত বিজ্ঞান ও কথিত স্বাস্থ্যবিজ্ঞানী এবং চিকিৎসাবিজ্ঞানের মতে রোযার উপকারিতা অপরিসীম।
২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
কথিত স্বাস্থ্য বিজ্ঞানীরা রোযার উপর গবেষনা করে রোযার মাহাত্ম স্বীকার করে তথাকথিত নোবেল পুরষ্কার পায়! কিন্তু মুসলমান দ্বীন ইসলাম উনার আধিপত্য প্রতিষ্ঠায় লজ্জাকরভাবে ব্যার্থ হয়। কথিত বিজ্ঞান ও কথিত স্বাস্থ্যবিজ্ঞানী এবং চিকিৎসাবিজ্ঞানের মতে রোযার উপকারিতা অপরিসীম। (পর্ব-১)
২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
দেশে কয়েক বছরে ধনী-গরীব বৈষম্য প্রকট আকার ধারণ করেছে পুঁজিবাদী অর্থ ব্যবস্থায় জাতীয় সম্পদ কুক্ষিগত হচ্ছে গুটিকয়েক ব্যক্তির হাতে ধনী গরীব বৈষম্য দূরীকরণে যাকাত ব্যবস্থাই একমাত্র সমাধান মার্কিন অধ্যাপকের গবেষণা- “বছরে এক লাখ কোটি টাকা যাকাত আদায় সম্ভব” এ বক্তব্য সঠিক নয় বরং দৈনিক আল ইহসান শরীফের গবেষণা অনুযায়ী বছরে প্রায় আড়াই লাখ কোটি টাকা যাকাত আদায় সম্ভব ইনশাআল্লাহ
২৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ইফতারীসহ বিভিন্ন খাদ্য ও পানীয়কে লোভনীয় করতে মেশানো হয় বিভিন্ন আকর্ষণীয় রং। সাধারণ মানুষ রংবিহীন বিশুদ্ধ খাবারের পরিবর্তে রংযুক্ত ভেজাল ও ক্ষতিকর খাদ্য ও পানীয় ক্রয় করতেই বেশি উৎসাহী। এতে করে তারা আর্থিকভাবে এবং স্বাস্থ্যগতভাবে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার মধ্যে কোনো কৃত্রিমতা নেই।
২১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
ইফতারীসহ বিভিন্ন খাদ্য ও পানীয়কে লোভনীয় করতে মেশানো হয় বিভিন্ন আকর্ষণীয় রং। সাধারণ মানুষ রংবিহীন বিশুদ্ধ খাবারের পরিবর্তে রংযুক্ত ভেজাল ও ক্ষতিকর খাদ্য ও পানীয় ক্রয় করতেই বেশি উৎসাহী। এতে করে তারা আর্থিকভাবে এবং স্বাস্থ্যগতভাবে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার মধ্যে কোনো কৃত্রিমতা নেই। এই পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার আমল থাকলে সাধারণ মুসলমান এভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতো না।
২০ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার)












