ইতিহাস
মুসলমান সালতানাতগুলোতে আলোক সংকেতের মাধ্যমে যেভাবে সতর্কবার্তা প্রদান করা হতো
, ২৯ ছফর শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ২৫ ছালিছ, ১৩৯৩ শামসী সন , ২৪ আগস্ট, ২০২৫ খ্রি:, ০৯ ভাদ্র, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) ইতিহাস
ডাকব্যবস্থা ছাড়াও ইসলামী শাসনের সময় যোগাযোগ এবং সতর্কবার্তা প্রদানের জন্য ছিলো আগুন জ্বালিয়ে সতর্ক করার মতো ব্যবস্থাও। নির্দিষ্ট কিছু পয়েন্ট ও স্থাপনা ছিলো, যেখানে রাতের বেলা আগুন জ্বালানো হতো এবং দিনের বেলা ধোঁয়া উত্তোলন করা হতো। এর জন্য কোনো এলাকায় পাহাড়ের চূড়ায়, আবার কোনো এলাকায় উচু ভবনের ওপর জায়গা নির্ধারণ করা হতো। প্রশাসনের কর্মকর্তা ও নিরাপত্তারক্ষীদের মাঝে এ ধরনের সংকেত আদান-প্রদানের রীতি প্রচলিত ছিলো। তৎকালীন সম্মানিত ইসলামী ভূখন্ডের এলভিরা ও রাহবা থেকে জাবাল দুর্গ পর্যন্ত এ সংকেতনামা বিস্তৃত ছিলো। ফলে ফোরাত নদীর তীরবর্তী এলাকায় (ইরাকে) কিছু ঘটলে রাতের মধ্যেই সে খবর মিশর পর্যন্ত চলে আসতো।
রাতে কিছু ঘটলে সকালের মধ্যেই সবাই তা জেনে যেতেন। বিচিত্র সাংকেতিক পদ্ধতি অবলম্বন করে আগুন জ্বালানো ও ধোঁয়া উত্তোলন করা হতো, যা দিয়ে শত্রুদের সর্বশেষ অবস্থা, তাদের গতিবিধি ও অপতৎপরতার খবর দেওয়া হতো, কখনো কখনো আক্রমণকারী শত্রুদের সংখ্যাও জানিয়ে দেওয়া হতো নানাভাবে আগুন জ্বালিয়ে।
এসব বাতিঘরগুলো সমুদ্র উপকূলে নির্মিত হতো আর এতে দায়িত্বরত রক্ষীগণ সমুদ্রপথে শত্রুদের আগমন সম্পর্কে মুসলমান শাসনের শাসককে সতর্ক করার জন্য দিনরাত উপকূলীয় এলাকাগুলো পাহারা দিতেন। নিজেদের মধ্যে পরিচিত ভাষায় নানাভাবে আগুন জ্বালিয়ে সংকেত দিতেন। যখনই কোনো শত্রুপক্ষের আগমন টের পেতেন, রাতের বেলা হলে সাথে সাথে আগুন জ্বালিয়ে পাশ্ববর্তী বাতিঘরে দায়িত্বরত রক্ষীদের সংকেত দিতেন। আর দিনের বেলা হলে ধোয়া উৎক্ষেপণ করে সাবধান করতেন।
এজন্যই বলা হতো, আলোকবার্তা সুদূর মরক্কোর টাঙ্গিয়ার থেকে আলেকজান্দ্রিয়া পর্যন্ত মাত্র এক রাতের ব্যবধানে পৌঁছে যেতো। প্রতিরক্ষা দুর্গগুলোর মাঝে দ্রুততম উপায়ে সংবাদ আদান প্রদানের লক্ষ্যে উপকূলীয় চৌকিগুলোর মসজিদের মিনার থেকে আলোক সংকেত পাঠানো হতো। এই পদ্ধতি বিশেষভাবে চালু ছিলো আফ্রিকার তিউনিসিয়ার উপকূলীয় অঞ্চলে। তন্মধ্যে প্রসিদ্ধ হলো সউসের শহরের ‘মুনাস্তি চৌকি’। এই সেনা চৌকিতে লোকবলও অনেক বেশি ছিলো।
উল্লেখ্য, সুবিশাল ইসলামী ভূখন্ডের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার দায়িত্বশীলগণ যে প্রজ্ঞা ও কৌশল উদ্ভাবন করেছেন, তা পরিমাপ করার মতো নয়। সংবাদ সরবরাহের ক্ষেত্রে উনারা উন্নত ও আধুনিক সব ব্যবস্থা আবিষ্কার করেছেন। কারণ শুরুতে বাহনে করে পত্র আদান প্রদান ছিলো সবচেয়ে দ্রুত ব্যবস্থা। এর চেয়েও দ্রুত ডাকসেবা হয় পায়রা। এর চেয়েও আরও দ্রুত যোগাযোগ সেবা হয়ে ওঠে আলোক সংকেত ব্যবস্থা। আরো অবাক করার বিষয় হলো, ইরাক থেকে মিশর পর্যন্ত যেকোনো সংবাদ এক রাতের ব্যবধানে পৌঁছে যেতো। কত দ্রুত ও উন্নত ডাকব্যবস্থা হলে এরকমটি সম্ভব।
উপর্যুক্ত বৃত্তান্তের আলোকে পরিষ্কারভাবে বোঝা যায়, সম্মানিত ইসলামী সভ্যতা যুগের সবচেয়ে উন্নত ও আধুনিক উপকরণ ব্যবহার করে ডাক ও যোগাযোগ ব্যবস্থার অগ্রগতি সাধন করেছে। এভাবে মুসলমান সালতানাতগুলো সবসময় একজন শাসকের অধীনে পরিচালিত হতো। তিনিই সবকিছু সম্পর্কে একের পর এক অবগত হতেন। আর এসব ব্যবস্থা ইউরোপীয় জাতিগোষ্ঠীগুলো বহু যুগ ও বহু শতাব্দিগুলো পার হওয়ার পর মুসলমানদের থেকে চুরি করে নিজেদের নামে চালিয়েছে। বিপরীতে মুসলমানদের নামে অপপ্রচার চালিয়েছে।
-০-
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
বিধর্মীরা যতটুকু সভ্যতা পেয়েছে তা মুসলিম শাসনামলেই আর বর্বরোচিত প্রথাসমূহ বন্ধ করেছিলেন মুসলিম শাসকরাই
১১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার স্বর্ণালী যুগের নিরাপত্তা বিভাগের ইতিহাস (৪)
১১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
বিখ্যাত মুসলিম পর্যটক ইবনে বতুতার বর্ণনায় বাংলাদেশ
০৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
উপমহাদেশে ব্রিটিশবিরোধী সুফি, ফকীর-দরবেশ বিদ্রোহের ইতিকথা
০১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
বন্দর দখলদার, নব্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী, বিশ্ব সন্ত্রাসী ইহুদী দস্যুদের দোসর ডিপি ওয়ার্ল্ড এর পরিচিতি এবং উদ্দেশ্য (২)
৩১ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
বর্তমানে দেশকে উন্নত করতে হলে দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ উত্তোলনের বিকল্প নেই (২)
২৮ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার স্বর্ণালী যুগের নিরাপত্তা বিভাগের ইতিহাস (৩)
২৮ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
বর্তমানে দেশকে উন্নত করতে হলে দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ উত্তোলনের বিকল্প নেই (১)
২৭ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
শুধু স্পেন নয় ফিলিপাইনও ছিলো মুসলিম অধ্যুষিত, শাসিত বর্তমানে ফিলিপাইন হতে পারতো খ্রিস্টানের পরিবর্তে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ
২৬ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মুসলমানদের ক্ষমতা হারানোর কারণ: জ্ঞান চর্চা থেকে দূরে সরে আসা (২)
২২ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার স্বর্ণালী যুগের নিরাপত্তা বিভাগের ইতিহাস (২)
২১ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত ইসলামী ইতিহাসের স্বর্ণালী পুলিশ বিভাগের ইতিহাস (১)
১৪ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)












