ইলমে তাছাওউফ
মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক প্রসঙ্গে (২৪)
স্বীয় শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা উনার জবান নিঃসৃত কথা মুবারক, আমল মুবারক, ব্যবহার, চলন মুবারক ইত্যাদি কোন বিষয়ে বিন্দু থেকে বিন্দুতম সংশয় বা সন্দেহকে অন্তরে স্থান দিবে না। যা মুরীদের কামিয়াবী হাছিলের পথে সবচেয়ে বড় অন্তরায়
, ০৭ মে, ২০২৪ ১২:০০:০০ এএম ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) ইলমে তাছাউফ
উল্লেখ্য যে, প্রত্যেক হযরত আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের নিকট উনাদের পূর্ববর্তী শায়েখ হতে প্রাপ্ত বিশেষ কিছু নিয়ামত থাকে। যা সিলসিলা অনুযায়ী পরবর্তীতে যোগ্য ও বিশ্বস্ত মুরীদদের নিকট আমানত স্বরূপ দেয়া হয়। যা মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার সম্মানিত রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নির্দেশ মুবারক অনুযায়ী প্রদান করা হয়। কাজেই যিনি এ নিয়ামতের অধিকারী হন তিনি হিদায়েতের তাজদীদী কার্যক্রম সুচারুরূপে ও সঠিকভাবে পালন করতে সক্ষম হন। সুবহানাল্লাহ!
শিক্ষা জীবনেই হযরত আঁখি সিরাজুদ্দীন উছমান আওদাহী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি সেই নিয়ামত লাভ করেন। মাহবুবে ইলাহী হযরত খাজা নিযামুদ্দীন আউলিয়া রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার আমল, আখলাক, চরিত্র, আচার, ব্যবহার, বিনয়, নম্রতা, আদব, শরাফত, ভদ্রতা, জ্ঞান, গরীমা, তাক্বওয়া, পরহেযগারী এবং দায়িত্ব পালনে একনিষ্ঠতা, কর্মকুশলতা সর্বোপরি শায়েখ উনার প্রতি যথেষ্ট ফানা-বাক্বা ও মুহব্বত দেখে হযরত আঁখি সিরাজুদ্দীন উছমান আওদাহী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকেই উনার সমস্ত নিয়ামত মুবারক হস্তান্তর করেন। সুবহানাল্লাহ! অর্থাৎ মাহবুবে ইলাহী হযরত খাজা নিযামুদ্দীন আউলিয়া রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার পর হযরত আঁখি সিরাজুদ্দীন উছমান আওদাহী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার খলীফা মনোনীত হলেন। সুবহানাল্লাহ!
উনাকে সমস্ত নিয়ামত মুবারকসমূহ বুঝিয়ে দিয়ে বলে দিলেন, আপনার হিদায়েতের কেন্দ্রস্থল বাংলার মূলক। ইলিম অন্বেষণের পর আপনি সেখানে গিয়ে সম্মানিত দ্বীন ইসলামের প্রচার-প্রসার করবেন।
হযরত আঁখি সিরাজুদ্দীন উছমান আওদাহী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার সম্মানিত শায়েখ উনার খিদমতে আরজ করলেন, হুযূর! বেয়াদবী মাফ করবেন। শুনেছি বাংলার মূলকে একজন আলিম আছেন যার ইলিমের দাপটে সমসাময়িক সমস্ত আলিম সদা তটস্থ থাকেন। সেখানে যেতে কেউ সাহস করে না। সে তুলনায় আমার ইলিম আমলের অভাব মনে করি।
মাহবুবে ইলাহী হযরত খাজা নিযামুদ্দীন আউলিয়া রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বললেন, চিন্তার কোন কারণ নেই। আমি দোয়া করছি, সে আপনাকে কিছুই বলবে না বরং আপনার মুরীদ হয়ে যাবে। অতঃপর তিনি শায়েখের দোয়া নিয়ে হিদায়েতের প্রচার-প্রসারের উদ্দেশ্যে বাংলার মূলকে তাশরীফ আনেন। এখানে এসে তিনি মানুষকে সঠিক পথের দীক্ষা দেয়ার জন্য মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার রেযামন্দি-সন্তুষ্টি মুবারক হাছিলের জন্য উনার হিদায়েতী কার্যক্রমকে আরও বেগবান করেন।
একবার এক মাহফিলের আয়োজন চলছিলো, তখন বাংলার মূলকের সেই বিশ্বখ্যাত আলিম হযরত শায়েখ আলাউল হক রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার সঙ্গী-সাথীদের উদ্দেশ্যে বললেন- কিছুদিন হলো অত্র এলাকায় একজন কামিল বুযূর্গ ওলীআল্লাহ তাশরীফ এনেছেন। তিনি তাছাউফের তা’লীম দিচ্ছেন। উনার ইলিম ও আমলে কতটুকু যোগ্যতা আছে পরীক্ষা করা প্রয়োজন।
একদিন হযরত শায়েখ আলাউল হক রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার সঙ্গীদেরকে নিয়ে উক্ত মজলিসে হাজির হলেন। হযরত আঁখি সিরাজুদ্দীন উছমান আওদাহী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার জবান মুবারক নিঃসৃত নছীহত মুবারক গভীর মনোযোগের সাথে শুনলেন। বুযূর্গ ওলীআল্লাহ উনার ছোহবত মুবারকে থেকে হযরত শায়েখ আলাউল হক রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার অন্তরে এর বিরাট একটা প্রভাব বিস্তার করলো। এক পর্যায়ে তিনি মজলিসের মধ্যেই অজ্ঞান হয়ে গেলেন। এমনিভাবে মজলিস শেষ হলো। উনার জ্ঞান ফিরে এলো। তিনি ব্যাকুল হয়ে হযরত আঁখি সিরাজুদ্দীন উছমান আওদাহী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার হাত মুবারকে বাইয়াত হওয়ার জন্য পেরেশান হয়ে গেলেন। উনার নিকটে গিয়ে উনার কদম মুবারকে লুটিয়ে পড়লেন এবং বাইয়াত গ্রহণ করলেন।
হযরত শায়েখ আলাউল হক রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার অবস্থা দেখে অভিভূত হয়ে বাংলার মূলকসহ পার্শ্ববর্তী এলাকার সমস্ত উলামায়ে কিরামগণ হযরত আঁখি সিরাজুদ্দীন রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার হাত মুবারকে বাইয়াত হয়ে গেলেন। সুবহানাল্লাহ! (অসমাপ্ত)
-আল্লামা মুফতী সাইয়্যিদ মুহম্মদ আব্দুল হালীম।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
কৃপণতা জঘণ্যতম বদ খাছলত
১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ইলমে ফিক্বাহ ও ইলমে তাছাওউফ উনাদের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা
১২ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৫৫) কামিল শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা উনার সাথে সংশ্লিষ্ট সকল বিষয়কে সর্বশ্রেষ্ঠ ও বরকতময় মনে করে যথাযথ তা’যীম-তাকরীম করার গুরুত্ব
০৭ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৫৪) কামিল শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা উনার সাথে সংশ্লিষ্ট সকল বিষয়কে সর্বশ্রেষ্ঠ ও বরকতময় মনে করে যথাযথ তা’যীম-তাকরীম করার গুরুত্ব
০৬ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৫৩) কামিল শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা উনার সাথে সংশ্লিষ্ট সকল বিষয়কে সর্বশ্রেষ্ঠ ও বরকতময় মনে করে যথাযথ তা’জীম-তাকরীম করার গুরুত্ব
০৩ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৫২) শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা যখন যা আদেশ করবেন তখন তা পালন করাই মুরীদের জন্য সন্তুষ্টি লাভের কারণ
২৬ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৫১) শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা যখন যা আদেশ করবেন তখন তা পালন করাই মুরীদের জন্য সন্তুষ্টি লাভের কারণ
২৫ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৪৯) শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা যখন যা আদেশ করবেন তখন তা পালন করাই মুরীদের জন্য সন্তুষ্টি লাভের কারণ
২৩ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৪৯) শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা যখন যা আদেশ করবেন তখন তা পালন করাই মুরীদের জন্য সন্তুষ্টি লাভের কারণ
২০ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৪৮) শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা যখন যা আদেশ করবেন তখন তা পালন করাই মুরীদের জন্য সন্তুষ্টি লাভের কারণ
১৯ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক প্রসঙ্গে (৪৭)
১০ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পবিত্র ছোহবত মুবারক গ্রহণের ফাযায়িল-ফযীলত, গুরুত্ব-তাৎপর্য ও আবশ্যকতা:
০৫ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার)












