ইলমে তাছাওউফ
মুর্শিদ কিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৬৯)
, ২৮ ছফর শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ১৩ ছালিছ, ১৩৯৪ শামসী সন , ১২ আগস্ট, ২০২৬ খ্রি:, ২৮ শ্রাবণ, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) ইলমে তাছাউফ
৩২। কামিল শায়েখ উনার সন্তুষ্টি-অসন্তুষ্টি উভয়ের মধ্যে নিজের খায়ের বরকত জানবে।
কামিল শায়েখ যদি কোন মুরীদের প্রতি সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন তবে তা মুরীদ নিজের জন্য নিয়ামত মনে করে মহান আল্লাহ পাক উনার শুকরিয়া আদায় করবে।
আর যদি কোন কারণে কামিল শায়েখ কোন মুরীদের উপর অসন্তুষ্ট হন কিংবা অসন্তুষ্টিবশতঃ ছোহবত মুবারক ত্যাগ করতে বলেন, তথাপি ছোহবত মুবারক ত্যাগ করবে না। বরং অধিক মাত্রায় তওবা-ইস্তিগফার করতঃ ধৈর্যধারণ করবে। অসন্তুষ্টির কারণ তালাশ করে তার সঠিক তথ্য পেশ করে ওজরখায়ী ও ক্ষমা প্রার্থনা করবে। এটাই হচ্ছে, হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম ও আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণের অনুসৃত পথ।
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার তিনজন বিশিষ্ট ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম যাঁরা উল্লেখযোগ্য কোন কারণ ব্যতীতই “তাবুক জিহাদে” গমন করা হতে বিরত থাকেন। এতে তিনি উনাদের উপর কিছুটা অসন্তুষ্ট হয়েছিলেন।
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, রহমতুল্লিল আলামীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি “তাবুক জিহাদ” হতে প্রত্যাবর্তন করে যখন মসজিদে নববী শরীফে তাশরীফ রাখেন, তখন যাঁরা যুদ্ধে শরীক হননি উনারা উপস্থিত হলেন। হযরত কা’ব ইবনে মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক খিদমতে হাজির হয়ে সালাম দিলেন।
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মুচকি হাসলেন। যে হাসি মুবারকে অসন্তুষ্টির ভাব ফুটে উঠেছিলো। হযরত কা’ব ইবনে মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি অসন্তুষ্টি মনোভাব বুঝতে পেরে বললেন, “ইয়া রসূলাল্লাহ, ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! মহান আল্লাহ পাক উনার কসম! পশ্চাতে পড়ার কোন যথার্থ কারণ ছিলো না।” সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, “তিনি সত্য কথাই বলেছেন। যতক্ষণ পর্যন্ত মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ থেকে কোন ফায়সালা না আসবে, ততক্ষণ পর্যন্ত আপনার ব্যাপার মুলতবী থাকবে।”
তখন আমি উঠে গিয়ে বনী সালমা গোত্রের কয়েক ব্যক্তির পিছনে গিয়ে বসলাম। আমি জিজ্ঞেস করলাম, “আমার মত অবস্থা আর কারো হয়েছে কি?” লোকজন বললেন, “হ্যাঁ, আরও দু’ব্যক্তি আপনার মতো জবাব দিয়েছেন। উনাদের একজন হচ্ছেন, হযরত মুরারা ইবনে রবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ও অপরজন হযরত হিলাল ইবনে উমাইয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু।”
হযরত কা’ব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি অন্যান্য হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদেরকে আমাদের তিনজনের সাথে কথা বলতে নিষেধ করে দিলেন। সকলেই আমাদেরকে পাশ কেটে চলতে লাগলেন। রাতারাতি অবস্থার এতই পরিবর্তন হলো, যেন এ বিশাল পৃথিবীতে আমাদের চেনা-জানা কোন লোকই নেই।
আমার অপর দু’জন সাথী যার যার ঘরে বসে অঝোরে কাঁদতে থাকেন। আমি ঘর থেকে বেরিয়ে নামাযে লোকজনের সাথে শামিল হতাম, তারপর বাজারে ঘুরে বেড়াতাম কিন্তু একটা লোকও আমার সাথে কথা বলতো না। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নামাযান্তে মসজিদে বসতেন। আমি সে মজলিসে হাজির হতাম। উনাকে সালাম দিতাম এবং খুব গভীরভাবে লক্ষ্য করতাম যে, জবাবে উনার সম্মানিত নূরুল হাম্রা মুবারক অর্থাৎ ঠোট মুবারক নড়ে কিনা!
আমি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খুব নিকটেই নামায আদায় করতাম এবং আড়চোখে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দিকে তাকিয়ে থাকতাম। আমি যখন নামাযে রত থাকতাম, তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আমার দিকে তাকাতেন কিন্তু যখন আমি উনার দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ করতাম, তখন তিনি উনার নূরুর রহমত মুবারক বা চেহারা মুবারক ফিরিয়ে নিতেন।
অনেকদিন এভাবে অতিবাহিত হওয়ার পর একদিন আমি হযরত আবূ কাতাদা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার বাগানে গেলাম। তিনি ছিলেন আমার চাচাতো ভাই এবং আমাদের মধ্যে অত্যন্ত অন্তরঙ্গ সম্পর্ক ছিলো। আমি উনাকে সালাম দিলাম কিন্তু মহান আল্লাহ পাক উনার কসম! তিনি নিরুত্তর রইলেন। তখন আমি বললাম, “হে আবূ কাতাদা! আমি কি মহান আল্লাহ পাক ও উনার সম্মানিত রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে মুহব্বত করি না”? এবারো তিনি নিরুত্তর রইলেন। আমি আবার সে প্রশ্নের পুনরাবৃত্তি করলাম। তিনি বললেন, মহান আল্লাহ পাক ও উনার মহাসম্মানিত রসূল, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তা ভালো জানেন। উনার কথা শুনে আমার দু’চোখ বেয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়লো এবং আমি ফিরে চলে এলাম। (অসমাপ্ত)
-আল্লামা মুফতী সাইয়্যিদ মুহম্মদ আব্দুল হালীম।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার প্রতি আদব (৬)
১২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মুর্শিদ কিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৬৮)
১১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মুর্শিদ কিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৬৭)
১০ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মুর্শিদ কিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৬৬)
০৮ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
পাঁচ তরীক্বার শাজরা শরীফ (৫)
০৭ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
মুর্শিদ কিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৬৫)
০৭ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পাঁচ তরীক্বার শাজরা শরীফ (৪)
০৫ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মুর্শিদ কিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৬৪)
০৫ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার প্রতি আদব (৫)
০৫ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পাঁচ তরীক্বার শাজরা শরীফ (৩)
০৪ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মুর্শিদ কিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৬৩)
০৪ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পাঁচ তরীক্বার শাজরা শরীফ (২)
০৩ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)












