ইলমে তাছাওউফ
মুর্শিদ কিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৬৮)
, ২৭ ছফর শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ১২ ছালিছ, ১৩৯৪ শামসী সন , ১১ আগস্ট, ২০২৬ খ্রি:, ২৭ শ্রাবণ, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) ইলমে তাছাউফ
৩১। শায়েখ বা মুর্শিদ কিবলা উনার শান-মান, মর্যাদা-মর্তবার খেলাফ কোন কাজ-কর্ম, কথা-বার্তা, আচার-আচরণ কিংবা অন্য কোন বিরুপ মন্তব্য করবে না।
যায়িদ ইবনে লুছাইতের অন্তরে নিফাকী তথা কপটতা থাকার কারণে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্রতম ছোহবত মুবারকে থাকার পরেও উনার শান-মান, মর্যাদা-মর্তবা মুবারক উপলব্ধি করতে পারেনি। বিধায় বিরূপ মন্তব্য পেশ করতে দ্বিধা করেনি। নাঊযুবিল্লাহ!
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
وَلَقَدْ ذَرَأْنَا لِجَهَنَّمَ كَثِيرًا مِنَ الْجِنِّ وَالْإِنْسِ لَهُمْ قُلُوبٌ لَا يَفْقَهُونَ بِهَا وَلَهُمْ أَعْيُنٌ لَا يُبْصِرُونَ بِهَا وَلَهُمْ آذَانٌ لَا يَسْمَعُونَ بِهَا أُولَئِكَ كَالْأَنْعَامِ بَلْ هُمْ أَضَلُّ أُولَئِكَ هُمُ الْغَافِلُونَ
অর্থ: “আর আমি এমন অনেক জিন ও মানবকে জাহান্নামের জন্য সৃষ্টি করেছি যাদের অন্তর আছে কিন্তু তা দ্বারা তারা হক বিষয়টি বুঝে না এবং তাদের চোখ আছে কিন্তু তারা দেখতে পায় না। আর তাদের কান আছে কিন্তু তারা শুনতে পায় না। এ সমস্ত লোক হচ্ছে চতুস্পদ জন্তুর ন্যায় বরং তারা তার চেয়ে অধিক নিকৃষ্ট। আর এ সমস্ত লোকই হচ্ছে গাফিল।” (সূরা আ’রাফ/১৭৯)
সুতরাং বর্তমান প্রেক্ষাপটে যারা হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম, হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম এবং হযরত আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের শান-মান, মর্যাদা-মর্তবার খেলাফ, বিরূপ মন্তব্য করে অথবা হক্কানী-রব্বানী আলিম তথা কামিল শায়েখ উনার হাতে বাইয়াত হয়ে উনার পবিত্র ছোহবত মুবারক বা সান্নিধ্য পাওয়ার পরেও সালিক বা ছূফী নাম ধারণ করে স্বীয় শায়েখ উনার শান-মান, মর্যাদা-মতর্বার পরিপন্থী কাজ-কর্ম, কথা-বার্তা বা বিরূপ মন্তব্য করে থাকে। তারা যে সেই যায়িদ ইবনে লুছাইতের যোগ্য উত্তরসূরী তা বলাই বাহুল্য।
উবাই ইবনে সুলূল, যায়িদ ইবনে লুছাইতের মতো মুনাফিকের দল যেমন মুসলমানদের দলে থেকে ইসলাম ও মুসলমানদের ক্ষতি সাধনে সর্বদা তৎপর থাকতো; তদ্রুপ হযরত আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের দরবার শরীফে থেকে তাদেরই উত্তরসূরী এক শ্রেণীর ব্যক্তি কামিল শায়েখ উনার এবং উনার দ্বীনি কাজের ক্ষতি সাধনের আপ্রাণ কোশেশ করে থাকে। তারা হক্কানী-রব্বানী কামিল শায়েখ উনার ছোহবত মুবারকে থেকেও অন্তর বা দীল ইছলাহ করা তো দূরের কথা হিদায়েতের আলো হতে চিরতরে বঞ্চিত থাকে।
সুলতানুল আরিফীন, হযরত আবুল হাসান খারকানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি একদিন রাতে হঠাৎ উনার মুরীদগণকে লক্ষ্য করে বলে উঠলেন, হায়! এখন অমুক জঙ্গলে একদল ডাকাত এক বণিক কাফেলার সব ধন-সম্পদ লুট করে নিয়ে গেলো এবং অনেক লোককে আহত করে গেলো। পরবর্তীতে খবর নিয়ে দেখা গেলো সুলতানুল আরিফীন, হযরত আবুল হাসান খারকানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি যা বলেছেন তা বাস্তব।
ঘটনাক্রমে সে একই রাতে দুস্কৃতিকারীরা উনার গৃহের দরজায় বসে উনার ছেলেকে হত্যা করে লাশ গৃহের চৌকাঠের উপর ফেলে রেখে যায়। সুলতানুল আরিফীন, হযরত আবুল হাসান খারকানী রহমতুল্লাহি আলাইহি কিন্তু এ বিষয়টি আঁচ করতে পারেননি। তা দেখে স্বয়ং উনার আহলিয়া বা স্ত্রীই উনার মর্যাদা-মর্তবা, বুযূর্গী-সম্মান তথা বেলায়েত সম্পর্কে এলোমেলো মন্তব্য করেছে। নাঊযুবিল্লাহ! অথচ এটা সম্পূর্ণ নিষেধ। কেননা হযরত আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের বৈচিত্রপূর্ণ জীবন প্রবাহে নানা রহস্যময় ঘটনাই সংঘটিত হয়ে থাকে। যা কোন কোন সময় সাধারণ লোকজনও উপলব্ধি করতে পারে। আবার কোন সময় তার ব্যতিক্রমও হয়ে থাকে। কিন্তু তার অর্থ এ নয় যে, উনাদের বেলায়েত নাকিছ বা অপূর্ণ কিংবা বেলায়েত হাছিল হয়নি। মূলতঃ মহান আল্লাহ পাক উনার যা অভিপ্রায় তাই হযরত আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা করে থাকেন।
হযরত আবুল হাসান খারকানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি সেটাই উনার আহলিয়ার বিরূপ মন্তব্যের জবাবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, “যখন দূরবর্তী কাফেলাটি লুণ্ঠিত হচ্ছিলো, তখন আমার অন্তর চক্ষুর সম্মুখ হতে সমস্ত যবনিকাগুলো অপসারিত ছিলো। কিন্তু যখন আমার পুত্রকে হত্যা করা হয়েছিলো, তখন আমার চোখের সামনে যবনিকা ছিলো সে কারণে আমার পক্ষে জানা সম্ভব হয়নি।” মূলতঃ হক্কানী-রব্বানী ওলীআল্লাহগণ উনারা সবক্ষেত্রেই মহান আল্লাহ পাক উনার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত থাকেন।
কাজেই সর্বক্ষেত্রেই বিরূপ মন্তব্য করা হতে বিরত থাকা মুরীদের জন্য ফরয-ওয়াজিব। (অসমাপ্ত)
-আল্লামা মুফতী সাইয়্যিদ মুহম্মদ আব্দুল হালীম।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
মুর্শিদ কিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৬৭)
১০ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মুর্শিদ কিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৬৬)
০৮ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
পাঁচ তরীক্বার শাজরা শরীফ (৫)
০৭ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
মুর্শিদ কিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৬৫)
০৭ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পাঁচ তরীক্বার শাজরা শরীফ (৪)
০৫ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মুর্শিদ কিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৬৪)
০৫ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার প্রতি আদব (৫)
০৫ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পাঁচ তরীক্বার শাজরা শরীফ (৩)
০৪ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মুর্শিদ কিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৬৩)
০৪ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পাঁচ তরীক্বার শাজরা শরীফ (২)
০৩ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মুর্শিদ কিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৬২)
০৩ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মুর্শিদ কিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৬১)
০২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার)












